ওয়ানডে ইতিহাসে নিজেদের হাজারতম ম্যাচ খেলতে নেমে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই পাঁচ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাস।
তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সফরকারীদের বড় সংগ্রহ গড়তে না দিয়ে পরে বাবর আজম ও গাজী ঘোরির দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে পাঁচ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
শাদাব খান ছাড়া পাকিস্তানের সব বোলারই ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। বিশেষ করে অভিষিক্ত আরাফাত মিনহাস ছিলেন অসাধারণ। ১০ ওভার বল করে ১ মেডেনসহ মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট নেওয়া প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে নাম লেখান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতে সপ্তম ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিকে (১৯) ফিরিয়ে ৩৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আবরার আহমেদ। এরপর ১৪তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন মিনহাস। পরের ওভারেই তিনি ফেরান ক্যামেরুন গ্রিনকে, ফলে দ্রুতই চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
৬৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা পথ দেখান ম্যাথু শর্ট ও ম্যাট রেনশ। দুজন মিলে ৫৫ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে ৫৫ রান করা শর্টও শেষ পর্যন্ত মিনহাসের শিকার হন। পরে নাথান এলিসকে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন এই তরুণ স্পিনার।
অন্যদিকে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন রেনশ। তবে আবরারের বলে বোল্ড হয়ে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। ৪৫তম ওভারের প্রথম বলেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুতেই দুই উইকেট হারায়। ৪৯ রানের মধ্যে ফিরে যান মাজ সাদাকাত ও সাহিবজাদা ফারহান। তবে এরপর বাবর আজম ও গাজী ঘোরির শতাধিক রানের জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে এনে দেয়।
দুজন মিলে ১২৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। বাবর ৯৪ বলে ৬৯ রান করেন, যার মধ্যে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। পরে তিনি আউট হলেও গাজী ঘোরি ৬৫ রান করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে দেন। এলিসের বলে বিদায় নেন তিনি।
সালমান আগা ৬ রানের বেশি করতে না পারলেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১৮ রান করে আব্দুল সামাদকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আরাফাত মিনহাস। ৪২.৩ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান তুলে পাঁচ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
হাজারতম ওয়ানডের মাইলফলক স্পর্শ করা দিনে অভিষিক্ত মিনহাসের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সই হয়ে থাকল পাকিস্তানের জয়ের সবচেয়ে বড় গল্প।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লেস্টার সিটি ছেড়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশী মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। চুক্তিটা এক বছরের, কিন্তু চুক্তির সঙ্গে জড়িত অর্থ প্রকাশ করা হয়নি। ২৮ বছর বয়সী চৌধুরী ২০২৪-২৫ মৌসুমের শেষদিকে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। সান্ডারল্যান্ডের কাছে চ্যাম্পিয়নশিপ প্লে-অফ ফাইনালের হারা দলটির হয়ে লিগে ১৬ ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ফুটবলার লেস্টার সিটি একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন। ক্লাবের হয়ে ১১ মৌসুমে ১৬৬ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এই মিডফিল্ডার। চলতি মৌসুমে ৩ ম্যাচ খেলেছেন। লেস্টারের ২০১৫-১৬ প্রিমিয়ার লিগ জয়ী স্কোয়াডের অংশ ছিলেন এবং ২০২১ সালে চেলেসির বিরুদ্ধে তাদের এফএ কাপ ফাইনাল জয়েও খেলেছিলেন বাংলাদেশী এই তারকা। ‘কার্ডিফের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি বলেছিলাম কীভাবে আমাদের শক্তিশালী হওয়া দরকার এবং আমাদের বর্তমান কয়েকটি ইনজুরির কারণে রাইট-ব্যাক পজিশনে প্রতিযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি ছিল’—ক্লাবের ওয়েবসাইটে শেফিল্ড ইউনাইটেড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার বলেছেন। এই কোচ যোগ করেন ‘আমরা সবাই জানি হামজা ওই ভূমিকা পালন করতে পারে এবং এর চেয়েও অনেক বেশি কিছু করতে পারে। এখানে তার প্রথম ধাপের শেষ ১০ ম্যাচে তিনি সম্ভবত আমাদের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন, যার মধ্যে প্লে-অফ সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল অন্তর্ভুক্ত ছিল।’ চৌধুরী ২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলার সময়ও ওয়াইল্ডারের অধীনে খেলেছিলেন। আমি ওয়াটফোর্ডে স্বল্প সময়ের জন্য এই ম্যানেজার অধীনে কাজ করেছি এবং তারপর নিশ্চিতভাবেই এখানে আমার শেষ ধাপে খেলেছি। আমরা সবসময় যোগাযোগ রেখেছি’—সাবেক গুরুর সান্নিধ্য আসা নিশ্চিত হওয়ার পর বলছিলেন হামজা চৌধুরী বলেছেন। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষিক্ত এই মিডফিল্ডার আরও বলেন, ‘তার অধীনে খেলা আমি সত্যিই ভীষণ পছন্দ করি। এটি আমার জন্য একটি বড় পরিবর্তন। আমি ২০ বছর ধরে লেস্টারে আছি, তাই এটি আমার এবং আমার পরিবারের জন্যও পরিবর্তন। এটি এমন একটি বিষয় যার জন্য আমি সত্যিই মুখিয়ে আছি এবং আশা করি এখানে আমাদের একটি দুর্দান্ত মৌসুম কাটবে।’
ম্যাচ চলার সময় থেকেই অস্বস্তিগুলো দৃশ্যমান হচ্ছিল। ম্যাচের মাঝপথে বমি করলেন একবার। পিঠ ও কাঁধের সমস্যা বোঝা যাচ্ছিল স্পষ্ট। তবু প্রথম তিন সেটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরে আর পেরে উঠলেন না নোভাক জোকোভিচ। অবাছাই মারিয়ানো নাভোনের কাছে হেরে অবিশ্বাস্যভাবে ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিলেন কিংবদন্তি। ম্যাচের পর চোখে দেখা গেল জলের ধারা। গোটা ক্যারিয়ারেই আগে কখনও ইউএস ওপেনে তৃতীয় রাউন্ডের আগে বিদায় নেননি জোকোভিচ। গ্র্যান্ড স্ল্যামেও প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদ পেলেন রেকর্ড শিরোপাজয়ী তারকা। গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকে সবশেষ বাদ পড়েছিলেন তিনি সেই ২০০৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে। ২৫ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের অনন্য কীর্তি গড়ার চেষ্টায় থাকা তারকা রোববার ৭-৬(৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হেরে যান আর্জেন্টিনার নাভোনের কাছে। চোট ও অসুস্থতার কারণে ম্যাচের শেষ দিকে ঠিকঠাক সার্ভ করতে পারছিলেন না জোকোভিচ। সবশেষ যখন তিনি গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে পড়েন, তখনও লড়ছিলেন পায়ের নিচে জমিন শক্ত করতে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় তো বহুদূর, কোনো এটিপি শিরোপাও তার ছিল না। পরের সময়ে ইতিহাস গড়ে তিনি জিতেছেন রেকর্ড ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামসহ ১০১টি এটিপি ট্যুর সিঙ্গলস শিরোপা। এই ৩৯ বছর বয়সে এসে আবার কোনো আসরে শুরুতেই শেষ হলো তার পথচলা। ম্যাচের পর অশ্রুসিক্ত জোকোভিচ বললেন, শরীরের সঙ্গে লড়াইয়েই পেরে ওঠেননি তিনি। প্রতিপক্ষকে কৃতিত্ব দিতে অবশ্য ভুললেন না। “এটা তো পরিষ্কারই যে, কোর্টে আমার জন্য অনুভূতিটা ছিল ভয়াবহ। দুর্ভাগ্যবশত, এই বছর প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই এই সমস্যা হানা দিচ্ছে। বমি করা, বমি বমি ভাব, এসব গুরুতর সমস্যা। এর জের ধরে আমার পুরো শরীর ভেঙে পড়তে শুরু করে, মূলত পেশিতে টান ধরে এবং ব্যথা হয়। কোভিচ। ফর্ম ও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নকে সঙ্গী করেই নিজের ২০তম ইউএস ওপেনে তিনি এসেছিলেন। এই ম্যাচে আর্দ্র আবহাওয়ায় তিনি প্রথম সেটে দ্রুত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কোর্টের ছাদ কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার পর নাভোনে ৪-৪ সমতা ফেরান। জোকোভিচের অস্বস্তি তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। নাভোনে এরপর খেলা টাইব্রেকে নিয়ে যান এবং সেটটি জিতে নেন। দর্শকদের মধ্যে তুমুল উল্লাস ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়ে তাতে। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ান জোকোভিচ। তৃতীয় সেটের সময় কোর্টের পাশের একটি ডাস্টবিনে বমি করার পর তাকে দেখে মনে হচ্ছিল, হয়তো সেরে উঠেছেন। নাভোনের সার্ভিস ব্রেক করে তিনি ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যান এবং সার্ভ খুব ভালো করতে না পারলেও সেটটি জিতে নেন। কিন্তু চতুর্থ সেট জিতে জবাব দেন নাভোনে। পিঠের সমস্যার কারণে শেষের দিকে জোকোভিচের সার্ভ একরকম অকার্যকর হয়ে পড়ে। এরপর ভাগ্য নির্ধারণী সেটে স্নায়ুর চাপ সামলে ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটে ঐতিহাসিক জয়ে নিজেকে রাঙান নাভোনে। ম্যাচের পর জোকোভিচ জানালেন, শরীর বিদ্রোহ করলেও তিনি মাঠ থেকে বের হতে চাননি। “চতুর্থ বা পঞ্চম সেটে এসে আর হাল ছাড়তে চাইনি। ম্যাচটি শেষ করতে চেয়েছিলাম।” নাভোনের জন্য এই জয় তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ঘটনা। ২৫ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কখনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের তৃতীয় রাউন্ড পার হতে পারেননি, ইউওস ওপেনে তার সেরা সাফল্য দ্বিতীয় রাউন্ডে পা রাখা। যাকে তিনি মনে করেন সর্বকালের সেরা, যাকে আদর্শ মেনে গড়েছেন নিজেকে, তাকে হারিয়ে যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না নাভোনে নিজেই। “সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়ের বিপক্ষে পাঁচ সেটের ম্যাচ খেলা এবং জয়, এমন কিছু তো প্রতিদিন হয় না। আমি খুবই। আমার জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো।” পরে তিনি ইএসপিএনকে বলেন যে, নিজের কীর্তি এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। “অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব কমতে কিছুটা সময় লাগবে। এইমাত্র ফোনটা হাতে নিয়েছি আর ফোনটা বেজেই চলেছে। ধারণা করতে পারছি, দেশে নিশ্চয়ই বেশ তোলপাড় চলছে।”
২০২৫ সালের আগস্টে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ-ভারত সিরিজটি। পরে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্মতিতে সিরিজটি পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান সূচি অনুযায়ী এবারও সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবু সিরিজ বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির এই সিরিজ আয়োজনের জন্য নতুন সময়সূচি খুঁজতে বিসিবি ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (৩০ আগস্ট) ক্রীড়া প্ল্যাটফর্ম ‘নট আউট নোমান’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, সিরিজটি আয়োজনের ব্যাপারে দুই বোর্ডই আন্তরিক এবং সম্ভাব্য নতুন সময় খুঁজছে। তামিম বলেন, ‘ভারত সিরিজ হবে না, এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। দুটো বোর্ডই বিষয়টি নিয়ে খুব আন্তরিক। বিসিসিআই এবং বিসিবি; দুই পক্ষই সম্ভাব্য সময়সূচি খুঁজছে। কোন সময়ে সিরিজটি আয়োজন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’ মূলত দুই দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণেই সিরিজটির জন্য নতুন সময় বের করা সহজ হচ্ছে না বলে জানান বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মাঝখানে তিনটি সিরিজ আছে। ভারত ও বিসিসিআইও তাদের ম্যাচ নিয়ে খুব ব্যস্ত। তারপরও আমরা এ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করছি। তারিখগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’ ২০২৫ সালের আগস্টে তিন ওয়ানডে ও তিন টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের। পরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও বিসিবির আলোচনায় সফরটি এক বছরের বেশি সময় পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেপ্টেম্বরেও সিরিজটি আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী দুই দেশের সিরিজটি শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যেতে পারে; এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে তামিম আশাবাদী, দুই বোর্ডের ইতিবাচক মনোভাবের কারণে সিরিজটি আয়োজনের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমি সেই সীমা অতিক্রম করতে চাই না। তবে দুই পক্ষের মনোভাব খুবই ইতিবাচক। আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।’ দুই বোর্ড নতুন একটি উপযুক্ত সময় বের করতে পারলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ছয় ম্যাচের সীমিত ওভারের সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করছে বিসিবি। তবে কবে নাগাদ নতুন সূচি চূড়ান্ত হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।