ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন।
শনিবার পানামা সফরের সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি ভেনেজুয়েলার প্রবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
পানামা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
মাচাদো বলেন, ‘আমি প্রার্থী হব।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
তার বিশ্বাস, এসব উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের পথ তৈরি করবে।
মাচাদো বলেন, এখানে একটি লক্ষ্যই রয়েছে। আর তা হলোÑ আমাদের দেশকে মুক্ত করা এবং স্বাধীন ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করা, যেখানে সব ভেনেজুয়েলাবাসী ভোট দিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ওপর বিশ্বাস রাখি, আস্থা রাখি ও অর্জিত অগ্রগতির জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’
সোমবার এখনও পানামায় অবস্থানকালে মাচাদো দেশটির প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো এবং জাতীয় পরিষদে সফর করবেন।
ট্রাম্প এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করার পর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখনও কোনো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কাতারের সাবেক আমির ও বর্তমান আমিরের বাবা শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। রোববার (১২ জুলাই) দেশটির আমিরি দিওয়ান এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর শাফাক নিউজের। শেখ হামাদ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেন। পরে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছেলে বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে হস্তান্তর করেন। তার শাসনামলে কাতারে ব্যাপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার হয়। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাতারের কূটনৈতিক ভূমিকা জোরদার এবং ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব অর্জন তার শাসনামলের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন আরব ও আন্তর্জাতিক সম্মাননাও লাভ করেছিলেন।
তুরস্কের কাছে থাকা রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিক্রির প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখছে মস্কো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছে। তবে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। ২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ কেনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর জেরে আঙ্কারাকে মার্কিন পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে সংরক্ষিত তুরস্কের জন্য তৈরি ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার সম্পর্ক উন্নতির পথে এগোয়। এরপর থেকেই এস-৪০০ ইস্যুর সমাধান এবং তুরস্কের এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় অন্তর্ভুক্তি দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট (এনডিএএ) অনুযায়ী, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে হলে তুরস্ককে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের কাছে আর এস-৪০০ ব্যবস্থা নেই। একই আইন তুরস্কের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তও কঠোর করে। গত দেড় বছর ধরে সংকট সমাধানে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি প্রস্তাবে এস-৪০০-এর গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ খুলে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করে সিস্টেমটি অকার্যকর করার কথা ছিল। তবে এতে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা না থাকায় বিকল্পটি গ্রহণযোগ্য হয়নি। রুশ ও তুর্কি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এস-৪০০ তৃতীয় কোনো দেশের কাছে বিক্রির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই দেশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম সামনে এসেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তৃতীয় কোনো দেশের কাছে এস-৪০০ বিক্রির বিষয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। একটি রুশ সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের প্রস্তাবের জবাবে মস্কোর অবস্থান ছিল, কেন নয়? তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়া চাইবে, ইউএইর কাছে বিক্রি হলেও আঙ্কারার সঙ্গে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তির সব শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলা হোক। তুর্কি সূত্রগুলোর দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতোমধ্যে রাশিয়ার তৈরি প্যান্টসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস বৈচিত্র্যময় করার নীতির অংশ হিসেবেই এস-৪০০ কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে কয়েকজন ইউরোপীয় বিশ্লেষকের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানকে রাশিয়ার সমর্থনের কারণে আবুধাবি ও মস্কোর মধ্যে কিছু কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য চুক্তির রাজনৈতিক দিকও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এস-৪০০ বিক্রির চুক্তি তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পন্ন হলে সেটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, অতীতে মস্কো এস-৪০০ ফেরত নিতে রাজি হয়নি। সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। এই চুক্তিতে সম্মতি দেওয়ার বিনিময়ে রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলগত সুবিধা চাইতে পারে। বিশেষ করে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সরবরাহ চুক্তির নবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনায় মস্কো বিষয়টিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ইরানকে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা এ আহ্বান জানান বলে মার্কিন একাধিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। শনিবার (১১ জুলাই) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদন অনুসারে, শুক্রবার সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ঘোষণা করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ে লড়াই সত্ত্বেও উভয় পক্ষের আলোচনাকে হোয়াইট হাউস যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখেছে। বিবিসির মার্কিন সহযোগী সিবিএস নিউজকে মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, কট্টরপন্থিদের একটি ‘বিপথগামী’ গোষ্ঠী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে গুলি চালিয়ে আলোচনা বানচাল করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে তেহরান।