ঢালিউড অভিনেতা আরিফিন শুভ ও কলকাতার অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তীর সিনেমা ‘নীলচক্র’ গত বছর ঈদে মুক্তি পায়। এ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ করেই তৈরি হয়েছে শোরগোল।
ইউটিউবে ‘চক্রব্যূহ’ নামে ১ ঘণ্টা ৫১ মিনিটের একটি সিনেমা প্রকাশ পাওয়ার পর সৃষ্টি হয় সেই বিভ্রান্তি। সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা এটিকে শুভ-মন্দিরা জুটির নতুন সিনেমা ভেবে দেখার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়লে পরে বুঝতে পারেন, এটি আসলে তাদের আগের সিনেমা ‘নীলচক্র’-এর একটি এডিটেড ভার্সন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্মিত ‘নীলচক্র’ সিনেমাটির ভাষা বদলে কলকাতার স্টাইলে ডাবিং করা হয়েছে। এমনকি কিছু কিছু দৃশ্যেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এমন অদ্ভুত কাণ্ড দেখে রীতিমতো অবাক দর্শকমহল। সামাজিক মাধ্যম নেটিজেনদের প্রশ্ন—তবে কি কপিরাইট বিক্রি করে সিনেমাটি নতুন নামে মুক্তি দেওয়া হয়েছে?
সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ‘নীলচক্র’ সিনেমার পরিচালক মিঠু খান এ ঘটনার কথা শুনে অবাক হন। ইউটিউবে এমন সংস্করণের কথা তিনি জানতেনই না বলে জানিয়েছেন।
ভিডিওটি দেখার পর পরিচালক বলেন, এটা কীভাবে ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে আমি জানি না। কোনো ইউটিউব চ্যানেলের কাছে আমরা এর কপিরাইট বিক্রি করিনি। আমাদের না জানিয়ে কে বা কারা এটি করেছে, তা আমরা খুঁজে বের করব এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব বলে জানিয়েছেন মিঠু খান।
‘নীলচক্র’ সিনেমার ডিজিটাল সংস্করণ পরিচালক বা প্রযোজনা সংস্থার বাইরে অন্য কারও কাছে থাকার কথা নয় জানিয়ে মিঠু খান বলেন, সিনেমাটির কাজ আমি করেছি। পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ হয়েছিল কলকাতায়। তাই সেখানে একটি কপি ছিল।
তিনি বলেন, আমার ধারণা—ল্যাবে কাজের সঙ্গে যুক্ত কেউ আমাদের অজান্তে এটি ইউটিউবে প্রকাশ করে দিয়েছে। এভাবে সিনেমাটি পাইরেটেড হওয়ার কারণে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়লাম। আমরা দ্রুত এটি সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বলিউডে বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট। বি-টাউনে নির্মাতাদের কাছে যার কাজের চাহিদাও কয়েকগুণ বেশি। অভিনয়ের প্রতি তার দায়িত্বশীলতা ও ভালোবাসা তাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। তবে মা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবন। এত সফলতার মাঝেও মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না এই সুন্দরীর। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের সদগুরুর সোশ্যাল হ্যান্ডেল এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ভিডিও প্রকাশ হওয়া মাত্রই তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায় সদ্গুরুর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আলিয়া ভাট । সেই সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে সদগুরুর কাছে আলিয়া জানতে চান, কীভাবে ভালো অভিভাবক হওয়া সম্ভব? এবং রাহাকে নিয়ে যে তিনি সব সময়ই দুশ্চিন্তায় ভোগেন সে কথাও তুলে ধরেন। অভিনেত্রীর এমন প্রশ্নের জবাবে সদগুরু বলেন, ‘যে অভিভাবকরা সবসময় সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। তাঁরা কখনই ভালো মা-বাবা হতে পারেন না। দুশ্চিন্তা করলে, কখনই সন্তান বড় করা যাবে না। তার চেয়ে বরং নিজের ছন্দে বাচ্চাকে বড় হতে দেওয়া উচিত। মা-বাবার উচিত, সন্তানের স্তম্ভ হয়ে থাকা।