যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার কিউবাকে ‘একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করে হাভানাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানান। তবে সরকার পরিবর্তনের কোনো অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারি বিমানবাহিনীর বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিউবা এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র।’
যুক্তরাষ্ট্র কি কিউবার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয় সেটির প্রয়োজন হবে না।’
এর আগে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল ওয়াশিংটন।
এদিকে দ্বীপ রাষ্ট্রটি তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ আরও জোরদার করছেন। পাশাপাশি অন্য দেশগুলোকেও হাভানায় তেল পাঠানো বন্ধ করতে চাপ দিচ্ছেন।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘এটি একটি মানবিক হুমকি।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরও প্রায় ১০০ সদস্য নাইজেরিয়ায় পৌঁছেছেন। তারা দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেবে, তবে সরাসরি জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেবে না। নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন সেনারা স্থানীয় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবেন। সম্প্রতি মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে বেশ কয়েকটি বিমান নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর নাইজেরিয়াকে অভিযোগ করেছিলেন, দেশটি উত্তরপূর্বাঞ্চলের খ্রীস্টান অধিবাসীদের ইসলামপন্থি জঙ্গিদের থেকে সুরক্ষা দিতে পারছে না। তবে নাইজেরিয়া জানিয়েছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী মুসলিম ও খ্রীস্টান উভয়ের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডিসেম্বরে, নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সম্পর্কিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর ছোট একটি মার্কিন দল নাইজেরিয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। চলতি মাসে আরও ২০০ জন মার্কিন সেনা আসার কথা রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট দপ্তরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাইজেরিয়ার যুদ্ধবিমান ও অস্ত্র ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে মার্কিন সমর্থন প্রয়োজন। নাইজেরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি, যার অর্ধেক খ্রিস্টান ও অর্ধেক মুসলিম। দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান, উত্তরাঞ্চল মুসলিম প্রধান।
সুদানের করদোফান অঞ্চলের একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং আরো বহু আহত হয়েছেন বলে গত সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) একটি মানবাধিকার সংগঠন এ তথ্য জানিয়েছে। নাগরিক হতাহতের ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানায়, রবিবার উত্তর করদোফান প্রদেশের সুদ্রি এলাকায় বাজারের ব্যস্ত সময়ে এ হামলা হয়। এতে মানবিক সংকট আরো তীব্র হয়েছে। সংগঠনটি আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। বিবৃতিতে তারা আরো বলে, ‘বসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা বেসামরিক জীবনের প্রতি গুরুতর অবহেলা প্রকাশ করে এবং এটি প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ এক ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি নির্দেশ করে। আমরা উভয় পক্ষকে সব ধরনের ড্রোন হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স দাবি করেছে, সেনাবাহিনীর ড্রোন থেকেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সেনাবাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না এবং তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে রাহাদ শহরের কাছে আরেকটি ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আঘাত হানে, এতে আটজন শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হন। এর আগের দিন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি ত্রাণবাহী বহরও হামলার শিকার হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে দেশজুড়ে যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে চলমান লড়াই ও দুর্গম এলাকায় পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে সহায়তা সংস্থাগুলো মনে করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার করদোফান অঞ্চলকে ‘অস্থির এবং সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরের শেষদিকে দারফুর অঞ্চলে আরএসএফের অভিযানের সময় তিন দিনে ৬ হাজার জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যেখানে যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের আকার ধারণ করতে পারে। সূত্র : আলজাজিরা।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিশু নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে সোমবার পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ উদ্বোধন করে বলেন, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন এবং তরুণদের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি সুযোগ। সম্মেলনের লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী, ২০ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫টি মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন স্যাম অল্টম্যান এবং সুন্দর পিচাই। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে এআই খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আগামী দশকে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে এআই কোম্পানিগুলোকে বাস্তবভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অনেকের মতে, আগের সম্মেলনগুলোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বড় অংশই ছিল স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণভিত্তিক। সম্মেলনে এআই নিরাপত্তা বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিপফেকসহ ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই সহজে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারায় শিশু নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে, যাতে এআই প্রযুক্তি সবার উপকারে আসে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগোতে ভারতের সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।