আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে রাজশাহীর কয়েকটি এলাকায় জরুরি উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হাতে নিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো)।
এ কারণে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল থেকে টানা ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বুধবার (২০ মে) নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহায় গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি থাকা গাছের ডালপালা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই উন্নয়নকাজের জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাপাশিয়া ফিডারের আওতাধীন বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎহীন থাকার সম্ভাব্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— কাপাশিয়া বাজার, ফকিরপাড়া, ভাংড়া পশ্চিমপাড়া এবং ভাংড়া এলাকা।
জরুরি এই কাজের স্বার্থে সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের যে দুর্ভোগ হবে, তার জন্য নেসকো রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা, ১৪ জুলাই: দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, যোগ্য ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের প্রকল্পের ভিত্তিতে ৫ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫০০ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই তহবিল থেকে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের প্রকল্প মূল্যায়ন করে অর্থায়ন করা হবে। তিনি জানান, স্টার্টআপ নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাব থাকবে না। একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কমিটি উদ্যোক্তাদের প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেবে। ওই কমিটিতে কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা থাকবেন না। তারেক রহমান বলেন, অনেক মেধাবী উদ্যোক্তা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে জামানত, কাগজপত্র ও নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাতে তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন বাধার সম্মুখীন হতে না হয়, সে লক্ষ্যেই বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “কোনো স্টার্টআপ প্রথমবার ব্যর্থ হলেও যদি তার প্রকল্পে সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তাকে দ্বিতীয়বারও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা চাই নতুন উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে সাহস পান এবং ব্যর্থতাকে শেষ বলে মনে না করেন।” অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল করেন। উল্লেখ্য, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের দ্বিতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর।
সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “তার দেশে ফেরাকে সরকার স্বাগত জানাবে, কারণ সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চায়।” মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার কথা বললে সরকার কীভাবে দেখবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা তাকে স্বাগত জানাবো— এর অর্থ হচ্ছে, তিনি দেশে এসে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। সরকার তাকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।” জাহেদ উর রহমান বলেন, “শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার মামলা চলবে। তিনি নিজের পক্ষে দেশি বা বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। বিচার পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং ভিডিও ধারণের ব্যবস্থাসহ ট্রাইব্যুনালের আইন ও প্রক্রিয়াকে অনেক স্বচ্ছ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা আদালতে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি অপরাধী নন। আদালত তাকে অন্য কোনও শাস্তি দিতে পারেন বা খালাসও দিতে পারেন। ন্যায়বিচার এভাবেই হতে হবে।” তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, “দেশের জনগণের একটি অংশ তার বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল ও কার্যকর দেখতে চায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এবং সরকার স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে চায়।” শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যে সরকারের ওপর ভূরাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা জাহেদ উর রহমান জানান, তিনি এটিকে কোনও চাপ বা সমস্যার বিষয় মনে করেন না। তিনি বলেন, “আমরা তো চাই তিনি দেশে আসুন। সরকার যখন তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, তখন তার আসার কথায় চাপের প্রশ্ন আসে না।” শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তার মনে হয়, বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার আর কোনও ভবিষ্যৎ নেই। এমনকি আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল অনেক মানুষও একই ধারণা পোষণ করেন বলে তিনি দাবি করেন। শেখ হাসিনা পাসপোর্ট ছাড়া কীভাবে দেশে ফিরবেন—এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “তিনি ফিরতে চাইলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকার আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ঠিক করবে। পাসপোর্ট বা ভ্রমণসংক্রান্ত বিষয় তার ফেরার ক্ষেত্রে অমীমাংসিত বাধা হয়ে থাকবে না।” তিনি বলেন, “সরকারের নীতিগত অবস্থান হচ্ছে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা। ফলে তিনি ফিরতে চাইলে সরকার স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে।” বিচারব্যবস্থায় বিচারক ও আদালতের ঘাটতি বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি এবং আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বার ও বেঞ্চকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে হয়রানি ও অনিয়মের প্রবণতা রয়েছে, তবে একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় কাঠামোগত সংকটও আছে। তিনি বলেন, “দেশে প্রয়োজনের তুলনায় বিচারকের সংখ্যা কম, আদালতের সংখ্যাও অপ্রতুল। উচ্চ আদালতের কার্যক্রম এখনও ঢাকাকেন্দ্রিক। এসব সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ শুরু করেছে।”
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণের পর কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। প্রায় ৯ দিন পর জেলার অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭০টি ইউনিয়নের প্রায় ৪৯ শতাংশ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। গত ৫ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত বন্যার পানি ও পাহাড়ধসের ঘটনায় জেলার সাত উপজেলায় মোট ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা আশ্রয়ার্থী রয়েছেন। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের দায়িত্ব এবং ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজাদের রহমান জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া উপজেলা। সেখানে ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ১১ হাজার ২৩১টি পরিবারের প্রায় ৭৫ হাজার ৫০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাতজন নিহত হয়েছেন। পেকুয়া উপজেলায় সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৮ হাজার ৫৬২টি পরিবারের ৪৫ হাজার ৪৪৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সেখানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ৭ হাজার ৯৮১টি পরিবারের প্রায় ৪০ হাজার ২০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই তিন উপজেলার জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজার সদর, রামু, উখিয়া, ঈদগাঁও ও মহেশখালী উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় আটজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শহিদুল আলম জানান, নিহত ১৮ জন স্থানীয় বাসিন্দার পরিবারের মধ্যে আটটি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা এবং আহত তিনজনের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৪৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে এবং প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক ট্যাগ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় দিনে কক্সবাজারে মোট ৮২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত পুনর্বাসন, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।