বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা ডা. জাকির নায়েককে আপাতত বাংলাদেশে আসার অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তিনি ঢাকায় আসতে পারবেন, তবে নির্বাচনের আগে নয়।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘স্পার্ক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান আগামী ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুই দিনের জন্য ডা. জাকির নায়েককে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তার ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে যাওয়ারও পরিকল্পনা ছিল।
সভায় জানানো হয়, ডা. জাকির নায়েক বাংলাদেশে এলে প্রচুর জনসমাগম হবে এবং তা নিয়ন্ত্রণে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। বর্তমানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সেই সংখ্যক সদস্য মোতায়েনের সুযোগ নেই। এ কারণেই নির্বাচনের আগে তার সফর অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ, পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরানে হামলার বিষয়ে মূল্যায়ন জানতে ইসরাইলি মন্ত্রিসভা মোসাদের কাছে জানতে চেয়েছিল। সংস্থাটির প্রধান ডেভিড বার্নিয়া যুদ্ধের আগে একটি পূর্বাভাসে বলেছিলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হতে সম্ভবত এক বছর সময় লাগবে। তবে কয়েক মাসের মতো বিকল্প সময়সীমার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। এক বছরই ছিল সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রাক্কলন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নামহীন কিছু সূত্র বার্নিয়ার বিরুদ্ধে পরোক্ষ আক্রমণ চালাচ্ছে। তারা অভিযোগ তুলছেন, তিনি ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাব্যতা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় সরকারকে বিভ্রান্ত করেছেন। এই বেনামী তথ্য ফাঁসের ঘটনাগুলো বার্নিয়ার জটিল অবস্থানকে আড়াল করছে বলে জানা গেছে। শাসনব্যবস্থা পতনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ক্রমবর্ধমান সম্ভাবনার দায় বার্নিয়া এবং মোসাদের ওপর চাপিয়ে তাদের কলঙ্কিত করার উদ্দেশ্যেই এটি করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। চ্যানেল ১২-এর 'উভদা' রিপোর্ট এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের পেছনে থাকা সূত্রগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের মধ্য থেকে হতে পারে। দায় এড়াতে কেউ কেউ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীরও হতে পারে। এই তিনটি কার্যালয়ই এখন প্রতিদিন একই প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে—কেন তারা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে এখনও সফল হননি। বার্নিয়ার সতর্কতামূলক পূর্বাভাস প্রকৃতপক্ষে, গত কয়েক বছরের যুদ্ধে বার্নিয়া এবং তার নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলো সম্পর্কে অবগতরা জানেন, তিনি সবসময়ই অনেক শর্ত জুড়ে দিয়ে পূর্বাভাস দেন। আমূল পরিবর্তনকারী কোনো ঘটনা অনিবার্য—এমন কথা তিনি খুব কমই বলেন। বার্নিয়া সৃজনশীল চিন্তাবিদ হলেও প্রতিষ্ঠানের অনুগত ব্যক্তি। তিনি নেতানিয়াহুর নির্দেশ অনুযায়ী নীতি তৈরি করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক যুদ্ধের পথে তাকে ঠেলে দেন না। জানুয়ারির মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রে বার্নিয়ার বহুল আলোচিত সফরের সময় বা অন্যান্য আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে তিনি যা উপস্থাপন করেছিলেন, তাও ছিল নেতানিয়াহুর কঠোর নিয়ন্ত্রণে। এটি বার্নিয়ার কোনো স্বতন্ত্র অভিযান ছিল না। বার্নিয়ার মেয়াদের আগের বছরগুলোতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল যখন নেতানিয়াহু চেয়েছিলেন মোসাদ কোনো একটি অভিযান পরিচালনা করুক, কিন্তু বার্নিয়া অনুমোদনের চাপ থাকা সত্ত্বেও ব্যাখ্যা করেছিলেন যে সেটি ছিল অবাস্তব। 