ভারি বৃষ্টিতে টার্মিনাল পর্যন্ত যেতেই বিপর্যস্ত যাত্রীরা। কষ্ট করে পৌঁছানোর পর বাসের দেখা নেই। মিলছে না পর্যাপ্ত গণপরিবহণ। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর যেসব বাস পাওয়া গেছে, সেখানে বাড়তি ভাড়ার চাপ। জনপ্রতি ৫০ থেকে পাঁচশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বেশির ভাগ বাসে। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শ্রমজীবীসহ সাধারণ যাত্রীদের অনেকে। এসব নিয়ে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হচ্ছে। আবার যারা আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন, তাদের অনেকেই পড়ছেন শিডিউল বিপর্যয়ের অস্বস্তিতে।
অন্যদিকে অনেক বাস ও ট্রেন নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়নি। ওইসব বাস ও ট্রেনের যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে টিকিট থাকার পরও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী। এছাড়া সড়ক-মহাসড়কে ছিল থেমে থেমে যানজট। পথে পথে এমন ভোগান্তির পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উৎসব করতে বাড়ি গেছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। ঈদের আগে ভোগান্তি সত্ত্বেও যাদের কাছে বাড়ি যেতে পারাই হচ্ছে বড় এক আনন্দযাত্রা। সরেজমিন বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে সোমবার এমনই চিত্র দেখা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এবং ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) ছিল উপচে পড়া ভিড়। সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় এদিন কর্মজীবী মানুষ আগেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এজন্য সড়ক-মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছিল। যাত্রীর চাপ থাকার সুযোগ নিয়ে অনেক আনফিট বাসও সড়কে নামানো হয়। আবার বেপরোয়া চালানোর কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনায় বহু হতাহতের ঘটনায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দায়ী করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি বলেছে, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করবে না-এমন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বাস মালিকরা। স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ বিকল্প পদ্ধতিতে গন্তব্যে যেতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছে। এ অবস্থায় বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী বৃহস্পতিবার। ঈদ সামনে রেখে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছে লাখ লাখ মানুষ। সে কারণে অনেকটাই ফাঁকা হতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকা। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাস, লঞ্চ ও ট্রেন স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তৎপরতা দেখা গেছে চোখে পড়ার মতো। বাড়তি ভাড়া আদায়ের কারণে বেশ কয়েকটি বাস কোম্পানিকে জরিমানা করা হয়েছে। তবুও ভোগান্তি পিছু ছাড়েনি। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, কুমিল্লার বিভিন্ন স্থান ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরবসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটে আটকা পড়েন যাত্রীরা।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন বেসরকারি চাকরিজীবী বুলবুল হোসেন। ভোগান্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে পদ্মা পরিবহণের কাউন্টারে অপেক্ষা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কাউন্টারে বসে আছি, এখনো গাড়ি আসেনি। সাধারণ সময়ে যে ভাড়া ২৫০ টাকা, এখন সেটাই ৪৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই যেতে হচ্ছে।’ ঈদের সময় মানুষ পরিবারের কাছে যেতে চায়, সেই সুযোগে কিছু পরিবহণ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে জানান তিনি। বুলবুল হোসেন বলেন, এত কষ্টের পরও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করব এটাই বড় পাওয়া। তাই এটাই আমার কাছে আনন্দযাত্রা।
গোল্ডেন লাইন পরিবহণের বাসে ফরিদপুর যাওয়ার জন্য সায়েদাবাদে কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, দুপুর ২টায় বাস ছাড়ার কথা। সেই বাস ১ ঘণ্টা পরে এসেছে। যাত্রীদের এত চাপ যে, কাউন্টারে বসার মতো জায়গাও পাইনি। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ করতে যাচ্ছি, সেটাই এখন বড় কথা। বলতে পারেন আনন্দ-ভোগান্তি নিয়েই বাড়ি যাচ্ছি।
বরিশালের কয়েকজন যাত্রী জানান, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বাসে ৭০০-৮০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়েছে। অথচ আগে ভাড়া নেওয়া হতো ৫০০-৫৫০ টাকা।
রাজধানীর উত্তরায় আব্দুল্লাহপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন শত শত যাত্রী। ঈদযাত্রায় সঙ্গে রয়েছে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও। অধিকাংশ যাত্রীর অভিযোগ, কাউন্টারে টিকিট না পাওয়ায় বাসের আশায় উড়াল সেতুতে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের অনেকেই বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেন। শেরপুরের নালিতাবাড়ী যাওয়ার জন্য বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা ষাটোর্ধ্ব রফিকুল ইসলাম জানান, ‘শেরপুরের ভাড়া হইলো ৩৫০-৪০০ টাকা। এখন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। এই জায়গায় কয়েক ঘণ্টা ধইরা দাঁড়াইয়া আছি বাসের লাইগ্যা। এগুলো কি দ্যাহার কেউ নাই?’
