বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং চার জন কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগ করা কমিশনাররা হলেন— মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও মো. সাইফুদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের ক্ষোভ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যেই এ পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছরের ২ জুন মু. মহসীন চৌধুরী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। পরে ২৮ আগস্ট মো. আলী আকবর, ৩ সেপ্টেম্বর ফারজানা লালারুখ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই মো. সাইফুদ্দিন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন
এর আগে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সোনার ভরি এখন সোয়া দুই লাখ টাকা; এক রতির দাম আড়াই হাজার টাকার মতো। এ খবরে যে কারও চোখ কপালে ওঠাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একটু পেছনে গেলে ‘পিলে চমকে যাওয়ার’ মতো অবস্থা হবে। নয় মাস আগে মূল্যবান এই ধাতুর ভরি প্রায় তিন লাখ টাকা ছুঁয়েছিল; রতি উঠেছিল তিন হাজার টাকায়। দেশের বাজারে সোনার দামের এ ওঠানামা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাজনীতি এবং বাজারের দীর্ঘ ইতিহাস। স্বাধীনতার পর যে সোনার ভরি ছিল ১৫০ টাকা, সেটিই গত জানুয়ারিতে কিনতে গুনতে হয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। পঞ্চান্ন বছরে সোনা দামি থেকে অতি দামি হয়ে উঠলেও বাংলাদেশে ধাতুটির দর নির্ধারণের প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়। এ জন্য দেশে বৈধভাবে সোনা আমদানি না হওয়াকে বড় কারণ মনে করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। দুবাইয়ের স্বর্ণ ও গহনা শিল্পের সবচেয়ে বড় সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্য সংস্থা—দুবাই জুয়েলারি গ্রুপের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ২২ ক্যারেট মানের সোনার ভরির দাম ছিল ৫ হাজার ২০২ দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ টাকা (১ দিরহাম = ৩৩.৭০ টাকা ধরে)। অন্যদিকে পাশের দেশ ভারতের বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া দর বলছে, দেশটিতে শুক্রবার সোনার গয়নার প্রতি ভরির দাম ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ২৩১ রুপি। অর্থাৎ ২ লাখ ৯ হাজার ৬০১ টাকা (১ রুপি = ১.৩০ টাকা ধরে)। এদিকে বাংলাদেশের বাজারেও কমেছে সোনার দাম। দুই দিনের ব্যবধানে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতিভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। রোববার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে এ দরে সোনা বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে কমানো হয়েছে অন্যান্য মানের সোনার দাম। তাতে দেখা যায়, দুবাইয়ের তুলনায় দেশে এক ভরি সোনার দাম ৪৫ হাজার ৫৪৬ টাকা বেশি; আর ভারতের তুলনায় দাম বেশি ১১ হাজার ২৫৭ টাকা। দেশে সোনার ওজন মাপার প্রচলিত একক হলো ভরি, আনা ও রতি। সাধারণত সোনার দাম ভরি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। সেই ভরিকে ১৬টি সমান ভাগ করলে প্রতিটি ভাগকে এক আনা বলা হয়। আর এক ভরিকে ৯৬টি সমান ভাগ করলে প্রতিটি ভাগকে রতি বলা হয়। তার মানে, ১ ভরি = ১৬ আনা = ৯৬ রতি <iframe title="সোনার পরিমাপ" aria-label="Table" id="datawrapper-chart- SEg1h" src="https://datawrapper.dwcdn.net/SEg1h/2/" scrolling="no" frameborder="0" style="width: 0; min-width: 100% !important; border: none;" height="232" data-external="1"></iframe><script type="text/javascript">(function(){function e(){window.addEventListener(`message`,function(e){if(e.data[`datawrapper -height`]!