'উভদা' রিপোর্টে যুদ্ধের প্রাক্কালে বার্নিয়া নেতানিয়াহুর সামনে ইরানি শাসনব্যবস্থা পতনের সম্ভাবনার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হলেও, নিবন্ধটির পরের দিকে বার্নিয়া এই পূর্বাভাসের সঙ্গে যেসব শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন তার বিস্তারিত উল্লেখ ছিল। প্রতিবেদনে অস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, মোসাদ প্রধানের তৎকালীন উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং এটি সম্পন্ন হতে সম্ভাব্য সময়কাল নিয়ে কিছু দ্বিধা ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বার্নিয়া নেতানিয়াহুকে বলেছিলেন যুদ্ধ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই তার সংস্থা সম্ভবত ইরানি বিরোধী দলকে চাঙ্গা করতে সক্ষম হবে। দাঙ্গা ও বিদ্রোহের অন্যান্য কর্মকাণ্ড উসকে দিয়ে এমনকি ইরান সরকারের পতনও ঘটাতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই গোয়েন্দা প্রধান গত জানুয়ারির মাঝামাঝি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও একই প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে অতিমাত্রায় আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার জন্য নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পকে দায়ী করা হয়েছে, যা মার্কিন কর্মকর্তা ও ইসরাইলি অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের পূর্বাভাসের বিপরীতে গিয়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে পরিচালিত করেছে। এরপর প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুকে এমনভাবে চিত্রিত করা হয়েছে যে, তিনি যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে মোসাদ শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ব্যর্থ হওয়ায় ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলেন, যার ফলে ট্রাম্পের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বেনামী সূত্রগুলোর আক্রমণ সত্ত্বেও বলা প্রয়োজন যে, এর কোনো প্রমাণ নেই যে মোসাদ আইডিএফের জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যের বাইরে ভিন্ন কোনো মত প্রকাশ করেছিল। আইডিএফের অবস্থান ছিল—সামরিক শক্তি বড়জোর যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে মোসাদের পরিকল্পনার একটি উপাদান হিসেবে উত্তর ইরাকে অবস্থিত ইরানি কুর্দি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণকে সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাইহোক, ট্রাম্প নিজে এ ধরনের পদক্ষেপের বিষয়ে জনসমক্ষে অনীহা প্রকাশ করেছেন, যদিও প্রতিবেদনগুলো দাবি করছে বার্নিয়া তাকে এটি করতে রাজি করিয়েছিলেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি বার্নিয়ার মার্কিন সফর কতটা প্রভাবশালী ছিল তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সুযোগ ও ঝুঁকির তুলনামূলক সূক্ষ্ম উপস্থাপনার ক্ষেত্রে বার্নিয়া বেশ প্রভাবশালী ছিলেন কিনা তা সম্ভবত। কিন্তু প্রায় এক মাস পর ১১ ফেব্রুয়ারি নেতানিয়াহুর জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং যুদ্ধ শুরুর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করলে এটি দাবি করা কঠিন যে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বার্নিয়া পুরো এজেন্ডা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। আক্রমণাত্মক মেজাজ নিয়ন্ত্রণের ইতিহাস ইরানের ব্যাপারে বার্নিয়ার নিজের আক্রমণাত্মক মেজাজকে ধৈর্যের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার একটি দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নেতানিয়াহুর বর্তমান মেয়াদের আগে বার্নিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের অধীনে কাজ করেছিলেন। এই দুই কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে ইসলামি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর জন্য 'ডেথ বাই অ্যা থাউজেন্ড কাটস' নামক একটি কৌশল যৌথভাবে প্রণয়ন করেছিলেন। জানুয়ারির শুরুতে ইরানের রিয়াল মুদ্রার ধস, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং দেশব্যাপী পানি সরবরাহের সংকট নিয়ে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে মোসাদের নামে কিছু টুইটার বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। পানি সরবরাহ প্রসঙ্গে ২০২২ সালে প্রকাশিত 'টার্গেট তেহরান' বইয়ে এক সাক্ষাৎকারে নাফতালি বেনেট বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার নেওয়া একটি ব্যাপক নীতি পর্যালোচনায় তিনি দেখেন যে, ইরানি শাসনব্যবস্থা বর্তমানে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত এবং বেশ অযোগ্য। দেশের বিশাল এলাকায় পানি পৌঁছায় না। কল ছাড়লে কাদা বের হয়। সব জায়গায় বিক্ষোভ হচ্ছে এবং মানুষ আইআরজিসির ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বেনেট মনে করতেন শাসনব্যবস্থার এই দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার অবকাশ রয়েছে। একটি বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি বার্নিয়াকে এই বলে প্রভাবিত করেছিলেন যে, সংস্থাটিকে আরও আক্রমণাত্মক