আন্তর্জাতিক

ব্যাংককে চার দিনেও কমেনি বন্যার পানি, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লাখ মানুষ

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে চার দিন ধরে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। নগর কর্তৃপক্ষ ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (বিএমএ) হিসাবে, বন্যায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার পরিবার। এতে মোট আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ।

 

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ব্যাংককের ডেপুটি সিটি মেয়র তাভিড়া কামোলভেজ।

 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংককে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। এর পরদিন থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানি জমতে শুরু করে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় শনিবার রাজধানীর ৫০টি জেলাতেই বন্যাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিএমএ।

 

ডেপুটি মেয়র জানান, ব্যাংককের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে লাত ক্রাবাং। সেখানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বন্যার দুর্ভোগে পড়েছেন। এছাড়া বাঙখাপি, খান্নায়ো, লাকসি, সাফান সুং ও সুয়ান লুয়াংসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

 

বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে শয্যাশায়ী রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। বিএমএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ শয্যাশায়ী রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এসব রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে পানি ও শুকনো খাবারের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

 

তাভিড়া কামোলভেজ বলেন, বন্যা মোকাবিলায় কয়েক লাখ বোতল সুপেয় পানি প্রয়োজন। পাশাপাশি ত্রাণকেন্দ্রগুলোর জন্য মোবাইল কিচেন এবং পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে ছোট রাবারের নৌকারও প্রয়োজন রয়েছে।

 

এদিকে ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ত সিত্তিপান্ত জানিয়েছেন, নগরীতে পানি নিষ্কাশনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই রাজধানীর খালগুলোর পানির স্তর কমতে শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

 

গভর্নর জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পানি সরাতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, প্রথমে খালগুলোর পানির স্তর কমাতে হবে। পানি নিষ্কাশনের গতি বাড়াতে নিচু এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাম্প বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

সোমবার সকালেও ব্যাংককের বেশ কিছু সড়ক পানিতে তলিয়ে ছিল। পূর্ব ব্যাংককের প্রধান জলপথ সায়েন সায়েপ ও প্রাওয়েত বুরিরাম খালের পানি দ্রুত কমানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি গভর্নর উইসানু সাবসমপন।

 

তিনি বলেন, প্রধান খাল দুটির পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে পারলে সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত ছোট খালগুলোর পানির স্তরও কমে আসবে। এতে বন্যাকবলিত এলাকার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে।

 

উইসানু আরও জানান, রামখামহেং রোডের শুরুর অংশে সোমবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার আশা রয়েছে। তবে খলং চান এলাকায় পানি নামতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। প্রধান খালগুলো থেকে কার্যকরভাবে পানি সরাতে প্রায় তিন দিন সময় প্রয়োজন হতে পারে।

 

তবে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত লাত ক্রাবাং এলাকা থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি সরাতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। উপচে পড়া খাল থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন করাকে জটিল কাজ হিসেবেও উল্লেখ করেন ব্যাংককের এই কর্মকর্তা।

 

সূত্র: দ্য ব্যাংকক পোস্ট

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ক্রেতার অভাবে ৭০০ কোটি লিটার ইথানল নিয়ে বিপাকে ভারত

