চলতি ২০২৬ সালে ইরানে অন্তত ২০ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরানি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে আফগান বার্তাসংস্থা খামা প্রেস।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, চলতি বছরের প্রায় প্রতি মাসেই অন্তত একজন আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আরও অন্তত তিন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে বেশির ভাগ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হত্যা, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এসব মৃত্যুদণ্ডের বেশির ভাগ কার্যকর হয়েছে শিরাজের আদেলাবাদ কারাগার, তাইবাদ কারাগার, ইয়াজদ কারাগার এবং ইসফাহানের দাস্তগের্দ কারাগারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, অনেক আসামি যথেষ্ট আইনি সহায়তা পাননি। অনেক পরিবারও তাদের স্বজনের মামলা বা পরিণতি সম্পর্কে ঠিকমতো জানতে পারেনি।
সাম্প্রতিক একটি মামলায় ইসফাহানের ‘আলিখানি স্কয়ার’ ঘটনায় দুই আফগান চাচাতো ভাই গোল মোহাম্মদ মোহাম্মাদি ও কায়েম হোসেইনিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে এই মামলার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে আফশার শাহ-আহমাদি, ইমান শাফায়ি ও সদরউদ্দিন আহমাদজাদেহ নামে তিন আফগান নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একটি পুলিশ স্টেশনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
তবে ইরানে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ দেশটিতে অনেক মৃত্যুদণ্ডের খবর সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় না।
মানবাধিকার সংগঠন হেংগাওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ৮৫ আফগান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।
এদিকে আফগান নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড ঠেকাতে তালেবান সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ডের মুখে থাকা আফগান নাগরিকদের জন্য তালেবান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: খামা প্রেস
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তুত। তবে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নয়, বরং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির আওতায় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করতে চায় মস্কো। বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক সাংবাদিককে পুতিন বলেন, ‘এই আলোচনার লক্ষ্য হবে চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামোর মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়া—উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। যুদ্ধের মধ্যে স্বল্প সময়ের কোনো বিরতির পর নয়, বরং চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবেই এ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।’
চীনের প্রত্যন্ত তিব্বত অঞ্চলে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি এবং ৪৬ জন আহত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এতে ৩০০টিরও বেশি বাড়িঘর ধসে পড়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ৪৬ জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর। এছাড়া ৩৩৯টি বাড়িঘর ধসে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসিটিভিতে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্প শুরু হলে রেস্তোরাঁ থেকে কর্মীরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসছেন। একই সময়ে সুপারমার্কেটের তাক থেকে বিভিন্ন পণ্য নিচে পড়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল একটি পার্বত্য এলাকায়। এটি নাগচু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরপূর্বে এবং আঞ্চলিক রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকায় তৃতীয় স্তরের ভূমিকম্পজনিত জরুরি সাড়াদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের বাকেন কাউন্টির মারু টাউনশিপে। সিনহুয়া জানিয়েছে, ওই টাউনশিপের উপপ্রধান লাওয়াং দাগপো বলেছেন, ভূমিকম্পের কম্পন টাউনশিপ কার্যালয়েও স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। এতে কার্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে কাউন্টির প্রশাসনিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে ৩০০ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার বিভাগ ৩৪৭ জন সদস্যকে সেখানে মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সিনহুয়া। সিসিটিভিতে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছেন। কয়েকটি ভবনের ছাদ ধসে পড়েছে। উদ্ধারকর্মীদের একজনকে এক ব্যক্তিকে বহন করে নিয়ে যেতেও দেখা যায়। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে টর্চের আলো দিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে উদ্ধারকর্মীদের। অন্যদিকে, দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দেখা যায় সেনাসদস্যদের। চীনে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিব্বতের গ্রামীণ এলাকা তিংরি কাউন্টিতে ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জন নিহত হন। এর আগে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গানসু প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ভূমিকম্পে অন্তত ১২৭ জন নিহত হন বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। ২০১৪ সালে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে ভূমিকম্পে ৬০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ২০২৩ সালের গানসু ভূমিকম্পের আগ পর্যন্ত ২০১৪ সালের ওই ভূমিকম্পকেই ২০০৮ সালের পর চীনের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এছাড়া ২০০৮ সালে সিচুয়ান প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে দেশটির বিশেষ দূত লানা নুসেইবেহ। আমিরাত সরকার তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার পর নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রার্থিতা ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে লানা নুসেইবেহ বলেন, পেশাগত জীবনের একটি বড় সময় তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজে কাটিয়েছেন। তার ভাষায়, সংকল্পবদ্ধ কূটনীতি কী অর্জন করতে পারে, তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে, সেটিও দেখেছেন বলে জানান নুসেইবেহ। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব কাজের মধ্যে ব্যবধান বাড়তে থাকলে মানুষের আস্থা নষ্ট হয় এবং কাজ করার সক্ষমতাও কমে যায়। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থিতার বিষয়ে মনোযোগ দিতে বর্তমানে আমিরাত সরকারের দায়িত্ব থেকে ছুটিতে রয়েছেন নুসেইবেহ। জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদের কার্যকাল আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। তার উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া চললেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গত ১৬ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে ষষ্ঠ দফার ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। তবে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো একক প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় লানা নুসেইবেহের প্রার্থিতা যুক্ত হওয়ায় প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ হলো।