সারাদেশ

বাজারে অচল ১ টাকার কয়েন, ভিক্ষুকও নিতে নারাজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
বাংলাদেশি ধাতব মুদ্রা। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশি ধাতব মুদ্রা। ছবি : সংগৃহীত

সরকারি মুদ্রা হওয়া সত্ত্বেও নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ১ টাকার ধাতব মুদ্রা কার্যত লেনদেনের বাইরে চলে যাচ্ছে। কাঁচাবাজার, মুদি দোকান, চায়ের দোকান, গণপরিবহন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অনেকেই এই কয়েন গ্রহণে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায়। এমনকি ভিক্ষুকও ১ টাকার কয়েন নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।

 

অনেকের অভিযোগ, ব্যাংকেও কয়েন জমা দিতে গিয়ে নানা ধরনের জটিলতায় পড়তে হয়।

 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কথা বলে জানা যায়, খুচরা হিসেবে ১ টাকার কয়েন দিলে অনেক দোকানি তা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে ক্রেতাদের কখনো অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে, আবার কোথাও ১ টাকার পরিবর্তে চকলেট বা অন্য কোনো সামগ্রী নিতে হচ্ছে। সরকারি মুদ্রা হাতে রেখেও ব্যবহার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ভুক্তভোগী।

 

চা-পানের দোকানদাররা জানান, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ১ টাকার কয়েন প্রত্যাখ্যান করছেন না। তাদের দাবি, খুচরা লেনদেন থেকে সংগৃহীত এসব কয়েন পাইকারি বাজারে সহজে গ্রহণ করা হয় না।

 

কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী শফিক জানান, কয়েন জমে থাকলেও তা পুনরায় প্রচলনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়েই নতুন করে ১ টাকার কয়েন গ্রহণে অনীহা তৈরি হয়েছে।

 

একাধিক ভিক্ষুক জানান, ১ টাকার কয়েন নিয়ে দোকানে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয় না। প্রয়োজনীয় কোনো পণ্যও কেনা যায় না। তাই তারাও এখন ১ টাকার কয়েন নিতে আগ্রহী নন।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্র কর্তৃক ইস্যুকৃত ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা বৈধ লেনদেনের মাধ্যম। এসব মুদ্রা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো আইনসম্মত নয়। তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় সরকারি মুদ্রার কার্যকর ব্যবহার নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, বাজারে কয়েনের স্বাভাবিক প্রচলন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তদারকি এবং ব্যাংকগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে কেন ব্যাংক ও পাইকারি পর্যায়ে কয়েন ব্যবহারে অনীহা তৈরি হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যথায় সরকারি মুদ্রা কার্যত অচল হয়ে পড়ার এই প্রবণতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

 

সোনালী ব্যাংক পূর্বধলা শাখার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের শাখায় ১ টাকা, ২ টাকা, ৫ টাকাসহ সব ধরনের বৈধ ধাতব মুদ্রা নিয়মিত গ্রহণ ও বিতরণ করা হয়। গ্রাহকরা এসব কয়েন জমা দিতে পারেন, আবার প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তোলনও করতে পারেন। ব্যাংকে কোনো ধরনের কয়েন গ্রহণে বাধা নেই।’

 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘এক টাকার কয়েন বাংলাদেশ সরকারের বৈধ মুদ্রা। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে এ কয়েন গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে তা আইনসম্মত নয়। বাজারে কয়েন না নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
হামের ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। দ্রুত ভ্যাকসিন কেনার জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে তিন দফা অনুরোধও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করে ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় ওই সরকার। এর আগে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারও কয়েক বছর হামের ভ্যাকসিন দেয়নি। এমন দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।   সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।   হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্টক যাচাই করে দেখা যায়, দেশে হামের কোনো ভ্যাকসিন মজুত নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ ও গ্যাভিকে ডাকা হয়। আমরা মাত্র ২১ দিনের মধ্যে দেশে হামের ভ্যাকসিন নিয়ে আসি। এরপর দেশের অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।   সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবীর, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান শান্ত, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি’: চেম্বার সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদক

ছবি: সংগৃহীত

সীতাকুণ্ডে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু: নিরাপত্তা গাফিলতিকে দায়ী করে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

বান্দরবানে পাহাড়ি সড়কে গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু, আহত ৩

বান্দরবানে থানচিতে পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ল্যান্ড স্কুজার গাড়ি উল্টে দেরাজ মিয়া (৬০) নামে গাড়ি চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী আরও ৩ জন।   রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে তমাতুঙ্গী সড়কের ১০ কিলো নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত চালক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উজিরহাট এলাকার কবির আহমদের ছেলে।   পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গাড়িতে করে অবৈধ পাথর ব্যবসায়ী লেমনপাড়া থেকে থানচির দিকে ফিরছিলেন। ফেরার পথে ঢালুতে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। এসময় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে চালক নিহত হয়। এ ঘটনায় আহত হয় গাড়ী থাকা আরও অবৈধ তিন পাথর ব্যবসায়ী। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।   বান্দরবান পুলিশ সুপার থা. ওয়াবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘থানচিতে সড়ক দূর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ৩ জন। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬

এক লাখ টাকায় ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কিনেছেন বাবা

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

ছবি: সংগৃহীত

‘সরকারকে পাত্তা দেওয়ার দরকার নেই’, মত প্রকাশে সরকার ‘উদার’: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত আছে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশের সকল জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য মজুত আছে। কোনো অসুবিধা নেই। সাধারণ জনগণের কাছে যে চাল-গম আছে সেগুলো আমরা ঠিকমতো সরবরাহ করতে পারবো।    রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকায় অবস্থিত খাদ্য গুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।   দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এই পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছি। যাতে দেশে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে পারি, ঠিক সেভাবেই মজুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   খাদ্যের সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে আমি তো বেশি দিন হয়নি দায়িত্ব নিয়েছি। মাত্র কয়েকদিন হয়েছে। অতএব আমাকে দেখতে হবে, অবজারভেশন করতে হবে, আসলেই সত্যি কোনটি বা কি হচ্ছে? তারপর এই সম্পর্কে মতামত দিতে পারবো।   এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাছরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লালদিয়া টার্মিনাল হবে বৈশ্বিক লজিস্টিকসের হাব: অর্থমন্ত্রী

ফাইল ছবি

কাপ্তাই হ্রদে পানি বৃদ্ধি: ১৬ গেট খুলে ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন

রূপগঞ্জে অটো রাইস মিলে ব্রয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ২

0 Comments