==void 0){var t=document.querySelectorAll(`iframe`);for(var n in e.data[`datawrapper-height`])for(var r=0,i;i=t[r];r++)if(i.contentWindow===e.source){var a=e.data[`datawrapper- height`][n]+`px`;i.style.height=a}}})}e()})();</script> বেশ কিছুদিন ধরেই দেশের বাজারে সোনার দর ওঠানামা করছে। গত ৯ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১৬ দিনের ব্যবধানে চার দফায় এই মানের সোনার দাম ভরিতে ১০ হাজার ৪৩৯ টাকা কমানো হয়েছে। দেশের বাজারে এখন ২১ ক্যারেটের এক ভরি কিনতে লাগছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্যারেট হলো সোনার বিশুদ্ধতা মাপার একক। বিশুদ্ধ সোনাকে ২৪ ভাগ ধরে এর সঙ্গে কত ভাগ সোনা আছে, তা দিয়ে ক্যারেট নির্ধারণ করা হয়। ২৪ ক্যারেট হলো সবচেয়ে বিশুদ্ধ সোনা। এতে প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পর্যন্ত খাঁটি সোনা থাকতে পারে। তবে ২৪ ক্যারেটের সোনা তুলনামূলক নরম। ফলে সহজে বাঁকা বা আঁচড় পড়তে পারে। এ কারণে গয়না তৈরিতে সোনার সঙ্গে তামা, রূপা বা অন্য ধাতু মিশিয়ে ২২, ২১ বা ১৮ ক্যারেটের সোনা ব্যবহার করা হয়। গয়না কীভাবে তৈরি করা হয়েছে, তার ওপরও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। · ২৪ ক্যারেট: ২৪ ভাগের ২৪ ভাগই সোনা—প্রায় ১০০% বিশুদ্ধ। · ২২ ক্যারেট: ২৪ ভাগের ২২ ভাগ সোনা—৯১.৬৭%। · ২১ ক্যারেট: ২৪ ভাগের ২১ ভাগ সোনা—৮৭.৫%। · ১৮ ক্যারেট: ২৪ ভাগের ১৮ ভাগ সোনা—৭৫%। বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানি হয় না বললেই চলে। সোনা আসে বিদেশফেরত যাত্রীদের হাত ধরে। ‘যাত্রী (অপর্যটক) ব্যাগেজ (আমদানি) বিধিমালা, ২০১৬’ অনুযায়ী, একজন যাত্রী বিদেশ থেকে আসার সময় ভরিপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা শুল্ক দিয়ে ১০ ভরির মতো (১১৭ গ্রাম) সোনা আনতে পারেন। ভরিপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা শুল্ক আমলে নেওয়ার পরও দেখা যায়, বাংলাদেশে সোনার দাম বেশি। যদিও দেশে অবৈধ পথেই বেশির ভাগ সোনা আসে বলে সন্দেহ করা হয়। এ ছাড়া চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ হয় পুরনো সোনা দিয়ে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সোনার দাম নির্ধারণ করে আসছে বাজুস। বৈশ্বিক বাজারে দাম বাড়লে বা কমলে সমিতির নেতারা তার ভিত্তিতে দর সমন্বয় করেন। তবে দাম বাড়ানো-কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিউর গোল্ডের দাম বেড়েছে-কমেছে। এ কারণে সমিতির সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা দাম বাড়ানো-কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যেমন রোববার দাম কমানোর ব্যাখ্যায় বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিউর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। কীভাবে দাম নির্ধারণ হয় জুয়েলার্স সমিতির নেতারা সোনার দাম নির্ধারণ করলেও এ ক্ষেত্রে ভিত্তি ধরা হয় পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারকেন্দ্রিক পাইকারি বাজারের সোনার দাম। এ দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতি; এ দরে মূলত ব্যবসায়ী পর্যায়ে কেনাবেচা হয়ে থাকে। একাধিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, পোদ্দার সমিতি প্রতিদিন সোনার (পিউর গোল্ড) দাম নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে বাজারে ব্যাগেজ রুলসে আসা সোনা এবং সারাদেশ থেকে আসা পুরনো অলংকারের সোনার সরবরাহের পরিমাণ বিবেচনায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলকাতায় সোনার দাম কত, সেটিও জেনে নেয়। তারপরই সোনার দাম হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়। সোনার দাম সমন্বয় করার জন্য জুয়েলার্স সমিতির একটি কমিটি রয়েছে, যার নাম—বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং। সোনার দাম সমন্বয়ে এ কমিটি প্রথমেই পোদ্দার সমিতির নির্ধারিত পাইকারি সোনার দর বিবেচনায় নেয়। যেমন—রোববার সকালে জুয়েলার্স সমিতি সোনার যে দাম নির্ধারণ করেছে, তাতে আগের দিনের (শনিবার) পুরান ঢাকার পাইকারি বাজারে প্রতি ভরি সোনার দাম যা ছিল তার সঙ্গে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য আড়াই হাজার টাকা মুনাফা যুক্ত করে দাম চূড়ান্ত করা হয়। আগে জুয়েলার্স সমিতির কমিটি পাইকারি বাজারের সোনার (পিউর গোল্ড) দামের ১ দশমিক ২৫ গুণ করে সোনার দর নির্ধারণ করত। সোনার দাম বেশি ওঠানামার কারণে সেই ব্যবস্থা থেকে সরে এসেছে সমিতি। কীভাবে দেশে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়, জানতে চাইলে বাংলাদেশ পোদ্দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক বাজারদর, তাঁতীবাজারে সোনার সরবরাহ, চাহিদা-জোগান ও পার্শ্ববর্তী দেশের দাম বিবেচনায় নিয়ে প্রতিদিন দাম নির্ধারণ করে থাকি। “বাজুসের দামের সঙ্গে আমাদের দামের পার্থক্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মতো হয়ে থাকে।” আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে দাম বেশি কেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ব্যাগেজ রুলসে যারা সোনা নিয়ে আসেন, তারা মুনাফা করেন। পাইকারি ব্যবসায়ীদেরও মুনাফার বিষয় আছে। এরপর আবার জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মুনাফা। “এভাবে কয়েক ধাপে দাম কিছুটা বেড়ে যায়।” বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের জুয়েলার্স সমিতির একটি কমিটি রয়েছে, যার নাম—বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং। এই কমিটি প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে এবং তার সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের বাজারে দাম নির্ধারণ করে দেয়। “দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই কমিটি প্রথমেই পোদ্দার সমিতির নির্ধারিত পাইকারি সোনার দর বিবেচনায় নেয়। যেমন—২৫ অক্টোবর সকাল ৯টায় আমরা কমিটির বৈঠক করে সোনার দাম কমিয়েছি। এই দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা ২৪ অক্টোবর বিকেলের পোদ্দার সমিতির দর এবং আন্তর্জাতিক দাম বিবেচনায় নিয়েছি। “তবে আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সোনার বাজার ডলারের বাজারের উপরও অনেকটা নির্ভর করে। ডলারের দাম বাড়লে, সোনার দাম বাড়ে—এটা সব সময়ই হয়ে আসছে।” দেশে সোনার ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনতে ২০১৮ সালে স্বর্ণ নীতিমালা করেছিল সরকার। তারপর বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৯ সালের নভেম্বরে একটি ব্যাংকসহ ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিকভাবে সোনা আমদানির লাইসেন্স দেয়। পরে আরও একটি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স পায়। শুরুতে একাধিক প্রতিষ্ঠান কয়েকটি চালানে সোনা আমদানি করেছিল। পরে বিদেশি মুদ্রার (ডলার) সংকট, অনুমতি পেতে সময়ক্ষেপণ ও বেশি ভ্যাটের কারণে আমদানিতে আগ্রহ হারান ব্যবসায়ীরা। আমদানি হচ্ছে না কেন সোনা আমদানি হচ্ছে না কেন, এ প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি এনামুল হক খান দোলন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে একজন ব্যবসায়ী চাইলে যে কোনো পরিমাণ সোনা বিদেশ থেকে বৈধ পথে আমদানি করতে পারেন। তবে এর জন্য প্রয়োজন পূর্বানুমোদন, অনাপত্তিপত্রসহ (এনওসি) বেশ কিছু কাগজপত্র। এ প্রক্রিয়া জটিল ও সময় সাপেক্ষ। সে কারণে এখন দেশে বৈধ পথে সোনা আমদানি হয় না বললেই চলে। তিনি বলেন, “সোনা আমদানি খুবই জটিল একটি প্রক্রিয়া। একটি আমদানি সম্পন্ন হতে দেড় থেকে পৌনে দুই মাস সময় লাগে। অথচ ভারতে সাত দিনেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যায়। “এই দীর্ঘ সময় মোটা অংকের টাকা আটকে থাকে। সে কারণে যারা আমদানি করতে যান, তাদের অনেক ক্ষতি হয়। এছাড়া শুল্কের হারও বেশি; প্রতি ভরিতে দুই হাজার টাকা দিতে হয়।” বাজুস সভাপতি দোলন বলেন, “সব মিলিয়ে আমদানি করা সোনার যে দাম দাঁড়ায়, তা বাজারের দামের চেয়ে অনেক বেশি পড়ে। সে কারণেই এখন আর কেউ আমদানি করে না। “আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে আমরা সরকারকে বলেছি। বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। দেখা যাক কী হয়।” দাম নির্ধারণ কতটা যৌক্তিক সোনা বেচাকেনায় বিভিন্ন দেশে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ চালু থাকলেও বাংলাদেশে নেই। কমোডিটি এক্সচেঞ্জ এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে শেয়ারের মতো পণ্য কেনাবেচা হয়। পণ্য সরাসরি নয়, কাগুজে বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কেনাবেচা হয়। আর মূল পণ্য থাকে কোনো গুদামে বা মাঠে। সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর এটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বা হস্তান্তর হয়। জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় সোনা কেনাবেচার ব্যবস্থা করলে তারা বৈশ্বিক দরের কাছাকাছি দরে সোনা কিনতে পারবেন। তখন ক্রেতারাও সেই সুবিধা পাবেন। সোনার দরে ওঠানামার বিষয়ে জানতে চাইলে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, “দেশের