হওয়ার ক্ষেত্রে আরও সৃজনশীল হতে হবে। বেনেট তার নতুন দপ্তরে নিজের ছাপ রাখতে চেয়েছিলেন এবং বার্নিয়ার আক্রমণাত্মক সহজাত প্রবৃত্তিকে উৎসাহিত করতেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্নায়ুযুদ্ধের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেনেট প্রথাগত সামরিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে 'সহস্র ক্ষত দিয়ে মৃত্যু' কৌশলে ইরান সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। একটি সমান্তরাল বর্ণনা অনুযায়ী, এই প্রবৃত্তিগুলো শুধু বিকশিতই ছিল না, বরং বার্নিয়াই বেনেটকে আরও সাহসী হতে এবং ইরানের সঙ্গে 'খেলার নিয়ম' ইসরাইলের অনুকূলে বদলে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, বার্নিয়া বেনেটকে পিটার শোয়াইজার-এর লেখা 'ভিক্টরি: দ্য রিগান অ্যাডমিনিস্ট্রেশনস সিক্রেট স্ট্র্যাটেজি দ্যাট হাসেন্ড দ্য কোলাপস অব দ্য সোভিয়েট ইউনিয়ন' বইটি উপহার দিয়েছিলেন। এতে একটি স্বৈরাচারী শাসনের সহজাত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডিজাইন করা ডজনখানেক অ-সামরিক কৌশলের বর্ণনা ছিল। গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোনো প্রতিবেদনে ৮-৯ জানুয়ারি নির্যাতিত হওয়া ১০ লাখ ইরানি বিক্ষোভকারীকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ব্যর্থতার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়নি, যেখানে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ১৪ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের 'সহায়তা আসছে' টুইটের কাছাকাছি সময়ে ট্রাম্পকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু না করার জন্য নেতানিয়াহুর করা কথিত ফোনালাপের বিষয়টিও কোনো প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে সংবাদটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা মোসাদ কেউই এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মস্থলে ফেরার পালা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই ঢাকায় ফিরছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা বিভিন্ন রুটের বাসে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অধিকাংশ বাসই ছিল যাত্রীপূর্ণ, তবে এখনো কিছু যাত্রী গ্রামমুখী যাত্রাও করছেন। ঢাকায় আগেভাগে ফেরা যাত্রীদের মধ্যে আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত। আগামীকাল ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও ভিড় ও ভোগান্তির আশঙ্কায় একদিন আগেই খুলনা থেকে ঢাকায় ফিরে এসেছেন। তিনি জানান, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হয়েছে, তবে ভিড় এড়াতে আগেভাগে ফেরা ছাড়া উপায় ছিল না। এদিকে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার কর্মী মেহেদী বলেন, সকালে থেকেই ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বেশিরভাগ বাসই পূর্ণ যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরছে, তবে ঢাকাগামী যাত্রার ক্ষেত্রে এখনো কিছু আসন ফাঁকা থাকছে। অন্যদিকে বরিশাল–বাগেরহাট রুটের দিগন্ত পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার শাহজাহান জানান, বর্তমানে ফিরতি যাত্রী তুলনামূলক কম থাকলেও আগামীকাল থেকে চাপ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ঢাকামুখী যাত্রার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, তবে ঈদের পর যাত্রী সংকট রয়েছে। সবমিলিয়ে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েকদিনে এ চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
ইসরাইল-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে এর পরিণতি নিয়ে ব্রাসেলসে বৈঠক করছেন ইউরোপীয় সরকারপ্রধানরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পুরো সংস্থা হিসেবে নেওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে আসলে কোনো একমতে পৌঁছাতে পারেনি। এদিকে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হবে এবং আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। তাই আমরা যা আশা করতে পারি, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে, তা হলো খুব বেশি জ্বালানি খরচ। নেতারা দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছেন তথাকথিত জ্বালানি বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে, যা জ্বালানি রূপান্তর দ্রুত করতে ব্যয়বহুল একটি ব্যবস্থা। কিন্তু সাধারণ একমত ছিল যে, কোনো একমত নেই। সন্ধ্যার শেষে দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।