জাতীয়

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোস্তফা সরায়ার ফারুকী। তার অধীনে মন্ত্রণালয় যেসব কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন তা হলো- বহু জাতি,বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশ। এই বহুত্বকে উদযাপন এবং বহুত্বের পৃষ্ঠপোষকতা করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক জাতীয় সংস্কৃতি নীতি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট থেকে ‘কুইন্টিসেন্স অফ নজরুল ’  (নজরুল নির্যাস) শিরোনামে নজরুল সাহিত্য ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে নজরুল সাহিত্যের বিশ্ব যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নজরুল সাহিত্য অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করবে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় নজরুলের গানের রক কনসার্ট-যা দেশের তরুণ সংগীত পিপাসুদের কাছে দারুণ উপভোগ্য ছিল।  
ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হচ্ছে : সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবসমূহকে সম্মান জানানো এবং উদযাপনের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং দেশের সকল অঞ্চলের শিল্পের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা কিংবদন্তি শিল্পীদের জন্ম ও মৃত্যু জয়ন্তী পালন।

একুশে পদক শুধু রাষ্ট্রীয় পদক বা একটি সম্মাননা নয়, এটা একইসঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দর্শনেরও প্রকাশ। নতুন বাংলাদেশের নতুন সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় বিগত দুই বছরে যে গুণিজনদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে, তাদের নামের তালিকা দেখলেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের নতুন পথযাত্রার রূপরেখা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি গত বছর থেকে স্বাধীনতা পদক প্রদানের ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বদরুদ্দীন উমর, আবরার ফাহাদ, নভেরা আহমেদ এর মধ্যেই তার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভোটের গাড়ি কাজ করেছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ভোটের আগ পর্যন্ত ঘুরেছে এসব ভোটের গাড়ি। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত ভিডিও, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র, পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ’ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং ২৫টি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান দুটি আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। 

বাংলার লোক ঐতিহ্যের যাত্রাশিল্পকে ঘিরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৫ টি যাত্রাদলের অংশগ্রহণে ‘ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব-২০২৫’। উৎসবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবন ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা অবলম্বনে যাত্রাপালার আয়োজন। আগামী মার্চে সারা দেশে এটা প্রচারিত হবে। 

৬৪ জেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন-২০২৫, অ্যাক্রোবেটিক শো, যাত্রাপালা, বিজয় দিবস কনসার্ট, ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে বিজয় মেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান আয়োজন।

শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বছর জুড়ে ২৪ টি সাধুসঙ্গ ও বিভিন্ন ভাবগানের আসরের আয়োজন করা হয়েছে। 

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প সংস্কৃতির নানা মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্ট রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ- ১৫ জন বাংলাদেশি শিল্পী চীনে তিন সপ্তাহ ব্যাপী রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন। 

ড্রোন ডিসপ্লে সারা পৃথিবীতে দ্রুত প্রসারমান একটি নিউ মিডিয়া। গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম থেকে শুরু করে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সচেতনতামূলক কাজসহ সারা দুনিয়াতেই এর ব্যাপক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া উৎসাহীদের এই নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য সম্প্রতি চীন সরকারের সহযোগিতায় চীনে একটি আবাসিক ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে। মিউজিয়াম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল দেশে ফিরে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে। 

আগামী বছর থেকে বিকন হাউসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আলাপের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য আর্কিওলজিক্যাল সাইটগুলোকে ঘিরে সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ছবিমেলা-বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবারের মতো এ মন্ত্রণালয় ছবিমেলার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়ে ফটোগ্রাফি এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্ট ইভেন্টের সাথে যুক্ত থাকার বার্তা দিয়েছে। সেলিব্রেটিং বাংলাদেশি কালচার, হোম অ্যান্ড অ্যাবরোড এর আওতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো সদর দফতরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীতের মধ্য দিয়ে একুশ, জুলাই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে। 