সোনার বাজার আসলে পুরোপুরিই বিশ্ববাজারের উপর নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে, তার সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দাম ঠিক করি। আবার কমলে, কমাই।” তিনি বলেন, “বিশ্ববাজার এখন অদ্ভুত আচরণ করছে। অতীতে দেখা গেছে, বিশ্ব পরিস্থিতি অস্থির হলে, যুদ্ধ লাগলে—আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যেত। কাছাকাছি সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের ধাক্কায় গোল্ডের দাম বেড়েছে। এর আগে ইরাক, লিবিয়া যুদ্ধের সময়ে বেড়েছে। চীন ও আমেরিকার বাণিজ্য যুদ্ধের কারণেও বেড়েছে। এমনকি করোনাভাইরাস মহামারীর সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল, তখনও সোনার দাম বেড়েছিল। অথচ এখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, চরম অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে; এর মধ্যে গোল্ডের দাম কমছে। অবাক লাগছে; বুঝতে পারছি না কেন—এমনটা হচ্ছে।” দেশের বাজারে যে পদ্ধতিতে সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়, তা কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নের উত্তরে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় যে পদ্ধতিতে সোনার দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে, সেটিকে যৌক্তিক বলতে হবে। কারণ যতক্ষণ দেশের অভ্যন্তরে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈশ্বিক দরে সোনা কেনা যাবে না, ততক্ষণ জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও সেই দামে দিতে পারবেন না। তা ছাড়া আপাতদৃষ্টে সোনার দাম বেশি মনে হলেও ক্রেতারাও কিন্তু যে দামে কিনছেন, সেই দামেই আবার বিক্রি করতে পারছেন। “যে কেউ পুরাতন সোনার গয়না বা অলংকার পরিবর্তন করে নতুন কিনতে চাইলে ১২ শতাংশ চার্জ দিয়ে কিনতে পারেন। আবার কেউ বিক্রি করতে চাইলে মোট যে দাম আসবে, তা থেকে ১৮ শতাংশ বাদ দিয়ে বিক্রি করতে পারছেন।” বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে বার্ষিক সোনার চাহিদা ২০ থেকে ৪০ টন। এর মধ্যে ১০ শতাংশ পুরোনো অলংকার থেকে পূরণ হয়। বাকিটা ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিদেশ থেকে আসে। অবৈধভাবেও প্রচুর সোনা দেশে আসে; তার প্রমাণ মেলে মাঝে-মধ্যেই ছোট-বড় অনেক চালান আটকের খবরে। যেগুলো আটক বা ধরা হয়—সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রাখা হয়। পরে তা নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। অভিযোগ আছে, আটকের বাইরেও প্রচুর সোনা অবৈধভাবেও দেশে আসে। আর এ গুলোই আসলে দেশের চাহিদার সিংহভাগ জোগান দিচ্ছে। বাজুস কবে থেকে দেশে সোনার দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে—তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার পর অনেক দিন ব্যবসায়ীরাই তাদের নিজেদের মতো করে দাম ঠিক করে বিক্রি করে বেচাকেনা করত। সেক্ষেত্রে এলাকাভিত্তিক অর্থাৎ রাজধানী-বিভাগ-জেলা-থানা পর্যায়ে দাম হেরফের হত। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাধীনতার আগে-পরে প্রতি ভরি সোনার (গিনি সোনা বা প্রচলিত মান) দাম ছিল আনুমানিক ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা। ১৯৭৪ সালে বেড়ে হয় ১ হাজার ২০০ টাকা। ১৯৯২ সালে ভরি ছিল ৪ হাজার ৮৫০ টাকা। ২০০০ সালে এক ভরি সোনা কিনতে ৭ হাজার টাকারও কম খরচ হত। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৬ সালে ২৯ জানুয়ারি অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সেই সোনার ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় উঠেছিল। এরপর গত নয় মাস ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলছে লেনদেন। কখনও বাড়ছে, কখনও কমছে। আগে রাতে সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হত; পরের দিন থেকে কার্যকর হত সেই দর। বেশ কিছুদিন ধরে সকাল ১০টায় দাম বাড়ানো-কমানোর ঘোষণা দিচ্ছে বাজুস এবং সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর হচ্ছে। কখনও কখনও বিকেলেও সোনার দাম বাড়ানো-কমানো হয়। রেকর্ড ভাঙা দিনগুলো বাজুসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারি ছিল দেশের সোনার বাজারের জন্য অস্থির মাস। ওই মাসে সোনার দর যে গতিতে চড়েছিল, আবার ঠিক প্রায় একই গতিতে নেমেছিল। জানুয়ারিতে মোট ২০ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ১৪ বার বাড়ে; কমে ছয় বার। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ২৯ জানুয়ারি ২২ ক্যারেট মানের সোনার ভরি ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায় উঠেছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দফায় দফায় কমানোর মধ্য দিয়ে। এরপর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। কিন্তু শেষের দিকে টানা বাড়ে, মাসের ২৮ দিনে ১৫ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে আট বার বাড়ে, কমে সাত বার। মার্চ মাসে ১০ দফা সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে সাত বার বেড়েছে; কমে তিন দফা। এর পর গত সাত মাস বাড়া-কমার মধ্য দিয়েই চলছে লেনদেন। তবে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের মতো উত্থান-পতন লক্ষ্য করা যায়নি। ২০২৫ সালে মোট ৯১ বার সোনার দাম সমন্বয় করে বাজুস। এর মধ্যে ৬৪ বার বেড়েছে, আর কমেছে ২৭ বার। ২০২৪ সালে দাম সমন্বয় হয়েছিল ৬২ বার। বাংলাদেশে প্রথমবার ২২ ক্যারেট মানের সোনার ভরি ১ লাখ টাকা ছাড়ায় ২০২৩ সালের জুলাই মাসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছাড়ায় দেড় লাখ টাকা; ২২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দুই লাখ টাকা অতিক্রম করে। বিশ্ববাজারেও উত্থান-পতন রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৫০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল; ঠেকেছিল ৫ হাজার ৬০২ ডলারে। ওই সময়েই বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেট মানের সোনার ভরি প্রায় ৩ লাখ টাকা ছুঁয়েছিল। এর পর ওঠানামার মধ্য দিয়ে চলে লেনদেন। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ফের চড়েছিল। পরে আবার নিম্নমুখী হয়। সবশেষ রোববার বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন হয়েছে। এদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতিআউন্স সোনার দাম ছিল ৩ হাজার ৯৯৫ ডলার ৮৮ সেন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে ৪৮ ডলার ৮৪ সেন্ট কম। শতাংশ হিসাবে কমেছে ১ দশমিক ২১ শতাংশ। আর ছয় মাসের নিরিখে ৬৫১ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে| অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শনিবার ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ৫১তম সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়| মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়| আলোচনা শেষে প্রস্তাব দুটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়| প্রথম প্রস্তাবে সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০২৫-এর ৯৯(২) বিধি অনুসরণ করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন চাওয়া হয়| একই সঙ্গে উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কার্গো কেনার অনুমোদনও চাওয়া হয়েছে| প্রস্তাব অনুযায়ী, এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম হবে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) মূল্য থেকে ০.১৭ মার্কিন ডলার কম| এ ক্ষেত্রে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে| দ্বিতীয় প্রস্তাবে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন চাওয়া হয়| কার্গোটি ২০২৬ সালের ২০ ডিসে¤^রের জন্য নির্ধারিত| এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান চুক্তিতে উল্লিখিত দরের চেয়ে ভিন্ন দামে এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে| প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম হবে জেকেএম মূল্য থেকে ০.১০ মার্কিন ডলার কম| এ প্রস্তাবে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসিকে সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে|
রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হয়েছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মিয়া সাত্তার। তিনি রাশিয়ার ব্যবসায়ী মহলে পরিচিত একজন উদ্যোক্তা ও ন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। নতুন দায়িত্বের জন্য তিনি মিয়া সাত্তারকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। পাদালকো বলেন, উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই কাউন্সিলের কাজ চলা উচিত। রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের বাজারসংক্রান্ত বিশ্লেষণ তৈরি, সহযোগিতার সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা এবং বাজারে প্রবেশের বাধা খুঁজে বের করা হবে প্রধান কাজ। বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহী কম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহায়তা দেওয়ার ওপরও তিনি জোর দেন। পাদালকোর মতে, কাউন্সিল রুশ-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। উদ্যোক্তাদের প্রস্তাব একত্র করে ব্যবসা ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো সরকারি পর্যায়ে তোলা হবে। রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। স্বাধীনতার সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নতুন প্ল্যাটফর্ম পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়াবে। কাউন্সিলের কাজে দূতাবাস সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়া বিভাগের প্রধান ভ্যাচেস্লাভ এরমোলায়েভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে তিনি যৌথ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা ও বাণিজ্যের পণ্যতালিকা বাড়ানোর প্রয়োজনের কথাও বলেন তিনি। রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা বলেন, কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসার সুনির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরো বিস্তৃত করা যাবে। জ্বালানি, রসায়ন, কৃষি-শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিকে তিনি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। বৈঠকে মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো ও হালকা শিল্পে সহযোগিতার সুযোগের কথা তুলে ধরেন। সম্ভাব্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শস্য গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার প্রাক্তন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গায় একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা। তিনি জানান, রুশ কম্পানিগুলো ইতিমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করছে এবং তৈরি পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি করছে। রাশিয়া ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহকারীদের অ্যাক্রেডিটেশনের কাজও চলছে। বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রধান বাধা হিসেবে মিয়া সাত্তার বাংলাদেশে পণ্যের দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার কথা বলেন। এর সমাধানে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় ও সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি। তার মূল্যায়নে, রুশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশ মানে প্রায়ই কেবল বস্ত্রশিল্প আর রূপপুর প্রকল্প। এই ধারণা বদলাতে তিনি একটি সমন্বিত তথ্য পোর্টাল, খাতভিত্তিক বিজনেস মিশন এবং রুশ চেম্বার ও রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের স্থায়ী যোগাযোগের প্রস্তাব দেন। মিয়া সাত্তার বলেন, ‘আমাদের একক কোনো ফোরামের প্রয়োজন নেই, বরং নিয়মিত বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন।’ প্রকল্প পর্যালোচনার জন্য কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী খাতভিত্তিক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনেরও প্রস্তাব করেন তিনি। বৈঠকে ‘প্রডইনটর্গ’-এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার সিরতসেভ বাংলাদেশে রুশ সার ও শস্য সরবরাহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কৃষি-শিল্পবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রস্তাব দেন। বৈঠকে কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট ও ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। স্তানিস্লাভ সিমাকোভকে এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে। আগামী নভেম্বরে আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের ফাঁকে ঢাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বৈঠকের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ ও নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভা।