আন্তর্জাতিক

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ জেলের মরদেহ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
বকখালী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ট্রলারটি। ছবি: সংগৃহীত
বকখালী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ট্রলারটি। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরের ভারত উপকূলে নিখোঁজ মাছ ধরার ট্রলার থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৬ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।

 

সোমবার (১৩ জুলাই) ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়াল এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বকখালী ও সুন্দরবন উপকূলবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়ে ১৫ জন জেলেসহ নিখোঁজ হয় ট্রলারটি। টানা আট দিন নিখোঁজ থাকার পর গট রোববার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালী উপকূল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরের এক চরের কাছে ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়।

 

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, অবস্থান জানার পর বন অধিদপ্তর ও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ট্রলারটি উদ্ধার করে সীতারামপুরে নিয়ে আসে। রাতভর তল্লাশি করে ট্রলারের ভেতর থেকে ৯ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

 

আশঙ্কা করা হচ্ছে ট্রলারটির ভেতরে ও আশপাশে আরও মরদেহ আটকে থাকতে পারে। বাকি জেলেদের দেহ উদ্ধারে দিনভর তল্লাশি চলবে বলেও জানানো হয়।

 

এখনো নিখোঁজ ৬ জেলের পরিবার দিন কাটাচ্ছে উৎকণ্ঠায়। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শঙ্করপুর উপকূলের জেলেপল্লিতেও।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নেপালে নতুন করে তরুণদের বিক্ষোভ

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক রাইডশেয়ার চালকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসনের আচরণের প্রতিবাদে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যা সরকারের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ২৫ বছর বয়সী চালক গণেশ নেপালি। এ সময় পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা তার মোটরসাইকেলের চাকায় তালা লাগিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন তার মৃত্যু হয়।   এই ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। রোববার শত শত মানুষ সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি কঠোর আচরণ বন্ধ, অবৈধ আটক বন্ধ এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।   বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে বালেন্দ্র (বালেন) শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নগর ব্যবস্থাপনায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং নদীতীরবর্তী বস্তি উচ্ছেদের মতো উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় এলেও এসব পদক্ষেপের মানবিক দিক নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।   আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকাণ্ড তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে। তাদের মতে, পৌর পুলিশের দায়িত্ব মূলত নগর ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ ও নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে।   নেপালের সংবিধান স্থানীয় সরকারকে পৌর পুলিশ গঠনের সুযোগ দিলেও সংশ্লিষ্ট আইনে তাদের ক্ষমতা সীমিত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, জননিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব মূলত জাতীয় পুলিশ বাহিনীর।   বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দিনমজুর, হকার ও নিম্নআয়ের মানুষের বিরুদ্ধে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান এবং প্রশাসনের কঠোর আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক এই মৃত্যুর ঘটনা সেই ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে এবং তরুণদের বড় একটি অংশকে আবারও রাজপথে নামিয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১৩, ২০২৬
বকখালী থেকে উদ্ধার করা হয় নিখোঁজ ট্রলারটি। ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ ট্রলার থেকে উদ্ধার ৯ জেলের মরদেহ

বালেন্দ্র শাহ। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে তরুণদের নিশানায় প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ

দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল মারামারি হয়। ছবি: সংগৃহীত

বিয়ের অনুষ্ঠানে খাসির মাংসের বদলে মুরগি দেওয়া নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড, আহত ১২

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সতর্ক করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। খবর শাফাক নিউজের।   সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকি বলেন, ১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ইসলামাবাদ সমঝোতা শুরু থেকেই সংকটে পড়ে। তার অভিযোগ, চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ধারাবাহিকভাবে এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করছে।   হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক উত্তেজনার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন বাকি। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে। ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের কারণেই সমঝোতাটি এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে একতরফা ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ না থাকে।   বাকি বলেন, 'প্রতিশ্রুতির বিপরীতে প্রতিশ্রুতি। যতদিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, ততদিন ইরানও নিজের দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবে।'   তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি, স্থাপনা ও লজিস্টিক অবকাঠামো বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে ইরান অঞ্চলের কোনো দেশের ওপর হামলা চালায়নি এবং ভবিষ্যতেও চালাবে না।   ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত 'অপরাধের' প্রমাণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা হবে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক আইনি পথ অনুসরণ করা হবে বলেও জানান বাকি।   এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত, ভবিষ্যৎ যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা, লক্ষ্যবস্তু ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক স্থাপনা

ছবি: সংগৃহীত

ছদ্মবেশে বাসে উঠে ভাঙতি না থাকায় কন্ডাক্টরের কাছে নামতে হলো কর্ণাটকের পরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ যুদ্ধের প্রভাব, কমছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুত

যুদ্ধবিরতির সমাপ্তি ঘোষণা করে ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের বিপদ ডেকে আনছে কিনা, এমন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ প্রায় ৫ মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান অস্ত্রের ভান্ডারে টান পড়েছে। বর্তমান হারে ইরানে হামলা চলতে থাকলে অস্ত্রের মজুত সঙ্কট আরও তীব্র হবে।    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে ৩ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে চীন বা উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কোনো ঝুঁকি এলে তা মোকাবিলায় মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের সাথে কথা বলে, মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।   থিংক ট্যাংক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’র (সিএসআইএস) প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত মেরিন কর্পস কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেছেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে যেভাবে যুদ্ধ চলছে, তা যদি এই হারেই চলতে থাকে, তবে এটি অস্ত্রের মজুত এতটাই কমিয়ে দেবে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ঝুঁকির একটি নতুন ও উচ্চতর স্তর তৈরি হবে।’   ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন থিংক ট্যাংকের পররাষ্ট্রনীতি গবেষণা প্রধান মাইকেল ও'হানলন বলেছেন, ‘অস্ত্রের মজুত যে আমাদের পছন্দের চেয়ে কম রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।’   ইরান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায় থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী দূরপাল্লার হামলা এবং শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে হাজার হাজার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিন্তু সে তুলনায় নতুন অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়নি।   সিএসআইএস’র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ যখন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়; ততদিনে পেন্টাগন তাদের থাড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের অন্তত অর্ধেক, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক এবং টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পুনরায় মজুতকরণের হার খুবই ধীর। চলতি অর্থবছরের সরবরাহ সূচি অনুযায়ী, পেন্টাগন প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। ২০২৬ সালে কোনো থাড  সরবরাহের পূর্বাভাস নেই। সিএসআইএস-এর ধারণা, মার্কিন অস্ত্রের মজুত ইরান যুদ্ধের আগের স্তরে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তার বেশি সময় লাগবে।   পেন্টাগনের সাবেক ডেপুটি এবং অ্যাক্টিং কমপ্ট্রোলার, বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো এলেন ম্যাককাস্কার জানিয়েছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রের পুনরায় মজুত করার সময়কাল বছর দিয়ে হিসাব করতে হবে, অধিকাংশের জন্য দুই থেকে পাঁচ বছর।   সঙ্কট শুধু মজুতে নয়, নতুন করে অস্ত্র তৈরিতে অর্থ পেতেও সমস্যায় পড়ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবসরপ্রাপ্ত দুই তারকা জেনারেল জন ফেরারি, যিনি বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সাথে যুক্ত, তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিস্থাপনের জন্য কংগ্রেস একটি ডলারও বাড়তি বরাদ্দ দেয়নি।   পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষা শিল্প ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে ট্রাম্প জুনে ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করেন এবং প্রতিরক্ষা দপ্তর উৎপাদন লাইন সম্প্রসারণের জন্য নির্মাতাদের সাথে চুক্তি করেছে। ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার মধ্যে জার্মানি এবং ইউক্রেনের মতো অন্যান্য দেশগুলোকে অভ্যন্তরীণভাবে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স চুক্তি দেওয়া হলে তা মার্কিন উৎপাদন লাইনের ওপর চাপ কমাতে পারে। তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাকে কথা বলার সময় ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের জন্য এই লাইসেন্সের ঘোষণা দেন।   মোদ্দা কথা, অস্ত্রের মজুত বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সম্ভাব্য সব উৎস ব্যবহারের চেষ্টা করছে। কিন্তু সমস্যা হলো যত চুক্তিই হোক বা অনুমতি দেওয়া হোক, রাতারাতি অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সময় লাগে। জাপানে প্যাট্রিয়ট কারখানা তৈরি করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। ২০২২ সালে উৎপাদন লাইনের কাজ শুরু করার পরও জার্মানি এখনো একটিও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।   যুদ্ধবিরতি মার্কিন অস্ত্রভান্ডারে কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। কিন্তু নতুন করে যুদ্ধের তীব্রতা অস্ত্রের মজুতের বিষয়টি আবার আলোচনায় এনেছে। অস্ত্রের মজুদের যে অবস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী হুমকির সাথে তাল মিলিয়ে কতদিন বর্তমান তীব্রতায় হামলায় অব্যাহত রাখতে পারেবে, তা নিয়েই শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুদ্ধজাহাজের রেপ্লিকা বানিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালাল চীন

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের নিশানায় ১৩ বিশ্বনেতা, প্রকাশ করল সংবাদমাধ্যম

0 Comments