বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে একের পর এক ডিগ্রি অর্জন করেছেন জেমি বিটন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও শিক্ষা পরামর্শক হিসেবেও পরিচিত। অল্প বয়সেই তাঁর শিক্ষাজীবনের বৈচিত্র্য এবং একাধিক ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
জেমি বিটনের শিক্ষাজীবনের ব্যস্ততা সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিসা বেলকিন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ফল সেমিস্টারের শুরুতে তাঁর ক্লাসে জেমির উপস্থিতি না থাকায় তিনি কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে জানা যায়, জেমি তখন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স পড়াচ্ছিলেন। নিজের সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে নিউইয়র্কে ফিরতে পারেননি। এরপরই তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে খোঁজ নেন অধ্যাপক বেলকিন।
জেমি ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একই সময়ে অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে স্ট্যানফোর্ড থেকে এমবিএ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন তিনি।
এর বাইরে পেনসিলভানিয়া, স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, ডার্টমাউথ, কিংস কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ও অনলাইনে আরও বেশ কিছু উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন জেমি।
বর্তমানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা করছেন তিনি।
জেমি বিটনের পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। নিউজিল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত ‘ক্রিমসন এডুকেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার পরিধিও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর বাজারমূল্য ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই জেমির ব্যস্ত জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন জেমি। পরিবারে পড়াশোনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাঁর মা পলা বিটন ছেলের শিক্ষার পেছনে গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, সাঁতার, দাবা এবং অতিরিক্ত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন জেমি। হাইস্কুলে অতিরিক্ত কোর্স সম্পন্ন করে তিনি হার্ভার্ড, ইয়েল ও প্রিন্সটনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ‘ক্রিমসন এডুকেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন।
হার্ভার্ডে পড়ার সময় জেমি প্রায় ১৫টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ওয়াল স্ট্রিটের হেজ ফান্ড ‘টাইগার ম্যানেজমেন্টে’ কাজ শুরু করেন।
পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসার কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যান। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে পড়ার সময়ও নিউইয়র্কে তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সহপাঠী প্রিসিলা পুটজারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যানহাটানে বসবাস করছেন জেমি।
শিক্ষার্থী হিসেবে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষকতাও করছেন জেমি। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একটি কোর্স পড়িয়েছেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সেও শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের ঘটনা অধ্যাপক লিসা বেলকিনের নজর কেড়েছিল।
বেলকিনের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো সেমিস্টারে জেমি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে ভুল করেননি।
জেমির জীবনযাপনেও পড়াশোনা ও কাজের ব্যস্ততা স্পষ্ট। ব্যবসায়িক সফরের মধ্যেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ চালিয়ে যান। তাঁর নিজের ভাষ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেখার প্রতি কৌতূহলই তাঁকে নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করে।
এ কারণেই জেমি বিটনকে ঘিরে মূল আগ্রহ শুধু তাঁর কতগুলো ডিগ্রি রয়েছে তা নিয়ে নয়; বরং একই সঙ্গে উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর বহুমুখী জীবনযাপন নিয়েও।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বিশ্বের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে একের পর এক ডিগ্রি অর্জন করেছেন জেমি বিটন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একজন উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও শিক্ষা পরামর্শক হিসেবেও পরিচিত। অল্প বয়সেই তাঁর শিক্ষাজীবনের বৈচিত্র্য এবং একাধিক ডিগ্রি অর্জনের বিষয়টি ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। জেমি বিটনের শিক্ষাজীবনের ব্যস্ততা সম্পর্কে নতুন করে জানতে পারেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিসা বেলকিন। