সারাদেশ

বরিশাল–রংপুরে কাজে ধীরগতি, খুলনায় বাতিল প্রকল্প

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিজ্ঞানশিক্ষা, মহাকাশবিষয়ক জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষামূলক পর্যটনের প্রসার ঘটাতে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে নভোথিয়েটার নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। শত শত কোটি টাকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক জায়গায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বরিশাল ও রংপুরে নভোথিয়েটার প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা দুই দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। অন্যদিকে এক যুগের বেশি সময় ধরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতার কারণে খুলনার প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে।

 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরিশাল ও রংপুরে দুটি প্রকল্পের অবকাঠামোর প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র বলছে, বাস্তবে অবকাঠামো দৃশ্যমান হলেও মূল প্রযুক্তিগত অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের স্থাপন এখনো হয়নি। এসব যন্ত্র বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

নভোথিয়েটারগুলো চালু হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান চর্চার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও টেলিস্কোপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মহাকাশ সম্পর্কে জানতে পারবে। এতে তাদের বিজ্ঞানভিত্তিক চিন্তা ও আগ্রহ বাড়বে।

 

অবকাঠামো শেষ, অপেক্ষা সরঞ্জামের

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, বরিশাল’ নামে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাম পরিবর্তন করে ‘বরিশাল নভোথিয়েটার’ করা হয়। প্রথমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষের কথা ছিল। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর করা হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কন্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

 

নগরের দক্ষিণে কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব পাশে চর আইচা এলাকায় ১০ একর জমিতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ৪১২ কোটি টাকা। ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরে ব্যয় বাড়িয়ে ৪৬০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চারটি প্রধান অংশে বিভক্ত নভোথিয়েটারে প্ল্যানেটারিয়াম, কার্যালয় ভবন, প্লাজা, ডরমিটরি ও দুটি বৃহৎ ডোমসহ মোট ২৬টি অবকাঠামো থাকছে। দর্শনার্থীদের জন্য ১৭৫টি গাড়ি পার্কিং সুবিধা, ৩০৪ আসনের গ্যালারি ও ১৭৫ আসনের আধুনিক অডিটোরিয়ামের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য ছয়টি শিশুপার্ক, ভাস্কর্য ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক রাইড থাকছে।

 

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বৈদ্যুতিক কাজের প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগির বিদ্যুৎ-সংযোগ দিয়ে কমিশনিং করা হবে। তবে ডোম, টেলিস্কোপ, ডিজিটাল প্রজেকশন ও অন্যান্য ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সরঞ্জাম এখনো স্থাপন করা হয়নি। এগুলো বিদেশ থেকে আমদানির পর বসানো হবে।

 

গত ৩০ এপ্রিল দেখা যায়, শ্রমিকেরা ওঠার সিঁড়িতে টাইলস স্থাপন করছেন। কেউ মেঝেতে ঢালাই দিচ্ছেন। আবার একদল শ্রমিক তৈরি করছেন স্টিলের অবকাঠামো। তবে অবকাঠামোর সাজসজ্জার অনেক কাজ এখনো বাকি। সেখানে কর্মরত শ্রমিকেরা জানালেন, তাঁরা অনেক শ্রমিক এখানে কাজ করছেন। তবে এখনো যে কাজ বাকি, তাতে নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে কি না, সন্দেহ আছে।

 

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটি দেশের আইকনিক একটি প্রকল্প। প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করেছেন, প্রকল্পের নির্ধারিত সময়—চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যাবে। কাজে বিলম্বের বিষয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুরু থেকেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। কীর্তনখোলার তীরবর্তী ঢালু জমিতে কাজ হওয়ায় বেজমেন্ট তৈরিতেই প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। বর্ষাকালে কাজ ব্যাহত হওয়ায় ব্যয় ও সময় বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন এবং কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

 

অবকাঠামো নির্মাণ ৮০ শতাংশ শেষ

রংপুর নগর থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে দেবীপুরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এস জামাল অ্যান্ড কোম্পানি। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কয়েক মাস প্রকল্পটির কাজ বন্ধ ছিল। এ ছাড়া জমি উন্নয়নকাজেও দেরি হয়। ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

 

২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন পায় রংপুর নভোথিয়েটার প্রকল্প। প্রায় ৪১৮ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ছিল ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৪৪৫ কোটি টাকা। এরপরও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় আছে।

 

সম্প্রতি দেখা যায়, নভোথিয়েটারের প্ল্যানেটেরিয়াম ভবন, কার্যালয় ও ডরমিটরির নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। টাইলস মার্বেলের কাজ চলমান। অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতের কাজও চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের তেমন কোনো কাজ বাকি নেই। টাইলসের কিছু কাজ বাকি। আগামী আগস্টের মধ্যে নির্মাণাধীন অবকাঠামো হস্তান্তর করা হতে পারে।

 

নভোথিয়েটার রংপুর স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, অবকাঠামোগত কাজ ৮০ শতাংশ হয়েছে। ইমারসিভ সিমুলেশন থিয়েটার চলে এসেছে। সায়েন্টিফিক এক্সিবিট, ডিজিটাল এক্সিবিট, প্লানেটেরিয়ামসহ অন্য সরঞ্জামের দরপত্র হয়েছে। সেগুলোও চলতি বছরের মধ্যে চলে আসবে। আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ থাকার সময়ের মধ্যে তাঁরা কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন।

এক যুগ পর প্রকল্প বাতিল

এক যুগের বেশি সময় ধরে আলোচনা, স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা, একনেকে অনুমোদন, জমি হস্তান্তর ও দরপত্র প্রস্তুতির পরও শেষ পর্যন্ত খুলনার নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পটি বাতিল হয়ে গেছে। খুলনা নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও খেলার মাঠ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের আপত্তির মুখে মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় নভোথিয়েটার নির্মাণের জন্য ৫ একর জমি নির্ধারণে ২০১২ সালে প্রথম খুলনা সিটি করপোরেশনকে (কেসিসি) চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। পরে ২০১৩ সালের ১১ জুন নগরের মোংলা পোর্ট স্কুল-সংলগ্ন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে শিল্পব্যাংকের পেছনের জমি এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ডে আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির জমির মধ্যে যেকোনো একটি স্থানে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব দেয় কেসিসি। কিন্তু এসব জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প স্থান খোঁজার পরামর্শ দেয় মন্ত্রণালয়। পরে নগরের মুজগুন্নি এলাকায় পর্যটন করপোরেশনের জমির প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটি পাওয়া যায়নি।

 

সূত্রটি জানায়, নগরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় কৃষ্ণনগর মৌজার ১০ একর জমি পছন্দ হলেও অধিগ্রহণ ব্যয় বেশি হওয়ায় বাদ পড়ে যায়। সর্বশেষ ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নগরের জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় ১০ একর জমিতে নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রকল্প একনেকে পাস হয়। ব্যয় ধরা হয় ৫৫৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেই অনুযায়ী কাজও শুরু হয়। কিন্তু খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে ওই জমি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন আপত্তি তুলে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেয়। পরে প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়।

 

গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, সিঅ্যান্ডবি কলোনিকে ঘিরে একটি মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পুরোনো ভবন ভেঙে আধুনিক আবাসন, পার্ক ও নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। সেই মোতাবেক কাজও চলছিল। অনেকেই সেটিকে নভোথিয়েটার প্রকল্পের অংশ মনে করে বিরোধিতা করেন। তবে নভোথিয়েটারের সঙ্গে এসব কার্যক্রমের সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

 

গণপূর্ত বিভাগের খুলনা-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল সিঅ্যান্ডবি কলোনির ৮ দশমিক ৩৫১ একর জমি নভোথিয়েটার কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাতিল করে দেয়। ওই জায়গায় ভবিষ্যতে কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত সরকার নেবে।


বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই খুলনা উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। নগরের সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে নভোথিয়েটারটি নির্মাণের কথা ছিল। নাম ও স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তারপরও স্থানীয় আপত্তির অজুহাতে প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকল্প স্থানেও এটি বাস্তবায়ন করা যেত।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
যশোরে দুই জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি

যশোরের কেশবপুরে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত সম্মানীর তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর দুই স্থানীয় নেতাকে সাংগঠনিক সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতি পাওয়া নেতারা হলেন উপজেলার ৭ নম্বর পাঁজিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাসুদ কামাল এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল মুতালেব মোল্লা।   দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি সম্মানীর তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষায় উপজেলা জামায়াত এই সিদ্ধান্ত নেয়।   কেশবপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাইদুর রহমান সাঈদ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।   তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই দুই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তারা জামায়াতের কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম বা দায়িত্বে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষক পরিবার হত্যা: তদন্তভার পেল ডিবি

মাগুরার আলোচিত শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় মঙ্গলবার

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, আলোচিত সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই শিশুটির বাবা

ঝড়ের কবলে পড়ে ১৬ জেলে নিয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১

ভোলার চরফ্যাশনে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে গভীর সাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মো. নিরব (৫৫) নামে ট্রলারের এক মিস্ত্রি নিখোঁজ রয়েছেন। এসময় ট্রলারে থাকা ১৫ জন জেলেকে অন্য একটি ট্রলার এসে উদ্ধার করলেও নিরব মিস্ত্রি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।   রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে কলাপাড়ার মহিপুর ঘাট থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরের গভীরে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   গত ১৯ ডিসেম্বর চরফ্যাশন নতুন সুইস ঘেট ঘাটের ইউসুফ মালের ট্রলারে করে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে কোস্টগার্ড ও পরিবারের স্বজনরা মিলে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু।   সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিখোঁজ নিরবের বড় ছেলে শাহিন। নিখোঁজ নিরব মিস্ত্রি চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওর্য়াডের বাসিন্দা। তার স্ত্রীসহ দুই ছেলে ও ১ মেয়ে।   এই ঘটনায় নিখোঁজ নিরব মিয়ার পরিবারে স্বজনরা চরম উৎকন্ঠের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।   এছাড়া এ ঘটনায় উদ্ধার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- ট্রলার মালিক ইউসুফ মাল, ট্রলারের মাঝি মো. নুরনবী, জেলে ইয়াছিন ও মাসুদসহ অন্যান্য জেলেরা। তারা সকলেই আসলামপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা।   নিখোঁজের পরিবার ও সংশ্লিষ্টরা জানান, বঙ্গোপসাগরের গভীরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গত ১৯ আগস্ট চরফ্যাশন আসলামপুর ইউনিয়নের নতুন স্লুইসগেট এলাকা থেকে ১৬ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে ট্রলারটি সাগরে গিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। এরমধ্যে বৈরী আবহাওয়া শুরু হওয়ায় সাগর থেকে ট্রলারটি নিয়ে সাগরের তীরের দিকে আসছিল। একপর্যায়ে ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে ডুবে যায় ট্রলারটি। এরপর ট্রলারের জেলে ও মাঝিমাল্লাদের আশপাশে থাকা অন্য ট্রলারের জেলেরা উদ্ধার করলেও নিখোঁজ হন ট্রলারের মিস্ত্রি মো. নিরব।   চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে চরফ্যাশনের মো. নিরব নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন, বাকিরা উদ্ধার হয়েছেন, কোস্টগার্ডকে অবহিত করছি।’   চরফ্যাশন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় নিখোঁজের পরিবার লিখিতভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তারপরও আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৪, ২০২৬
ফাইল ছবি

ঢাকার আরও ৫০ সিগন্যাল পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণার শিকার সেই ৮ শিক্ষার্থী অবশেষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষায় বসলেন

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরের জুম্মান যেভাবে হলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সদস্য

ছবি: সংগৃহীত
নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চায় জামায়াত-এনসিপি

নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চায় জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীজোটের শীর্ষ নেতারা। একইসঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার সুযোগ বহাল রাখার আহ্বান জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনালের মিয়া গোলাম পরওয়ার। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভেঙে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের নানা পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেয় অন্তবর্তী সরকার। পরে সেসব পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে সরকার। এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম বলেন, পাঁচটি নির্বাচন করার জন্য; সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নের জন্য টাকা রাখা আছে।   নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় জামায়াত ইসলামী। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচন করার সুযোগ রাখার আহ্বান দলটির। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব। সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ। কিন্তু আমরা এখন সন্দেহের মধ্যে আছি। আস্থা রাখতে পারছি না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সরকার নির্বাচন নিরপক্ষে করার ক্ষেত্র তৈরি করবে। তারা নির্বাচন কমিশনেই দলীয় নিয়োগ দিয়ে ফেলেছে।   দলীয় প্রশাসকদের সরিয়ে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপি নেতা আখতার হোসেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদেও তারা তাদের লোককে বসিয়েছে। এর বাইরে সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও বিভিন্ন যে সংস্থা আছে এসব জায়গায় তাদের দলীয় লোক আছে।   এর আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয় প্রতীকে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৪, ২০২৬

গ্যাস সংকটের শেষ কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত

১২ বছর বয়সে দাখিল পাস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগে প্রশ্ন

ছবি: সংগৃহীত

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে: ইসরাফিল খসরু

0 Comments