প্রথমবারের মতো তুরস্কের ইস্তাম্বুলের একটি মসজিদ পরিদর্শনে যান পোপ লিও। তিনি সম্মানের স্বরূপ জুতো খুললেও প্রার্থনায় অংশ নেননি। শনিবার (২৯ নভেম্বর) তিনি ইস্তাম্বুলের ১৭শ' শতকের বিখ্যাত ব্লু মসজিদ পরিদর্শন করেন।
পোপ স্থানীয় মুসলিম নেতাদের সঙ্গে মসজিদের প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন। জুতো খুলে সাদা মোজা পড়ে মসজিদের অভ্যন্তরীণ অংশ ঘুরে দেখেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ এ তথ্য জানায়।
ব্লু মসজিদ পরিদর্শন করা ভ্যাটিকানের তৃতীয় পোপ লিও। এর আগে, ২০০৬ সালে পোপ বেনেডিক্ট এবং ২০১৪ সালে পোপ ফ্রান্সিস মসজিদে নীরব প্রার্থনা করেছিলেন। লিও মসজিদে 'নীরবতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পরিদর্শন' করেছেন বলে ভ্যাটিকান জানায়।
পরিদর্শনের পর পোপ লিও স্থানীয় খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেন্ট জর্জ প্যাট্রিয়ার্কাল চার্চে আয়োজনকৃত সেবায় অংশ নেন। সেখানে তিনি এবং প্যাট্রিয়ার্ক বারথোলোমিউ-১ 'ভ্রাতৃত্বমূলক সম্পর্ক' এবং ধর্মের নামে হিংসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের স্বভাবসুলভ কঠোর ভাষায় একটি বিবৃতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্সে হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। প্রতিশোধ হিসেবে কাতারের একটি জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা করে তেহরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যে। একই সঙ্গে এই ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষোভও তীব্র করেছে। জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি হামলার এই ঘটনা নিয়ে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আবারও ইরানকে হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ইসরাইল যে এই হামলার পরিকল্পনা করছিল, এ সম্পর্কেও কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের পোস্টে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এই যুদ্ধ নিয়ে কতটা একমত ও একই অবস্থানে রয়েছে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে। এছাড়া ট্রাম্পের এই পোস্ট যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং এর কৌশল ও লক্ষ্য নিয়ে কী বার্তা দিচ্ছে—তা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র 'এই হামলার বিষয়ে কিছুই জানত না'। যদিও তার এই বক্তব্যটি হামলার পর ইসরাইলের একাধিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সম্পূর্ণ বিপরীত। ডানপন্থি পত্রিকা ইসরাইল হায়োম দাবি করেছে, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত সপ্তাহের শেষে পারস্য উপসাগরীয় তিনটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আসালুয়েহতে আসন্ন ইসরাইলি হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন।' প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অন্যান্য অনেক দাবির মতো এখানেও বক্তব্যের সত্যতা আসলে কতটা, সেটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। ইসরাইলি হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শব্দগুলো বেছে নিয়েছেন, তাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, 'ক্রোধের বশবর্তী হয়ে' গ্যাসক্ষেত্রের ওপর 'হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইসরাইল।' এই ধরনের ভাষা সাধারণত ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার বর্ণনা দিতেই ব্যবহার করেন তিনি—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘনিষ্ঠ মিত্রের সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে নয়। তাহলে কি ট্রাম্প ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে ইসরাইল অবিবেচকের মতো কাজ করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে যেসব পোস্ট দেন, সেখানে মাঝেমধ্যেই ক্যাপিটাল লেটার বা ইংরেজি বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করেন। কিন্তু ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরাইলের হামলার পর যে দীর্ঘ পোস্টটি তিনি দিয়েছেন, সেখানে মাত্র একবারই সবকটি বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করেছেন। তিনি লিখেছেন, 'অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল্যবান সাউথ পার্স ক্ষেত্রের ওপর ইসরাইল আর কোনো হামলা করবে না, যদি না ইরান বোকামি করে অত্যন্ত নিরপরাধ একটি দেশ—কাতার—এর ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।' সবসময় পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাওয়া প্রেসিডেন্টের জন্য, এটি কি আগে থেকেই দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, নাকি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি এটি একটি সতর্কবার্তা? বিভিন্ন সময় সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের দেওয়া অনেকটা অগোছালো পোস্টগুলোর মতো এক্ষেত্রেও মূল বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বোঝা কঠিন। তবে এর মাধ্যমে আগের সেই সব