বিনোদন

অস্কার যোগ্য তালিকায় 'বাড়ির নাম শাহানা'

আক্তারুজ্জামান নভেম্বর ২৩, ২০২৫

আসছে অস্কার–২০২৬। প্রতি বছর এই সময়টা যেন বিশ্বের সব গল্প এক মঞ্চে মিলিত হওয়ার উৎসব। এবারও অ্যাকাডেমি প্রকাশ করেছে Documentary, Animation ও International Feature—এই তিন বড় ক্যাটাগরির যোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকা। বৈচিত্র্যময় এই তালিকা শুধু সিনেমার নাম নয়—এ যেন বিশ্বের নানা সংস্কৃতি ও স্বপ্নের রঙিন প্রতিচ্ছবি।

 

বিশ্বের নানা ভাষার হাজারো চলচ্চিত্রের ভিড়ে বাছাই করা হয়েছে অ্যানিমেশন, ডকুমেন্টারি ও আন্তর্জাতিক ফিচার—এই তিন বড় বিভাগের যোগ্য চলচ্চিত্র। অ্যাকাডেমির সদ্য ঘোষণায় জানা গেছে, তিন শতাধিক সিনেমা এবার দৌড়ে আছে। হলিউড ছাড়িয়ে বৈশ্বিক গল্প, ইতিহাস, যুদ্ধ, মানবাধিকার আর অ্যানিমেশনের কল্পজগত—সবই এবার এক মঞ্চে।

 

আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে রয়েছে ৮৬টি দেশ ও অঞ্চলের চলচ্চিত্র। নরওয়ে থেকে Sentimental Value, স্পেনের Sirât, ব্রাজিলের The Secret Agent, টিউনিসিয়ার The Voice of Hind Rajab —প্রতিটি সিনেমাই নিজ দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ। আর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গর্ব—যোগ্যতার তালিকায় এসেছে দেশীয় নির্মাণ “A House Named Shahana”। যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে  বাংলাদেশের উপস্থিতিকে আরও দৃঢ় করবে।

 

অ্যানিমেশন বিভাগের তালিকায় জায়গা পেয়েছে ৩৫টি চলচ্চিত্র। বড় স্টুডিওর ব্লকবাস্টার থেকে এশিয়ার সাহসী ও পরীক্ষাধর্মী কাজ—সবই রয়েছে। ডিজনির বহুল প্রতীক্ষিত Zootopia 2, কোরিয়ার আলোচিত K-Pop Demon Hunters আর জাপানি অ্যানিমেশনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী Infinity Castle—সব মিলিয়ে অ্যানিমেশন বিভাগ এবার হয়ে উঠেছে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামুখর ক্যাটাগরিগুলোর একটি।

 

ডকুমেন্টারিতে এবার রেকর্ড ২০১টি ফিচার। সামাজিক বাস্তবতা থেকে রাজনৈতিক সংঘাত—এমনকি ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প উঠে এসেছে। নজর কাড়ছে Ai Weiwei’s Turandot ও The Age of Disclosure, আরও আছে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল ও মানবিক বিপর্যয়ের গল্প নিয়ে তৈরি বহু শক্তিশালী ডকু-ফিল্ম। ডিসেম্বরেই প্রকাশিত হবে ১৫টি শর্টলিস্ট, আর সেখান থেকেই শুরু হবে মনোনয়নের লড়াই।

 

অ্যানিমেশন বিভাগ থেকে আন্তর্জাতিক ফিচার —একাডেমির সদস্যরা এখন ব্যস্ত সিনেমা দেখার পর্বে। কিছু বিভাগে রয়েছে কঠোর “ভিউইং রিকোয়ায়ারমেন্ট”—মানে পুরো সিনেমা না দেখলে ভোট দেওয়ার সুযোগই নেই। ডিসেম্বরের মধ্যেই তৈরি হবে শর্টলিস্ট। আর জানুয়ারি ২২ তারিখে জানানো হবে চূড়ান্ত মনোনয়ন। ২০২৬ সালের অস্কারের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। সামনে আরো আসছে শর্টলিস্ট, মনোনয়ন আর সবার প্রিয় রেড-কার্পেট রাতের অপেক্ষা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
সালমান শাহ ও ডন। ছবি - সংগৃহীত
সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডন

ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোববার (৯ আগস্ট) হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ডনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিআইডি ঢাকা মেট্রোর (পশ্চিম) বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজির। তিনি বলেন, ‘আমরা ডনকে এনেছি। এই বিষয় বিস্তারিত পরে জানাব।’   সিআইডি জানিয়েছে ডন সৌদি আরবে ওমরা হজ করতে যাচ্ছিলেন।   পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলায় ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   মামলার অন্য আসামিরা হলেন—শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়েছে।   ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে জল্পনা চললেও তদন্তের জন্য কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন পরে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা করেন। পরে সালমান শাহর মৃত্যুর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে।   নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে বরাবরই দাবি করে এসেছে জনপ্রিয় এ চিত্রনায়কের পরিবার। মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল, তারা হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। যদিও পুলিশ বলেছিল, অপমৃত্যুর মামলা তদন্তের সময় যদি বেরিয়ে আসে যে এটি হত্যাকাণ্ড, তাহলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় মোড় নেবে।   মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্র জীবনে ২৭টি সিনেমাতে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন সালমান শাহ। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৯, ২০২৬
দক্ষিণী অভিনেতা ফাহাদ ফাসিল

স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার কারণ জানালেন দক্ষিণী অভিনেতা

সংগৃহীত ছবি

১৮০ ডিগ্রি বদল কঙ্গনার, ‘নর্দমার প্রজন্ম’ থেকে এখন ‘দেশের বড় সম্পদ’

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস। ফাইল ছবি

নেপালে ক্যাবল কারে উঠে আতঙ্কিত অপু বিশ্বাস

ছবি: সংগৃহীত
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের সম্পর্ক, যা বলছে গবেষণা

রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির সঙ্গে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ মানুষের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি।     মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো অত্যন্ত ছোট প্লাস্টিক কণা, যা বর্তমানে পরিবেশের প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়। এর আগের বিভিন্ন গবেষণায় মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যুতেও এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে এসব কণা থাকে কি না এবং ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো পরিবেশগত কারণ এর মাত্রাকে প্রভাবিত করে কি না, তা নিয়ে এতদিন খুব কম তথ্য ছিল।     ইতালির রোমের সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির সান্ত'আন্দ্রেয়া হাসপাতালের গবেষক পাসকুয়ালে পাওলিসোর নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষকরা হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি থেকে ৬১ জন রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন। তাদের মধ্যে কেউ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত ছিলেন, কেউ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগে ভুগছিলেন এবং কিছু রোগীর রক্তনালি ছিল সুস্থ।       গবেষণায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও আরও ছোট ন্যানোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। হার্ট অ্যাটাক হয়নি, তবে হৃদ্‌রোগ রয়েছে, এমন রোগীদের মধ্যে এই হার ছিল ৪০ শতাংশ। আর সুস্থ রক্তনালির রোগীদের ক্ষেত্রে এসব কণা ৩২ শতাংশের রক্তে পাওয়া গেছে।       গবেষকরা আরও দেখেছেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের সঙ্গে রক্তে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্পর্ক রয়েছে। ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের রক্তে উচ্চ মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার সম্ভাবনা ছিল প্রায় ছয় গুণ বেশি। একই ধরনের সম্পর্ক দেখা গেছে যারা নিয়মিত বেশি মাত্রার বায়ুদূষণের মধ্যে থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও।     গবেষণায় ধূমপান ও বায়ুদূষণ দুই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে। বিপরীতে, এই দুই ঝুঁকির কোনোটির সংস্পর্শে না থাকা ব্যক্তিদের মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশের রক্তে উচ্চ মাত্রার মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।       গবেষণার প্রধান লেখক পাসকুয়ালে পাওলিসো বলেন, ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করা সহজ হতে পারে। বায়ুদূষণও একই ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।       গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক এমানুয়েলে বারবাতো বলেন, এই গবেষণা মাইক্রোপ্লাস্টিক যে সরাসরি হার্ট অ্যাটাক ঘটায়, তা প্রমাণ করে না। তবে পরিবেশগত দূষণ, রক্তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং হৃদ্‌রোগের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।       ১৫ জুলাই ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। একই জার্নালে প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়তে জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষক আন্দ্রেয়াস ডাইবারসহ বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক এখন সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে সামনে আসছে। প্লাস্টিক দূষণকে হৃদ্‌রোগের একটি অবমূল্যায়িত ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।     তবে বিশেষজ্ঞরা গবেষণাটির সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেছেন। মাত্র ৬১ জনের ওপর গবেষণাটি করা হয়েছে। তাই মাইক্রোপ্লাস্টিক ও হৃদ্‌রোগের মধ্যে সরাসরি কারণ-সম্পর্ক নিশ্চিত করতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা প্রয়োজন।   সূত্র: ইউএস নিউজ

