দোরগোরায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ঠিক তার আগেই আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে বড় সুসংবাদ পেল পাকিস্তান। জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ সিকান্দার রাজাকে হটিয়ে আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছেন পাকিস্তানের উদ্বোধনী ব্যাটার সাইম আইয়ুব।
মূলত, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবেই এই কৃতিত্ব অর্জন করলেন ২৩ বছর সাইম আইয়ুব। অজিদের বিপক্ষে সিরিজে ১১৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও ৩টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে সাইমের এই ফর্ম স্বস্তি দিচ্ছে পাকিস্তান শিবিরকে। ২০০৯ সালে শিরোপা জেতার পর ২০ ওভারের এই বৈশ্বিক আসরে দ্বিতীয় ট্রফির খোঁজে আছে এশিয়ান দলটি।
সাইম ছাড়াও র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই স্পিনার আবরার আহমেদ ও মোহাম্মদ নেওয়াজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে বোলারদের তালিকায় দুই ধাপ এগিয়ে এখন দুই নম্বরে আবরার। শীর্ষস্থানে থাকা ভারতের বরুণ চক্রবর্তীর সঙ্গে তার রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান মাত্র ২৮।
সিরিজের শেষ ম্যাচে পাঁচ উইকেট শিকার করা বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নেওয়াজ ৮ ধাপ এগিয়ে বোলারদের তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন। এছাড়া অলরাউন্ডারদের তালিকায় এক ধাপ এগিয়ে এখন তিনি চার নম্বরে।
ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে বড় উন্নতি করেছেন পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আলী আঘা; ১২ ধাপ এগিয়ে তিনি এখন ২৯তম স্থানে। সাইম ৮ ধাপ এগিয়ে অবস্থান করছেন ২৭ নম্বরে।
ব্যাট হাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের অভিষেক শর্মা। তবে শীর্ষ ১০-এর ভেতরে সামান্য রদবদল হয়েছে। এক ধাপ করে এগিয়েছেন জস বাটলার (৩য়), পাথুম নিসাঙ্কা (৫ম), সূর্যকুমার যাদব (৬ষ্ঠ) ও টিম সাইফার্ট (৯ম)। অন্যদের মধ্যে বড় উন্নতি দেখা গেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিন (১৪তম), দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক (২২তম), ভারতের ইশান কিশান (৩২তম) ও প্রোটিয়া ব্যাটার রায়ান রিকেলটনের (৪০তম)। বোলারদের তালিকায় আরও উন্নতি করেছেন অভিজ্ঞ আদিল রশিদ ও মিচেল স্যান্টনার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন শ্রীলঙ্কায়। দেশটির সরকার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে এখনও অনড়। আর এই সিদ্ধান্তে বড় বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমন পরিস্থিতিতে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচটিকে বাঁচাতে এবার নতুন মিশনে নেমেছে আইসিসি। পাকিস্তানকে রাজি করাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যে কোন মূল্যেই পিসিবিকে রাজি করাতে আসরে নামানো হয়েছে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে। ‘রেভস্পোর্টস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংকট নিরসনে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সহকারী ও সিঙ্গাপুর ক্রিকেট সংস্থার প্রতিনিধি ইমরান খাজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মূল কাজ হলো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামতে রাজি করানো। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে বয়কটের চিঠি না দিলেও, আইসিসি আগেভাগেই বরফ গলানোর চেষ্টা করছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মাঠে না গড়ালে শুধু পিসিবি নয়, বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়বে আইসিসিও। সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিসির চার বছরের চুক্তিতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত এই ‘হাইভোল্টেজ’ লড়াইয়ের কারণেই সম্প্রচারস্বত্বের অঙ্ক আকাশচুম্বী হয়েছিল। এখন পাকিস্তান যদি সত্যিই ম্যাচটি বয়কট করে, তবে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে সম্প্রচারকারীরা। সেক্ষেত্রে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে তারা আইসিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে। তাই টুর্নামেন্টের জৌলুস ও নিজেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পিসিবিকে মানাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আইসিসি। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পর্দা উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। এবারের আসরের দুই আয়োজক দেশ ভারত এবং শ্রীলঙ্কা। প্রথম দিনেই মাঠে নামবে ভারত। মুম্বাইয়ে সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে টিম ইন্ডিয়া। একই দিন কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচ। ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচটি হওয়ার কথা ১৫ই ফেব্রুয়ারি, শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে।
