চলতি (২০২৫-২৬) কর বছরে বুধবার পর্যন্ত ৪০ লক্ষাধিক করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। এছাড়া, ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি প্রায় ৫০ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশে এ বছর ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সকল ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি কর বছরে আগস্টে ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৮৪ জন, সেপ্টেম্বরে ৩ লাখ ১ হাজার ৩০২ জন, অক্টোবরে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬ জন, নভেম্বরে ১০ লাখ ৪০ হাজার ৪৭২ জন, ডিসেম্বরে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৮ জন, জানুয়ারি ২০২৬-এ ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৯৮৭ জন এবং মার্চের প্রথম চার দিনে ৩৬ হাজার ৭০০ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
দাখিলকৃত ই-রিটার্নের মধ্যে ২৮ লাখ ৬৬ হাজার ৬১৮ জন পুরুষ এবং ১১ লাখ ৩৬ হাজার ৩ জন নারী করদাতা রয়েছেন। বেতন খাতে আয় দেখিয়েছেন ১৬ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ জন পুরুষ ও ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৬৬ জন নারী করদাতা। বাড়ি ভাড়া খাতে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৪ জন পুরুষ এবং ৮৪ হাজার ৪৭৭ জন নারী।
করযোগ্য সীমার নিচে আয় দেখিয়েছেন ১৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩০ জন পুরুষ ও ৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৯৭ জন নারী। ৫ লাখ টাকার বেশি কিন্তু ১০ লাখ টাকার কম আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৯৫৪ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৭ জন নারী। ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৩ জন পুরুষ ও ৪৭ হাজার ৫৩২ জন নারী। ২০ লাখ থেকে ৪০ লাখ টাকার মধ্যে আয় দেখিয়েছেন ৫৪ হাজার ২১২ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৪৫৫ জন নারী। ৪০ লাখ টাকার বেশি আয় দেখিয়েছেন ২৯ হাজার ৮০ জন পুরুষ ও ৫ হাজার ১১৭ জন নারী করদাতা।
সম্পদের পরিমাণ সারচার্জ আরোপযোগ্য হওয়ায় ৩৯ হাজার ৩৬৩ জন পুরুষ ও ১১ হাজার ৬৫ জন নারী করদাতা সারচার্জ পরিশোধ করেছেন।
এনবিআর জানায়, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও তারা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা ereturn@etaxnbr.gov.bd-এ পাঠিয়ে আবেদন করলে ই-মেইলে ওটিপি ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পেয়ে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন। এছাড়া, ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র আপলোড ছাড়াই করদাতারা আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারছেন। রিটার্নে ভুল হলে ১৮০ দিনের মধ্যে সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৬ হাজারের বেশি করদাতা সংশোধিত রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত সহায়তার জন্য এনবিআর স্থাপিত কল সেন্টারের নম্বর ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১-এ যোগাযোগ করা যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের eTax Service অপশনের মাধ্যমে লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশের কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্পডেস্ক থেকেও অফিস চলাকালীন সেবা দেওয়া হচ্ছে।
জরিমানা এড়াতে এনবিআর ইতোমধ্যে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের এসএমএস পাঠিয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সকল করদাতাকে অনুরোধ জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেছেন। এতে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং দেশকে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলের দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী ভোগনির্ভর প্রবৃদ্ধি মডেলটি টেকসই ছিল না এবং বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সঞ্চিত বিপুল ঋণের বোঝা দেশের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে।’ আজ রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ সিপিডি ও দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন পর্যালোচনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত বিনিয়োগনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে বলে জানান তিতুমীর। তিনি বলেন, এ মডেল দেশীয় বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই)-উভয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তরের একটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা। উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্ন স্তরের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ২০৩৫ সালের মধ্যে গড়ে ১৫ শতাংশ কর-জিডিপি অনুপাত অর্জনের সুস্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল গাণিতিক হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ধাপে ধাপে অগ্রগতির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে- প্রথমে ২ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির মধ্যবর্তী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোনো হবে। তিতুমীর বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানভিত্তিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বর্তমান রাজস্ব কাঠামোর বিভিন্ন কাঠামোগত সমস্যার কথা উল্লেখ করে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান। স্ট্যাটুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও)-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি এমন এক বাজারে পরিণত হয়েছে যেখানে প্রভাব কেনাবেচা হয়। ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ প্রথা কমিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচয় ও প্রভাবভিত্তিক ‘গ্রিনফিল্ড’ প্রণোদনার পরিবর্তে কার্যসম্পাদনভিত্তিক (এক্স-পোস্ট) ভর্তুকি ব্যবস্থায় যেতে চায়। তৈরি পোশাক খাতে সফল এ মডেলে সম্ভাবনার ভিত্তিতে নয়, বাস্তব ফলাফলের ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে। রাজস্ব আদায়ে শুধু বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)- এর ওপর নির্ভরশীলতার প্রবণতাকে বড় ধরনের সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ইউনিটে সমানভাবে রাজস্ব আহরণ জোরদার করতে হবে। বর্তমান দারিদ্র্য পরিস্থিতিতে প্রচলিত কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কার্যকর সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বরং অপচয় রোধ এবং রাজস্ব নীতিকে পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)- এর বাস্তবায়ন হারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশেষভাবে জ্বালানি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বোঝার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিপুল ব্যয় কমাতে সরকার তিনটি কৌশলগত পদ্ধতি গ্রহণ করছে। শেষে তিনি দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে জনসাধারণের পণ্য ও সেবার অর্থায়ন যেন যথাযথ কর প্রদানের মাধ্যমে হয়, সে সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করে সামগ্রিকভাবে সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-কে হত্যার প্রতিবাদে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে—নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই পথে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। এদিকে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের আকাশপথ কার্যত বিপর্যস্ত। কয়েক দিনের মধ্যে ৫ শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ব্যাঘাত। বিশ্বের তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যারেলপ্রতি অন্তত ২০ ডলার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রধান প্রধান শেয়ারবাজারে টানা কয়েক দিন ধরে ব্যাপক ওঠানামা চলছে। যুক্তরাজ্যের বাজারে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পতন দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের অবস্থাও একই রকম। জাপানের শেয়ারবাজারে কয়েক দিনে ৭ শতাংশের বেশি দরপতন হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম চীন। দেশটির প্রধান সূচকগুলো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে গম, ভুট্টা ও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম আরও বাড়বে এবং কোথাও কোথাও মজুত সংকটও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য এখন বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে অস্থির অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথ বদলে যেতে পারে। সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর পরোক্ষ প্রভাব দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাফিউদ্দীন আহমেদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে জ্বালানিসহ সব পণ্যের দাম দ্রুত বাড়বে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় সংকট তৈরি করবে। তার ভাষায়, পরিস্থিতি করোনাকালীন সময়ের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতও এই অস্থিরতার ঝুঁকিতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানি আয় কমতে থাকায় নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, বৈশ্বিক মন্দা আরও গভীর হলে রপ্তানি খাত বড় ধাক্কা খেতে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোও হামলার শিকার হয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক সংকট নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ‘লঙ্কাবাংলা ফিক্সড ইনকাম ফান্ড’ এর খসড়া প্রসপেক্টাস ও খসড়া প্রসপেক্টাসের সারসংক্ষেপ অনুমোদন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০০১তম কমিশন সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে আজ কমিশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বে-মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড লঙ্কাবাংলা ফিক্সড ইনকাম ফান্ডের অনুমোদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয় যে তহবিলটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ‘লঙ্কাবাংলা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি লিমিটেড’ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রদান করেছে। অবশিষ্ট ২২ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তহবিলটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা। উক্ত তহবিলের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ‘লঙ্কাবাংলা সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি লিমিটেড’। তহবিলের ট্রাস্টি হিসেবে ‘সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড’ এবং কাস্টডিয়ান হিসেবে ‘কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন পিএলসি’ দায়িত্ব পালন করছে। সভায় কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।