অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোস্তফা সরায়ার ফারুকী। তার অধীনে মন্ত্রণালয় যেসব কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন তা হলো- বহু জাতি,বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতির দেশ বাংলাদেশ। এই বহুত্বকে উদযাপন এবং বহুত্বের পৃষ্ঠপোষকতা করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক জাতীয় সংস্কৃতি নীতি প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউট থেকে ‘কুইন্টিসেন্স অফ নজরুল ’ (নজরুল নির্যাস) শিরোনামে নজরুল সাহিত্য ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে নজরুল সাহিত্যের বিশ্ব যাত্রা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নজরুল সাহিত্য অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের আরও অনেক ভাষায় অনূদিত হতে শুরু করবে। এর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয় নজরুলের গানের রক কনসার্ট-যা দেশের তরুণ সংগীত পিপাসুদের কাছে দারুণ উপভোগ্য ছিল।
ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করা হচ্ছে : সকল জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবসমূহকে সম্মান জানানো এবং উদযাপনের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ফেস্টিবল ক্যালেন্ডার তৈরি করা হচ্ছে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব এবং দেশের সকল অঞ্চলের শিল্পের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখা কিংবদন্তি শিল্পীদের জন্ম ও মৃত্যু জয়ন্তী পালন।
একুশে পদক শুধু রাষ্ট্রীয় পদক বা একটি সম্মাননা নয়, এটা একইসঙ্গে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দর্শনেরও প্রকাশ। নতুন বাংলাদেশের নতুন সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় বিগত দুই বছরে যে গুণিজনদের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে, তাদের নামের তালিকা দেখলেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের নতুন পথযাত্রার রূপরেখা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি গত বছর থেকে স্বাধীনতা পদক প্রদানের ক্ষেত্রেও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বদরুদ্দীন উমর, আবরার ফাহাদ, নভেরা আহমেদ এর মধ্যেই তার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ভোটের গাড়ি কাজ করেছে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে সারাদেশে ভোটের আগ পর্যন্ত ঘুরেছে এসব ভোটের গাড়ি। এই প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে, গণভোট ও সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত ভিডিও, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র, পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করা হয়। ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ’ ও জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি ছিল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং ২৫টি রাজনৈতিক দল এতে স্বাক্ষর করে। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান দুটি আয়োজন করেছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।
বাংলার লোক ঐতিহ্যের যাত্রাশিল্পকে ঘিরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৫ টি যাত্রাদলের অংশগ্রহণে ‘ত্রয়োদশ যাত্রা নিবন্ধন উৎসব-২০২৫’। উৎসবে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর জীবন ও যুদ্ধকালীন ভূমিকা অবলম্বনে যাত্রাপালার আয়োজন। আগামী মার্চে সারা দেশে এটা প্রচারিত হবে।
৬৪ জেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন-২০২৫, অ্যাক্রোবেটিক শো, যাত্রাপালা, বিজয় দিবস কনসার্ট, ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে বিজয় মেলায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান আয়োজন।
শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে বছর জুড়ে ২৪ টি সাধুসঙ্গ ও বিভিন্ন ভাবগানের আসরের আয়োজন করা হয়েছে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শিল্প সংস্কৃতির নানা মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর্ট রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ- ১৫ জন বাংলাদেশি শিল্পী চীনে তিন সপ্তাহ ব্যাপী রেস্টোরেশন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফিরেছেন।
ড্রোন ডিসপ্লে সারা পৃথিবীতে দ্রুত প্রসারমান একটি নিউ মিডিয়া। গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম থেকে শুরু করে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের সচেতনতামূলক কাজসহ সারা দুনিয়াতেই এর ব্যাপক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নিউ মিডিয়া উৎসাহীদের এই নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার জন্য সম্প্রতি চীন সরকারের সহযোগিতায় চীনে একটি আবাসিক ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হয়েছে। মিউজিয়াম ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি দল দেশে ফিরে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে।
আগামী বছর থেকে বিকন হাউসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ স্কলারশিপ চালু করা হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার আলাপের মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের মধ্যে আরো উল্লেখযোগ্য আর্কিওলজিক্যাল সাইটগুলোকে ঘিরে সাংস্কৃতিক উৎসবের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। ছবিমেলা-বাংলাদেশ সরকার আয়োজিত প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমবারের মতো এ মন্ত্রণালয় ছবিমেলার সঙ্গে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়ে ফটোগ্রাফি এবং গুরুত্বপূর্ণ আর্ট ইভেন্টের সাথে যুক্ত থাকার বার্তা দিয়েছে। সেলিব্রেটিং বাংলাদেশি কালচার, হোম অ্যান্ড অ্যাবরোড এর আওতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ইউনেস্কো সদর দফতরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগীতের মধ্য দিয়ে একুশ, জুলাই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া চীন ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে।
বাংলার আবহমান কালের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ে চর্যাপদ, মৈমনসিংহ গীতিকা, লালন, হাসন, শাহ আব্দুল করিমসহ নানা সময়ের ঐশ্বর্যের দিকে তাকালেই অনুধাবন করা যায় সংগীত আমাদের সৃজনশীল প্রকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরতে ‘নদীপথে সুরভ্রমণ’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি অডিও ভিজ্যুয়াল প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর আওতায় দেশের নানা অঞ্চলের নানা ধরনের গান এ সময়ের শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। এই আয়োজন দেশের শ্রোতাদের পাশাপাশি বিশেষভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
