জুন মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। সফরসূচিতে থাকছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং দুটি চার দিনের ম্যাচ, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ ‘এ’ দল।
সফরের সূচনা হবে সাদা বলের ক্রিকেট দিয়ে। প্রথম দুইটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে, ৮ ও ১০ জুন।
এরপর সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১৩ জুন রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে।
ওয়ানডে পর্ব শেষে সিরিজ গড়াবে লাল বলের ক্রিকেটে। চার দিনের দুইটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
প্রথম চার দিনের ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১৭ থেকে ২০ জুন, আর দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৪ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত।
এটি হবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের জন্য গত বছরের অক্টোবরের পর প্রথম মাঠে নামা, যখন তারা হারারে স্পোর্টস ক্লাবে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)-এর বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচ খেলেছিল।
একনজরে সফরসূচি:
১ম ওয়ানডে- ৮ জুন- বগুড়া
২য় ওয়ানডে- ১০ জুন- বগুড়া
৩য় ওয়ানডে- ১৩ জুন- রাজশাহী
ফোর ডেয়ার- ১৭ থেকে ২০ জুন- সিলেট
ফোর ডেয়ার- ২৪ থেকে ২৭ জুন- সিলেট।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর টানা দুই সিরিজে হতাশার পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে শ্রেয়াস আইয়ারের দল। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) হারারেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৫ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ওয়েসলে মাধেভেরে। এছাড়া টিনাশে মারুমানি ২৭, রায়ান বার্ল ২৬ এবং বেন কারেন ১০ রান করেন। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জিম্বাবুয়ের অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই অভিষেক শর্মাকে হারায় ভারত। তিনি ৮ বলে মাত্র ১ রান করে বিদায় নেন। এরপর বৈভব সূর্যবংশী ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ১৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি দ্রুততম ফিফটির নতুন রেকর্ড গড়েন এবং টি-টোয়েন্টিতে সর্বকনিষ্ঠ দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে নাম লেখান। তিনি ১৯ বলে ৫০ রান করে আউট হন। ইশান কিষাণ ২৪ বলে ৩৫ রান করেন। অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ২৪ বলে অপরাজিত ২৮ এবং তিলক ভার্মা ৫ বলে অপরাজিত ৬ রান করে দলকে ৭ উইকেটের জয় এনে দেন। ভারত মাত্র ৭ উইকেট হারিয়ে নয়, ৭ উইকেট হাতে রেখে এবং ৪০ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত, বাকি চারটিতে পরাজয়) সিরিজ হারায় ভারত। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই জয় সেই ব্যর্থতার ধারায় ইতি টানল।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে টটেনহ্যাম হটস্পার ছাড়ছেন আর্জেন্টাইন তারকা ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। সেই সঙ্গে ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘ ৫ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটছে। বিখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক ও দলবদল বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিজিও রোমানোর এক এক্সক্লুসিভ রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ক্লাব এবং খেলোয়াড়—উভয় পক্ষই এই গ্রীষ্মকালীন দলবদলে আলাদা হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন ২৮ বছর বয়সী এই তারকা। নিয়মিত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও শিরোপার জন্য লড়াই করা সম্ভব এমন একটি ক্লাবে যেতে চান এই তারকা সেন্টার-ব্যাক। ইতালিয়ান জায়ান্টরা বর্তমানে রোমেরোকে দলে ভেড়াতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। চুক্তিটি বেশ ব্যয়বহুল হলেও ইন্টারের প্রতিনিধিরা খুব শীঘ্রই তার এজেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনাও রোমেরোকে তাদের রক্ষণভাগের মূল লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বর্তমান স্কোয়াড থেকে কোনো ডিফেন্ডার দলত্যাগ করলেই কেবল তারা এই রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে নামবে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এখনো নতুন চুক্তি নিয়ে কোনো ঘোষণা না আসায় দলটির পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে জল্পনা চলছে। বিশ্বকাপে নাটকীয়ভাবে ফাইনালে উঠলেও শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কেপ ভার্দে, মিসর, সুইজারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছানো দলটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায়। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কালোনি। খবর ইয়াহু স্পোর্টসের। ২০২২ বিশ্বকাপ ও দুটি কোপা আমেরিকার শিরোপাজয়ী এই কোচের বিদায়ের পর তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন এমন চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। হাভিয়ের মাসচেরানো স্কালোনি দায়িত্ব ছাড়লে সবচেয়ে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ধরা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাভিয়ের মাসচেরানোকে। ৪২ বছর বয়সী এই কোচ ইন্টার মায়ামিকে ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জেতানোর পর ব্যক্তিগত কারণে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পদত্যাগ করেন। আর্জেন্টিনার হয়ে ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মাসচেরানো কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন দেশের বয়সভিত্তিক দলে। তিনি অনূর্ধ্ব-২০ এবং পরে ২০২৪ অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনেই হুলিয়ান আলভারেজ, জুলিয়ানো সিমিওনে ও থিয়াগো আলমাদার মতো কয়েকজন ফুটবলার সিনিয়র দলে জায়গা করে নেন। দিয়েগো প্লাসেন্তে আলোচনায় আছেন সাবেক ডিফেন্ডার দিয়েগো প্লাসেন্তেও। আর্জেন্টিনার হয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই ৪৯ বছর বয়সী কোচ অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্বে সফলতা দেখিয়েছেন। তার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ২০২৩ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে চতুর্থ হয়। এছাড়া ২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ ও দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয় দলটি। মার্সেলো গালিয়ার্দো সাবেক আর্জেন্টাইন মার্সেলো গালিয়ার্দোও অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তিনি। কোচ হিসেবে গত এক দশকে বিশ্বের অন্যতম সফলদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রিভার প্লেটের দায়িত্বে ১১ মৌসুমে এক ডজনের বেশি শিরোপা জেতান ৫০ বছর বয়সী এই কোচ। গত ফেব্রুয়ারিতে ক্লাবটির দায়িত্ব ছাড়লেও এখনও কোনো জাতীয় দলের কোচ হননি। আক্রমণাত্মক কৌশল, উচ্চ প্রেসিং এবং দ্রুত পাসভিত্তিক ফুটবলের জন্য পরিচিত গালিয়ার্দো মেসি পরবর্তী যুগে নতুনভাবে দল গঠনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে সক্ষম। আরিয়েল হোলান ৬৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ কোচ আরিয়েল হোলানও সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন। গত এক দশকে তিনি ৯টি ক্লাবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে রোজারিও সেন্ট্রাল ২০২৫ সালে আর্জেন্টাইন প্রিমেরা ডিভিশনের শিরোপা জেতে। যদিও মৌসুম শেষে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের নতুন নিয়মের কারণে শিরোপাটি কিছুটা বিতর্কের জন্ম দেয়। বর্তমানে প্যারাগুয়ের ক্লাব সেরো পোর্তেনিওর দায়িত্বে থাকা হোলানকে ২০২৮ কোপা আমেরিকাকে সামনে রেখে স্বল্পমেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন স্কালোনির ভবিষ্যৎ বা নতুন কোচ নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।