সারাদেশ

চট্টগ্রামে ছয় মাসে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাস পেরোনোর মধ্যেই চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) সংসদীয় আসন এলাকার উন্নয়নচিত্রে যুক্ত হয়েছে একের পর এক দৃশ্যমান উন্নয়ন।

 

সড়ক, সেতু-কালভার্ট, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন থেকে শুরু করে পানি, বিদ্যুৎ ও সেচব্যবস্থা, মসজিদ-মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির-শ্মশানসহ ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামোতে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। স্থানীয় জনজীবনের নানা প্রয়োজনকে সামনে রেখে এগিয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

 

১৮০ দিনে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা ৪৫০টি প্রকল্পের মধ্যে ৩২৯টির কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এর বাইরে সরকারি বরাদ্দে নেওয়া ২৭টি প্রকল্পের প্রতিটিই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে আরও ৪৮টি প্রকল্পের কাজ চলমান; যার অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে। এসব প্রকল্পে গড় অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ।

 

এলাকাবাসী বলছেন, সরকারের প্রথম ৬ মাসে একটি সংসদীয় এলাকার মানুষের প্রয়োজন মেটাতে এই চমক দেখিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

 

এ প্রসঙ্গে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো এলাকার সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।’

 

তিনি জানান, ইতোমধ্যে সংসদীয় এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহে ৩৮টি, মাদ্রাসা ও হেফজখানায় ২৫টি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। খাল ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া হয়েছে ১৯টি প্রকল্প, সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছে ১২টি সেতু ও কালভার্ট।  পানি, বিদ্যুৎ ও সেচ খাতের ৪৮টি সরকারি প্রকল্পই শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে ভূমি ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে নেওয়া উদ্যোগগুলোও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

 

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ উন্নয়ন উদ্যোগ কেবল প্রতিমন্ত্রীর নিজ সংসদীয় আসনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার উন্নয়নেও ১৮০ দিনের মধ্যে অনেকগুলো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তিনি নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় কাজ করছেন।

 

হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক জাকের হোসেন বলেন, ‘হাটহাজারীতে ৬ মাসে যে উন্নয়ন হয়েছে, তা বিগত ১৭ বছরেও হয়নি। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। বিশেষ করে হাটহাজারী বাস স্টেশনে যে যানজট ছিল, সেখানে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের কারণে যানজট এখন নেই বললেই চলে।’

তিনি বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে যে জলাবদ্ধতা হতো, খাল খনন ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার কারণে এবার জলাবদ্ধতাও হয়নি। তিনি এখানে ৬০০ বেডের একটি হাসপাতাল করার চেষ্টা করছেন, একই সাথে ক্রীড়া ব্যবস্থার উন্নয়নে মিনি স্টেডিয়াম করারও পরিকল্পনা করছেন । এসব উন্নয়নে এলাকার মানুষজন যথেষ্ট খুশি।

জাকের হোসেন আরও বলেন, ‘তিনি বিগত ২০ বছর ধরে সব সময় হাটহাজারীতে ছিলেন, তিনি জানেন কোথায় কী করতে হবে। তাই দ্রুত এত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।’

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘সময়ের হিসেবে ১৮০ দিন খুবই অল্প, কিন্তু মানুষের প্রতি দায়িত্বের ভার অনেক বেশি। এই অল্প সময়ের মধ্যেই আমি চেষ্টা করেছি মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও নিবেদিত থাকতে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি সরকার শুধু প্রতিশ্রুতিতে নয়, কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতিতেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়।’

 

তিনি বলেন, এই ১৮০ দিনে যা করার পরিকল্পনা ছিল, তা বাস্তবায়নের পথেও দৃঢ়ভাবে এগিয়েছি। উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ- এই চারটি ভিত্তিকে সামনে রেখে কাজ করেছি। প্রতিটি সিদ্ধান্তে ছিল একটি লক্ষ্য- মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আমার নির্বাচনী এলাকা এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া অনুভব করতে পারেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির মহানায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ করছি, মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটছে দ্রুত। এজন্য প্রধানমন্ত্রীরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

 

সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনার আলোকে মন্ত্রণালয়ের নানা প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, সরকারের কর্মপরিকল্পনার আওতায় গৃহীত সব কার্যক্রম ধাপে ধাপে সমন্বিত ডাটাবেইসে সংরক্ষণ ও আপডেট করা হবে, যাতে জনগণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

 

তিনি জানান, ইতোমধ্যে শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ভূমিসেবা অ্যাপ চালু করা হয়েছে। জনগণ অ্যাপ ব্যবহার করে সব ভূমিসেবা পাচ্ছেন। এই অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে- ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নামজারির ফি জমা, খতিয়ান সংগ্রহ, ডিসিআর প্রতিলিপি সংগ্রহ, খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ, মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, খতিয়ান অনুসন্ধান ও যাচাইসহ সব ধরনের সেবা মিলছে। একই সাথে হেল্পলাইন নাম্বার ১৬১২২ এর মাধ্যমেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেইসঙ্গে, হাটহাজারী-রাঙামাটি মহাসড়ক এখন সৌরবিদ্যুৎ চালিত স্মার্ট স্ট্রিট লাইটের আলোয় আরও নিরাপদ, আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে, তেমনি আলোকিত করেছে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ককে।

 

হাটহাজারী পৌরসভাকে ব্যাংক বুথ, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও সহজ সেবাপ্রাপ্তির মাধ্যমে আরও কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারী উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভার ওয়ার্ড, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপজেলা ও পৌরসভা প্রশাসনের মাধ্যমে ৩ লাখ ৬২ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির আসামবস্তি এলাকায় বৃহৎ শ্মশান ঘাটে মৃতদেহ সৎকারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। রাজস্থলীর দুর্গম কুক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

হাটহাজারী উপজেলার সরকারহাট বাজার সংলগ্ন মির্জাপুর মৌজার সরকারি আনুমানিক ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ৩ শতক সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। আল মুহসিনাত বালিকা হিফজখানার ছাত্রীদের গরম ও লোডশেডিংয়ের কষ্ট লাঘবে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

চলমান কিছু প্রকল্পের কাজের মধ্যে রয়েছে- মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বিলে কৃষকদের সেচ প্রকল্প পাইপলাইন নির্মাণকাজ, ১৪ নম্বর শিকারপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বাথুয়া গ্রামে আসাদ আলী রোড থেকে নেয়ামত আলী রোড পর্যন্ত জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যক্রম, পশ্চিম চারিয়া কাজী পাড়া সন্দ্বীপ কলোনি অন্তর্গত আনিস খাল সংলগ্ন রাস্তা মেরামত, মেখল ইউনিয়ন এর হারিয়াননালা খাল খনন কর্মসূচি।

 

এছাড়াও রয়েছে হাটহাজারীর জলাবদ্ধতা নিরসনে বউ বাজার থেকে দশতলা পর্যন্ত নালা পরিষ্কার কার্যক্রম,  ফটিকা কামাল পাড়া থেকে সেন বাড়ি হয়ে দশতলার পেছনে নালা পরিষ্কার ও খাল খনন কার্যক্রম, মেখল ৫ নম্বর ওয়ার্ড ফতেহ আলী কাঞ্চন বাড়ির সড়ক মেরামত, চৌধুরীহাট জিসি টু মদুনাঘাট (দাতারাম চৌধুরী সড়ক) সংস্কার কাজ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় সুন্দরী ছড়া পুনঃখনন, আবদুল গফুর তালুকদার বাড়ি জামে মসজিদ ও ফতেয়াবাদ-রামদাশহাট-মদুনাঘাট সড়ক মেরামত কাজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
‘গাড়ি চালাতে গিয়ে নারী চালকদের একটু সমস্যা হতেই পারে’

ব্রিজে ওঠার সময় গাড়ি চালাতে গিয়ে একজন নারী চালকের সামান্য সমস্যা হতেই পারে—এমন মন্তব্য করেছেন সুপ্রিয়া নামের এক গাড়িচালক। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর সময় তাদের ‘ট্রল’ ও ভিডিও করার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার ড্রাইভিং সিটে বসে আরটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুপ্রিয়া এসব কথা বলেন।   সাক্ষাৎকারে সুপ্রিয়া বলেন, ‘ব্রিজে উঠতে গেলে একজন নারী চালকের একটু সমস্যা হতেই পারে। এটা নিয়ে যদি সাংবাদিকরা ট্রল করে, তাহলে সাংবাদিকদের জন্য আমরা রাস্তায় আমাদের গাড়ি ভালোভাবে চালাতে পারছি না।’   সড়কের অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সড়কে তেমন কোনো সমস্যা নাই। রাস্তাঘাট ভাঙাচোরা, একটু প্রবলেম আছে। যেখানে গাছপালা আছে, সেখানে একটু সমস্যা। কিন্তু রিপোর্টারদের জন্য আমাদের সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’   এসময় সড়কে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং সামান্য ভুল বা সমস্যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল না করার অনুরোধ জানান সুপ্রিয়া।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভোলার দৌলতখানে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৯ স্থাপনা

ছবি: সংগৃহীত

চুরির অভিযোগে প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, গ্রেফতার ১

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ছয় মাসে ৩২৯ উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করলেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁয় বিয়ের কথা বলে ডেকে নারীকে হত্যা, গ্রেফতার ২

কথা ছিলো ১৬ তারিখে বিয়ে করবেন। বিয়ের কথা শুনে কিনেছিলেন জুতা, জামা, সঙ্গে নিয়েছিলেন প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাতীয় পরিচয়পত্র। কিন্তু এই বিয়েই যে তার জীবনের কাল হবে তা জানতেন না মেরিনা বেগম। নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূকে হত্যার পর নৃশংসভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতান করেছে পুলিশ। এসময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।    বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ধামইরহাট এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক রহমান (২১)।    সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) মাধ্যমে জানা যায়, ধামইরহাট উপজেলায় একটি আমবাগানের মধ্যে পোড়া লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে থানা থেকে প্রায় ২৪-২৫ কিলোমিটার দূরে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখানে গিযে দেখা যায় একজন মধ্যবয়সী মহিলার আগুনে পোড়া মৃতদেহ। তার পাশে ছড়িয়ে আছে প্রসাধনী সামগ্রী এবং জাতীয় পরিচয়পত্র।তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টা সিআইডি এবং পিবিআইকে জানানো হয় এবং গুরুত্বের সহকারে কাজ শুরু করি। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত এবং ডাটা বিশ্লেষণ কয়েকজনকে সন্দেহ হয়। এই সন্দেহের মধ্যরাতে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনকে (৪৯) গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপর আসামি তারেক রহমানকে (২১) গ্রেফতার করে পুলিশ।   পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় নিহত মেরিনা বেগমের ছেলে কাউসার আলী এবং তার স্বামী হাসেন আলী জীবিকা নির্বাহের জন্য কুমিল্লায় থাকেন। তারা বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে মেরিনা বেগমের সাথে সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে। সম্পর্ক যখন খুব গভীর হয়ে যায়, তখন মেরিনা বেগম তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। তখন এই মেম্বার তাকে বলে আগামী ১৬ তারিখে তোমাকে বিয়ে করবো। ওই মহিলা বিয়ে করার কথা মনে করে প্রসাধন সামগ্রী (কসমোটিক্স, চিরুনি, এনআইডি কার্ড) নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়।  ​ গ্রেফতার দুজনসহ চারজন মিলে তাকে হত্যা করে এবং তার লাশ যাতে শনাক্ত করা না যায়, সে জন্য পরবর্তীতে পেট্রোল ঢেলে তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের ঊর্ধ্বাংশ পুড়িয়ে ফেলা হয় বলেও জানান পুলিশ সুপার।    এদিকে নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ভগ্নিপতিকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।   সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) শরিফুল ইসলামসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উখিয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযান, পাঁচ বস্তায় মিলল ৬ লাখ ৭২ হাজার ইয়াবা

ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে বড় উচ্ছেদ অভিযান, ভেঙে ফেলা হলো ২ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা

ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার দেশের যেসব এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না

ছবি: সংগৃহীত
জনসভায় ছাত্রলীগের প্রসঙ্গ, বিতর্কে ইউএনও

হাওর এলাকার বহুল কাঙ্ক্ষিত জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নাম উচ্চারণ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিল্পী রানী মোদক। মঙ্গলবার সকালে সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুনামগঞ্জ এলজিইডি আয়োজিত জনসভায় এ ঘটনা ঘটে।   জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। এমপি কামরুলের বক্তব্যের পর সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউএনও শিল্পী রানী মোদক উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নাম উল্লেখ করার এক পর্যায়ে ‘ছাত্রলীগ’ সম্বোধন করেন।   ইউএনও তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে উপস্থিত আছেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ আর সঙ্গে আছেন আপনারা কৃষক ভাইরা সবাই এবং এলাকার সকল গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।’   নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নাম নেওয়ার পাশাপাশি তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে তিন একর খাসজমিতে খেলার মাঠ তৈরি-সংক্রান্ত নির্দেশনার কথা জানান এবং উড়াল সড়ক নির্মাণে জামালগঞ্জবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।   প্রকাশ্য জনসভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তার মুখে নিষিদ্ধ সংগঠনের নাম আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক আনিসুল হকসহ জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা।   এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) আবদুল হক বলেন, স্বৈরাচারের দোসররা এখনও দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহাল তবিয়তে আছে। তাদের এখনও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুত সরাতে হবে। মন্ত্রী ও এমপির কাছে জোর দাবি— এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই ক্যামেরায় ২৪ ঘণ্টায় ৪৪১ মামলা

ছবি: সংগৃহীত

ছেলেধরা সন্দেহে’ যুবককে পিটিয়ে হত্যা, পুলিশ হেফাজতে ২

ছবি: সংগৃহীত

তিন ডিসি ও এক বিভাগীয় কমিশনারকে ‘প্রত্যাহার’

0 Comments