বিশ্ব

ভুলবশত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ৪ হাজার কোটি ডলারের বিটকয়েন পাঠাল ক্রিপ্টো সংস্থা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ 0

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ ভুলবশত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ৪০ বিলিয়ন বা ৪ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন পাঠিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। এত বড় ধরনের ভুলের কারণে প্ল্যাটফর্মটিতে সাময়িকভাবে বিটকয়েন বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়।

সিউল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

‘বিথাম্ব’ নামক ওই প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা দুর্ঘটনাবশত ৬ লাখ ২০ হাজার বিটকয়েন স্থানান্তর করে ফেলেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি। শুক্রবার এই ত্রুটি ধরা পড়ার ৩৫ মিনিটের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯৫ জন ব্যবহারকারীর ট্রেডিং এবং টাকা তোলা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রচারণামূলক (প্রমোশন) অফারের অংশ হিসেবে বিথাম্ব-এর প্রতিটি গ্রাহককে ২ হাজার ওয়ান (১.৩৭ ডলার) পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তারা গ্রাহকপ্রতি প্রায় ২ হাজার বিটকয়েন পাঠিয়ে দেয়।

শনিবার এক বিবৃতিতে বিথাম্ব জানায়, ‘প্রমোশনাল ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণের সময় বিভ্রান্তির কারণে আমাদের গ্রাহকদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’

প্ল্যাটফর্মটি আরও জানায়, ভুলবশত পাঠানো বিটকয়েনের ৯৯.৭ শতাংশই তারা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় যে সামান্য পরিমাণ লোকসান হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিজস্ব সম্পদ থেকে পূরণ করবে।

বিথাম্ব স্বীকার করেছে যে, ভুলবশত বিটকয়েন পেয়ে কিছু গ্রাহক তা বিক্রি শুরু করায় প্ল্যাটফর্মটিতে বিটকয়েনের দামে ‘তীব্র অস্থিরতা’ দেখা দিয়েছিল। তবে পাঁচ মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির চার্ট অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে তাদের প্ল্যাটফর্মে বিটকয়েনের দাম সাময়িকভাবে ১৭ শতাংশ কমে ৮ কোটি ১১ লাখ ওয়ানে নেমে এসেছিল।

বিথাম্ব জোর দিয়ে বলেছে যে, এই ঘটনাটি ‘কোনো বাহ্যিক হ্যাকিং বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সাথে সম্পর্কিত নয়।’

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম এই সপ্তাহে বেশ পড়ে গেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ের পর বিটকয়েনের যে দাম বেড়েছিল, তা গত কয়েক দিনের পতনে প্রায় মুছে গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি : সংগৃহীত
ইরান-হিজবুল্লাহর যৌথ হামলায় ইসরাইলের হাইফা আগুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহ পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সংঘাতের ৩১তম দিনেও তাদের প্রতিশোধমূলক হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চল। তেল আবিব ও হাইফায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে হাইফার একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হাইফা শহরের বাজান তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিশাল আগুন ও ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা হাইফার নৌঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলীয় এই শহরের নৌঘাঁটিতে ‘উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যারেজ’ দিয়ে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল শোধনাগারে আগুন লাগে। তবে এটি সরাসরি আঘাতে নাকি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে সৃষ্ট—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, ইসরাইলি বাহিনীর ওপর বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। বেইত লিফ এলাকায় এক হামলায় কয়েকজন ইসরাইলি সেনা হতাহত হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সংগঠনটি জানায়, বেইত লিফ শহরের একটি বাড়িতে অবস্থানরত ইসরাইলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।   সূত্র: আল জাজিরা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে স্থল অভিযানের খবরে ক্ষুব্ধ মার্কিন আইনপ্রণেতারা, বাড়ছে উত্তেজনা

ছবি : সংগৃহীত

“টানা ৯ বছর শীর্ষে ফিনল্যান্ড, সুখের সূচকে নর্ডিক দেশগুলোর দাপট”এগিয়েছে বাংলাদেশ

পোপ ফ্রান্সিসের মৃত্যুর পর নতুন পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন পোপ চতুর্দশ লিও। ছবি: সংগৃহীত

সহিংসতার বিরুদ্ধে পোপ লিওর শক্তিশালী বার্তা

ছবি : সংগৃহীত
ইরানে স্থল অভিযান মানেই ‘মরণফাঁদ’, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।   এমন অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানান, ইরানের ওইসব স্থানে মার্কিন মেরিন সেনা ও প্যারাট্রুপারদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই– এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের শুরুতেই ইরানের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা হতে পারে। এরপর ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু দুর্বল করার পরিকল্পনা থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক হামলার পর মার্কিন বাহিনীর মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে স্থল অভিযানে। প্রথমে মার্কিন বাহিনী খারগ, আবু মুসা ও কেশম দ্বীপসহ ইরানের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে অভিযান চালাতে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি হয়। তবে কেশম দ্বীপের মতো এলাকায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ডেভিসের ভাষ্য, এখানে একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে অভিযান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হেলিকপ্টারে নামা সেনারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও হালকা অস্ত্রের আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকবে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৩ হাজার ছত্রীসেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় মিত্র দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব দেশ সহযোগিতা না করলে এমন অভিযান বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন, যা গেরিলা কৌশলে আক্রমণ জোরদার করবে। সামরিক বিশ্লেষকেরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দ্বীপ দখল করতেও সক্ষম হয়, তবু সেটি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, সেনাদের জন্য নিয়মিত রসদ, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা কঠিন হবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকবে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা কালেভ সেপ বলেন, একবার সেনারা অবস্থান নিলে তাদের টিকিয়ে রাখাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা ‘শুটিং গ্যালারি’ বা মরণফাঁদের মতো হয়ে যেতে পারে। এদিকে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কৌশলও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ । এতে স্থানীয় কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারেন, যা গেরিলা কৌশলে প্রতিরোধকে আরও জোরদার করে। বিশ্লেষকেরা আরও মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দ্বীপ দখল করলেও সেটি ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সব মিলিয়ে, ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জটিল রসদ সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

ইরানি হামলার হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস শুরু

ছবি : সংগৃহীত

নেপালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন নিষিদ্ধের ঘোষণা

ইসরায়েলের একটি এলাকায় ইরানের হামলা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে কেমিক্যাল ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ হামলা, বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ দমন মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আটকাদেশ বাড়াল নেপালের আদালত

২০২৫ সালের বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় নেপালের আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আটকাদেশ আরও পাঁচ দিন বাড়িয়েছে।   কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, রোববার কাঠমান্ডু জেলা আদালত এই সিদ্ধান্ত দেয়। তথ্য কর্মকর্তা দীপক কুমার শ্রেষ্ঠ এএফপিকে বলেন, ‘আদালত পাঁচ দিনের বর্ধিত সময় অনুমোদন করেছে।’   ৭৪ বছর বয়সী ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়। তার একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ শপথ নেন, যা সেপ্টেম্বরের গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনের ফল।   বিক্ষোভ দমনে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অন্তত ৭৬ জন নিহত হয়। তবে এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি এবং দুজনই সহিংসতার দায় অস্বীকার করেছেন।   আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পান।   রোববার ওলি হাসপাতালে থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতে হাজির হন। শনিবার প্রক্রিয়াগত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ওলি হৃদরোগ ও কিডনি সমস্যায় ভুগছেন। গ্রেপ্তারের পর কড়া পুলিশ পাহারায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে এএফপি প্রতিবেদকরা দেখেছেন।   আদালতের মুখপাত্র অর্জুন প্রসাদ কৈরালা জানান, ওলি ও লেখাকের মুক্তির আবেদন নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট শুনানি করতে পারে।   তদন্ত কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই ওলি ও লেখাককে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন।   কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সহিংসতা সম্পর্কে অবগত নন, এমন দাবি করে দেওয়া তাদের বক্তব্য আসলে দায় এড়ানোর চেষ্টা এবং এটি ‘অপরাধমূলক অবহেলা’র শামিল।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেপরোয়া আচরণের ফলে মৃত্যুর ঘটনায় প্রযোজ্য আইনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।   এদিকে, সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী দীপক খড়কাকেও রোববার অর্থপাচার মামলায় আটক করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর মুখপাত্র শিবা কুমার শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন।   ‘ন্যায়বিচারের সূচনা’   গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারির প্রতিবাদ থেকে বিক্ষোভের সূচনা হয়, যা পরে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুর্দশা নিয়ে জনঅসন্তোষে রূপ নেয়।   পরদিনই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে; সংসদ ও সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ হয় এবং ওলির সরকারের পতন ঘটে।   ওলির দল সিপিএন-ইউএমএল এই গ্রেপ্তারকে ‘প্রতিশোধমূলক’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।   রোববার রাজধানী কাঠমান্ডুতে আদালতের কাছে ১০০ জনের বেশি সমর্থককে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সড়কে ব্যারিকেড দেয় এবং লাঠিচার্জ করে বলে এএফপি আলোকচিত্রী জানিয়েছেন।   সমর্থকরা ওলির মুক্তি দাবি করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।   ওলির সমর্থক তেজিলা থাপা (৪৪) বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তাড়াহুড়া করে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’   তিনি বলেন, ‘এটি ভুল সিদ্ধান্ত এবং তা সংশোধন করা উচিত।’   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং বলেছেন, ওলি ও লেখকের গ্রেপ্তার ‘কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচারের সূচনা।’   র‌্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ এবং তার দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ তরুণ নেতৃত্বভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে তার নিজের নির্বাচনী এলাকাতেই পরাজিত করেন।   শাহর সরকার ১০০ দফা সংস্কার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রাজনীতিবিদ ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সম্পদের তদন্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   বিদ্রোহের আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের দুর্নীতি ধারণা সূচকে নেপালের অবস্থান ছিল ১৮০ দেশের মধ্যে ১০৭তম।   বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নেপালের মাথাপিছু জিডিপি ছিল মাত্র ১,৪৪৭ ডলার এবং দেশটির ৮২ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে নিহত বেড়ে ২০৭৬, আহত সাড়ে ২৬ হাজার

ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাব অস্ট্রেলিয়ায়, সংকট মোকাবিলায় ফ্রি গণপরিবহন

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি কারাগারে আরও এক ফিলিস্তিনির মৃত্যু

0 Comments