মারিয়া রহমান আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টম-জেন্ডায়ার বিয়েতে খরচ ৬ কোটি টাকা, ছিল স্পাইডার-ম্যানের ছোঁয়া

ছবি: সংগৃহীত

‘দ্য ট্রেইটরস ২’ ট্রেলারে রহস্য, বিশ্বাসঘাতকতা ও মানসিক লড়াই

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সবচেয়ে দামি অভিনেত্রী এখন আলিয়া!

ছবি: সংগৃহীত
কোহলিকে টপকে আবারও শীর্ষে শাহরুখ

ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলিকে পেছনে ফেলে আবারও ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান তারকা ব্র্যান্ডের শীর্ষ খেতাব পুনরুদ্ধার করেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ক্রোল ইন্ডিয়া সেলিব্রিটি ব্র্যান্ড ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট ২০২৫’-এ এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা শাহরুখ খান বড় পর্দায় সফল প্রত্যাবর্তন এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে টানা চাহিদার মুখে ১৭ কোটি ৭৯ লাখ (১৭৭.৯ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্র্যান্ড মূল্য নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন।    এবারের তালিকার শীর্ষস্থানে বড় ধরনের রদবদল ঘটেছে। বিগত দুই বছরে শাহরুখ খানের ব্র্যান্ড মূল্য বেড়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ডলার। অন্যদিকে শীর্ষ থাকা তারকা বিরাট কোহলির ব্র্যান্ড মূল্য সবচেয়ে বেশি (৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার) কমে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে।    শীর্ষে থাকা শাহরুখ খানের বর্তমানে ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার। এরপরই ১৭৭.৯ মিলিয়ন ডলার ব্র্যান্ড ভ্যালু নিয়ে তালিকার দুইয়ে রণবীর সিং। আর তিনে থাকা বিরাট কোহলির বর্তমান ব্র্যান্ড ভ্যালু ১৫৮.৪ মিলিয়ন ডলার।    নারী তারকাদের মধ্যে শীর্ষে থাকা বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের ব্র্যান্ড ভ্যালু বর্তমানে ৯৩.৯ মিলিয়ন ডলার। তিনি এই তালিকার ছয় নম্বরে স্থান পেয়েছেন।    শীর্ষ দশে থাকা বাকি তারকারা হলেন পর্যায়ক্রমে দীপিকা পাডুকোন (৮৯.২ মিলিয়ন ডলার), হৃতিক রোশন (৮৮.৯ মিলিয়ন ডলার), অমিতাভ বচ্চন (৮০.৮ মিলিয়ন ডলার) ও অক্ষয় কুমার (৮০.০ মিলিয়ন ডলার)    শীর্ষ ১০-এর বাইরে থাকা অন্যান্য তারকাদের মধ্যে ১২তম স্থানে রয়েছেন রণবীর কাপুর এবং ১৩তম স্থানে রয়েছেন সুপারস্টার সালমান খান।   বলিউডের নতুন প্রজন্মের তরুণ তারকাদের বাণিজ্যিক প্রভাবও এই তালিকায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনন্যা পান্ডে ১৯তম, জাহ্নবী কাপুর ২৩তম এবং শ্রদ্ধা কাপুর ২৪তম স্থান দখল করে নিয়েছেন।    মূলত তারকাদের ব্র্যান্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট চুক্তি, স্পন্সরশিপ, গণমাধ্যমে উপস্থিতি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে এই বাণিজ্যিক মূল্যায়ন বা র‌্যাংকিং তৈরি করা হয়েছে। শাহরুখ খানের শীর্ষস্থানে ফেরা প্রমাণ করে ভারতীয় বিনোদন ও বিজ্ঞাপন জগতে তার প্রভাব এখনো অনন্য। 

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘গ্ল্যাডিয়েটর’ তারকার সঙ্গে নতুন চমক নিয়ে আসছেন ‘দেশি গার্ল’

ছবি: সংগৃহীত

বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিন

ছবি: সংগৃহীত

ঋণখেলাপি মামলায় নিলামে উঠছে অভিনেতা রাজপাল যাদবের সম্পত্তি

0 Comments