বাংলার আবহমান কালের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে চর্যাপদ, মৈমনসিংহ গীতিকা, লালন, হাসন, শাহ আব্দুল করিমসহ নানা সময়ের ঐশ্বর্যের দিকে তাকালেই অনুধাবন করা যায় সংগীত আমাদের সৃজনশীল প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে ‘নদীপথে সুরভ্রমণ’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর আওতায় দেশের নানা অঞ্চলের নানা ধরনের গান এ সময়ের শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। এই আয়োজন দেশের শ্রোতাদের পাশাপাশি বিশেষভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।  

দেশের সকল শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। দেশজুড়ে সংগীত স্কুলগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। বান্দরবান থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত সারাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সকল সংগীত স্কুলকে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বছর শেষে এই সংগীত স্কুলগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শ্রেষ্ঠ পাঁচটি স্কুলকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হবে । এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। নারীদের জুলাই, জুলাইয়ের নারীরা-এ বিষয়ে ২০২৪ এর মৃতপ্রায় আন্দোলনকে জীবিত করেছে জুলাইয়ের নারীরা। এই নারীদের সেলিব্রেট করার জন্য জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয় সেলিব্রেটিং জুলাই উইমেনস ডে দ্বারা। নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিধান। জুলাই পুনর্জাগরণ নিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা করেছে। 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রায় এক দশক তদন্তের পর অবশেষে গতি পেল দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা। খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এতে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও খসড়া চার্জশিটে উঠে এসেছে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিস্তর ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ। সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।   পুলিশের বিশেষ এই ইউনিট সূত্র আরও জানিয়েছে, গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। খসড়া অভিযোগপত্রে দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   রিজার্ভ চুরির মামলার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের ৮০ শতাংশ কাজ প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পন্ন করে গেছেন। পরবর্তীতে দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সবশেষে চেষ্টা করেছি নির্ভুল একটি চার্জশিট প্রস্তুত করতে। তদন্তে আমাদের কোনো কাজ আর পেন্ডিং নেই। ইতিমধ্যেই শতভাগ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।   পুলিশের বিশেষ এই ইউনিট সূত্র আরও জানিয়েছে, গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ওই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি পরামর্শের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। খসড়া অভিযোগপত্রে দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, উত্তর কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   রিজার্ভ চুরির মামলার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের ৮০ শতাংশ কাজ প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পন্ন করে গেছেন। পরবর্তীতে দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সবশেষে চেষ্টা করেছি নির্ভুল একটি চার্জশিট প্রস্তুত করতে। তদন্তে আমাদের কোনো কাজ আর পেন্ডিং নেই। ইতিমধ্যেই শতভাগ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, “রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তে প্রায় সব কাজ শেষ হয়ে আসলেও প্রধান অপরাধীকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। আমাদের একটি ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা করে এফবিআই নর্থ কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিয়ন হিয়ক ও তার নেতৃত্বে পরিচালিত ল্যাজারার গ্রুপকে চিহ্নিত করে। পরবর্তীতে তদন্ত তদারক কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের সহযোগিতায় এফবিআইএর বিশেষ এজেন্ট নাথান পি.শিলডের থেকে রিপোর্টটি সংগ্রহ করে প্রধান আসামিকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে সিআইডি। পাশাপাশি আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়।”   ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন সিআইড

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬

সময় টিভির পরিচালক আহমেদ জোবায়ের কারাগারে

পদ্মা সেতুর পিলারের নিচের মাটি কাটার কারণ জানালেন মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানালেন ঢাবি অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী শ্রীলংকা

শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী হরিণী অমরাসুরিয়া বলেছেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তার দেশ আগ্রহী।   মঙ্গলবার শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।   শ্রীলংকায় বাংলাদেশ মিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, হাইকমিশনারের দায়িত্বকালীন সময়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে বাণিজ্য ও ব্যবসা খাতে অর্জিত অগ্রগতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বৈঠকে হরিণী অমরাসুরিয়া দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে আন্দালিব ইলিয়াসের অবদানের প্রশংসা করেন।   আলোচনায় বাংলাদেশ ও শ্রীলংকা উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।   দুই দেশের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাহাজ থেকে নামানো এক ট্রাক ইলেকট্রনিকস পণ্যসহ দুই চোরাকারবারি আটক

ছবি: সংগৃহীত

মাতারবাড়ী-চট্টগ্রামে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ছে সরকার - মন্ত্রিপরিষদ সচিব

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত, স্বস্তিতে স্থানীয়রা

ছবি: সংগৃহীত
জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় করের বোঝা বাড়ছে, নতুন মূলধনি মুনাফা করের প্রস্তাব

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচা এবং ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক লেনদেনে কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর আরোপ এবং বিভিন্ন সুবিধাকেও করযোগ্য আয়ের আওতায় আনা হবে।   আগামী অর্থবছরের বাজেটে স্থাবর সম্পত্তি—জমি, ফ্ল্যাট কেনাবেচা ও লিজ লেনদেনে কর ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ডেভেলপার কোম্পানিকে জমি দেওয়ার বিনিময়ে মালিক যে নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা ভাড়াসহ যেকোনো আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার বাজারমূল্যকে মূলধনি মুনাফা হিসেবে গণনা করে ১৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।   এ ক্ষেত্রে আগে যেভাবে উৎসে কেটে নেওয়া করকে চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করা হতো, তা এখন থেকে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে করদাতাকে বছর শেষে আয়কর রিটার্নে পুরো আয় হিসাব করে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করতে হবে।   প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, সরকারি অধিগ্রহণে জমির ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য অর্থপ্রাপ্তিও করের আওতায় আসবে। এগুলো থেকেও উৎসে কর কেটে নেওয়া হবে এবং পরে তা মোট আয়ের সঙ্গে যোগ করে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা হবে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কাঠামোয় করদাতাদের করভার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, বিশেষ করে উচ্চ করধাপে থাকা ব্যক্তিদের জন্য। একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রদত্ত কর ফেরত নেওয়ার সুযোগও থাকবে।   ডেভেলপার চুক্তির ক্ষেত্রে কর নির্ধারণে নতুন সূত্র প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে সাইনিং মানি, ফ্ল্যাটের মূল্য, ভাড়া সুবিধা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাকে মোট আয় হিসেবে ধরা হবে এবং সেখান থেকে জমির ক্রয়মূল্য বাদ দিয়ে ১৫ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হবে।   উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জমি বিক্রির বিনিময়ে নগদ অর্থ ও ফ্ল্যাট পেলে তার মোট মূল্য থেকে ক্রয়মূল্য বাদ দিয়ে যে নিট মুনাফা হবে, তার ওপর কর দিতে হবে।   এ ছাড়া জমি বা ফ্ল্যাটের দলিলে কম মূল্য দেখিয়ে লেনদেন করলে সেই অপ্রদর্শিত অংশকেও করযোগ্য আয় হিসেবে ধরা হবে। কর কর্তৃপক্ষ তা শনাক্ত করলে অতিরিক্ত করের পাশাপাশি জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে।   নতুন প্রস্তাবে লিজ বা ভাড়া লেনদেনের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংক বা নগদে নেওয়া নিরাপত্তা জামানতের একটি অংশও বার্ষিক আয় হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন কর কাঠামো রিয়েল এস্টেট খাতে স্বচ্ছতা বাড়ালেও স্বল্পমেয়াদে বিনিয়োগকারীদের ওপর করচাপ বাড়াতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ প্রধান সমস্যা চিহ্নিত বিদেশি গবেষকের, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের সুপারিশ

ছবি: সংগৃহীত

সময় টিভির সাবেক এমডি ও পরিবারের ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ খালেদা রাব্বানীর বাসায় প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

0 Comments