দেশের সকল শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে। দেশজুড়ে সংগীত স্কুলগুলোকে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। বান্দরবান থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত সারাদেশে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত সকল সংগীত স্কুলকে সরকারের তরফ থেকে আর্থিক প্রণোদনার আওতায় আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বছর শেষে এই সংগীত স্কুলগুলোর মধ্যে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শ্রেষ্ঠ পাঁচটি স্কুলকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদানের উদ্যোগও নেয়া হবে । এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।
এছাড়াও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। নারীদের জুলাই, জুলাইয়ের নারীরা-এ বিষয়ে ২০২৪ এর মৃতপ্রায় আন্দোলনকে জীবিত করেছে জুলাইয়ের নারীরা। এই নারীদের সেলিব্রেট করার জন্য জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালার সূচনা করা হয় সেলিব্রেটিং জুলাই উইমেনস ডে দ্বারা। নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য জুলাই সনদে যুক্ত করা হয়েছে পর্যায়ক্রমে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিধান। জুলাই পুনর্জাগরণ নিয়ে নানা অনুষ্ঠানমালা করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
‘চৌর্যবৃত্তির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইবিএর অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর অধ্যাপক মো. রিদওয়ানুল হক। বুধবার পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নতুন কোনো বিষয় নয়; বরং ২০১৮ সালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। অধ্যাপক রিদওয়ানুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন সহ-উপাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি বলে মত দেয়। পরে বোর্ড অব গভর্ন্যান্সও সেই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে এবং তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে নিষ্পত্তিকৃত একটি বিষয়কে পুনরায় সামনে এনে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্রে তিনজন লেখক থাকলেও নতুন করে উত্থাপিত অভিযোগে শুধুমাত্র তাঁর নামকে কেন্দ্র করে আলোচনা হচ্ছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ ছাড়া তাঁর বক্তব্য গ্রহণ না করেই কিছু সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও ভারসাম্যপূর্ণ চিত্র পাঠকের সামনে আসেনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক পদে আবেদনের সময় জমা দেওয়া একটি গবেষণাপত্রে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে।
ঢাকা-মানিকগঞ্জ রুটে কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রেলমন্ত্রী বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা-এর উদ্যোগে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব পায় এবং রেল মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয়। খবরটি প্রকাশের পর মানিকগঞ্জ জেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এটিকে জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। স্থানীয়দের মতে, এই রেল সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মানিকগঞ্জসহ আশপাশের রাজবাড়ী, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া ও পাবনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, গত ২ এপ্রিল মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা রেলমন্ত্রী বরাবর একটি ডিও (আধা-সরকারি) পত্র দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসে। মানিকগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল জেলার সঙ্গে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন। রাজধানীর খুব কাছে হলেও এখনো জেলা রেল নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষকে সড়কপথে যানজট ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেলপথ চালু হলে কৃষিপণ্য, দুগ্ধজাত পণ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পজাত পণ্য দ্রুত রাজধানীতে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করবে। এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুস সালাম বাদল বলেন, রেল সংযোগ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে। ক্যাব মানিকগঞ্জের সভাপতি এবিএম সামছুন্নবী তুলিপ বলেন, এটি জেলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, রুট নির্ধারণ এবং প্রকল্প প্রণয়নের কাজ শুরু করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেলপথ চালু হলে ভবিষ্যতে দেশের মধ্যাঞ্চলের যোগাযোগ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।
মৌলভীবাজার সফরকালে বিএনপির প্রবীণ নেত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সহচর খালেদা রাব্বানীর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় তিনি অসুস্থ এই নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। বুধবার (১৭ জুন) মৌলভীবাজারে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে শহরের শাহ মোস্তফা রোডে অবস্থিত খালেদা রাব্বানীর বাসভবনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে এই সফরে তিনি প্রবীণ নেত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় খালেদা রাব্বানীর সঙ্গে কাটান। তার চিকিৎসা, শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। সফরকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান মিজান এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে শিষ্টাচার, সম্মানবোধ ও মানবিকতার চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যস্ত রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেও দলের প্রবীণ নেতাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি জানান, সাক্ষাৎকালে খালেদা রাব্বানী আবেগঘন পরিবেশে তার রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সঙ্গে কাটানো সময়ের বিভিন্ন স্মৃতিও তিনি তুলে ধরেন এবং পুরোনো কিছু ছবি দেখান। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসা খালেদা রাব্বানী বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।