জাতীয়

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাফল্য : ধর্ম উপদেষ্টা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0

 

ধর্ম উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নানা প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার স্বাক্ষর বহন করে। 

আজ শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর আসাদগেটে নিউ কলোনী জামে মসজিদের ৮তলা ভবনের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, নানা প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক সাফল্য।


নির্বাচন আয়োজন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভোটগ্রহণের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনকে প্রাণবন্ত করেছে। সব মিলিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রশাসনিক সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সংগঠনিক দক্ষতার দিক থেকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, নানা প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজন ও সম্পন্ন হওয়া রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার একটি ইতিবাচক দিক তুলে ধরে। সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের প্রাণশক্তিকে দৃঢ় করেছে। ভোটারদের উপস্থিতি ও আগ্রহ প্রমাণ করে, দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সচেতন ও বেশ আগ্রহী। গণতন্ত্র কেবল একটি ভোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সমন্বিত চর্চা।


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সেই ধারাবাহিকতাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
উল্লেখ্য, এ মসজিদ নির্মাণে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ১৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

এসময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ, ধর্মসচিব মোঃ কামাল উদ্দীন ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
সংসদ অধিবেশন কাঁপাবে নতুন প্রজন্ম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একঝাঁক তরুণ-তরুণী বিজয়ী হয়েছেন। এরা আসন্ন সংসদ অধিবেশনে সংস্কার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদের সিংহভাগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভোটার বিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।   ছাত্র-জনতার নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন এদের অনেকে। আবার অনেকের ব্যক্তি ও পরিবার স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছিলেন। সেসব মুখগুলো জনরায়ে এবার বিজয়ী হয়েছেন। বহুবছর পর এবারের সংসদে দেশবাসী নানা শ্রেণি, পেশার এবং বিভিন্ন বয়সের জনপ্রতিনিধিদের সংসদে দেখতে পাবেন। অংশগ্রহণমূলক সংসদ এবার জন প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।   তরুণ সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১), সদস্য সচিব আখতার হোসেন (রংপুর-৪), মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক হান্নান মাসউদ (নোয়খালী-৬), যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল-আমিন। এরা সবাই স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলনে সম্মুখ সারির নেতা।   বিএনপি এবং তাদের মিত্রদের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে রয়েছেন-ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬), বিতর্কিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭), ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১, বিজেপি), ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী এবং টকশো ব্যক্তিত্ব জোনায়েদ সাকি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র থেকে দাঁড়িয়ে বিজয়ী হওয়া ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বিজয়ী হয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ। তাদের মধ্যে রয়েছেন-বহুল আলোচিত বক্তা আমির হামজা (কুষ্টিয়া-৩), আয়না ঘর থেকে ফিরে আসা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম (আরমান) (ঢাকা-১৪), জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান (পাবনা-১), ইসলামিক বক্তা ও জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী (পিরোজপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (শেরপুর-১), বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও তরুণ জামায়াত নেতা মো. সালাউদ্দিন (গাজীপুর-৪)।   উপরোক্ত তরুণ সংসদের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো এবং অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন প্লাটফর্মের আলোচনায় এসব তরুণ নেতাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। তারা সমাজ, দেশ ও রাজনীতির নানা বৈষম্য নিয়ে কথা বলেন। তারা দেশকে নিয়ে নতুন করে গড়ে তোলার কথা ভাবেন। পুরাতন ধারার রাজনীতি থেকে সরে এসে বৈষম্যহীন ও সুস্থ ধারার রাজনীতির স্বপ্নের কথা বলেন। তরুণরা তাদেরকে অনুসরণ করেন; এবারের সংসদে তারা ভালো ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত সংসদ সচিবালয়

ছবি : সংগৃহীত

গণভোটের ফলাফলে অসঙ্গতি, সংশোধন করল ইসি

ছবি : সংগৃহীত

দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক : ধর্ম উপদেষ্টা

বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন চীনের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে চীন। একইসঙ্গে তারা বিএনপির নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করারও আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আজ শুক্রবার এক বার্তায় ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস এক বার্তায় বলেছে, ‘একটি অবাধ ও সফল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। সেই সঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকেও (বিএনপি) জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’ চীনা দূতাবাস আরও বলেছে, ‘আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে এবং চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার অপেক্ষায় রয়েছি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। ফাইল ছবি

এ বিজয় জাতীয়তাবাদের শক্তির প্রমাণ: ড. শেখ ফরিদুল

ছবি : সংগৃহীত

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত, ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ : ইসি সচিব

ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি ফলে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯ ও জামায়াত ৬৮ আসনে জয়ী : ইসি সচিব

ছবি : সংগৃহীত
সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে কোস্ট গার্ডের অবদান আগামীতে আরো বিস্তৃত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আশা প্রকাশ করে বলেছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারকরণ ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের অবদান আগামী দিনগুলোতে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।  আগামীকাল বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।  মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।’  বাণীতে তিনি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে এ বাহিনীর সর্বস্তরের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।  প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯৫ সালে ‘গার্ডিয়ান অফ সি’ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সাগর ভিত্তিক অর্থনীতির সুরক্ষা ও উপকূলীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের সার্বভৌম জলসীমা সংরক্ষণের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে।  তিনি বলেন, সীমিত জনবল ও জলযান নিয়ে কার্যক্রম শুরু করে সময়ের পরিক্রমায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, কৌশলগত দক্ষতা অর্জন এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বর্তমানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।  মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার দমন, মাদক প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, অভয়ারণ্য বাস্তবায়ন এবং জাটকা ও ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ভূমিকা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে এ বাহিনী দ্রুততা ও পেশাদারিত্বের সাথে সেবা প্রদান করে থাকে।  তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীকালে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ভূমিকার জন্য এ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।  বাণীতে তিনি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে কোস্ট গার্ডের অবদান আগামীতে আরো বিস্তৃত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি : সংগৃহীত

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই আগামী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ : মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাত নারী নির্বাচিত

0 Comments