চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্ট রুলের শুনানি শেষে ৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিট আবেদন করেন। গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হওয়া চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট দায়ের করা হয়।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন। পরবর্তীতে ১৩ নভেম্বর রুলের শুনানির জন্য ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়। ১৯ নভেম্বর থেকে মামলার রুল শুনানি শুরু হয়। এরপর ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট চুক্তির সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখতে সরকারকে মৌখিক নির্দেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ২০০৭ সালে নির্মিত হয়। বৃহৎ এই টার্মিনাল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ মোট ২,৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের অধিকাংশ পরিবহন এই টার্মিনাল ব্যবহার করে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশের প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল, মেটা ও টিকটক। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। শনিবার (৮ আগস্ট) গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাই-টেক পার্ক পরিদর্শনকালে তিনি এ তথ্য জানান। সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে মন্ত্রী সেখানে যান। এ সময় তিনি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এখন বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। পার্কে এরই মধ্যে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ এসেছে। পাশাপাশি আরও বড় পরিসরে বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে এখন পর্যন্ত ৮৫টি প্রতিষ্ঠানকে জমি বা স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪০টি ইতোমধ্যে ব্যবসা বা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। ২৮টি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলছে এবং আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠান শিগগির নির্মাণ শুরু করবে। পার্কটিতে মোট বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিমাণ প্রায় ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৮৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, পার্কের মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এখন পর্যন্ত ৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করেছে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পার্কটির ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ৬২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ফলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক ভবিষ্যতে শুধু দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন, সংযোজন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠতে পারে। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পার্কে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এটিএম ও ক্যাশ রিসাইকেলার মেশিন, ফাইবার অপটিক্যাল কেবল এবং গাড়ি উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাশাপাশি আইওটি ডিভাইস, রাউটার, সুইচ, সিসিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন, কিয়স্কসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠান ডেটা সেন্টার স্থাপনের কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পেও বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে গুগল, মেটা, টিকটকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বর্তমানে চলমান বলে জানান মন্ত্রী। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ককে আরও বিনিয়োগবান্ধব করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অসম্পূর্ণ অবকাঠামোর কাজ দ্রুত শেষ করা, নিরাপত্তা ও সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ডাবল লাইন সংযোগ, গ্যাসলাইন স্থাপন, প্রশাসনিক ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের জন্য কাস্টমস হাউস সেবা চালু, নিয়মিত রেল যোগাযোগ, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণ এবং বিদ্যমান এসআরও সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বিনিয়োগে প্রণোদনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় সেবায় ভ্যাট সুবিধা, হাই-টেক পণ্যের তালিকা সম্প্রসারণ এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের পাশাপাশি অ্যাসেম্বলিং প্রতিষ্ঠানকে সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে পণ্য বিপণনে কাঁচামালের শুল্ক-কর রেয়াত, স্থিতিশীল আয়কর সুবিধা এবং ইভি ব্যাটারি, সোলার ব্যাটারি, ইউপিএস ব্যাটারি ও ই-বাইকের মতো নতুন প্রযুক্তি খাতের জন্য পৃথক প্রণোদনা কাঠামো তৈরির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও পূর্বানুমেয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে প্রযুক্তিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমবে, রপ্তানি সম্প্রসারিত হবে এবং উচ্চ দক্ষতার কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পরিদর্শনকালে কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফজলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘বিপ্লব’ নয়, বরং মানুষের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণত সমাজ ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলনে বাংলাদেশের মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া। শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে কী সেটা বিপ্লব ছিল? বিপ্লব তো ছিল না। মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যখন মানুষ সংগ্রাম করলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন দিল তারা।’ তিনি যোগ করেন, ‘বিপ্লবের মাধ্যমে সাধারণত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। কিন্তু ২০২৪ সালে মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়া।’ ৫ আগস্টের অর্জন কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক ফল। জুলাইয়ের আন্দোলনকে এককভাবে কারও কৃতিত্ব হিসেবে তুলে ধরার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্বতা।’ গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা না করে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে। ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন; দুটো বিপরীতমুখী।’ অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এটি গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলার পাশাপাশি একজন সাবেক সরকারপ্রধানকে ভারতের মাটিতে রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে তা পারস্পরিক মর্যাদা ও সমতার সম্পর্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে।’ রিজভী আরও বলেন, ‘একজন ফ্যাসিস্টকে, যে বাংলাদেশের এত শিশু, শ্রমিক, ছাত্রকে হত্যা করে পালালো, তাকে আপনি কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন।’
ভূমিকম্পে ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার প্রধান কারণ শুধু ভবনের উচ্চতা নয়; ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা এবং নির্মাণে অনিয়মও বড় কারণ। তাই ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশা, মাটি পরীক্ষা ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী। রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন থাকায় একসঙ্গে সব ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এ কারণে ধাপে ধাপে র্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট এবং ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বাড়াতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের আগে ঝুঁকি নিরূপণ, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা করা হবে। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে শুধু রাজউককে দায়ী করলে হবে না। সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ নয় ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবন নিয়মবহির্ভূতভাবে ১০ তলা করার মতো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণ করা ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই ছাড়া অনুমোদন দেওয়ারও সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। শুধু নকশায় স্বাক্ষর করলেই হবে না, নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতেও তাদের দায়িত্ব রয়েছে। অনিয়ম হলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা নিয়মের মধ্যে আসুন। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করুন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিন। গণমাধ্যমকে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করে রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে পরিণত করাই তার লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এই কাজ একদিনে সম্ভব নয়। শুরু করেছি, কতটুকু করতে পারব জানি না; তবে আমরা চেষ্টা করছি। ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ভবন মালিক, প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দুর্বল মাটিতে নির্মাণেও ঝুঁকি রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ডেভেলপারদের সহযোগিতা করতে হবে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ভবনের নকশা ও নির্মাণ নিশ্চিত করা গেলে নিরাপদ ও টেকসই ভবন নির্মাণ সম্ভব। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না; ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির ওপর নির্মিত হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল ও জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, দুর্বল মাটির ওপর ভবন নির্মাণ বন্ধে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ঢাকার প্রায় ছয় লাখ ভবনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। শুধু ভূমিকম্পের সময় নয়, সারা বছরই এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে। উদ্ধার প্রস্তুতিতে জোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় ফায়ার সার্ভিসের কিছু প্রস্তুতি রয়েছে। ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্পে মানুষ সরাসরি মারা যায় না, বরং ভবন ও স্থাপনা ধসে পড়েই প্রাণহানি ঘটে। তাই ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) ও সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার পাশাপাশি ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য তুলে ধরে সরকার ও রাজউকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সম্ভব। ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও করণীয় নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ ধরনের আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি জিলানী মিলটন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক হাসান শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়শ্রী ভাদুড়ী, অর্থ সম্পাদক জাহিদ ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিরাজ মাহবুব ইফতি এবং সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদারসহ অন্যরা।