অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে রুপার দামে নতুন ইতিহাস, ছুঁলো ১০০ ডলারের মাইলফলক

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়েছে রুপা ও স্বর্ণ-দুই বাজারেই। ফলে স্বর্ণের দামও প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের আরেকটি রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০০ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম রুপার দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলো।


মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদাকে যে শক্তিগুলো সমর্থন করছে, তার বড় একটি অংশ থেকেই রুপাও উপকৃত হচ্ছে। চলমান শুল্কসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং লন্ডন বাজারে ভৌত রুপার সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকাও দামে বাড়তি সহায়তা দিচ্ছে।


এদিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ০৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৬১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে।


স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় ও বৈচিত্র্য আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর জন্য এটি এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং সময়ের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।


২০২৬ সালের শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং শুল্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

 


মার্কিন নীতিগত দিক থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ ২৭-২৮ জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে বাজার এখনো আশা করছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই দফা সুদের হার কমানো হতে পারে। সুদ না দেয়া সম্পদ হওয়ায় কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণ সাধারণত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


অন্যদিকে স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৪০ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইচএসবিসি এক নোটে জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে প্লাটিনাম এখন ‘স্বর্ণের তুলনায় সস্তা বিকল্প’ হিসেবে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে।


ব্যাংকটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে প্লাটিনামের উৎপাদন ও ব্যবহারের ঘাটতি ১ দশমিক ২ মাসেরও বেশি হতে পারে।


এদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ১২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে রুপার দামে নতুন ইতিহাস, ছুঁলো ১০০ ডলারের মাইলফলক

বিশ্ববাজারে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, শুল্কনীতি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমতে পারে-এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়েছে রুপা ও স্বর্ণ-দুই বাজারেই। ফলে স্বর্ণের দামও প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের আরেকটি রেকর্ডের আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে।   বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ০৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১০০ দশমিক ১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম রুপার দাম ১০০ ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করলো। মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যান বলেন, স্বর্ণের বিনিয়োগ চাহিদাকে যে শক্তিগুলো সমর্থন করছে, তার বড় একটি অংশ থেকেই রুপাও উপকৃত হচ্ছে। চলমান শুল্কসংক্রান্ত উদ্বেগ এবং লন্ডন বাজারে ভৌত রুপার সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকাও দামে বাড়তি সহায়তা দিচ্ছে। এদিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৫৯ দশমিক ৯৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন এই ধাতুটির দাম রেকর্ড ৪ হাজার ৯৬৭ দশমিক ০৩ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। আর ফেব্রুয়ারিতে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৬১ দশমিক ২০ ডলারে পৌঁছেছে। স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত অনিশ্চিত সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ আশ্রয় ও বৈচিত্র্য আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কৌশলগত বিনিয়োগ পোর্টফোলিওর জন্য এটি এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এটি কেবল সাময়িক কোনো পরিস্থিতি নয়, বরং সময়ের মৌলিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যে টানাপোড়েন, ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ এবং শুল্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা নিরাপদ আশ্রয়স্থল সম্পদের চাহিদা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনা এবং ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতাও স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।   মার্কিন নীতিগত দিক থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ ২৭-২৮ জানুয়ারির বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে বাজার এখনো আশা করছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই দফা সুদের হার কমানো হতে পারে। সুদ না দেয়া সম্পদ হওয়ায় কম সুদের পরিবেশে স্বর্ণ সাধারণত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে স্পট প্লাটিনামের দাম ৪ দশমিক ২১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৭৪০ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এইচএসবিসি এক নোটে জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের কাছে প্লাটিনাম এখন ‘স্বর্ণের তুলনায় সস্তা বিকল্প’ হিসেবে আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটি ধারণা করছে, ২০২৬ সালে প্লাটিনামের উৎপাদন ও ব্যবহারের ঘাটতি ১ দশমিক ২ মাসেরও বেশি হতে পারে। এদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ২ হাজার ১২ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে।

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ২৪, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

শীত শেষের আগেই রাজধানীর বাজারে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

ছবি: সংগৃহীত

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে আবার রেকর্ড, ভরি আড়াই লাখ টাকা ছাড়াল স্বর্ণ

ছবি : সংগৃহীত

এবার দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন

জাপানে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের উদ্যোগ

জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের লক্ষ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন দৃঢ় করা এবং এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে (বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই চুক্তির অন্যান্য উদ্দেশ্য হলো— বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ়করণ ও দীর্ঘমেয়াদি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ। চুক্তির আওতায় পণ্য, সেবা বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং মেধাস্বত্বসহ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করবে। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দল তাদের প্রতিবেদন ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে উভয় দেশ একযোগে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশন শুরুর লক্ষ্যে উভয় দেশ একযোগে ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এই চুক্তির গুরুত্ব বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকার নভেম্বর ২০২৪ থেকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করে এবং এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করার একটি উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সাথে সেক্টরভিত্তিক এবং সামগ্রিক চুক্তি নিয়ে একাধিক সভা হয়েছে। সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ (সাত) রাউন্ড নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে উভয় দেশ ইপিএ টেক্সট চূড়ান্ত করে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সরাসরি সম্পৃক্ততা বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ নেগোসিয়েশনের দ্রুত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাদের সক্রিয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা একাধিক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সভাপতিত্ব করেন এবং জাপান সফরের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে তারা নিজ নিজ মন্ত্রী পর্যায়ের সমমর্যাদার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। এ সকল সফর এবং উদ্যোগসমূহ নেগোসিয়েশন চূড়ান্তকরণে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকারকে জোরালোভাবে তুলে ধরে, যাতে ইপিএ’র কৌশলগত গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। পক্ষান্তরে, জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।  বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ’র উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো : বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়াও, তৈরি পোশাক খাতে সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন সুবিধাও পাবে। সেবা বাণিজ্য (ট্রেড ইন সার্ভিসেস) খাতেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ডব্লিউটিও সেক্টরাল ক্লাসিফিকেশন লিস্ট অনুযায়ী ১২টি সেক্টরের আওতায় ৯৭টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সাব-সেক্টর উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর ত্বরান্বিত হবে। এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে, বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। জাপান আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তিটি স্বাক্ষর করতে ইচ্ছুক। (বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরের প্রস্তাব আজ উপদেষ্টা পরিষদ সানুগ্রহ অনুমোদন প্রদান করেছে। বিজেইপিএ সম্পন্নকরণের জন্য আজকের উপদেষ্টা পরিষদ-বৈঠকে সকল উপস্থিতিবৃন্দ বাণিজ্য উপদেষ্টা, সচিব ও বিজেইপিএ’র সাথে সম্পৃক্ত সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

একীভূত ব্যাংকের আমানতকারীরা মুনাফা পাবেন : বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : ড. সালেহউদ্দিন

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত ‘গোপন চুক্তি’ স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চিঠি

ছবি : সংগৃহীত
আজ থেকে দেশে নতুন দামে স্বর্ণ বিক্রি

দেশের বাজারে আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকায় বিক্রি হবে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্বর্ণ ভরিতে ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। যা দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা নির্ধারণ করে বাজুস। যা বুধবার কার্যকর হয়। মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১২৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৮৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

আজকের মুদ্রার রেট

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে দ্বিমত: একাংশ বাতিল, অন্যাংশ দরকষাকষি

ছবি : সংগৃহীত

আজকের স্বর্ণের দাম

0 Comments