প্রতিবেদনগুলো আবারও সামনে আসছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরুর দিকে ইরানের তেলের ডিপোগুলোতে ইসরাইলি হামলার কারণে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। গভীর রাতে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি পোস্ট থেকে খুব বেশি কিছু ধারণা করা হয়তো ভুল হবে। ইসরাইলি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, দুই দেশ একই পথে চলছে। যদিও মাঝেমধ্যেই অনিচ্ছাকৃতভাবে হলেও তাদের মধ্যে দূরত্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। যেখানে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করে বলেছেন, গ্যাসক্ষেত্রে হামলায় ইসরাইল 'একাই কাজ করেছে'। আর ইসরাইলি বাহিনীকে ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলা থেকে 'বিরত থাকতে' অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু নিজেকে এবং ট্রাম্পকে ইরানের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন—যেখানে ট্রাম্পই প্রধান। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, 'কেউ কি সত্যিই মনে করে যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কেউ বলে দিতে পারে কী করতে হবে?' ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে তেল ও গ্যাসের দাম আবারও বাড়ছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ করার চেষ্টায়ও কোনো অগ্রগতি না থাকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারাচ্ছেন বলেই মনে হচ্ছে। এই যুদ্ধ তাকে এমন সব অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখে ফেলছে, যা তার প্রশাসন সম্ভবত আগে থেকে অনুমান করতে পারেনি। ইসরাইলে এই যুদ্ধের সমর্থন এখনও আকাশচুম্বী থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রে তা বর্তমানে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই সংঘাত নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরও একটি মেয়াদে টিকে থাকতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। ব্লুমবার্গ–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এ পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৬টি উড়োজাহাজ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজের মধ্যে ১০টি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন রয়েছে। এছাড়া বাকি ছয়টি বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান। খবরে আরও বলা হয়, কুয়েতে এক ঘটনায় একসঙ্গে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ভুলবশত মিত্রবাহিনীর হামলাতেই এই ঘটনা ঘটে। এর কয়েকদিন পর ইরাকের আকাশসীমায় একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ওই বিমানে থাকা ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে একাধিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংসের দাবি করা হয়েছে। সবশেষে, ইরান তাদের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে পাইলট দ্রুত সেটি নিরাপদ স্থানে অবতরণ করাতে সক্ষম হন, যদিও বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো পুরো ইরানের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। সীমিত কিছু এলাকায় তারা অভিযান পরিচালনা করছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে চলছে এবং এতে উভয় পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি ক্রমেই বাড়ছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ
বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবাহনকারী কৌশলগত পানিপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা টোল আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশটির একজন সংসদ সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর সম্প্রতি তেহরানের যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সেইসব জাহাজের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, যেগুলোকে তারা শত্রুপক্ষ বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করে। ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সির বরাতে ওই সংসদ সদস্য জানান, পার্লামেন্টে এমন একটি বিল নিয়ে আলোচনা চলছে, যার অধীনে শিপিং, জ্বালানি পরিবহন এবং খাদ্য সরবরাহের জন্য এই প্রণালি ব্যবহারকারী দেশগুলোকে ইরানকে টোল ও ট্যাক্স দিতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটলে 'হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন নীতিমালা' চালু করা হবে। এর ফলে যেসব দেশ ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ওপর তেহরান সামুদ্রিক বিধিনিষেধ প্রয়োগ করতে পারবে। মেহের নিউজ এজেন্সির তথ্যানুযায়ী, মোহাম্মদ মোখবার বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বলেন, 'হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান ব্যবহার করে আমরা (পাশ্চাত্যের ওপর) নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারি এবং এই পানিপথ দিয়ে তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারি।