জাতীয়

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি আজই জারি হতে পারে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ০৫, ২০২৬ 0

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট দূরীকরণে ৬৭ হাজার ২০৮ জন শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। আজ এনটিআরসিএ-এর ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান, টেলিটকের কর্তৃপক্ষের সাথে এ সংক্রান্ত কারিগরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আজই ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ গণবিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহে এটি প্রকাশিত হবে। ইতোমধ্যে আমরা এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়েছি।

এনটিআরসিএ’র খসড়া প্রস্তুতকৃত বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পদের মধ্যে দেশের এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজে ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসায় ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করা হবে। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের সময় এই সংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে এনটিআরসিএ।

আবেদন প্রক্রিয়া ও সময়সীমা :

আগ্রহী নিবন্ধনধারী প্রার্থীরা আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে (ই-এপ্লিকেশন) আবেদনের শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। পদভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা ও আবেদনের শর্তাবলী এনটিআরসিএ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.ntrca.gov.bd) এবং টেলিটকের ওয়েবসাইট (http://ngi.teletalk.com.bd)-এ পাওয়া যাবে।

আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন :

নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবারের বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে একজন প্রার্থী ৪০টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দেওয়ার সুযোগ পেলেও এবার তা কমিয়ে মাত্র ৭টি করা হয়েছে। তবে পছন্দের ৭টি প্রতিষ্ঠানের বাইরেও যদি কেউ নিয়োগ পেতে আগ্রহী হন, তবে তাকে ই-অ্যাপ্লিকেশন ফরমে থাকা ‘আদার অপশন’ বক্সে ‘ইয়েস’ নির্বাচন করতে হবে।

বয়স ও নিবন্ধনের মেয়াদ :

আবেদনকারীদের বয়স ২০২৫ সালের ৪ জুন তারিখে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। উল্লেখ্য, ওই দিন ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছিল। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ফলাফল প্রকাশের তারিখ হতে পরবর্তী ৩ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বিষয়ে নির্দেশনা :

বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকগণ একই পদে বা সমপদে আবেদনের সুযোগ পাবেন না। তবে কোনো শিক্ষকের যদি ভিন্ন পর্যায়ের (যেমন- স্কুল থেকে কলেজ) নিবন্ধন থাকে এবং সেখানে ইনডেক্স না থাকে, তবে তিনি আবেদন করতে পারবেন।

এনটিআরসিএ জানিয়েছে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক স্বল্পতা অনেকাংশেই দূর হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে চান চসিক মেয়র

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও পারকিসহ জেলার সব সমুদ্র সৈকতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যটন উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত ‘চট্টগ্রাম বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি’র সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে জনমুখী ও দর্শনার্থী বান্ধব করতে হলে প্রথমে সেখানে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দায়িত্ব পালনের জন্য ১০ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা যেতে পারে। ইতোমধ্যে একাধিকবার ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সমুদ্র সৈকত এলাকা দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং তিনি নিজেও এসব অভিযানের তদারকি করেছেন। তিনি বলেন, সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিতভাবে দোকান স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সেখানে প্রস্তাবিত ২৮০টি দোকান এমনভাবে নকশা করতে হবে, যাতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক দৃশ্য আড়াল না হয় এবং পর্যটকদের চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীরা যাতে ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারেন, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, সমুদ্র সৈকত ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, সিডিএ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পতেঙ্গা সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পতেঙ্গা সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা, আধুনিক বিনোদন সুবিধা এবং মানসম্মত অবকাঠামো নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, এডিসি মো. কামরুজ্জামান, জেলা পরিষদের সিইও চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মাজহারুল ইসলামসহ সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, টুরিস্ট পুলিশ, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ০৮, ২০২৬ 0
শনিবার অমর একুশে বইমেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনের পর কয়েকটি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। ছবি : পিআইডি

বইমেলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার মিলনমেলা : সংস্কৃতি মন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি : সংগৃহীত

সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ পেরিয়ে চট্টগ্রামে ১৫ জাহাজ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
নারী-পুরুষ সমান অধিকারের দেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, এমন দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। সম্মান ও মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার, রাষ্ট্র ও সমাজে কাজ করবে।’ এ সময় সরকার শিক্ষা, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও রাজনীতিসহ সকল স্তরে নারীর সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। ৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয়, যখন নারীর অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার, সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। নারীদের রাষ্ট্র সরকার ও রাজনীতির মূলধারার বাইরে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত না হলে ঘরে বাইরে সামগ্রিক উন্নয়নের সুফল সম্ভব নয়। বাংলাদেশে জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। নারীদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছিলেন। শহীদ জিয়ার শাসনামলে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে ‘নারী বিষয়ক দফতর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৭৮ সালে গঠন করা হয় ‘মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ যা পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ১৯৯৪ সালে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এ রূপান্তরিত হয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এটি ছিল একটি বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করা, উচ্চশিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মেয়েদের জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, ডিজিটাল লার্নিং সুবিধা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা। সরকার নারীর নিরাপত্তা বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাইবার বুলিং এবং অনলাইনে নারীর বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিদ্যমান সমাজে সমতা হোক অঙ্গীকার, মর্যাদা হোক বাস্তবতা, আর ক্ষমতায়ন হোক উন্নয়নের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০৭, ২০২৬ 0
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু | ছবি : সংগৃহীত

দেশে পর্যাপ্ত তেল মজুত রয়েছে : জ্বালানিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদ বাজারে ক্রেতার ভিড়, সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ী

ছবি: সংগৃহীত

যে ভুলে বন্ধ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথ, সতর্কতা জারি

ছবি : সংগৃহীত
হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নির্মাণের উদ্যোগ পোল্যান্ডের

পোল্যান্ডে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির রেলগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেসা বিদগোশ্চ এসএ এই ট্রেন তৈরির কাজ শুরু করবে।   দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা তহবিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে। জাতীয় পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতা পরিকল্পনার আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।   প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন জ্লোটি সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।   এই প্রকল্পের আওতায় একটি হাইড্রোজেন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন তৈরি করা হবে। ট্রেনটিতে তিন ধরনের শক্তির উৎস থাকবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি। ফলে এটি বিদ্যুতায়িত ও অবিদ্যুতায়িত দুই ধরনের রেলপথেই চলতে পারবে।   পোল্যান্ডের জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী পাউলিনা হেনিগ-ক্লোস্কা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আনতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রেনটির প্রযুক্তিগত নকশা তৈরি করা হবে এবং একটি পরীক্ষামূলক ট্রেন নির্মাণ করা হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পোল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ রেলপথ এখনো বিদ্যুতায়িত নয়। তাই কম দূষণকারী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন ভবিষ্যতে ডিজেলচালিত ট্রেনের কার্যকর বিকল্প হতে পারে।   এ ছাড়া ভবিষ্যতে ২৫টি হাইড্রোজেনচালিত লোকোমোটিভ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব ট্রেন চালু হলে বছরে প্রায় সাত হাজার ছয়শ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ০৭, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রোববার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে

ছবি : সংগৃহীত

ট্রেনের ১৭ মার্চের অগ্রিম টিকিট মিলছে আজ থেকে

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

0 Comments