মাদ্রাসা ছুটি হওয়ায় বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম জানান, ‘আমি সিরাজগঞ্জে যাব। আমার বন্ধুদের কেউ নাটোর, কেউ ময়মনসিংহে যাবে।’ তিনি বলেন, বাসে এক হাজার টাকা ভাড়া দাবি করছে। অনেকক্ষণ এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে ছিলাম বাসের জন্য। সেখানে না পেয়ে আব্দুল্লাহপুর এলাম। এখানে বেশি ভাড়া আদায় করছে।
উত্তরার আব্দুল্লাহপুর বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে ভাঙাচোরা সড়কে চরম দুর্ভোগের চিত্রও দেখা গেছে। এতে যানবাহনের ধীরগতি ও যানজটে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। আব্দুল্লাহপুর উড়াল সড়কের নিচের মহাসড়কটিতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো সড়কটিই ভাঙাচোরা ও কাদাপানিতে একাকার। পরিবহণ চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রাস্তার এমন অবস্থা। রাস্তা ভাঙা হওয়ায় গাড়ি আস্তে আস্তে চালাতে হয়। ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আর এমন যানজটের কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়েছে যাত্রীরাও। অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে উত্তরা আব্দুল্লাহপুর ট্রাফিক বক্সের পরিদর্শক (টিআই) আরাফাত আহমেদ বলেন, ঈদের কারণে রাস্তায় চাপ রয়েছে। রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে কিছুটা ভোগান্তি তো হচ্ছেই। তবে সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।
এদিকে যাত্রীদের কাছ থেকে বাসচালকদের এমন বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে ডিএমপি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, ঈদযাত্রায় কোনো প্রকার বাড়তি ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই। যদি কোনো বাস কর্তৃপক্ষ বাড়তি ভাড়া আদায় করে তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।
টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারেননি অনেক যাত্রী : সোমবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে ছাড়ায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে প্ল্যাটফর্মে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হলেও ঈদে বাড়ি ফেরার আনন্দে অনেকেই পরিস্থিতি মেনে নেন। রেলওয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈরী আবহাওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপের কারণে সময়সূচিতে কিছুটা গড়বড় হচ্ছে।
সোমবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ধূমকেতু এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস এবং রংপুর এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। ধূমকেতু এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি স্টেশন ছাড়ে সকাল সাড়ে ৬টায়। নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার সূচি ছিল, কিন্তু ওই ট্রেনটি ছেড়েছে ৮টা ১০ মিনিটে। এছাড়া রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও ট্রেনটির সম্ভাব্য ছাড়ার সময় দেওয়া হয় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট।
এদিকে ভিড়ে ঠাসা যাত্রীবাহী ট্রেনের এক একটি বগিতে নির্ধারিত যাত্রীর চেয়ে চারগুণ বেশি যাত্রী। এ রকম ভিড়ের কারণে ট্রেনে কেউ দরজা ধরে ঝুলছেন, কেউ আবার ছাদে। এছাড়া বগির সংযোগস্থল, ইঞ্জিনের দুপাশেও ঝুলে ছুটছেন সাধারণ যাত্রীরা। রেলওয়ের সাফ বক্তব্য, ট্রেনগুলো ঝুঁকি কী নিয়েই চালাতে হচ্ছে। উনিশ থেকে বিশ হলেই সর্বনাশ হয়ে যেতে পারে। ঈদ উপলক্ষ্যে কোনো সময়ই যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বছরের পর বছর এমন ঝুঁকি নিয়েই ট্রেন চালাতে হচ্ছে-চড়ছেন যাত্রীরাও। নিত্যযাত্রীরা সেই ভিড়ের মধ্যেই কোনোরকমে মাথা গুঁজে ঠাঁই করে নিচ্ছে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের যে দৃশ্য উঠে আসছে, তা বিরল। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, মানুষের ভিড়ের কারণে আগাম টিকিট থাকার পরও তারা নির্দিস্ট ট্রেনে উঠতে পারেননি।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন বলেন, ঈদ ছাড়াও যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা রেলপথে ভ্রমণের। ঈদে যে পরিমাণ চাহিদা। চাহিদার কয়েক শতাংশও পূরণ করা সম্ভব হয় না। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রায় ১ কোটি হিট (টিকিট কাটার জন্য অনলাইনে প্রবেশ) পড়ে। ঈদযাত্রায় সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
লঞ্চযাত্রায় অনেকটা স্বস্তি : বাস ও ট্রেনের তুলনায় লঞ্চে যাত্রী তুলনামূলক কম ছিল। বৃষ্টি ও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে নৌপথের যাত্রী চলাচলে। সোমবার বিকাল পর্যন্ত যাত্রী উপস্থিতি কম ছিল। তবে সন্ধ্যার পর যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়।
কেরানীগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী মোস্তফা ইব্রাহিম ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় রওয়ানা হন। তিনি জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি ফিরছেন। বাসের চেয়ে লঞ্চযাত্রা আমার জন্য সুবিধাজনক। বাসে গেলে আগে বরিশাল যেতে হয়, এরপর আবার নৌপথে ভোলায় যেতে হয়। কিন্তু লঞ্চে একবার উঠলেই সরাসরি যাওয়া যায়। এজন্যই লঞ্চে যাওয়া। সদরঘাট এসেই লঞ্চ পেয়েছি। আশা করি স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারব।
পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব।
ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।
পটুয়াখালীর বাউফলে যাবেন কলেজ শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, যাত্রীদের তেমন চাপ নেই। তবে বৃষ্টির কারণে বাসা থেকে সদরঘাট আসতে কষ্ট হয়েছে। আশা করি, ভালোভাবে বাসায় পৌঁছে মা-বাবা-আত্মীয়দের সঙ্গে ঈদ করব।
