জাতীয়

বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’-এর আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গত ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আকাশপথ থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে নজরদারি মিশন পরিচালনা করে। 

 

এ সময় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করা হয়।

 

বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, বরিশাল ও ভোলা জেলার নদীসমূহে, যশোর থেকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার নদীসমূহে এবং চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়া অঞ্চলের নদীসমূহে আকাশপথে বিশেষ নজরদারি মিশন পরিচালনা করা। 

 

উল্লেখ্য, ঢাকা থেকে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরিয়তপুর জেলাসমূহের নদীগুলোতে নজরদারি মিশন পরিচালনার সময় মাদারীপুর ও শরিয়তপুর জেলার নদীসমূহের জেলেদের মাছ ধরার নৌযান পরিলক্ষিত হলে হেলিকপ্টার থেকে উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট (নাইট সান) ব্যবহার করে ওই নৌযানকে সর্তক করা হয়। 

 

বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারসমূহে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্চলাইট (নাইট সান) সংযুক্ত রয়েছে, যা অন্ধকারে দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি করে এবং সন্ধ্যার পর মাছ ধরার নৌযানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে। এ ছাড়া, এসব মিশনে বিমান বাহিনীর এয়ারক্রুরা নাইট ভিশন গগলস ব্যবহার করেন, যা স্বল্প আলোতে কার্যকর নজরদারি এবং নিষিদ্ধ মাছ ধরার কার্যক্রম শনাক্তকরণে সহায়তা করে। আকাশ থেকে ভূমিতে যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত এসব মিশনে মাঠপর্যায়ের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়।

 

উল্লিখিত অঞ্চলসমূহ ছাড়াও, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের বিভিন্ন বিমান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত প্রশিক্ষণ মিশনের আওতায় উপকূলীয় অঞ্চলের উপর ‘লো’ লেভেলে উড্ডয়নের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এসব মিশন পরিচালনার মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখছে। দেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আরেক দল জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে : ধর্মমন্ত্রী

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে।    তিনি আরও বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না। বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায়।   আজ দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।   ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন, প্রত্যেককে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে।   বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর হাত ধরেই দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।   সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে কায়কোবাদ বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জানমাল ও মর্যাদা রক্ষা করা দায়িত্ব। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গত নির্বাচনে তাকে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়ও তার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এজন্য তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।   সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।   তিনি বলেন, আট মাসে এতগুলো উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সবার কাছে দোয়া চান, যাতে আল্লাহ তাঁকে সব ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।   শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে ধর্মমন্ত্রী জানান, মুরাদনগরের পরীক্ষার ফলাফল তাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই থেকে তিনবার খারাপ হবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের জন্য তিনি সুপারিশ করবেন।   তিনি বলেন, সরকার থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হবে, অথচ শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না— এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অভিভাবকরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাদের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন শিক্ষার্থীদের ফলাফলে থাকতে হবে।   বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও কল্যাণে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, তিনি প্রতিভা স্কুল পরিদর্শন করে সেখানকার পরিবেশে অভিভূত হয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে প্রয়োজন হলে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।   শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মুরাদনগরের মানুষের টানে এলাকায় এসেছেন উল্লেখ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই তিনি এখানে এসেছেন। চিকিৎসার জন্য ছুটি দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   মুরাদনগরের জনগণ তাকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কায়কোবাদ যতক্ষণ বেঁচে আছে, ততক্ষণ আপনাদের পাশে থাকবে।’   উপজেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুরাদনগরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, আল্লাহর রহমতে সেগুলো সম্পন্ন হলে আগামী পাঁচ বছরে এখানে আর উন্নয়নকাজের প্রয়োজন হবে না।   অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ লাখ টাকা, মোট ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।   এছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ৭ হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়।   ধর্মমন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কারের মূল উদ্দেশ্য অর্থ দেওয়া নয়, বরং বৃক্ষরোপণে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করা। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একটি উপজেলায় ১ লাখের বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগে অংশ নেওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।   অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   এর আগে দিনের শুরুতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় তিনি বিদ্যালয়টিকে ১ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি এর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ মহড়া শুরু

মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতা : গ্রেপ্তার ২৬ জন কারাগারে

অনিয়ম পেলে সারের ডিলারশিপ বাতিল : কৃষিমন্ত্রী

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী ঢাকা : শামা ওবায়েদ

চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ। দেশের পানির ন্যায্য চাহিদা ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।   আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী, চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি নবায়ন হবে। ভারতও এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’   প্রতিমন্ত্রী জানান, পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। আগামী ডিসেম্বরে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   তিনি বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ও সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও কমিটিতে রয়েছেন।   পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে।   তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।’   আসন্ন এ আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসবে এবং গঙ্গার পানি বণ্টনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   বিদ্যমান চুক্তিটি সরাসরি নবায়ন করা হবে, নাকি সংশোধিত শর্ত যুক্ত করে নতুন চুক্তি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঠিত কমিটির পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকার তার আলোচনার অবস্থান নির্ধারণ করবে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তার ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবে এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেবে।   তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি এবং বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রয়োজনকে ভিত্তি করেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।’   তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় এবং পানিসংকট সমাধানে সহায়ক হয়—এমনভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’   উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি নভেম্বর ০২, ২০২৬

বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন

ডিএসসিসিতে ই-রিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি

কপের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২২৩ টাকা, নতুন মূল্য ২ হাজার ৬০ টাকা

ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে সিলিন্ডারটির নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।   বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার রাত ৮টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ মূল্য বহাল থাকবে।   এর আগে গত ২৯ অক্টোবর ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।   তবে পরবর্তী সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম আরও বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট নিয়ে জটিলতার অবসান

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ফাইল ছবি

ভূমিকম্প মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

0 Comments