অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন।
এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল।
অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে।
দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন।
এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হলেন আরেক বাংলাদেশি এলিজা আজাদ রহমান। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সিডনির ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সরকারে প্রথম কোনো বাংলাদেশি নারী ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হলেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলকক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এলিজা আজাদ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হন। এলিজা আজাদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দলীয় সমর্থনের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে এই দায়িত্ব পাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আমার দায়বদ্ধতা ও কাজের পরিধি আরও বাড়ল। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এলিজা আজাদের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায়। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আজাদুল ইসলামের মেয়ে। দুই দশকের বেশি সময় আগে এলিজা আজাদ শিক্ষার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি ক্যামডেন কাউন্সিলের নর্থ ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই যাত্রায় স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানালেন এলিজা আজাদ। তিনি বলেন, তা ছাড়া বাংলাদেশি ও স্থানীয় বহু সাংস্কৃতিক কমিউনিটির সমর্থন তিনি পেয়েছেন। তারা তার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এর আগে, বাংলাদেশি সুমন সাহা সিডনির কাম্বারল্যান্ড সিটি কাউন্সিল ও মাসুদ খলিল ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। আরেক বাংলাদেশি মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ক্যাম্বেলটাউন সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এলিজা আজাদ ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি। সিডনির ডেনহ্যাম কোর্টের বাসিন্দা বোরহান খান লিমন বলেন, এলিজা আজাদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন। স্থানীয় সরকারে তার এই অবস্থান প্রবাসী বাংলাদেশিদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে, সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করছেন। এলিজা আজাদ বলেন, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে অবস্থান তৈরি করা সহজ ছিল না। তিনি চান, নারীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বে আরও এগিয়ে আসুক।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অকার্যকর করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় থাকা একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ওমান উপসাগর ও ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, রোববার ও সোমবার হরমুজ প্রণালিতে টহলরত মার্কিন যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পাঁচটি ট্যাংকারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মার্কিন বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার পাঁচটি জাহাজ হলো—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া। এর মধ্যে প্রথম চারটি ওমান উপসাগরে এবং অপর জাহাজটি খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল। সেন্টকম জানিয়েছে, হামলায় ট্যাংকারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে কোনো ক্রু নিহত বা আহত হননি। মার্কিন বাহিনী হামলার আগে জাহাজগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আইআরআইবিও ট্যাংকারে মার্কিন হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি: ট্যাংকারে হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের আল আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। জর্ডানের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, আল আজরাক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে দেশটির এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর তার জবাব হিসেবে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ‘ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ পরিচালনা করা হয়েছে। দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্তের দাবি: হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগও স্বীকার করেছে আইআরজিসি। সংগঠনটির দাবি, ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএস নেভি ডিডিজি-১১৯ এবং ইউএস নেভি ডিডিজি-৫৩—গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরগুলোতে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে সংগঠনটি ওই দুই দেশের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের দ্রুত জাহাজ ত্যাগ করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা ও হুমকির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা
মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান তাঁর। এ ছাড়া ইরান যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন তুর্ক। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে অক্টোবরে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেবেন ভলকার তুর্ক। এর আগে সোমবার জেনিভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন তিনি। উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবজাতির জন্য অস্তিত্ব সংকট তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তুর্ক। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, ‘খুব দেরি হওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হোক। আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাগুলোকে চিঠিতে এখনই ঝুঁকি কমাতে পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানাব।’ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি এআইয়ের ওপর সীমাহীন ক্ষমতা ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ ভলকার তুর্কের। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে মেটা, অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই ও গুগল। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান। ভলকার তুর্ক বলেন, ‘একটি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ৬০টির বেশি যুদ্ধ চলছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সর্বোচ্চ। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এভাবে সংঘাত বাড়া আমাদের বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় আমি শঙ্কিত, যা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে।’ মার্কিন অভিবাসন নীতিরও সমালোচনা করেছেন তুর্ক। ওয়াশিংটনকে হাইতিসহ এমন সব দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যেখানে তারা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।