প্রাকৃতিক খনিজ খনন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্ভাবন পর্যন্ত বিরল খনিজ শিল্পে চীনের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে দেশটিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা এনে দিয়েছে।
খনিজের ওপর চীনের এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ কয়েক দশক ধরে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফসল।
বেইজিং থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
আগামী বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরল খনিজের ১৭টি উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে পশ্চিমা দেশগুলোর বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।
এই বিরল খনিজগুলো প্রতিরক্ষা খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো যুদ্ধ বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র নির্দেশনা ব্যবস্থা ও রাডার প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়াও স্মার্টফোন, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অটোমোবাইলসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন পণ্যে এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
এএফপি চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গনঝাও খনি অঞ্চল পরিদর্শন করেছে। এই অঞ্চলে ইট্রিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো ‘ভারী’ বিরল খনিজ উত্তোলন করা হয়। ওই সময় সেখানে ব্যাপক খনন কার্যক্রম দেখা গেছে।
চীনে এ গোপন শিল্পে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার খুব কমই দেওয়া হয়।
এএফপি সাংবাদিকরা একটি বিরল খনিজ খনি থেকে ডজনখানেক ট্রাক আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন। পাশাপাশি কয়েকটি ব্যস্ত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রও চোখে পড়ে।
চীনের দু’টি বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিরল খনিজ কোম্পানির একটি হলো ‘চায়না রেয়ার আর্থ গ্রুপ’। গনঝাওতে তাদের জন্য বিশাল নতুন সদর দফতর নির্মাণ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রযুক্তিগত পণ্যে এ সব খনিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
ইএসএসইসি বিজনেস স্কুলের অর্থনীতি প্রভাষক হেরন লিম এএফপিকে জানান, এ বছরের চ্যালেঞ্জগুলো ‘বেশ কয়েকটি দেশকে বিরল খনিজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ বাড়ানোর দিকে নজর দিতে উৎসাহিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদী সুফল দিতে পারে।’
অক্টোবরের শুরুতে চীন এই খাতে ব্যাপক রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে, তা বিশ্বব্যাপী উৎপাদন খাতে বড় ধরনের ধাক্কা দেয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করার পর থেকে বেইজিংয়ের সঙ্গে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়েছে, তার ওপর এই বিধিনিষেধ ওয়াশিংটনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
গত মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং চলমান শুল্ক যুদ্ধ এক বছরের জন্য স্থগিত করতে সম্মত হয়েছেন।
“এই চুক্তি—যা অন্তত সাময়িকভাবে বিরল মৃত্তিকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করে, তবে এর পাশাপাশি কার্যত এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলোকেও নিষ্ক্রিয় করেছে এবং একে ব্যাপকভাবে বেইজিংয়ের জন্য এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী বিরল খনিজ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ অন্তত সাময়িকভাবে নিশ্চিয়তা থাকবে।
এতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কযুদ্ধে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, ব্যাপকভাবে এটিকে বেইজিংয়ের জয় হিসেবে দেখা হয়।
হেরন লিম এএফপিকে বলেন, ‘এই সাময়িক চুক্তি সত্ত্বেও, বিরল খনিজগুলো ভবিষ্যতে চীন-মার্কিন অর্থনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখতে চীন আরও বাণিজ্যিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।’
ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা এখন বিকল্প খনি এবং প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত কাজ করছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বহু বছর সময় লাগবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় বিরল খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে ছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন পাস খনি তখন বৈশ্বিক সরবরাহের বড় অংশের উৎস ছিল।
মস্কোর সঙ্গে উত্তেজনা কমার পর এবং বিরল খনিজ শিল্পের পরিবেশগত ক্ষতি সামনে আসায়, যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বিদেশের সস্তা শ্রম ও অন্যান্য প্রণোদনার সুবিধার বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে ধীরে ধীরে বিদেশ থেকে খনিজ আমদানি করা শুরু করে।
বর্তমানে, চীন বিশ্বের মোট বিরল খনিজ খননের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ অনুসারে, বিশ্বে এই মৌলগুলোর বৃহত্তম প্রাকৃতিক মজুত রয়েছে চীনে।
এ বছরের বিশ্লেষণ দেখায় যে বিশ্বব্যাপী মোট প্রক্রিয়াকরণের প্রায় ৯০ শতাংশই চীনের দখলে রয়েছে।
এছাড়াও, পেটেন্টে শক্ত অবস্থান আর প্রক্রিয়াকরণ প্রযুক্তির রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চীন নিশ্চিত করছে, এ জ্ঞান যেন দেশের বাইরে না যায়।
বিএমআই-এর পণ্য বিশ্লেষক অ্যামেলিয়া হেইন্স এই মাসে এক সেমিনারে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিরল খনিজ আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর জন্য একটি বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।’
চীনকে বাদ দিয়ে উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণের বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে।
গত মাসে ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বিরল খনিজ খাতে ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে চুক্তি করেছেন। কারণ অস্ট্রেলিয়াতেও বিশাল ভূখণ্ডজুড়ে ব্যাপক বিরল খনিজ সম্পদ রয়েছে।
এছাড়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জাপান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও গত মাসে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাত সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এ বছর প্রচুর আলোচনা এবং শিরোনাম তৈরি হলেও, ওয়াশিংটন বহু বছর ধরেই বিরল খনিজ সমস্যার কথা জানে।
২০১০ সালে, টোকিওর সঙ্গে একটি সামুদ্রিক সীমান্ত বিরোধের জেরে বেইজিং জাপানে খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনার মাধ্যমেই বিরল খনিজ খাতে চীনের নিয়ন্ত্রণের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ঘটনাটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনকে কৌশলগত খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
তবে, ১৫ বছর পরও চীনই বিরল খনিজ খাতে প্রধান শক্তি হিসেবে রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পর দেশটির বিচার বিভাগ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনাকারী দক্ষিণ ফ্লোরিডার মার্কিন অ্যাটর্নি জেসন রেডিং কুইনোনস। শনিবার (৭ নভেম্বর) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পদত্যাগ করা অন্য দুজন হলেন বিচার বিভাগের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিভিশনের প্রধান জন আইজেনবার্গ এবং সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। আইজেনবার্গ শুক্রবার এবং ধিলন বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচার বিভাগের শীর্ষ নেতৃত্বের চাপের মুখে পদ ছাড়েন কুইনোনস। ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালালেও প্রত্যাশিত বড় কোনো মামলা করতে না পারায় তার ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের তদারকি ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনায় বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে আইনি ও রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ কুইনোনসের বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিনেটের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে সাত দফা শর্তসংবলিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় পাঠানো এ প্রস্তাবে যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকির মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হলো। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া সাতটি শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেও বসবে না তেহরান। অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো ইরানের সাতটি প্রধান দাবি হলো— ১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ: লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা সব ধরনের নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে। ৩. নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ৪. জব্দ সম্পদ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব জব্দ করা আর্থিক সম্পদ মুক্ত করে দিতে হবে। ৫. মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানো: মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং সেনাসংখ্যা কমাতে হবে। ৬. ক্ষতিপূরণ প্রদান: সংঘাতের কারণে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৭. ভবিষ্যৎ হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা: ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সামরিক হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এদিকে ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই দেশের অবস্থানে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে তেহরান জানিয়েছে, সংঘাত আবার শুরু হলে আরও ব্যাপক ও ভয়াবহ হামলা চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে-এমন আশঙ্কার মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীরা তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তবে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের পথকে কঠিন করে তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরানকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় তেহরান। পরে সংঘাতের প্রভাব লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়েও ছড়িয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরানের সাত দফা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। তবে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ইরান। দেশটির দাবি, এই চার দেশের জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ ব্যবহার করতে পারছে। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ, পণ্য ও রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের এক আইনপ্রণেতা এসব তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সহসভাপতি আমির হায়াত মোকাদ্দাম ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (আইএসএনএ) বলেন, ভারত, চীন, ইরাক ও কাতারের জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এসব জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পরপরই কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত জুলাইয়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে আবারও নৌ-অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন। আমির হায়াত মোকাদ্দামের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ এই সুবিধার বিনিময়ে ভারত থেকে ওষুধ এবং চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে ইরান। অন্যদিকে, কাতার আগে থেকেই তেহরানের প্রতি কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়ে আসছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও পালন করছে। তিনি জানান, ভারত ও চীনের জাহাজ চলাচলের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় করবে ইরান। তবে কাতারের জাহাজকে এ ধরনের কোনো ফি দিতে হবে না। ইরাকি জাহাজের ক্ষেত্রে টোল নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে অবশ্য নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই আইনপ্রণেতা। ইরানের এ উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও মানবাধিকার অধ্যয়ন বিভাগের গবেষক এবং ইরান বিশেষজ্ঞ রুজবেহ পারসি। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের আইনপ্রণেতা যেসব যুক্তিই তুলে ধরুন না কেন, মূল বিবেচ্য বিষয় হলো এই ব্যবস্থা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে। রুজবেহ পারসি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা ইরানের জন্য পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা নতুন কোনো কৌশল নয়। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, অবরোধের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও সেবার আদান-প্রদানের পথ তৈরি করা। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমির ধারণা, বিনা বাধায় জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে ইরান ট্রানজিট ফি আদায় করছে। বিকল্প হিসেবে পণ্যের মোট মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এদিকে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং লিবিয়ায় অস্ট্রিয়ার সাবেক প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে উলফগ্যাং পুশতাইয়ের মতে, ইরানের এই কৌশল বেশ চতুর। কারণ, পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে দেশটির আয়ের বড় একটি উৎস তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি। ফলে চীনের সঙ্গে এই বিশেষ সুবিধার সম্পর্ক তেহরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।