ভারত জুড়ে ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ বাজার ও চাহিদা তৈরি না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দেশটির ইথানল উৎপাদকরা। বর্তমানে বার্ষিক বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত ইথানল হাতে নিয়ে নতুন ক্রেতা এবং বিকল্প ব্যবহারের পথ খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরছেন তারা।    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে বার্ষিক ইথানল উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি লিটারে এবং চলতি বছরের মধ্যেই এতে আরও চারশত কোটি লিটার যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু উৎপাদিত এই বিশাল জ্বালানির সিংহভাগ ব্যবহারের পর্যাপ্ত জায়গা এখনো তৈরি হয়নি। বর্তমানে দেশটির বহুল আলোচিত ই-২০ পেট্রোল মিশ্রণ কর্মসূচির আওতায় বছরে প্রায় এক হাজার একশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের বাইরে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে আরও তিনশত থেকে সাড়ে তিনশত কোটি লিটার ইথানল ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সব খাত মিলিয়ে ব্যবহারের পরও দেশটির প্রায় সাতশত কোটি লিটার ইথানলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বাজার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।   চাহিদার তুলনায় উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বেশি হওয়ায় ভারতীয় ইথানল কারখানাগুলো তাদের ক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করতে পারছে না। কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী অন্তত তিন বছর এই সক্ষমতা সর্বোচ্চ ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। রাজ্যভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, কেবল মহারাষ্ট্রেই উদ্বৃত্ত ইথানলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭৭ কোটি লিটারে। ২০২৫-২৬ সরবরাহ বর্ষে তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে এক হাজার কোটি লিটার ইথানল সরবরাহের চুক্তি থাকলেও গত আগস্ট পর্যন্ত শেষ পর্যন্ত সরবরাহ সম্ভব হয়েছে মাত্র ৮৯৫ কোটি লিটার।   উদ্বৃত্ত এই ইথানল সংকট নিরসনে উৎপাদকরা সরকারের দ্বারস্থ হলেও নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান মিলছে না। সরকার পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণের মাত্রা ই-২০ থেকে বাড়িয়ে ই-২৫ বা ই-৩০ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে পুরনো গাড়ির ইঞ্জিনে উচ্চমাত্রার ইথানল ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ই-২০ ব্যবহারের বর্তমান নিয়ম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায় শিল্প বিশেষজ্ঞরা ব্রাজিল বা যুক্তরাষ্ট্রের আদলে নমনীয় জ্বালানি নীতির পরামর্শ দিচ্ছেন। উইলো ইন্ডিয়ার প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা রবীন্দ্র উতগিকর জানান, সবার জন্য একই মিশ্রণ বাধ্যতামূলক না করে জ্বালানির ধরন অনুযায়ী আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা উচিত, যাতে চালকেরা গাড়ির বয়স ও প্রযুক্তি বুঝে ই-১০, ই-২০ কিংবা ই-৮৫ জ্বালানি বেছে নিতে পারেন।   অভ্যন্তরীণ চাহিদার ঘাটতির মুখে আন্তর্জাতিক বাজারও ভারতীয় ইথানলের জন্য খুব বেশি সহায়ক হয়ে উঠতে পারেনি। প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে সরকারি বিধি নিষেধ থাকায় বিদেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সীমিত। তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হওয়ার পর ভারত বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা এবং কেনিয়ার মতো কয়েকটি দেশে সামান্য পরিমাণ অ-জ্বালানি ইথানল রপ্তানি করছে। এছাড়া গ্রেইন ইথানল প্রস্তুতকারক সংস্থা বা জিইএমএ প্রতিবেশী দেশ নেপালে ইথানল সরবরাহের জন্য জোর আলোচনা চালাচ্ছে। নেপাল তাদের ব্যবহৃত পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও সেখানে নিজস্ব প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা না থাকায় ভারত এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চায়।   ভবিষ্যতে বাজার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে পেট্রোলের বাইরে ডিজেল চালিত যানবাহনে ইথানল থেকে প্রস্তুতকৃত বায়ো-আইসোবুটানল মেশানোর নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাঞ্জ ইন্ডিাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিস গাইকোয়াড় জানান, এই বায়ো-আইসোবুটানল প্রযুক্তি এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভারতে পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের ব্যবহার বহু গুণ বেশি হওয়ায় দিজেলে মাত্র দুই শতাংশ বায়ো-আইসোবুটানল মেশানো সম্ভব হলেও তা প্রায় তিন হাজার কোটি রুপিরও বেশি নতুন বাণিজ্যিক প্রকল্পের দ্বার উন্মোচন করতে পারে।   বর্তমানে ভারতে অ-জ্বালানি খাতে মোট ইথানল চাহিদার প্রায় ১৮.৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহল বা ইএনএ-এর বাজার ২০২৫ সাল নাগাদ প্রায় ৩৮০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে, যা প্রতি বছর গড়ে পাঁচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের পানীয় অভ্যাসে পরিবর্তন আসায় এবং দেশি মদের বদলে উন্নত ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতের ব্যবহার কিছুটা আশার আলো দেখাচ্ছে। তা সত্ত্বেও, দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো ইথানল কারখানাগুলোকে স্থায়ী অর্থনৈতিক লোকসান থেকে বাঁচাতে হলে সরকারকে দ্রুত নতুন নীতি গ্রহণ করে দেশীয় বাজার ও আন্তর্জাতিক রপ্তানি পথ সহজ করতে হবে।   সূত্র: দ্য ইকোনোমিক টাইমস

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

চীনের কাছে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও-আইসিজেতে ইরানের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
শর্ত পূরণে ব্যর্থ, স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রকল্প থেকে বাদ ভারতীয় কোম্পানি

