৫ রানের মধ্যেই শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৫ বল বাকি থাকতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫১ রানে হেরেছে ভারত। এতে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে সিরিজে ১-১ সমতা আনলো সফরকারীরা।
১৮ বলে ভারতের দরকার ছিল ৭২ রান। অসম্ভব প্রায় এই সমীকরণেও তিলক বর্মা ও জিতেশ শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষদিকে কিছুটা আশার আলো দেখে ভারত। কিন্তু পরের দৃশ্যপটে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। মাত্র ৫ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৫ বল বাকি থাকতেই ভারত থেমে যায় ১৬২ রানে।
এর আগে, নিউ চন্ডীগড়ে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২১৩ রান। ওপেনার কুইন্টন ডি কক খেলেন বিধ্বংসী এক ইনিংস। তার উইলো থেকে আসে ৪৬ বলে ৯০ রান। শেষ দিকে ডোনোভান ফেরেইরা (১৬ বলে ৩০*) এবং ডেভিড মিলারের (১২ বলে ২০*) ব্যাটে বড় সংগ্রহ পায় প্রোটিয়ারা।
ভারতের পক্ষে দুটি উইকেট পান বরুণ চক্রবর্তী।
২১৪ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ভারতকে লড়াইয়ে রাখতে পেরেছেন কেবল তিলক বর্মা। পাঁচ নম্বরে নেমে ৩৪ বলে ৬২ রানের দারুণ ইনিংস উপহার দিলেও জয়ের জন্য সেটা যথেষ্ট ছিল না। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান আসে জিতেশ শর্মার ব্যাট থেকে। তিনি করেন ১৭ বলে ২৭ রান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বার্টম্যানের ঝুলিতে ওঠে ৪টি উইকেট। দুটি করে উইকেট পান এনগিদি, ইয়ানসেন ও সিপামলা।
১৪ ডিসেম্বর ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২১৩/৪ (ডি কক ৯০, ফেরেইরা ৩০*; বরুণ ২/২৯)
ভারত: ১৬২ (তিলক ৬২, জিতেশ ২৭; বার্টমান ৪/২৪)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কুইন্টন ডি কক
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ম্যাচের শুরুতেই গোল উদযাপনে মাতল জার্মানি। পিছিয়ে পড়ে মনোবল হারাল না একুয়েডর। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে স্মরণীয় জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল তারা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডে ২-১ গোলে জিতেছে একুয়েডর। জার্মানির নকআউটের টিকেট নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরের ধাপে উঠেছে আইভরি কোস্ট। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে একুয়েডর। সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত করেছে তারা। ১ পয়েন্ট পাওয়া কুরাসাও বিদায় নিয়েছে। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের প্রথম দুটি দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল নিয়ে হবে নকআউটের প্রথম ধাপ- রাউন্ড অব ৩২। লক্ষ্য পূরণে এই ম্যাচে একুয়েডরের জয়ের বিকল্প ছিল না। উজ্জীবিত পারফরম্যান্সে সেটিই করে দেখাল তারা। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের নকআউটে খেলবে একুয়েডর। সবশেষ খেলেছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসরে। জার্মানির বিপক্ষে তিনবারের দেখায় একুয়েডরের প্রথম জয় এটি। লিহয় জানের গোলে পিছিয়ে পড়ার একটু পরই দলকে সমতায় ফেরান নিলসন অ্যাঙ্গুলো। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান গড়ে দেন প্লাটা। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একুয়েডরের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের নিখুঁত পাস বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান লিহয় জানে। বিল্ডআপের শুরুতে বল ক্লিয়ারের চেষ্টা করা একুয়েডরের পেদ্রোর মাথার ওপরে পা তুলেছিলেন জার্মানির আলেকসান্দার পাভলোভিচ। আঘাত পেয়ে পড়ে যান পেদ্রো। গোলের পর প্রতিবাদ জানায় একুয়েডরের খেলোয়াড়রা। তবে ভিএআরের সাহায্যে গোল বহাল রাখেন নারী মার্কিন নারী রেফারি টরি পেনসো। জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি একুয়েডর। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে সমতা টানেন নিলসন অ্যাঙ্গুলো। এবারের বিশ্বকাপে একুয়েডরের প্রথম গোল এটি! প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য সুযোগ কেউ তৈরি করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পরে ভিএআরের সাহায্যে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। বিল্ডআপের সময় পেদ্রোকে ফাউল করেছিলেন জানে। ৬২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত একুয়েডর। জন ইয়েবোয়ার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ২০ গজ দূর থেকে জোরাল শট নেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে দুই পাশে। সুযোগও মিলতে থাকে। কিন্তু গোলের দেখা আর মিলছিল না। ৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। একুয়েডরের কর্নারে বক্সে হেড করেন কেভিন রদ্রিগেজ। গোলরক্ষক নয়ারের সামনে থেকে বুটের টোকায় বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন প্লাটা। শেষ বাঁশি বাজার পর সেই উদযাপনের মাত্রা বেড়ে যায় আরও। টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই বিশ্বকাপ শুরু করেছিল একুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাই পর্বে তারা ছিল দ্বিতীয় স্থানে। কিন্তু মূল আসরে প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৯০তম মিনিটের গোলে হেরে যায় একুয়েডর। পরের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। তাতে বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে যায় দলটি। তবে জার্মানির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর অবিশ্বাস্য গল্প রচনা করে নকআউটের টিকেট কাটল তারা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউট পর্বে পা রেখেছে ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জয় তো বটেই, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও সন্তুষ্ট করেছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম টিভি গ্লোবোকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় আনচেলত্তি জানান, দলের লক্ষ্য ছিল আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে আরও সংগঠিত ফুটবল খেলা। তার