দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দিবাগত রাতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী হন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশকের ইতিহাসে এবারই প্রথম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রত্যক্ষ করল সংসদ। নির্বাচনে তিনি মোট ২৫৫টি ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট।
সংসদে দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে গোলাপ ফুল দিয়ে উষ্ণ অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরবর্তীতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পৃথক বার্তায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
তথ্য কমিশনের নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সাংবাদিক এস. এ. এম মাহফুজুর রহমান এবং সাংবাদিক খান মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে তথ্য কমিশনের ‘তথ্য কমিশনার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদেরকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান তথ্য কমিশনার এবং তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক কূটকৌশলের কোনও অবকাশ নেই। বিদ্যমান ঐকমত্য অক্ষুণ্ণ রেখে সনদ ধারণ ও বাস্তবায়ন করাই হবে বিএনপির প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সেগুনবাগিচার সংহতি মিলনায়তনে বিপ্লবী যুব সংহতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুল হক বলেন, যেভাবে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বিএনপির বড় রাজনৈতিক দায় রয়েছে। এ অঙ্গীকার থেকে দলটির পিছিয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কোনও বিপ্লবী চার্টার নয়, সংবিধান বা রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দলিলও নয়। এ সনদ নিয়ে অতিরিক্ত রোমান্টিকতা বা বিপ্লবীপনা দেখানোর সুযোগ নেই। কারণ, সংস্কার নিয়ে আলোচনার পুরো প্রক্রিয়াই বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতে হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গত দুই বছর দেশ ও সরকার এই সংবিধানের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়েছে। নিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের নাটক করছে: রিজভীনিজেদের দ্বন্দ্ব ঢাকতে বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলনের নাটক করছে: রিজভী সাইফুল হক বলেন, বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিহীন সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আরও গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ করা এবং গণতান্ত্রিক পরিসর বাড়ানোর লক্ষ্যেই জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করা হয়েছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষরকে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি দেশে গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় ইতিবাচকভাবে ধারণ করে বিএনপির সংবিধান সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। নবনির্বাচিত সংসদকে ১৮০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিলে তা বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক অর্জন ও গৌরবের বিষয় হতে পারত। সাইফুল হকের অভিযোগ, সেই সুযোগ গ্রহণ না করে বিএনপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে দলটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের সুযোগ করে দিয়েছে। কেন বিএনপি এ সুযোগ নেয়নি, তার যুক্তিসংগত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যাও জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে বিএনপি জুলাই সনদ মানে না বা মৌলিক সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা জোরদার হয়েছে। এতে সনদ বাস্তবায়নে দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদে সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত কমিটি গঠন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি এখন যে কাজ করছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করেও একই কাজ করা যেত। ২৪৮ জন সংসদ সদস্য নিয়ে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সংসদে দলটির অবস্থানের বাইরে অন্যদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। তারপরও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির এই ঝুঁকি নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক আওয়াল মাহমুদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী ও আকবর খান, বিপ্লবী যুব সংহতির যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন রহমান, সংগঠনটির ঢাকা উত্তরের সদস্য সচিব আহমেদ রনি এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেন।
রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুঃসময়ে রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়া ত্যাগী আইনজীবীদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর এ আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ আইন কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা, পেশাগত দক্ষতা, সততা, ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের অবদান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। বিশেষ করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এবং দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ও সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আবেদনকারী উল্লেখ করেন, আইনজীবী সমাজের একটি অংশের মধ্যে অভিযোগ ও হতাশা রয়েছে যে কিছু ক্ষেত্রে প্রভাবশালী আইনজীবী নেতাদের জুনিয়র, চেম্বার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন কিংবা ঘনিষ্ঠজনেরা নিয়োগে তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছেন। অন্যদিকে, বিগত প্রায় ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক মামলা, হামলা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও অনেক আইনজীবী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনা পারিশ্রমিকে কিংবা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে আইনি সহায়তা দিয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে আরও বলা হয়, এসব আইনজীবীর কেউ কেউ নিজেরাও নিপীড়ন, হয়রানি এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য গুমের মতো অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এরপরও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদের পাশে থেকে আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে গেছেন। তবে প্রভাবশালী কোনো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর ঘনিষ্ঠজন বা নির্দিষ্ট চেম্বারের সদস্য না হওয়ায় তাদের অনেকেই যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়। যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান আবেদনে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠীপ্রীতি, চেম্বারকেন্দ্রিক প্রাধান্য কিংবা অস্বচ্ছ সুপারিশের সুযোগ বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ এবং অধস্তন আদালতের পিপি-এপিপি নিয়োগে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, যোগ্যতাভিত্তিক ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। আবেদনকারী বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, দুঃসময়ে মামলা, হামলা, নিপীড়ন ও নানা ঝুঁকি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো সৎ, দক্ষ ও পরীক্ষিত আইনজীবীদের অবদান যেন যথাযথভাবে যাচাই ও মূল্যায়ন করা হয়।