ভারতের নিজস্ব স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফটের (এএমসিএ) প্রোটোটাইপ তৈরির দরপত্রে রাষ্ট্রীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (এইচএএল) যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। নিয়মিত কারিগরির কিছু শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বাদ পড়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব আর কে সিং।   রোববার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এনডিটিভি ডিফেন্স সামিট ২০২৬-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আর কে সিং বলেন, ‘কিছু নিয়মিত কারিগরি শর্ত পূরণ করতে না পারায় এইচএএল যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।’ তবে কোন কোন শর্তে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হয়েছে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।   ভারতের নিজস্ব যুদ্ধবিমান প্রকল্পের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো প্রকল্পে এইচএএলকে বাইরে রাখা হলো। একই সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান তৈরিতে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিরক্ষা সচিব বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে দেশে দ্বিতীয় একটি যুদ্ধবিমান উৎপাদন লাইন তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য।   তিনি বলেন, আমরা দেশে দ্বিতীয় একটি যুদ্ধবিমান উৎপাদন লাইন তৈরি করতে চেয়েছি। বরাবরের মতো সবকিছু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে চাইনি।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এএমসিএ প্রকল্পের জন্য সাতটি কনসোর্টিয়াম আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে তিনটি বাধ্যতামূলক কারিগরি ও আর্থিক শর্ত পূরণ করে যোগ্যতা অর্জন করে। এইচএএল দুটি ছোট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে দরপত্রে অংশ নিলেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।   মে মাসের শেষ দিকে ভারতের অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবপত্র বা আরএফপি জারি করে। এতে প্রকল্পের বিস্তারিত কারিগরি ও বাণিজ্যিক প্রস্তাবের পাশাপাশি দরদাতাদের মূল্য প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়।   বর্তমানে এএমসিএ প্রকল্পের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান বা জোট প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এগুলো হলো টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, এলঅ্যান্ডটি-বিইএল-ডায়নাম্যাটিক কনসোর্টিয়াম এবং ভারত ফোর্জ-বিইএমএল-ডাটা প্যাটার্নস কনসোর্টিয়াম।   প্রোটোটাইপ তৈরির প্রায় ১৫ হাজার কোটি রুপির পুরো ব্যয় বহন করবে ভারত সরকার। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানকে এডিএর সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থিতে পাঁচটি উড্ডয়নযোগ্য প্রোটোটাইপ এবং একটি কাঠামোগত পরীক্ষার বিমান তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে নতুন একটি কোম্পানি গঠন করতে হবে।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্প শুরুর ৩০ মাসের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপের প্রথম উড্ডয়ন এবং ৬৪ মাসের মধ্যে পাঁচটি প্রোটোটাইপের উড্ডয়ন সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ৮৪ মাসের মধ্যে এসব বিমান দিয়ে ১ হাজার ৮০০টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।   এএমসিএ যুদ্ধবিমানের নকশা ও কারিগরি কর্তৃত্ব এডিএর হাতেই থাকবে। প্রোটোটাইপগুলোতে প্রাথমিকভাবে জেনারেল ইলেকট্রিকের এফ৪১৪ ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। একই ধরনের ইঞ্জিন ভারতের তেজস এমকে-২ যুদ্ধবিমানেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।   ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে এএমসিএ প্রকল্পটি জাতীয় অগ্রাধিকারের বিষয়। কারণ বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ইতোমধ্যে জে-২০ ও জে-৩৫সহ ৫০০টির বেশি স্টেলথ যুদ্ধবিমান নিজেদের বাহিনীতে যুক্ত করেছে। পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ মনে করেন, জে-৩৫ ভবিষ্যতে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতেও যুক্ত হতে পারে।   আর কে সিং জানান, এএমসিএর প্রথম প্রোটোটাইপ ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরে উড্ডয়ন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।   বর্তমানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর কাছে কোনো রাডার-এড়িয়ে চলতে সক্ষম স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই। তবে সীমিতসংখ্যক রুশ সুখোই-৫৭ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়টি বর্তমানে বিবেচনা করছে নয়াদিল্লি।   সূত্র : এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংককে চার দিনেও কমেনি বন্যার পানি, ক্ষতিগ্রস্ত ৭ লাখ মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

একজন মানুষের এত ডিগ্রি! কে এই জেমি বিটন?

ছবি: সংগৃহীত

জাপানে জামাইকেই দত্তক নিয়ে উত্তরসূরি বানায় অনেক পরিবার

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ের তাণ্ডব, বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শক্তিশালী সামুদ্রিক ঝড় নর'ইস্টার। ঝড়ের প্রভাবে নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, ডেলাওয়্যার এবং নিউইয়র্কসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিরাজ করছে চরম দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।    প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে ৭০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন এবং বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় দেখা দিয়েছে মারাত্মক বন্যা।   জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে গাছপালা উপড়ে পড়া এবং রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিউ জার্সির সার্ফ সিটি ও মানাসকুয়ানসহ বেশ কিছু নিচু এলাকার রাস্তাঘাট ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং জরুরি ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।   ঝড়ের কারণে জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বোস্টন, নিউইয়র্ক, নান্টাকেট ও মার্থাস ভিনইয়ার্ড বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে জনপ্রিয় গায়ক এড শিরানের নির্ধারিত কনসার্ট এবং বোস্টন রেড সক্সের খেলার সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শরৎকালের এই শুরুতে গাছগুলোতে পর্যাপ্ত পাতা থাকায় বাতাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি কাজ করছে, যা গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬
হান ঝেং। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিন চালাবে ফিলিস্তিনিরাই: চীন

ছবি: সংগৃহীত

হুতিদের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গোয়েন্দা যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

হ্যাকারদের হাতে এফবিআই কর্মীদের গোপন চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য রেকর্ড

0 Comments