ঢাকা-কালীগঞ্জ-ইলিশা রুটের সম্পদ লঞ্চের সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে যাত্রী আরও বেশি হতো। তারপরও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় যাত্রী বেড়েছে। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের অভিযানে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে থাকা দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে পুলিশ সদস্যরা কক্ষে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদ থেকে তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালান মোবারক। কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর শেষ পর্যন্ত তাঁকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাঁর তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকায় একটি বাড়িতে মোবারক অবস্থান করছেন—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। বাড়িটির দরজা ছিল লোহার তৈরি। বারবার ডাকাডাকি করেও দরজা না খোলায় পুলিশ সদস্যরা বাড়ির চারপাশে অবস্থান নেন। মোবারক ছাদ টপকে পালিয়ে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কায় পুলিশের একটি দল বাড়ির ছাদেও অবস্থান নেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পরও দরজা না খোলায় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লোহার দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে পুলিশ। প্রথমে ওয়াশরুমের ওপরে থাকা ফলস ছাদ থেকে মোবারকের তিন সহযোগী—রায়হান, নাছির ও ফরিদকে আটক করা হয়। এরপর সতর্কতার সঙ্গে বাড়ির ভেতরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে একটি কক্ষের ওয়াশরুমের ফলস ছাদের ওপর মোবারকের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পুলিশ সদস্যরা কক্ষে প্রবেশ করতেই ফলস ছাদ থেকে তিনি ব্রাজিলের তৈরি ‘তরাস’ পিস্তল দিয়ে গুলি চালাতে শুরু করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোবারক পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করেন। পুলিশও পাল্টা সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় একটি গুলি চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের কানের পাশ দিয়ে চলে যায়। এছাড়া অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ জানায়, মোবারক সপ্তমবার গুলি করার চেষ্টা করলে তাঁর পিস্তলটি আটকে যায়। সেই সুযোগে পুলিশ তাঁকে ফলস ছাদ থেকে নামিয়ে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র। গ্রেপ্তার মোবারক হোসেনকে কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাসহ একাধিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকাকে আত্মগোপনের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। পুলিশ আরও জানায়, গত ২৯ জুলাই ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোবারককে ধরতে ফটিকছড়ির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। তবে প্রতিবারই তিনি পুলিশের চোখ এড়িয়ে যান। সর্বশেষ পাহাড়ি এলাকায় পুলিশের অভিযান জোরদার হলে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে লেলাং ইউনিয়নের পরিচিত একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানেই ফলস ছাদের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন। মোবারককে গ্রেপ্তারের পর তাঁর তিন সহযোগীর কাছ থেকেও অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, পিস্তলের ২৩টি গুলি এবং শটগানের চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ফটিকছড়ি ও রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় মোবারককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত দুই মামলায় মোট আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীর গ্রেপ্তারে ফটিকছড়ি ও রাউজানের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে মোবারক ও তাঁর সহযোগীদের কারণে এলাকার মানুষ আতঙ্কে ছিলেন বলেও স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে নড়াইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আকাশ শেখ (২৩) ও রুমান শেখ (২৪)। ডিবি সূত্রে জানা যায়, চক্রের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন ও ভিডিও প্রচার করে আগ্রহী ক্রেতাদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতেন। পরে অস্ত্র দেওয়ার কথা বলে ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নেওয়ার পরই তাকে ব্লক করে দিতেন। গত ২৩ আগস্ট সাইবার অপরাধ পর্যবেক্ষণের সময় ‘সোনালী পিস্তল হাউজ বেনাপোল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে অস্ত্র বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখতে পায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পেজটির অ্যাডমিনদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে নড়াইল সদর থানার ধোন্দা ও রঘুনাথপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে আকাশ শেখ ও রুমান শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রমনা মডেল থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ডিবি জানিয়েছে, চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস সবুর শেখ জানান, বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিসহ আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যথানিয়মে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম চলবে বলে জানান তিনি। বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বুধবার বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি ফেরদৌস হোসেন খান জানিয়েছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বুধবার একদিনের জন্য বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় খালি ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে। বেনাপোল স্থলবন্দর ও বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৬০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন।