২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় সূচিত হয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির সকল করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং করদাতাদের হয়রানি মুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
২০২৫-২৬ করবর্ষের বিশেষ সময়সীমা বৃদ্ধি:
চলতি ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে করদাতাদের ব্যাপক সাড়া এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির সুবিধার্থে এনবিআর কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূলত জাতীয় নির্বাচন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে করদাতাদের অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দিতেই সরকার এই স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে করদাতারা কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বার্ষিক আয়ের বিবরণী জমা দিতে পারছেন।
২০২৬-২৭ করবর্ষের আগাম প্রস্তুতি:
আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্মার্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এনবিআর। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর হিসাবের সুবিধা যুক্ত হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য রিটার্ন দাখিলকে একটি সহজ মোবাইল গেমিংয়ের মতো আনন্দদায়ক করে তুলবে।
কেন এই অনলাইন পদ্ধতি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ?
অনলাইন ট্যাক্স সাবমিশন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এখন নানাবিধ সুবিধা ভোগ করছেন:
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এনবিআর-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি হলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সাধারণ মানুষের সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম:
অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক করদাতার মাঝে প্রাথমিক দ্বিধা ছিল। এই দ্বিধা কাটাতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন তথ্যমূলক পেজ ও গ্রুপ করদাতাদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো 'My Lawyer, Income Tax Solution BD' ফেসবুক পেজটি। এই প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাতিঘর হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।
My Lawyer, Income Tax Solution BD পেজটি নিয়মিত লাইভ সেশন, টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং সহজবোধ্য পোস্টের মাধ্যমে কীভাবে ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হয়, তা সাধারণ মানুষকে শেখাচ্ছে। এমনকি জটিল আইনি বিষয়গুলোও তারা খুব সহজে ব্যাখ্যা করছে, যা হাজার হাজার মানুষের করভীতি দূর করতে সাহায্য করেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন বিনিয়োগ রেয়াত, ট্যাক্স রিবেট এবং সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি।
উপসংহার ও আহ্বান:
সরকার ও এনবিআর-এর এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের দেওয়া করই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। অনলাইন রিটার্ন দাখিল এখন নাগরিকের অধিকার ও সম্মানের প্রতীক।তাই বিলম্ব না করে বর্ধিত সময়সীমা অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিন। নিজে স্মার্ট হোন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হোন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশের কর ব্যবস্থায় সূচিত হয়েছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। সরকারের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যক্তিশ্রেণির সকল করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং করদাতাদের হয়রানি মুক্ত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। ২০২৫-২৬ করবর্ষের বিশেষ সময়সীমা বৃদ্ধি: চলতি ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে করদাতাদের ব্যাপক সাড়া এবং প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির সুবিধার্থে এনবিআর কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মূলত জাতীয় নির্বাচন ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে করদাতাদের অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ দিতেই সরকার এই স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে করদাতারা কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের বার্ষিক আয়ের বিবরণী জমা দিতে পারছেন। ২০২৬-২৭ করবর্ষের আগাম প্রস্তুতি: আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষে অনলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্মার্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এনবিআর। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর হিসাবের সুবিধা যুক্ত হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য রিটার্ন দাখিলকে একটি সহজ মোবাইল গেমিংয়ের মতো আনন্দদায়ক করে তুলবে। কেন এই অনলাইন পদ্ধতি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ? অনলাইন ট্যাক্স সাবমিশন বা ই-রিটার্ন ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ এখন নানাবিধ সুবিধা ভোগ করছেন: হয়রানি মুক্তি: আয়কর অফিসে যাওয়ার ঝামেলা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট থেকে করদাতারা এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। সঠিক হিসাব: ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে গাণিতিক ভুলের সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু অনলাইনে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয় ও বিনিয়োগ রেয়াত হিসাব করে দেয়। তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকার: রিটার্ন জমা দেওয়ার সাথে সাথেই পাওয়া যাচ্ছে একনলেজমেন্ট স্লিপ ও কর সার্টিফিকেট। নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা: করদাতার ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত হচ্ছে। পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি: এনবিআর-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে বর্তমানে টিআইএন (TIN) ধারীর সংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি হলেও নিয়মিত রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিবন্ধিত করদাতা: প্রায় ১ কোটি। যোগ্য করদাতা: প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে কর দেওয়ার যোগ্য সীমায় রয়েছেন। ই-রিটার্ন দাখিল: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ইতিমধ্যে ৩১ লক্ষাধিক করদাতা অনলাইনে তাদের রিটার্ন সফলভাবে জমা দিয়েছেন। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআর-এর মাধ্যমে সরকারের মোট রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। সাধারণ মানুষের সহায়তায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম: অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেক করদাতার মাঝে প্রাথমিক দ্বিধা ছিল। এই দ্বিধা কাটাতে ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। বিভিন্ন তথ্যমূলক পেজ ও গ্রুপ করদাতাদের বিনামূল্যে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো 'My Lawyer, Income Tax Solution BD' ফেসবুক পেজটি। এই প্ল্যাটফর্মটি সাধারণ করদাতাদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বাতিঘর হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। My Lawyer, Income Tax Solution BD পেজটি নিয়মিত লাইভ সেশন, টিউটোরিয়াল ভিডিও এবং সহজবোধ্য পোস্টের মাধ্যমে কীভাবে ঘরে বসে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে হয়, তা সাধারণ মানুষকে শেখাচ্ছে। এমনকি জটিল আইনি বিষয়গুলোও তারা খুব সহজে ব্যাখ্যা করছে, যা হাজার হাজার মানুষের করভীতি দূর করতে সাহায্য করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেল এবং ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন বিনিয়োগ রেয়াত, ট্যাক্স রিবেট এবং সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি। উপসংহার ও আহ্বান: সরকার ও এনবিআর-এর এই ডিজিটাল উদ্যোগ বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের দেওয়া করই দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। অনলাইন রিটার্ন দাখিল এখন নাগরিকের অধিকার ও সম্মানের প্রতীক।তাই বিলম্ব না করে বর্ধিত সময়সীমা অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিন। নিজে স্মার্ট হোন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হোন।
বাংলাদেশে নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আর্থিক স্থায়িত্ব রক্ষা এবং সামষ্টিক-আর্থিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। একই সঙ্গে সুশাসন জোরদার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য উন্নয়নের লক্ষ্যে মধ্যমেয়াদে সমন্বিত ও ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও সংস্থাটি জোর দিয়েছে। আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড ২০২৫ সালের আর্টিকেল-৪ পরামর্শ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এ অভিমত প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার পর ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার হয়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আইএমএফ জানায়, দুর্বল কর রাজস্ব সংগ্রহ এবং আর্থিক খাতের বিদ্যমান দুর্বলতার কারণে অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক-আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। সাহসী রাজস্ব ও আর্থিক সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে উল্লেখযোগ্য নিম্নমুখী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২৬ জানুয়ারি আইএমএফের নির্বাহী বোর্ড বাংলাদেশের জন্য আর্টিকেল-৪ পরামর্শ সম্পন্ন করে। এ সংক্রান্ত স্টাফ রিপোর্ট প্রকাশে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ সম্মতি দিয়েছে। আইএমএফের আর্টিকেল অব এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী, সদস্য দেশসংক্রান্ত নথি প্রকাশ স্বেচ্ছাসেবী এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্প্রতি শ্লথ হয়ে পড়েছে, যদিও মুদ্রাস্ফীতি এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ অর্থবছরের ৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৪ অর্থবছরের ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থেকে কমে ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে। ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় উৎপাদন বিলম্ব, কঠোর নীতিমালা এবং বিনিয়োগের মন্থর গতি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ অর্থবছরের শুরুতে মুদ্রাস্ফীতি দ্বিঅঙ্কের ঘর থেকে কমলেও অক্টোবরে তা আবারও ৮ দশমিক ২ শতাংশে (বার্ষিক ভিত্তিতে) অবস্থান করে। একই সময়ে কর রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও মূলধন ও সামাজিক খাতে ব্যয় কম হওয়ায় রাজস্ব ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। চলতি হিসাবের উন্নতির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধারের পথে যাবে। কর রাজস্ব সংগ্রহ জোরদার এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা মোকাবেলায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে এবং মধ্যমেয়াদে তা প্রায় ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। তবে ২০২৬ অর্থবছরে মুদ্রাস্ফীতি ৮ দশমিক ৯ শতাংশে থাকার পর ২০২৭ অর্থবছরে ধীরে ধীরে প্রায় ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। নির্বাহী বোর্ডের মূল্যায়ন: ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রশংসা করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পরিচালকরা। তবে তারা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ক্রমবর্ধমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নির্বাহী পরিচালকরা বলেন, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহ, ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা, নতুন বিনিময় হার কাঠামোর অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তারা একটি অসম কর্মসূচির বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সিদ্ধান্তমূলক, টেকসই নীতিগত পদক্ষেপ এবং সাহসী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পরিচালকরা। তারা বলেন, নতুন প্রশাসনের কর্মসূচির পূর্ণ মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা কর্মীদের সঙ্গে প্রাথমিক ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা এবং অংশীজনদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাহী পরিচালকরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজস্ব সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাহসী কর নীতি সংস্কার, কর কাঠামো সরলীকরণ এবং কর প্রশাসন ও সম্মতি জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ভর্তুকি যুক্তিসঙ্গতকরণ, প্রবৃদ্ধিবর্ধক বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার প্রদান, সামাজিক সুরক্ষা জাল সম্প্রসারণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি আর্থিক ও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তারা। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিশ্বাসযোগ্য সংস্কার কৌশল দ্রুত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন পরিচালকরা। এ ধরনের কৌশলে স্বল্প মূলধনীকরণের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ, আর্থিক সহায়তার পরিধি নির্ধারণ এবং আইনি ভিত্তিতে শক্তিশালী পুনর্গঠন ও সমাধান পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা বলেন তারা। একই সঙ্গে সব পদ্ধতিগত ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদের মান পর্যালোচনা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার এবং শাসনব্যবস্থা ও ব্যালেন্স শিটের স্বচ্ছতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। পরিচালকরা একমত হন যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি কঠোর ও সমন্বিত নীতি মিশ্রণ বজায় রাখা জরুরি। তারা বিনিময় হার সংস্কার এবং অধিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থার পূর্ণ ও ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন এবং দুর্বল ব্যাংকে অনিরাপদ তারল্য সরবরাহের বিষয়ে সতর্ক করেন। তারা বলেন, মুদ্রাস্ফীতি দৃঢ়ভাবে নিম্নমুখী ধারায় না আসা পর্যন্ত মুদ্রানীতি যথাযথভাবে কঠোর রাখা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে মুদ্রানীতি কাঠামোর আধুনিকীকরণ অব্যাহত রাখতে হবে। নির্বাহী পরিচালকরা আরও উল্লেখ করেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। সুশাসন ও স্বচ্ছতা জোরদার, দুর্নীতি দমন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ (এএমএল/সিএফটি) কাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি—বিশেষ করে তরুণদের জন্য—এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে নীতিগত সহায়তার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের সক্ষমতা উন্নয়ন ও মানোন্নয়নকে অপরিহার্য বলে মত দেন পরিচালকরা। আরএসএফ ব্যবস্থার আওতায় সংস্কারের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু অর্থায়ন সমন্বয়ে সহায়ক হতে পারে বলেও তারা উল্লেখ করেন। আইএমএফের চুক্তির ধারা-৪ অনুযায়ী, সংস্থাটি সাধারণত প্রতি বছর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করে থাকে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি দল বাংলাদেশ সফর করে অর্থনৈতিক ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিমালা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরবর্তীতে সদর দপ্তরে ফিরে কর্মীরা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে, যা নির্বাহী বোর্ডের আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আলোচনা শেষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নির্বাহী পরিচালকদের মতামতের সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন উচ্চতায় উঠেছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের খোঁজ—সব মিলিয়ে স্বর্ণে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি হয়েছে। সোমবার প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ৫ হাজার ৫০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়। যদিও সাম্প্রতিক দিনে দাম কিছুটা কমেছে, তবুও স্বর্ণ এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রুপার দামেও বড় উত্থান দেখা গেছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স রুপা লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৯৮ ডলারে, যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ৩৫ ডলার। স্বর্ণের দাম বাড়ার তিন কারণ: ১. ট্রাম্প-ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই উল্লম্ফনের অন্যতম বড় কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি। যেসব দেশকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল মনে করছেন না, তাদের ওপর শুল্ক আরোপ বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি করেছে। হ্যারগ্রিভস ল্যান্সডাউনের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ এমা ওয়াল বলেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে, যা স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রেখেছে। জানুয়ারিতে স্বর্ণ ও রুপার দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠলেও, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকির কারণে শেয়ারবাজারে পতন দেখা যায়। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইনের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও রাজস্বনীতির ঝুঁকির তুলনায় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা, ফলে ধাতুটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। ২. যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপও বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং এর ফলে মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা তখন নিরাপদ বিকল্প হিসেবে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকেছেন। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ঘোষণার পর ডলার তার মেয়াদে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায়। এমা ওয়াল বলেন, ‘বিশ্ব যখন অগোছালো মনে হয়, তখন স্বর্ণ ঠিক তার স্বভাবসুলভ কাজটাই করে—বাণিজ্য উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দাম লাফিয়ে বাড়ে। ৩. কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা স্বর্ণের দামের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণ কেনা। এমা ওয়ালের ভাষায়, বিনিয়োগকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণকে তাদের পছন্দের রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে দেখছে, কারণ এটি তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নীতির ওপর নির্ভরতা থেকে কিছুটা মুক্ত রাখে। রাশিয়ার ডলার সম্পদ জব্দের উদাহরণ অনেক দেশকে নিরপেক্ষ রিজার্ভ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যদিও ২০২২ সালের তুলনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার গতি কিছুটা কমেছে, তবুও চাহিদা এখনও তুলনামূলক বেশি। চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বর্ণ ক্রেতা। সেখানে গহনা কেনার পাশাপাশি বিনিয়োগ হিসেবেও স্বর্ণের চাহিদা রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগকারীরাও শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বর্ণ ব্যবসায় যুক্ত কোম্পানিগুলোতে বিপুল অর্থ ঢালছেন। পাশাপাশি নতুন ক্রেতারাও বাজারে বড় আকারে প্রবেশ করেছে। উদাহরণ হিসেবে, ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠান টেথার সম্প্রতি এত স্বর্ণ কিনেছে যে তাদের রিজার্ভ নাকি কিছু ছোট দেশের রিজার্ভকেও ছাড়িয়ে গেছে। দাম কমছে এক কারণে সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমার পেছনেও স্পষ্ট কারণ রয়েছে। বাজারে আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প এমন একজন ফেড চেয়ারম্যান নিয়োগ দিতে পারেন যিনি সুদের হার কমানোর দাবিতে নতি স্বীকার করবেন। এতে ডলার দুর্বল হবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে—যা সাধারণত স্বর্ণের দামের পক্ষে যায়। কিন্তু যখন খবর আসে যে ট্রাম্প তুলনামূলকভাবে ‘কঠোর’ হিসেবে পরিচিত কেভিন ওয়ার্শকে ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন দিতে পারেন, তখন স্বর্ণের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ কিছুটা কমে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার এক পর্যায়ে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের নিচেও নেমে আসে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দাম কমলেও স্বর্ণ এখনো এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। চলমান যুদ্ধ, শুল্কনীতি ও নতুন শুল্কের হুমকি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা স্বর্ণ ও রুপাকে এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় ‘নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবেই ধরে রেখেছে। শুক্রবারের দামের অস্থিরতা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—স্বর্ণ যেমন দ্রুত বাড়তে পারে, তেমনি সব পণ্যের মতোই এর দাম দ্রুত কমেও যেতে পারে।