বাংলাদেশের ভোটারদের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রত্যাশা হলো নিরাপত্তা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ জরিপ (নভেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ নাগরিক আগামী সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা ও জানমালের নিরাপত্তাকে দেখতে চান।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, ৪৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন রাজনৈতিক দলগুলো দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। একই সঙ্গে ৯২ শতাংশ ভোটার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সহিংসতায় জড়িত কোনো দল বা প্রার্থীকে তারা ভোট দেবেন না। এখনো ৩৩ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন, যাদের আস্থা অর্জন করাই রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও যমুনা টেলিভিশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক নাগরিক সংলাপে এই জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সংলাপের শুরুতে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান বলেন, নিরাপত্তাহীনতা শুধু জনজীবনকেই নয়, ভোটার অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সংলাপে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক ড. শামীম রেজা বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি পক্ষ কাঠামোগতভাবে বাড়তি সুবিধা পায়, অন্যরা বঞ্চিত হয়। এই বৈষম্য থেকেই সংঘাত ও সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে।
সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সাজেদুল হক রুবেল বলেন, রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন ছাড়া সহিংসতার সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে। কালো টাকার মালিক ও অসৎ আমলাদের রাজনীতিতে প্রবেশ বন্ধ না করতে পারলে সহিংসতা কমবে না।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন বলেন, রাজনীতিবিদদের উস্কানিমূলক বক্তব্য সরাসরি সহিংসতাকে উসকে দেয়—অনলাইনে যেমন, তেমনি অফলাইনেও। নির্বাচনী প্রার্থীরা যদি পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার বন্ধ করেন, তবে সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক করা, সাংবিধানিক পদে নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা গেলে রাজনীতি আরও সংঘাতমুক্ত হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান বলেন, রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে পুলিশ ও প্রশাসন বেপরোয়া হয়ে ওঠে—এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সহিংসতাকারীদের বিরুদ্ধে দলগুলোর কঠোর অবস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘লাল কার্ড’ না দেখালে সহিংসতা থামবে না।
তিনি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাজনৈতিক দলগুলোর মৌলিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা দেশের সব মানুষের প্রত্যাশা। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় স্বার্থান্বেষী মহল সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তিনি বলেন, হাদি হত্যার পর যা ঘটেছে, তা কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত মব সন্ত্রাস।
তিনি আরও জানান, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এককভাবে সরকার গঠন করবে না। সংসদে বিরোধী দলের আসন সংখ্যাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এফসিডিওর আর্থিক সহায়তায় ‘বি-স্পেস’ প্রকল্পের আওতায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও যমুনা টেলিভিশনের আয়োজনে “সংঘাত-সহিংসতা মুক্ত হোক রাজনীতি” শীর্ষক এই নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফেনীর নির্বাচনি জনসভায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে। জনসভা শুরুর আগেই দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে প্রায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ। এ ছাড়া, মাঠের বাইরে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও অবস্থান করছেন অনেক নেতাকর্মী। ফেনী ছাড়াও নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলা থেকে বাস, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যান ব্যবহার করে আসা নেতাকর্মীরা শহরের প্রবেশমুখে এসে মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছেন। মঞ্চে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও জেলার শীর্ষ নেতারা। নেতাকর্মীদের অনেকের হাতে তাদের দলীয় প্রতীক ধানের শীষ শোভা পাচ্ছে। আবার দলীয় মনোগ্রাম সম্বলিত টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, মাফলার পরে এসেছেন বহু নেতাকর্মী। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। পরশুরামের বীরচন্দ্র নগর থেকে আসা আবুল কাশেম বলেন, দীর্ঘদিন রাজনীতি করলেও সরাসরি কখনোই তারেক রহমানকে দেখার সুযোগ হয়নি। এর আগে তিনবার তিনি ফেনী আসলেও এবারই প্রথম দলীয় প্রধান হয়ে আসছেন। মাঝে দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে থেকে দল পরিচালনা করেছেন। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এই সফর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অনেক বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করছি। ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, এ জনসভার ফেনীর অতীতের সব উপস্থিতি ছাড়িয়ে যাবে। ইতোমধ্যে মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতি। শৃঙ্খলা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরাও কাজ করছেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ফেনী-১ আসনে বেগম খালেদা জিয়া পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ জনপদের সঙ্গে বেগম জিয়ার আত্মার সম্পর্ক ছিল। দলমত নির্বিশেষে জনপদের মানুষ এখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত। দলীয় প্রধানের জনসভায় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নিচ্ছেন। এদিকে জনসভা ঘিরে সব ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জনসভার মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে- রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। প্রায় দুই দশক সময় পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক ভিটা ফেনীর জনপদে তারেক রহমানের আগমন ঘিরে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের পাশের ভবনে সাঁটানো হয়েছে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে শহরজুড়ে অন্তত ১০টি পয়েন্টে বসানো হয়েছে বড় পর্দা। বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের এ জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে তার। এ সফরে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনী জনসভা শেষ করে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি জনসভায় তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সর্বশেষ জনসভায় অংশ নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এখন থেকে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা পাবে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন (বিএ) ডিসিপ্লিন এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট (এইচআরএম) ডিসিপ্লিনের সঙ্গে আইসিএমএবি’র পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সভাকক্ষে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। এমওইউতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী ও আইসিএমএবি’র পক্ষে ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষর করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক বিনিময় করা হয়। এমওইউ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, স্বাক্ষরিত এ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও উচ্চমানের পেশাদার কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট তৈরিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও আইসিএমএবি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন, পৃথকভাবে স্বাক্ষরিত দুটি সমঝোতা স্মারকের ফলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেশাদার হিসাবরক্ষণ শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ পাবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন— খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নূর আলম, প্রফেসর শেখ মাহমুদুল হাসান, এইচআরএম ডিসিপ্লিনের প্রধান মো. মেহেদী হাসান, আইসিএমএবি’র ভাইস-প্রেসিডেন্ট এস এম জহির উদ্দিন হায়দার, সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মো. সেলিম উদ্দিন ও খুলনা শাখার চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. এনামুল হক। এ সময় দুই ডিসিপ্লিনের শিক্ষকবৃন্দ এবং আইসিএমএবি’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এমওইউ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিএমএবি’র সিএমএ প্রোগ্রামে কোর্স মওকুফ সুবিধা। সমঝোতা অনুযায়ী, ব্যবসায় প্রশাসন ডিসিপ্লিন থেকে বিবিএ ডিগ্রিধারীরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সিএমএ প্রোগ্রামে একাধিক কোর্সে মওকুফ সুবিধা পাবেন। একইভাবে, বিবিএ অধ্যয়নের পাশাপাশি সিএমএ প্রোগ্রাম অনুসরণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম ৩.০০ সিজিপিএ অর্জন করলে বিষয়ভিত্তিক মওকুফ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মনোবিজ্ঞান বিভাগের ইউজিসি’র হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (এইচইএটি) সাব-প্রজেক্টের আয়োজনে ‘কগনেটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি’— শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার মনোবিজ্ঞান বিভাগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা নানা অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। চাওয়া-পাওয়ার ব্যবধান ও প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ ও প্রজন্মগত ব্যবধান—এই রূপান্তরকালীন সময়ে মানুষের মানসিক স্থিতি বজায় রাখতে মনোবিজ্ঞানের এ ধরনের কার্যক্রমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান পদ্ধতিগতভাবে অর্জনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবে, যা তাদের ব্যক্তি জীবন ও পেশাগত জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে রিসোর্স পার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ এবং সহকারী অধ্যাপক বিজন বাড়ৈ। মনোবিজ্ঞান বিভাগের হিট সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (এসপিএম) ও বিভাগের অধ্যাপক ড. অশোক কুমার সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দীন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আকরাম উজ্জামান ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেমা-তু-জোহরা বিনতে জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ।