সারাদেশ

বিমানবন্দরের ইজারা পেতে আগ্রহীদের উপচে পড়া ভিড়

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

জটিলতা কাটিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে আবারও সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। দীর্ঘদিন ধরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেবিচকের মধ্যে ইজারা নীতিমালা নিয়ে চলা টানাপড়েন শিথিল হওয়ায় নতুন করে ইজারা কার্যক্রমে গতি এসেছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যবসায়িক স্থান ইজারা নিতে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে।

 

বেবিচক সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইজারা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে সবুজ সংকেত মেলায় আবারও ইজারা কার্যক্রম শুরু করা হয়।

 

বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা ইজারা কার্যক্রম শুরু করেছি। কয়েক হাজার আবেদন এসেছে। এখন বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যেই বরাদ্দ দেওয়া শুরু হবে।

তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় একটি নতুন ইজারা নীতিমালা তৈরির কাজ করছে। সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান ব্যবস্থাতেই ইজারা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব বিমানবন্দরেই এই কার্যক্রম চলবে।

ইজারা নীতিমালা নিয়ে দ্বন্দ্ব

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এরপর থেকেই মন্ত্রণালয় ও বেবিচকের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়।

 

মন্ত্রণালয় বিদ্যমান নীতিমালা পরিবর্তন করে নতুন বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়। গত ১৮ জানুয়ারি খসড়া নীতিমালা পাঠিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে মতামত চাওয়া হয় বেবিচকের কাছে। পরে কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বেবিচক।

 

চিঠিতে বেবিচক জানায়, প্রস্তাবিত বিধিমালার কিছু ধারা আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাও–এর মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক অডিটে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।

 

এছাড়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অ্যাক্ট, ২০১৭ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটির সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বেবিচকের ওপর ন্যস্ত থাকলেও নতুন খসড়ায় সেই এখতিয়ারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

বেবিচক আরও জানায়, ২০১০-১১ সালের আগে উন্মুক্ত দরপত্রভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। পরবর্তীতে যাত্রীসেবা সহজ করতে ইজারা নীতিমালায় সংস্কার আনা হয়। নতুন খসড়ার কিছু ধারা আবারও পুরোনো জটিলতায় ফেরার ঝুঁকি তৈরি করছে।

 

আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিরোধ

ইজারা নীতিমালা নিয়ে বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাজিন আহমেদ।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের রুলস অব বিজনেস ও সচিবালয় নির্দেশমালা অনুযায়ী জনমত আহ্বান বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কিন্তু অত্যন্ত স্বল্প সময় দিয়ে মতামত চাওয়ায় অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

সবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জটিলতা নিরসনের পর এখন আবারও ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি বেবিচকের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তাদের ভাষ্য, বিমানবন্দরের সম্পত্তি ইজারা বেবিচকের আয়ের অন্যতম বড় উৎস। তাই বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রীর নির্দেশনায় জটিলতা নিরসন করা হয়েছে।

 

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসী গ্রুপের দুই সদস্য গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধের মামলায় পলাশ (২৮) ও তোতা মিয়া ওরফে রাব্বিকে (২২) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-২। মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শনিবার রায়েরবাজার ও বোটঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।   শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান এসআরবি-২-এর উপপরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি মোহাম্মদপুর এলাকায় একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আধিপত্য বিস্তার, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল। গ্রুপটির সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে দলবদ্ধভাবে শক্তির মহড়া দিতেন। পথচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।   এ ঘটনায় গত ২৩ অক্টোবর মিঠু মিয়া (২০) নামে গ্রুপের এক সদস্যকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করে।   এসআরবি-২ জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার রায়েরবাজার এলাকা থেকে মামলার তিন নম্বর আসামি পলাশ এবং বোটঘাট এলাকা থেকে চার নম্বর আসামি তোতা মিয়া ওরফে রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাব্বির বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, পলাশের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দস্যুতা, গুরুতর আঘাত ও হত্যার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।   গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৫, ২০২৬
( বাঁ থেকে) রাশেদ খাঁন, অভিযুক্ত শিক্ষক ও শাহজালাল রুমি ছবি : সংগৃহীত

রুমিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মাদ্রাসাশিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমিকে গ্রেপ্তার করতে চায় পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

আধুনিকায়ন ও বড় বিনিয়োগের হাতছানি, নতুন সম্ভাবনায় মোংলা বন্দর

ছবি: সংগৃহীত
যাত্রী সংকটে বন্ধের পথে নৌপথ, পেশা বদলের চিন্তায় ট্রলার মালিক-চালকরা

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় জেলা খুলনার দাকোপে নদীপথে ট্রলারের পরিচালনা ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। সাধারণ যাত্রী পারাপারের ট্রলারগুলোর তেলের খরচ এতটাই বেড়েছে, মাঝিরা ট্রলার ঘাটে বসিয়ে রেখে জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি বা বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন।   ট্রলার চালক সুজিত মন্ডল, গফ্ফার হোসেন গাজী, আব্দুল্লাহ গাজী, এলাহী বক্স, খালেক ও বিধান সরদার জানান, সমুদ্র উপকূলীয় পৃথক তিনটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দাকোপ উপজেলার নদীপথে আগেরমতো আর যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না।   তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন কালাবগী থেকে চালনা লঞ্চঘাট পর্যন্ত নদী পথের দূরত্ব প্রায় ৪১ কিলোমিটার। এ নদী পথে যাত্রীবাহী ছোট বড় ট্রলারের সংখ্যা ২৯টি। আর এ নদীপথে শুধু একবার ট্রলার চালিয়ে এলেই ৮ থেকে ৯ লিটার ডিজেল পোড়ে। কালাবগী থেকে চালনা লঞ্চঘাট পর্যন্ত জনপ্রতি ভাড়া ৮০ টাকা। যখন এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল তখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ১১৫ টাকা। এখন ২০ টাকা বেড়ে প্রতি লিটারের দাম ১৩৫ টাকা।   তাই বাধ্য হয়ে নদীপথের দূরত্ব অনুযায়ী প্রতি যাত্রীদের কাছে থেকে কম-বেশি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ টাকা ভাড়া বেশি নিতে হচ্ছে। কালাবগী থেকে চালনা পর্যন্ত প্রতি ট্রলারে কমবেশি যাত্রী হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ জনের মতো। এ রকম সংখ্যক যাত্রী নিয়ে ট্রলার চালালে আমাদেরকে কিছু দিন পর পথে বসতে হবে। এই রুটে এখন মাত্র ৮ থেকে ৯টি ট্রলার চলছে। আগে আরও ট্রলার চললেও লোকসান হয় বলে তারা অন্যত্র চলে গেছেন বা বন্ধ রেখেছেন। যাত্রী হোক বা না হোক প্রতিদিন ট্রলার চালাতে হলে একজন চালককে ৬৫০ ও একজন কর্মচারীকে ৫০০ টাকা বেতন দিতে হয়।   এই নদীপথের এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প কাঁচা সড়ক রয়েছে। তবে বর্ষাকালে এসব কাঁচা সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন। তাই এই রুটে মূলত বর্ষা মৌসুমে বেশি যাত্রী হয়। এখন বর্ষা মৌসুম শেষ, নদীপথের যাত্রীরা তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছাতে সড়কপথে ছুটবেন। ফলে এ নদী পথে ট্রলার চালিয়ে ডিজেলের টাকাও ওঠানো সম্ভব হবে না। আর আয় করতে না পারলে পরিবার চালাতেই হিমশিম খাবেন ট্রলার মালিক, চালক ও কর্মচারীরা।   এ অবস্থায় অনেকে ট্রলারের মাঝি কাজ ছেড়ে দিয়ে জীবন জীবিকার জন্য বিকল্প আয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। সবমিলিয়ে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং নদীপথে যাত্রী সংকটের কারণে ট্রলার মালিক ও চালকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।   কালাবগী থেকে সড়কপথে চালনায় আসা ব্যবসায়ী আকবর সরদার বলেন, ট্রলারে এলে বেশি অর্থ খরচ হয়। পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এলাকার রাস্তাঘাট কাদামাটি হওয়ার কারণে, তখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হলেও ট্রলার যাতায়াত করতাম। তখন ট্রলার ভাড়া ছিল জন প্রতি ৮০ টাকা। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ট্রলার ভাড়া আগের তুলনায় জনপ্রতি ১০ থেকে ১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গ্রামের রাস্তাঘাট শুকিয়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে সড়কপথে ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে যাতায়াত করছি।   কালাবগী থেকে চালনা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রলার চালক বকুল মল্লিক বলেন, একসময় এ নদীপথে ট্রলার যাত্রী বেশি হতো। যাত্রীবাহী এ ট্রলার চালিয়ে আমরা তখন লাভবান হয়েছি। নদীপথের যাত্রীরা শুকনো মৌসুমে চলাচল করতে চান না। সময় বাঁচাতে যাত্রীরা এখন সড়কপথ বেছে নিয়েছেন। ফলে নদীপথে ট্রলারে তেমন যাত্রী হচ্ছে না। বর্তমানে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ট্রলার ভাড়াও একটু বাড়ানো হয়েছে। ফলে ট্রলারে আগের থেকেও যাত্রীও কম হচ্ছে।   তিনি বলেন, ইতিমধ্যে এ নদীপথের অধিকাংশ ট্রলার মালিক ও চালকরা তাদের ট্রলার পরিচালনা বন্ধ করে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। বর্তমানে ট্রলার চালিয়ে যে আয় হচ্ছে, তাতে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আমার ট্রলারটি ডাঙ্গায় উঠিয়ে রেখে দিনমজুরের কাজ করবো।   চালনা লঞ্চঘাটের রিজার্ভ ও ভাড়ায়চালিত ট্রলার মালিক জাফর হাওলাদার বলেন, তেলের দাম বাড়ার পর ট্রলারের ভাড়াও স্বাভাবিকভাবে বাড়াতে হয়েছে। ট্রলার চালিয়ে এখন আর আগের মতো আর আয় হচ্ছে না। ফলে সাধারণ যাত্রীরাও আগের মতো ট্রলার রিজার্ভও করছেন না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসতে হবে। তাই ভাবছি, দীর্ঘ বছরের এ পেশা ছেড়ে দিয়ে এখন জীবন জীবিকার তাগিদে বিকল্প পেশায় যাবো।   লক্ষ্মীখোলা খেয়াঘাটের ট্রলার চালক কামরুল ইসলাম বলেন, আগে নদী পারাপারে জন প্রতি নেওয়া হতো ৫ টাকা। হঠাৎ ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এখন বাধ্য হয়ে জনপ্রতি নিতে হচ্ছে ৬ থেকে ৭ টাকা করে।   চালনা বাজারের খুচরা ডিজেল ব্যবসায়ী নিমাই সাহা জানান, দাম বৃদ্ধির আগে খুলনা যমুনা ডিপো থেকে ২০০ লিটারের এক ব্যারেল ডিজেল কিনতাম ২২ হাজার ৩০০ টাকায়। এখন দাম বৃদ্ধির কারণে একই ডিপো থেকে ওই ডিজেল কিনতে হয়েছে ২৬ হাজার ৩০০ টাকায়। এরপর ওই ডিজেল খুলনা থেকে চালনা বাজার পর্যন্ত ব্যারেল প্রতি পরিবহন খরচ হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকেও লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বেশি নেওয়া হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬

সাগরকন্যার সৌন্দর্যে মুগ্ধ দুই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ঘুরলেন ভ্যানে চড়ে

মুন্সীগঞ্জের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬

ইশরাকের অভিযান চালানো সেই স্পটে এবার পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮

রমনায় পুলিশ কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

রাজধানীর রমনায় পুলিশের জোনাল কার্যালয়ের পাশেই একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পুরোনো রমনা থানা এলাকায় রমনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের পাশে এসব বিস্ফোরণ ঘটায় দুর্বৃত্তরা।   তবে এতে কেউ হতাহত হননি।   রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কীভাবে এবং কারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পাহাড়ে অবরোধ ঘিরে গোলাগুলি, আতঙ্কে থমথমে সাজেক, ধস পর্যটন ব্যবসায়

কক্সবাজারের হোটেলে আবারও আগুন, তিন শতাধিক পর্যটক নিরাপদে উদ্ধার

সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ ও ট্রাকে চাপা পড়ে নিহত ৬

0 Comments