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ফল সেমিস্টারের শুরুতে তাঁর ক্লাসে জেমির উপস্থিতি না থাকায় তিনি কারণ জানতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জানা যায়, জেমি তখন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কোর্স পড়াচ্ছিলেন। নিজের সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে নিউইয়র্কে ফিরতে পারেননি। এরপরই তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত পরিচয় সম্পর্কে খোঁজ নেন অধ্যাপক বেলকিন। একের পর এক ডিগ্রি জেমি ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একই সময়ে অ্যাপ্লায়েড ম্যাথমেটিকসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে স্ট্যানফোর্ড থেকে এমবিএ এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে পিএইচডিও সম্পন্ন করেন তিনি। এর বাইরে পেনসিলভানিয়া, স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন, ডার্টমাউথ, কিংস কলেজ লন্ডন এবং ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ও অনলাইনে আরও বেশ কিছু উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন জেমি। বর্তমানে ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনা করছেন তিনি। শুধু শিক্ষার্থী নন, উদ্যোক্তাও জেমি বিটনের পরিচয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাঁর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড। নিউজিল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত ‘ক্রিমসন এডুকেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার পরিধিও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর বাজারমূল্য ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই জেমির ব্যস্ত জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহ নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন জেমি। পরিবারে পড়াশোনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতো। তাঁর মা পলা বিটন ছেলের শিক্ষার পেছনে গুরুত্ব দিয়ে বিনিয়োগ করেছেন। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, সাঁতার, দাবা এবং অতিরিক্ত শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। কৈশোরে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন জেমি। হাইস্কুলে অতিরিক্ত কোর্স সম্পন্ন করে তিনি হার্ভার্ড, ইয়েল ও প্রিন্সটনসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য ‘ক্রিমসন এডুকেশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি ও ব্যবসা হার্ভার্ডে পড়ার সময় জেমি প্রায় ১৫টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ওয়াল স্ট্রিটের হেজ ফান্ড ‘টাইগার ম্যানেজমেন্টে’ কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষা ও ব্যবসার কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যান। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে পড়ার সময়ও নিউইয়র্কে তাঁর পেশাগত কর্মকাণ্ড অব্যাহত ছিল। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সহপাঠী প্রিসিলা পুটজারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে ম্যানহাটানে বসবাস করছেন জেমি। শিক্ষক হিসেবেও সক্রিয় শিক্ষার্থী হিসেবে একাধিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষকতাও করছেন জেমি। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি একটি কোর্স পড়িয়েছেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কোর্সেও শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণের ঘটনা অধ্যাপক লিসা বেলকিনের নজর কেড়েছিল। বেলকিনের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরো সেমিস্টারে জেমি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং কোনো অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে ভুল করেননি। জেমির জীবনযাপনেও পড়াশোনা ও কাজের ব্যস্ততা স্পষ্ট। ব্যবসায়িক সফরের মধ্যেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাজ চালিয়ে যান। তাঁর নিজের ভাষ্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শেখার প্রতি কৌতূহলই তাঁকে নতুন নতুন বিষয়ে পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করে। এ কারণেই জেমি বিটনকে ঘিরে মূল আগ্রহ শুধু তাঁর কতগুলো ডিগ্রি রয়েছে তা নিয়ে নয়; বরং একই সঙ্গে উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর বহুমুখী জীবনযাপন নিয়েও।
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্টে হুতিদের অগ্রযাত্রা থমকে যাওয়ার পেছনে শুধু তাদের জনবল বা সামরিক শক্তি দায়ী নয়; বরং রাশিয়া ও ইরানের সমন্বিত গোয়েন্দা ও কমান্ডব্যবস্থার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী কাজে লাগাতে শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে এক সামরিক বিশ্লেষণে। বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার মহাকাশভিত্তিক ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্য (জিওইন্ট) ও সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য (সিগইন্ট) ইরানের নেতৃত্বাধীন কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার (সি২) সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। পরে এসব তথ্য হুতিদের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে তারিক সালেহের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের (এনআরএফ) ভেতরে মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম উপকূলীয় ফ্রন্টে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, সেনা মোতায়েন ও কমান্ড কাঠামোর দুর্বলতা চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েই হুতিরা অগ্রসর হতে পেরেছিল বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। মহাকাশ থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র বিশ্লেষণটির লেখক দাবি করেছেন, তার তৈরি ‘প্রজেক্ট অরোরাহ’ নামের একটি জিওইন্ট ও সিগইন্ট ফিউশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ইরাক, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জর্ডানের ওপর রাশিয়ার সামরিক নজরদারি কার্যক্রম শনাক্ত ও ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই প্রকল্পের একটি বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত অংশ রাশিয়ার কক্ষপথভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত বহুসেন্সর ব্যবস্থা হিসেবে পুনর্গঠন করে। এর মাধ্যমে ইরান কীভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় নির্ভুল হামলার আগে গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করেছে, তার একটি চিত্র পাওয়া যায়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এখন শুধু নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং হামলা চালানোর আগেই বাহিনীর অবস্থান, চলাচলের পথ, সদর দফতর ও রসদ সরবরাহের পরিবর্তন সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র তৈরিতে এসব তথ্য ব্যবহৃত হচ্ছে। একাধিক স্যাটেলাইট, একীভূত গোয়েন্দা তথ্য একটি মাত্র স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা স্যাটেলাইটের তথ্য সময়ের সঙ্গে সমন্বয় করাই এই ব্যবস্থার বড় সুবিধা বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে কোথায় কোন বাহিনী মোতায়েন রয়েছে বা তাদের গতিবিধি কী, তা বোঝা যায়। অন্যদিকে সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক সংকেত, কমান্ড কাঠামো ও যোগাযোগের ধরন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় রাশিয়ার স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য কীভাবে ইরানের নির্ভুল হামলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে, ইয়েমেনের ক্ষেত্রেও সেই মডেল ব্যবহৃত হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। ইয়েমেনে গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে মানবসূত্রের সমন্বয় ইয়েমেনে এই গোয়েন্দা তথ্যকে কার্যকর সামরিক সুবিধায় রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে হুতিদের নিজস্ব মাঠপর্যায়ের তথ্য এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের ভেতরে থাকা মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের তথ্য একত্র করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে তারিক সালেহের বাহিনীর কমান্ড কাঠামো কীভাবে কাজ করছে, কোন সদর দফতর কার্যকর রয়েছে, কোথায় বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে এবং কোথায় যোগাযোগ ও কমান্ডে ঘাটতি রয়েছে- এসব শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এর ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড (জেএফসি) এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মধ্যে সমন্বয়ের দুর্বল জায়গাগুলো হুতিরা কাজে লাগাতে পেরেছিল। ভুল তথ্যেই ভেঙে পড়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় ফ্রন্ট বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে মূল সমস্যা ছিল কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়া। একদিকে জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সদর দফতর ও ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের কিছু ইউনিটের মধ্যে একটি কমান্ড চ্যানেল ছিল। অন্যদিকে এসব ইউনিটের নিজেদের মধ্যে এবং তাদের ঊর্ধ্বতন কমান্ডের সঙ্গে আরেকটি যোগাযোগব্যবস্থা ছিল। দুটি ব্যবস্থাই যখন অবিশ্বস্ত হয়ে পড়ে, তখন নিচের দিক থেকে ভুল তথ্য ওপরে যেতে থাকে এবং ওপর থেকে বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত নির্দেশ নিচের দিকে পৌঁছাতে থাকে। এর প্রভাব পড়ে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে। একজন এনআরএফ কমান্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রাখার নির্দেশ পাওয়ার পরও সেখান থেকে সরে যান বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরেক কমান্ডার দাবি করেন, একটি ইয়েমেনি সামরিক ইউনিট বিমানঘাঁটি ছেড়ে গেছে। পরে দেখা যায়, ওই ঘাঁটিতে তখনও সেনাসদস্যরা অবস্থান করছিলেন। ফলে নিজেদের বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে কমান্ডারদের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছায় এবং হামলায় হতাহতের ঝুঁকি বাড়ে। মোখা এলাকায় মোতায়েন সৌদি বিশেষ বাহিনীর একটি ইউনিট প্রথম বুঝতে পারে যে, মাঠপর্যায়ে বাহিনীর প্রকৃত অবস্থান এবং কমান্ড সিস্টেমে থাকা তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। বিমান হামলাতেও তৈরি হয় সংকট সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিলেও নিজেদের সেনাদের অবস্থান নিশ্চিতভাবে জানা না থাকায় বিমানশক্তি অবাধে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়ে। সমস্যা আরও বাড়ে যখন এনআরএফ-এর কয়েকটি ব্রিগেড সক্রিয় করার সময় দেখা যায়, নিবন্ধিত সদস্যদের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশই দায়িত্বে হাজির হননি। অথচ এর আগে জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড কয়েক মাস ধরে এসব সদস্যের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন, বেতন পুনর্বহাল এবং বাহিনী পুনর্গঠনের কাজ করেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্র জাবাল আল-নারকে ঘিরে সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়ার পর এনআরএফ-এর কয়েকটি ইউনিট হুতিদের প্রধান বাহিনী সেখানে পৌঁছানোর আগেই নিজেদের অবস্থান ছেড়ে দেয় বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। মোখার ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা মোখা এলাকার এই ব্যর্থতাকেই এখন সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি-ইয়েমেনি এবং সৌদি-পাকিস্তানি যৌথ টার্মিনাল অ্যাটাক কন্ট্রোলার (জেটিএসি) দলগুলো এখন উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ইউনিটগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো মাঠপর্যায়ের বাহিনী এবং জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের হামলা-ব্যবস্থার মধ্যে একটি যাচাইকৃত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সৌদি অপারেশনাল মেন্টরিং অ্যান্ড লিয়াজোঁ টিম (ওএমএলটি) ইয়েমেনি বাহিনীগুলোর জনবল, অবস্থান ও যুদ্ধপ্রস্তুতি স্বাধীনভাবে যাচাই করছে বলে দাবি করা হয়েছে। নির্দেশের ইতিবাচক যাচাই, পৃথক ও নিয়ন্ত্রিত তথ্যপ্রবাহ এবং বিকল্প এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে মোখায় যে, দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়েছিল, সেগুলোও কমানোর চেষ্টা চলছে। আগেও একই কৌশল ব্যবহার করেছে সৌদি আরব বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরব এর আগে ভিন্ন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কৌশল ব্যবহার করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ডের সামরিক কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স দক্ষিণ ইয়েমেনে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে দুর্বল করে দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ ও লক্ষ্য নির্ধারণের ব্যবস্থাও সচল রাখা হয়েছিল। ফলে বাহ্যিক সহায়তার স্তরটি দুর্বল হয়ে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতসমর্থিত ইউনিটগুলো দ্রুত নিজেদের কার্যক্ষমতা হারায় এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের চাপে পিছু হটে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। হুতিদের ব্যবস্থাও এখন ঝুঁকির মুখে হুতিদের সহায়তা করা রাশিয়া-ইরানের গোয়েন্দা ও কমান্ডব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত হলেও এর মধ্যেই বড় দুর্বলতা রয়েছে বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। এই ব্যবস্থার জন্য নিরাপদ যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ জনবল, গোয়েন্দা তথ্য একীভূত করার কেন্দ্র, কারিগরি পরামর্শক এবং সানা ও যুদ্ধক্ষেত্রের সদর দফতরগুলোর মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ প্রয়োজন। এসব সংযোগের কোনও একটি স্তর ভেঙে পড়লে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। বিশ্লেষণটির দাবি, এসব দুর্বলতাকেই এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সানায় হুতিদের শীর্ষ কমান্ডে বড় ধাক্কার দাবি ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইরান-সমর্থিত হুতিদের শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। এতে অন্তত দুই মেজর জেনারেল, সাত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং ৩২ কর্নেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হুতি সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সহকারী, স্টাফ ও যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মেজর জেনারেলের চেয়েও উচ্চপদমর্যাদার কয়েকজন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি ব্যক্তিদেরও নিষ্ক্রিয় করা হয়ে থাকতে পারে বলে বিশ্লেষণে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি এবং স্বাধীনভাবে যাচাইও সম্ভব হয়নি। সংখ্যা নয়, কমান্ডব্যবস্থার ওপর আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণের মতে, হতাহতের সংখ্যা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কমান্ড কাঠামোর ওপর এর প্রভাব। সামনের সারির কমান্ড দুর্বল করার পাশাপাশি সানায় হুতিদের উচ্চপর্যায়ের সদর দফতরগুলোতেও ধারাবাহিক বিমান হামলা চালানো হলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার মধ্যকার সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। সদর দফতরগুলো স্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হলে, বেঁচে থাকা কমান্ডাররা অধীনস্থ ইউনিটের সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলে এবং ইরানি উপদেষ্টারা বিকল্প যোগাযোগপথ তৈরি করলে নতুন নতুন যোগাযোগ ও অবস্থানগত সংকেত তৈরি হয়। এগুলো শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। কেন পশ্চিম উপকূলে আগের গতি ফিরছে না এই কারণেই হুতিদের পশ্চিম উপকূলীয় ফ্রন্টের মতো দ্রুত অগ্রগতি এখন আর দেখা যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। যে কমান্ড ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে হুতিরা আগে সাফল্য পেয়েছিল, সেগুলো সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী এখন শক্তিশালী করছে। বিপরীতে হুতিদের নিজেদের বহিরাগত সহায়তাপ্রাপ্ত কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। অর্থাৎ পশ্চিম উপকূলের ব্যর্থতা সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর জন্য স্থায়ী দুর্বলতা হয়ে থাকেনি; বরং সেটি এখন তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তনের বড় শিক্ষা হিসেবে কাজ করছে। বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের সামরিক সমীকরণ ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড কমান্ড, যোগাযোগ, গোয়েন্দা ও যুদ্ধ সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবস্থা-অর্থাৎ সি৬আইএসআর- উন্নয়নে জোর দিয়ে আসছে। লক্ষ্য নির্ধারণ এবং গোয়েন্দা তথ্য থেকে দ্রুত হামলা চালানোর সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হুতিদের দীর্ঘদিনের হামলা ও সামরিক চাপ সৌদি আরবের এতদিনের সংযত নীতির সীমাও ক্ষয় করেছে বলে বিশ্লেষকের মত। ফলে বড় ধরনের সৌদি নেতৃত্বাধীন স্থল, আকাশ ও নৌ অভিযান শুরু হলে তা এমন এক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হতে পারে, যার বহিরাগত কমান্ড ও গোয়েন্দা সহায়তা এরই মধ্যে চাপের মুখে রয়েছে। নির্ণায়ক হয়ে উঠছে ‘গোয়েন্দা যুদ্ধ’ বিশ্লেষণের মূল বক্তব্য হলো, হুতিদের সামরিক সক্ষমতা শুধু তাদের নিজস্ব অস্ত্র বা জনবলের ওপর নির্ভর করছে না। রাশিয়ার স্যাটেলাইট ও সিগন্যাল গোয়েন্দা তথ্য, ইরানের সমন্বয় এবং হুতিদের মাঠপর্যায়ের তথ্য- এই তিন স্তরের সমন্বয় তাদের সামরিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু একই ব্যবস্থা এখন তাদের জন্য দুর্বলতার কারণও হয়ে উঠতে পারে। কারণ উন্নত কমান্ডব্যবস্থা যত বেশি নির্ভর করে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, বিশেষজ্ঞ জনবল ও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা অবকাঠামোর ওপর, সেসব অবকাঠামো ধ্বংস বা বিঘ্নিত হলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতাও দ্রুত কমে যেতে পারে। ফলে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতে এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে কে কত সেনা বা অস্ত্র মোতায়েন করছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং কে আগে প্রতিপক্ষের গোয়েন্দা তথ্য, যোগাযোগ ও কমান্ডব্যবস্থা বুঝতে এবং অকার্যকর করতে পারছে, সেটিই হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধের ফল নির্ধারণের অন্যতম প্রধান বিষয়। সূত্র: আল-জাজিরা
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় সড়কপাশের একটি পুলিশ চেকপোস্টে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে এই হামলা চালায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী। প্রাদেশিক জরুরি সেবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহতদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ পথচারী। আফগান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও জঙ্গি হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার পেছনে প্রধানত টিটিপি এবং বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হচ্ছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে দেশটিতে হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা, যদিও কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এর আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের সংঘাতে বেশ কয়েকজন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়, যা দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডেরা ইসমাইল খান এলাকাটি দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের কাছে হওয়ায় সেখানে প্রায় সময়ই নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে থাকে জঙ্গিরা। সূত্র: এপি