দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল এখন অস্তিত্ব সংকটে। একসময় থইথই পানিতে ভরা, পাখ-পাখালি আর নানা প্রজাতির মাছে পরিপূর্ণ এই জলাভূমি আজ মৃতপ্রায়। নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জুড়ে বিস্তৃত ৮০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিল বর্তমানে সঙ্কুচিত হয়ে মাত্র ৬৬ বর্গকিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। দখল-দূষণ, নদ-নালার প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া, পলি ভরাট, সড়ক-ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণে ধীরে ধীরে বিলটি হারাচ্ছে তার প্রাণ।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলনবিলকেন্দ্রিক আত্রাই, নন্দকুঁজা, গুমানী, বড়ালসহ ২২টি নদীর পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অতীতে এই বিলের পানির উপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছিল কৃষি, মৎস্য ও নৌবাণিজ্যকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ অর্থনীতি। কিন্তু বর্তমানে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের পথে, জীবিকার উৎস হারিয়ে পেশা বদলে ফেলেছেন হাজার হাজার জেলে ও কৃষক।
ইতিহাস ও বিস্তৃতি
১৮৮১ সালে প্রকাশিত ‘ইম্পেরিয়েল গেজেট অব ইন্ডিয়া’-তে উল্লেখ আছে, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলা নিয়ে বিস্তৃত ছিল চলনবিল। তখন ৫০০ বর্গমাইল এলাকায় ৩৯টি বিল, ১৬টি নদী ও ২২টি খাল নিয়ে ছিল এই জলাশয় অঞ্চল। আত্রাই, বড়াল, তুলসীগঙ্গা, গুমানী, করতোয়া, গুড়, চেঁচিয়া, চিকনাই, রূপনাইসহ অসংখ্য নদী ও খাল মিলিয়ে গড়ে উঠেছিল এক বিশাল জলজ পরিবেশ।
পলি ও দখলে বিলুপ্তি
গবেষণায় দেখা যায়, প্রতি বছর ২২২১ মিলিয়ন ঘনফুট পলি প্রবেশ করে চলনবিলে, যার বেশিরভাগই থেকে যায় বিলের ভেতর। ফলে পানির গভীরতা ও প্রবাহ কমে গিয়ে নদীগুলো মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। গত ৫০ বছরে বিলের আয়তন ৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বাঁধ, ১ হাজার ১৮৮ কিলোমিটার সড়ক, শতাধিক সেতু ও শত শত কালভার্ট নির্মাণের কারণে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বড়ালের মুখে স্লুইসগেটের সর্বনাশ
পদ্মা থেকে যমুনায় প্রবাহিত ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ বড়াল নদী চলনবিলের প্রাণরেখা। কিন্তু ১৯৮৪ সালে নদীর উত্সমুখে সরু স্লুইসগেট নির্মাণের পর থেকেই পানি প্রবাহ কমে যায়। ৫০০ ফিট প্রস্থের নদীটির প্রবাহ আটকে যাওয়ায় বড়ালসহ এর সঙ্গে যুক্ত ২২টি নদী ও শতাধিক খাল-বিল শুকিয়ে যায়। গত কয়েক দশকে বড়ালের ১২০ কিলোমিটার অংশ বেদখল হয়ে গেছে।
নতুন সংকট—বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া এলাকায়, যেখানে অর্ধশত নদীর পানি মিলেমিশে যমুনায় প্রবাহিত হয়, সেখানে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, সেখানে কংক্রিট স্থাপনা নির্মাণ হলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে চলনবিলের জলজ বাস্তুতন্ত্র আরও বিপর্যস্ত হবে এবং জলাবদ্ধতা বাড়বে।
ব্যর্থ খনন ও নাব্যতা সংকট
বিলের প্রাণ ফেরাতে আত্রাই, গুমানী, বড়াল ও তুলশীগঙ্গা নদীর কিছু অংশ খনন করা হলেও নাব্যতা ফেরেনি। খননের পর উচ্ছিষ্ট মাটি ফেলায় নদী আরও সংকুচিত হয়েছে। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। পানি সংকটে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
জেলেদের দুর্দিন
১৯৮২ সালে চলনবিলে যেখানে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার জেলে জীবিকা নির্বাহ করতেন, সেখানে ২০০৬ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৭৫ হাজারে। বর্তমানে অধিকাংশ জেলে পেশা বদল করেছেন। পানির অভাব, দূষণ ও ফসলহানিতে স্থানীয় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
চলনবিল রক্ষায় আন্দোলন
বাপা, বড়াল রক্ষা আন্দোলন ও নাগরিক সমাজসহ বিভিন্ন সংগঠন ২০০৮ সাল থেকে বিল ও নদ-নদী রক্ষায় আন্দোলন করে আসছে। পদ্মার উত্স থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটারব্যাপী মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সরকারি বৈঠকে বড়াল নদীর বাধা অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
করণীয় ও সুপারিশ
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলনবিলের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ, নদীগুলোর পুনঃখনন এবং পানিপ্রবাহ পুনঃস্থাপন করতে হবে। বিলের চারপাশে নতুন স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করতে হবে এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
গবেষকরা প্রস্তাব করেছেন, “চলনবিল কর্তৃপক্ষ” নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করে পুরো অঞ্চলের নদী, খাল ও জলাশয়ের সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বড়াল নদীর অববাহিকায় পানি সম্পদ পুনরুদ্ধারে একটি ২ হাজার ৫২ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বড়ালসহ অন্যান্য নদীর প্রবাহ ফেরানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একসময় যে চলনবিল ছিল জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার, আজ তা নিঃশেষের দ্বারপ্রান্তে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যাবে দেশের বৃহত্তম এই বিলের প্রাকৃতিক অস্তিত্ব—চলনবিল হয়তো কেবল ইতিহাসের পাতায়ই থেকে যাবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বর্তমান সরকারকে বুঝতে হবে ৫ আগস্টের পর মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল নয়, সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। সরকার যদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে না পারে তাহলে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জনতার দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্র মেজর (অব.) দেলোয়ার হোসেন খান (ডেল এইচ খান)। ডেল এইচ খান বলেন, ৫ আগস্ট আমাদের রাষ্ট্রটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। রাষ্ট্র তখন এমন অবস্থায় ছিল যেন তাকে আইসিইউতে নিতে হয়েছে। প্রায় দেড় বছর এই রাষ্ট্রকে বিভিন্ন ‘লাইফ সেভিং ড্রাগ’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কার প্রস্তাব বা ‘প্রেসক্রিপশন’ তৈরি করেছিলেন যাতে রাষ্ট্র পুনরায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। ‘কিন্তু সমস্যাটা শুরু হলো তখন, যখন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে নির্বাচিত সরকারের হাতে অর্থাৎ বিএনপির হাতে তুলে দেওয়া হলো। তারা বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় এলো ঠিকই, কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই বিএনপি ঘোষণা করল যে, তারা সংবিধান সংস্কারের বা রিফর্মের কোনো শপথ নেবে না। অর্থাৎ তারা সংস্কারের প্রক্রিয়াটিকে শুরুতেই প্রত্যাখ্যান করল। এটা একটা বড় জাতীয় সংকট।’ জনতার দলের এই নেতা বলেন, আমরা যদি গত ৫৪ বছরের পচা সিস্টেমকেই আবার ফিরিয়ে আনি, তবে এই জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে। নির্বাচিত সরকারকে বুঝতে হবে যে, মানুষ কেবল ক্ষমতার বদল চায়নি, মানুষ সিস্টেমের বদল চেয়েছিল। যদি সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হয়, তবে মানুষের ক্ষোভ আবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়তে পারে। ‘বিএনপিকে খুব পরিষ্কারভাবে একটি সত্য বুঝতে হবে যে—জুলাই অভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনাই ছিল না। শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিলেন, তাতে নির্বাচন ছাড়াই তিনি আরও বহু বছর ক্ষমতায় থাকতেন। এখন যদি কেউ এই জুলাইয়ের অর্জনকে বা গণআকাঙ্ক্ষাকে অস্বীকার করতে চায়, তবে সেটা হবে চরম পর্যায়ের জাতীয় গাদ্দারি।’ ডেল এইচ খান বলেন, সাধারণ মানুষ বা বর্তমানের এই ‘জেন-জি’ জেনারেশন কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতারণা মেনে নেবে না। ১৭ বছরের লৌহমানবী শেখ হাসিনা এবং তার বিশাল বাহিনীকে যদি সাধারণ ছাত্র-জনতা এক ধাক্কায় দেশছাড়া করতে পারে, তবে নতুন সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তারা রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না। তাই বিএনপির উচিত হবে সংস্কারের কাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জনগণের পালস বোঝা। যদি তারা তা না করে কেবল ক্ষমতার দাপট দেখাতে চায়, তবে তারা নিজেদের জন্য একটি আত্মঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করবে।
বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অবিচল সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ আশ্বাস প্রদান করেন। বৈঠকে মহাসচিব নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের ধারাবাহিক মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে সমসাময়িক বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলমান বৈশ্বিক তেল সংকটের প্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সম্মুখীন চ্যালেঞ্জসমূহ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর অসম ও বৈষম্যমূলক প্রভাব বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ড. রহমান মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব আমন্ত্রণটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং এর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জুয়েল মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দেউস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেফতার জুয়েল একই এলাকার দানু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ মার্চ সকালে দেউস এলাকার ওই শিশুকে কার্টুন দেখানোর কথা বলে নিজের ঘরে নিয়ে যায় জুয়েল। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এদিকে নিজের সন্তানকে খুঁজে না পেয়ে মা প্রতিবেশী এক শিশুর কাছে জানতে পারেন, জুয়েল তার মেয়েকে ঘরে নিয়ে আটকে রেখেছে। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির মা সেখানে গিয়ে দরজা খোলার অনুরোধ করলে জুয়েল দরজা খুলে দেয়। এ সময় শিশুটির পোশাক এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান মা। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দাবি, ঘটনার পর জুয়েলের স্বজনদের কাছে বিচার চাইলে তারা বিষয়টি আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কোনো উপায় না পেয়ে শিশুটির মা বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জুয়েলকে গ্রেফতার করে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুর মায়ের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেফতার করেছি। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।