চমকপ্রদ এক দলবদলের জন্য 'সবুজ সংকেত' দিয়ে দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যেখানে জুড়ে দেয়া আছে এক অদ্ভুত শর্তও। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ নয়। মূলত, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে ফিট রাখার জন্যই এমন শর্ত। আর সেই কারণেই স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে ইউরোপে ফেরার চিন্তাভাবনা করছেন তিনি। আর সেই সুযোগে কাজে লাগাতে চায় তুর্কি জায়ান্ট গালাতাসারাই। তুরস্কের খ্যাতনামা ফুটবল বিশ্লেষক লেভেন্ট তুজেমান দাবি করেছেন, গালাতাসারাই ও মেসির মধ্যে আলোচনা এরমধ্যেই হয়েছে। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী নাকি চার মাসের চুক্তিতে তুর্কি ক্লাবটির হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যেখানে মোট ম্যাচ হবে ১২টি। এই ম্যাচগুলোর সবগুলোই ইস্তাম্বুলে, অর্থাৎ র্যামস পার্কে। মেসির শর্ত—তিনি কেবল ঘরের মাঠের ম্যাচেই খেলবেন। শর্তটি কিছুটা অদ্ভুত মনে হলেও, তুরস্কে তার উপস্থিতি যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করবে, তা এড়াতেই নাকি এই সিদ্ধান্ত। তুজেমান অ্যা স্পোর'র লাইভ অনুষ্ঠানে কায়সারিসপোরের বিপক্ষে গালাতাসারাইর ৪–০ গোলের জয়ের পর এই বিস্ফোরক দাবি করেন। তার মতে, বিশ্বকাপের আগে আরও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেই এই ট্রান্সফার বাস্তবায়িত হতে পারে। সাহসী মন্তব্যের জন্য পরিচিত তুজেমান বলেন, ‘ম্যানেজমেন্টও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে লিওনেল মেসিকে গালাতাসারাইতে আনার চেষ্টা করেছিল। মেসি বলেছেন, আমেরিকান লিগে খেলার গতি তার জন্য খুব ভারী হয়ে যাচ্ছে এবং তিনি চোট নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না।’ সৌদি প্রো লিগ থেকে মেসি প্রস্তাব পেলেও তা নাকচ করার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আল-হিলাল প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। মেসি এলে এক মিলিয়ন মানুষ বিমানবন্দরে যাবে।’ তুজেমান আরও জানান, তুরস্কে আসার শর্ত পরিষ্কার করে দিয়েছেন মেসি। তার ভাষায়, ‘মেসি বলেছেন, তিনি ইস্তাম্বুলে খেলবেন—এই শর্তেই আসবেন। তিনি ১২টি ম্যাচ খেলবেন, তবে কোনো অ্যাওয়ে ম্যাচে যাবেন না।’ যদিও গালার হয়ে তিনি শুধু হোম ম্যাচ খেলতেই আগ্রহী, তবে, তুজেমানের দাবিতে সত্যতা থাকলে ওকান বুরুকের দল তুর্কি কাপের ফাইনালে উঠলে, মেসি সেই ম্যাচেও খেলতে পারেন। এর আগে মেসি নিজেই বলেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার জন্য তিনি যেন ‘বোঝা’ না হয়ে যান। কারণ নতুন এমএলএস মৌসুম শুরু হবে বসন্তে, ফলে বিশ্বকাপের আগে হয়তো তিনি প্রত্যাশিত মানের কঠিন চ্যালেঞ্জ পাবেন না। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিকল্প খোঁজার পরামর্শও পেয়েছেন তিনি। সাবেক ফুটবলার টেরি ফেলান, যিনি খেলোয়াড়ি জীবনে চার্লস্টন ব্যাটারির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে খেলেছিলেন, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মেসি কি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে ভাবছেন—‘‘আমাকে আরও ভালো প্রতিযোগিতায় খেলতে হবে, ফিট থাকতে হবে?’’ সৌদি আরব? সেখানে যাওয়ার জন্য তার টাকার দরকার নেই। সৌদি দলগুলো ক্লাব বিশ্বকাপে ভালো করেছে ঠিকই, ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছে, এক-দুটি ম্যাচ জিতেছে—কিন্তু সেটাই সব নয়।’ এসময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘মেসির যদি সত্যিই সেই ক্ষুধা থাকে, তাহলে তাকে এমন জায়গায় যেতে হবে, যেখানে সে নিজেকে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে। এখন তো তার জন্য সবকিছু খুব সহজ। পরিসংখ্যান, ভিডিও দেখলে মনে হয়—এই মুহূর্তে এটা তার জন্য প্লেস্টেশন খেলার মতো। এটা স্বাস্থ্যকর নয়।’ লিওনেল মেসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। তবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তিনি প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ডাকে সাড়া দেবেন এবং টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার অধিনায়কত্ব করবেন। এই টুর্নামেন্ট খেলার সময়ই তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সত্যি সত্যি ম্যাচটি না খেললে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারে বলে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির দাবি, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করার কারণে পাকিস্তানকে শাস্তি দিতে পারে না আইসিসি। তার যুক্তি, এই সিদ্ধান্ত সরকারিভাবে নেওয়া হয়েছে, ফলে এটি আইসিসির শৃঙ্খলামূলক এখতিয়ারের বাইরে পড়ে। পাকিস্তান ঘোষণা করেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের বাকি অংশে জাতীয় দলের অংশগ্রহণে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক বিবৃটিতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তাদের জাতীয় দলটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে 'মাঠে নামবে না।' স্পোর্টস্টারকে দেয়া সাক্ষাৎকারে আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান মানি বলেন, 'সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না। এই যুক্তিতেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচগুলো পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। সমস্যার সমাধান করার বদলে আইসিসি কেবল দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে।' এক সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন মানি। তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি কার্যত সরকারগুলোর জন্য ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের দরজা খুলে দিয়েছে—বিশেষ করে যখন পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই পাকিস্তান সরকারের একজন বর্তমান মন্ত্রী।’ তবে আইসিসি পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং সতর্ক করেছে যে বেছে বেছে অংশগ্রহণ করলে শাস্তিমূলক পরিণতি হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখনো পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি, তবে এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছে। আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আইসিসি আশা করে পিসিবি নিজ দেশের ক্রিকেটের ওপর এর গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে, কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করবে—যার সদস্য ও উপকারভোগী পিসিবি নিজেই।’ জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা স্বীকার করলেও আইসিসি যোগ করে, এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট কিংবা পাকিস্তানের ভক্তদের কল্যাণের পক্ষে নয়। আইসিসি জানিয়েছে, তারা পিসিবির কাছ থেকে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার প্রত্যাশা করছে এবং টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজনই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এদিকে পিসিবি বলেছে, সরকারি সিদ্ধান্তের পর তারা অংশগ্রহণ নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জানিয়েছে, এই বয়কট বাংলাদেশের প্রতি সংহতির প্রতিফলন। পাকিস্তান তাদের অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে। সবগুলো ম্যাচই কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই, যা সর্বোচ্চ বৈশ্বিক দর্শকসংখ্যা, স্পনসরশিপ আগ্রহ ও সম্প্রচার আয় এনে দেয়। ওয়াকওভার হলে ভারত পূর্ণ পয়েন্ট পাবে, তবে বাণিজ্যিকভাবে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রচারকারীরা বিজ্ঞাপন আয়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। আইসিসির খেলার শর্ত অনুযায়ী, ওয়াকওভার দেওয়ার জন্য প্রতিপক্ষ দলকে টসের সময় মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই ভারতের কলম্বো সফর করার কথা রয়েছে এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাচ রেফারি ওয়াকওভার ঘোষণা করে ভারতকে দুই পয়েন্ট দিয়ে দেবেন। মানির মতে, আনুষ্ঠানিক শাস্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায়, আইসিসির হাতে আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থেকেই যাচ্ছে।