‘ প্রসঙ্গত, আলিয়া বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিব রাওয়াইল এর পরিচালনায় নির্মিতব্য সিনেমার আলফা নিয়ে। যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন ববি দেওল, শর্বরীসহ আরও অনেকে। আইএমডিবির তথ্য মতে এ ছবিটির মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ১০ জুলাই। এদিকে সঞ্জয় লীলা বানসালীর ‘লাভ এন্ড ওয়্যার’ এও দেখা যাবে আলিয়াকে। এ সিনেমায় আলিয়ার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর, ভিকি কৌশল, বোমান ইরানিসহ আরও অনেকে।
ঢাকাই সিনেমার এ সময়ের ব্যস্ততম নায়ক শাকিব খান। দুই যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ধরে রেখেছেন। শাকিব মানেই যেন দর্শকের উচ্ছ্বাস ও প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের ভরসার নাম। প্রযোজক-পরিচালকরাও তাই শাকিবেই খুঁজে পান আস্থা। প্রতি বছরের দুই ঈদে ধারাবাহিকভাবেই মুক্তি পাচ্ছে এ নায়কের সিনেমা, যা অনেক হল মালিকেরই মুখে হাসি ফুটিয়েছে। খুলেছে অনেক বন্ধ হয়ে যাওয়া সিনেমা হল। এ বছরও শাকিব অভিনীত ‘প্রিন্স’ নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। এটি নির্মাণ করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। তবে এবার যেন শাকিব অনেকটা নিস্তেজ। কিন্তু এখানে নায়কের ব্যর্থতা খুব একটা আছে এমনটাও নয়। অন্যদিকে পুরোটা সফল হয়েছেন এমনও বলা যাবে না। ঈদে মুক্তির পর থেকেই শাকিব অভিনীত ‘প্রিন্স’ নানা জটিলতায় পড়েছে। সর্বাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমা ঈদের দিন থেকেই স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখা যাচ্ছে না। কারিগরি ত্রুটির কারণেই এমনটা হয়েছে বলে জানান প্রযোজক ও পরিচালক। ঈদের চতুর্থ দিন থেকে দেখানো গেলেও, বেশ কয়েকটি শাখায় টিকিট বিক্রি হওয়ার পরও থিয়েটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দর্শকের টাকা ফেরত দিতেও দেখা গেছে সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে। এ পরিস্থিতিতে প্রত্যাশার জায়গা থেকে খানিক পিছিয়ে রয়েছে শাকিবের ‘প্রিন্স’। তবে যে ভরাডুবি হয়েছে এমনটাও বলা যাবে না। সিঙ্গেল স্ক্রিনে এখনো দাপট দেখাচ্ছে সিনেমাটি। এ কারণে বিশ্লেষকদের মতে, শাকিব এবার অনেকটা নিস্তেজ তবে দমে যাননি। এদিকে শাকিব বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন তার নতুন সিনেমার শুটিং নিয়ে। জানা গেছে, তিনি এখন ‘রকস্টার’ সিনেমার শুটিং করছেন মালয়েশিয়ায়। এরই মধ্যে কয়েক দিনের শুটিং সম্পন্ন করেছেন। অন্যদিকে আগামীকাল শাকিবের জন্মদিন। ১৯৭৯ সালের ২৮ মার্চ গোপালগঞ্জে জন্ম তার। আর এ বিশেষ দিনেই জন্মদিনের উপহার হিসেবে প্রকাশ হবে ‘রকস্টার’ সিনেমার টিজার। এমনটাই জানান পরিচালক আজমান রুশো। পরিচালক বলেন, ‘খুব বেশি ট্রেন্ডি একজন রকস্টার লুক আমরা দেখাব, যিনি বিলং করেন এই সময়ে। তিনি একজন রক মিউজিশিয়ান, নিজে গান লেখেন এবং নিজেই কম্পোজিশন করেন। এ আইডিয়া থেকে আমরা রকস্টার ক্যারেক্টার ডিজাইন করেছি। আজ তার (শাকিব খান) জন্মদিন উপলক্ষে আমরা এটি সবার জন্য প্রকাশ করব।’ নির্মাতার ভাষ্যমতে, প্রায় ২৭ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাকিব এ ধরনের চরিত্র এবারই প্রথম করছেন। এজন্য তিনি শুটিংয়ের আগে কয়েক দিন অনুশীলন করে গিটারও শিখেছেন। রকস্টারের গল্প, নির্মাণশৈলী এবং শাকিব খানের লুকসহ সবকিছুতেই নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা হয়েছে। ‘রকস্টার’-এর চিত্রনাট্য করেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন। সান কমিউনিকেশন প্রযোজনা করেছে সিনেমাটি। এতে শাকিবের বিপরীতে দ্বিতীয় নায়িকা হিসেবে রয়েছেন তানজিয়া জামান মিথিলা। প্রধান নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূর রয়েছেন এমনটা শোনা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি সংশ্লিষ্টরা। দর্শকও নিশ্চয়ই অপেক্ষায় রয়েছেন নতুন রূপে শাকিবকে দেখার জন্য। প্রতিটি সিনেমায় এ নায়ক নতুন কিছু নিয়েই পর্দায় হাজির হচ্ছেন, যা গত কয়েক বছরে প্রমাণিত। এবারও এমনটাই প্রত্যাশা সবার। প্রসঙ্গত, শাকিবের জন্ম গোপালগঞ্জ হলেও তার শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। ১৯৯৯ সালে সোহানুর রহমান সোহানের ‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমা দিয়ে অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি দর্শকপ্রিয় এ নায়ককে।
বোতলজাত পানীর আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন তোলপাড়। আমাদের দেশে সাধারণত এক বোতল পানির জন্য আমরা বড়জোর ২০ বা ৫০ টাকা খরচ করতে অভ্যস্ত, কিন্তু ভারতে সেই পানির দাম ২০০ রুপি! শুনতে অবাক লাগলেও বলিউড অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকরের নতুন ব্র্যান্ড ‘ব্যাকবে’ ঠিক এই কারণেই এখন নেটিজেনদের কাছ থেকে সমালোচনা ও ট্রলের শিকার হচ্ছে। তবে এবার বিষয়ে মুখ খুলেছেন এই সুন্দরী। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে বোন সমীক্ষার সঙ্গে হাত মিলিয়ে হিমাচল প্রদেশে নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট খুলে এই ব্যবসা শুরু করেছিলেন ভূমি। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল দাম নিয়ে। বর্তমানে তাঁদের ৫০০ মিলিলিটারের ১২টি বোতলের প্যাকেটের দাম পড়ছে প্রায় ১,৫৫৬ রুপি। অর্থাৎ একটি ছোট বোতলের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৩০ রুপির আশেপাশে। আর ৭৫০ মিলিলিটারের পানির বোতল বিক্রি হচ্ছে ১৭৬ থেকে ২০০ রুপিতে। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে অবশেষে মুখ খুলেছেন ভূমি। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে বিতর্কের জবাব দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী জানান, তিনি যে ক্যাটেগরিতে ব্যবসা করছেন, সেখানে অন্য নামী ব্র্যান্ডের জলের দাম এর চেয়েও অনেক বেশি। ভূমি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার পানি দামি, এটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা তো সাধারণ মানুষের জন্য নয়, এটা প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট। বাজারে অনেক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড আছে যেগুলোর দাম ৫০০-৬০০ টাকা। সেগুলোর তুলনায় আমার ব্র্যান্ডের দাম তো অনেক কম।‘ অভিনেত্রীর দাবি, মাত্র ১৭ বছর বয়সে যশ রাজ ফিল্মস থেকে পাওয়া প্রথম ৭,০০০ রুপি মাইনে থেকেই তিনি বিনিয়োগ করতে শুরু করেছিলেন। আর সেই তিল তিল করে জমানো টাকাতেই আজ ‘ব্যাকবে’ দাঁড়িয়ে আছে। কোনও বাইরের বিনিয়োগ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের টাকায় এই ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। তবে তিনি শুধু পানির ব্যবসায় থেমে যাননি, এবার তিনি সাধারণ পানির ব্র্যান্ড থেকে এখন পূর্ণাঙ্গ ‘বেভারেজ ব্র্যান্ড’ হওয়ার পথে। এদিকে ভূমিকে সবশেষ দেখা যায়, সুরেশ ত্রিবেনীর পরিচালনায় নির্মিত ওয়েব সিরিজ ‘ডালডাল’ এ। এই সিরিজে ভূমির পাশাপাশি অভিনয় করেছেন সামারা তিজোরি, নাদিম খান, গীতা আগরাওয়ালসহ আরও অনেকে।