মতে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিল শুধু ফলই পায়নি, মাঠজুড়ে ছিল ছন্দ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন। আনচেলত্তির ভাষ্য, হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের তুলনায় এবার দল আরও পরিণত ও গোছানো ফুটবল খেলেছে। আক্রমণ গঠন থেকে শুরু করে বলের দখল ধরে রাখা সব ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়রা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। ফলে এই জয়কে তিনি দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছেন। তবে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল নেইমারের প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৯৮১ দিন পর আবারও ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন দেশের অন্যতম সেরা এই তারকা। দীর্ঘ চোট ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পেরিয়ে জাতীয় দলে ফিরে আসা নেইমারকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল শিবির। আনচেলত্তি মনে করেন, নেইমারের উপস্থিতি শুধু একজন খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং পুরো দলের জন্য বাড়তি শক্তির উৎস। তার মতে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ আরও বৈচিত্র্যময় ও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে নেইমারকে ঘিরে। কোচের বিশ্বাস, প্রতিযোগিতার বাকি অংশে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। নেইমারের পাশাপাশি পুরো দলের মানসিকতা নিয়েও সন্তুষ্ট আনচেলত্তি। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, খেলোয়াড়দের দলগত সমন্বয়ই ছিল ম্যাচের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক। ব্রাজিল আক্রমণে ওঠার সময় একাধিক খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরও ছিল বেশ দ্রুত ও কার্যকর। স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে তারা। একই গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় নকআউট পর্বে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থান থেকে অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। নেইমারের প্রত্যাবর্তন, আক্রমণভাগের ধার এবং দলের ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাস সব মিলিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে এখন আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে সেলেসাওরা।
সেই ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। তখনও তিনি ছিলেন টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার। কিংবদন্তির বিদায়ের পর নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের ওই জায়গাটিও থমকে ছিল। ড্যানি মরিসন, ড্যানিয়ল ভেটোরি, ক্রিস কেয়ার্নস, ক্রিস মার্টিন, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়্যাগনারের মতো অনেকেই রাঙিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু কোনো কিউই বোলার পারছিলেন না চূড়ায় পা রাখতে। অবশেষে হ্যাডলির ৩৬ বছর পর পারলেন ম্যাট হেনরি। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার এখন এই পেসার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে এক লাফে ছয় ধাপ এগিয়ে এক নম্বরে উঠে গেছেন তিনি। এককভাবে অবশ্য নয়, যৌথভাবে শীর্ষে তিনি জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে। পরিবর্তন আছে টেস্ট ব্যাটসম্যানরদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও। সেখানে অবশ্য চেনা এক মুখই ফিরেছেন নতুন করে। আবার এক নম্বরে উঠে এসেছে জো রুট। দুইয়ে নেমে গেছেন তার সতীর্থ হ্যারি ব্রুক। হেনরির টেস্ট ক্যারিয়ার প্রস্ফূটিত হয়েছে একটু দেরিতেই। ২০১৫ সালে অভিষেক হলেও এখনও পর্যন্ত খেলেছেন কেবল ৩৫ টেস্ট। মূলত বোল্ট-সাউদি-ওয়্যাগনারের মতো পেসাররা থাকায় তার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই খেলছেন এবং পারফর্ম করছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ছয় বছরে ১৪ টেস্ট খেলে তার উইকেট ছিল ৩৭টি। গত চার বছরে ২১ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১১৫ উইকেট। সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরে পৌঁছে গেলেন শীর্ষে। নিউ জিল্যান্ডের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে আর মাত্র দুজন বোলার পেয়েছেন এই সাফল্য। ১৯৪৭ সালে পেরেছিলেন জ্যাক কাউয়ি, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নানা সময়ে ছিলেন হ্যাডলি। হেনরির রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৭০। নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বোলার মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্ট ছিল মাত্র দুজনের। তারা দুজনই দেশটির সর্বকালের সেরা দুই ক্রিকেটার। ১৯৮৫ সালে ৯০৯ রেটিং পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন হ্যাডলি, ২০২১ সালে ৯১৯ ছুঁয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। সাত থেকে এক নম্বরে ওঠা হেনরিকে জায়গা দিতে এক ধাপ করে নিচে নেমে গেছেন মিচেল স্টার্ক (৩), প্যাট কামিন্স (৪), মার্কো ইয়ানসেন (৫), স্কট বোল্যান্ড (৬) ও নোমান আলি (৭)। বাংলাদেশের সেরা বোলার তাইজুল ইসলাম আগের মতোই আছেন ১২ নম্বরে। হেনরি ১১ উইকেট নেওয়ার টেস্টেই ৪৬ ও ৭৭ রানের ইনিংস খেলে শীর্ষে ফিরেছেন রুট। ওই টেস্টে ২৪ ও ৫৮ রান করে ব্রুক নেমে গেছেন দুইয়ে। গত দেড় বছরে রুট ও ব্রুকের মধ্যেই শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে ছয় দফায়। ওভালে ৩৩ ও ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে দশে উঠেছেন রাচিন রাভিন্দ্রা। ৪৪ ও ৬৮ রান করে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে এসেছেন ড্যারিল মিচেল, ক্যারিয়ারের টেস্ট সেঞ্চুরিতে আট ধাপ এগিয়ে ৩১তম স্থানে এখন গ্লেন ফিলিপস এবং দলে ফেরার টেস্টে সেঞ্চুরি করে ১৩ ধাপ এগিয়ে ৪০ নম্বরে হেনরি নিকোলস। বাংলাদেশের খেলা না থাকলেও এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে উঠেছেন মুশফিকুর রহিম, এক ধাপ এগিয়ে একুশে লিটন কুমার দাস। অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে রাভিন্দ্রা জাদেজা, দুইয়ে মার্কো ইয়ানসেন, তিনে মেহেদী হাসান মিরাজ।