জাতীয়

আসন্ন নির্বাচনে নারী প্রার্থীরা উপেক্ষিত: রাজনৈতিক অঙ্গনে লিঙ্গ বৈষম্য স্পষ্ট

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ০৪, ২০২৬

বাংলাদেশে নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়লেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের উপস্থিতি এখনো হতাশাজনক। ৩০০ আসনে মোট ২,৫৬৯ জন প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ১০৮ জন নারী, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪.২৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নারীদের প্রতি চলমান বৈষম্যকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নারী প্রার্থীদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এতে নারীদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও সাহসিকতার পরিচয় মিললেও বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পর্যাপ্ত সমর্থন ও মনোনয়নের ঘাটতি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টিসহ বেশিরভাগ প্রধান রাজনৈতিক দল জুলাই চার্টার অনুযায়ী অন্তত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিকতার অভাব আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


নারী নেতৃত্বের এই সংকট শুধু পরিসংখ্যানগত নয়; এটি সামাজিক ও কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলোর পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতা—সব মিলিয়ে নারীদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসা এখনো কঠিন হয়ে আছে।


এদিকে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়সীমা ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হলে নারী প্রার্থীদের প্রকৃত অংশগ্রহণের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নারী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে কেবল কোটা বা ঘোষণাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দলীয় কাঠামোর সংস্কার, কার্যকর মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ, সংসদে পুনর্বিবেচনার দাবি

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সিলেট-৫ আসনের খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান। তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাব খোলা ও ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন।   জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও ব্যবসা সহজীকরণের কথা বললেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু কর-সংক্রান্ত উদ্যোগ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   তার মতে, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের নিবন্ধনের জন্য টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ তৈরি হতে পারে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।   তবে তিনি বাজেটের কয়েকটি উদ্যোগের প্রশংসাও করেন। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিডডে মিল চালুর পরিকল্পনা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ এবং ফ্রিল্যান্সারদের আয় করমুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন দলের সদস্যরা রাজস্ব আহরণ, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কেউ কেউ বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ভবিষ্যতমুখী বলে অভিহিত করলেও বিরোধী দলের সদস্যরা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা, ব্যাংক খাতের আস্থা সংকট এবং মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।   এদিকে নারী উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও তরুণদের জন্য কর-সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিকে বাজেটের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে তুলে ধরেন সরকারি দলের সদস্যরা। তারা বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা।

আক্তারুজ্জামান জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জেবা আমিনার ভাষা ও পোশাক নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন জামায়াতের মারদিয়া মমতাজ

ছবি: সংগৃহীত

প্রতিহিংসা নয়, দেশ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি : সংগৃহীত

পুশইন ইস্যুতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সরকার : আইনমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন বার্তা

‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এমইএমআইএস) সাপোর্ট’ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করায় খুব শিগগিরই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন প্রাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘জুন মাসের ১৬ তারিখেও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষককে বেতন দেয়া হয়নি। একজন শিক্ষক টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা করতে পারছেন না।’ বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন।   সংসদে উত্থাপিত এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মাদ্রাসা এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম’ প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন করা হয়েছিল। তবে, বিগত সরকারের সময় প্রকল্পটি থেকে স্বয়ংক্রিয় ‘ইএফটি’ কার্যক্রম বাদ দিয়ে অনুমোদন দেয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত ও দ্রুত পরিশোধের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার এই সমস্যা নিরসনে প্রকল্পটিতে বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। গত ৯ জুন একনেক সভায় ইএফটি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করে ‘এমইএমআইএস সাপোর্ট (২য় সংশোধিত) (প্রস্তাবিত ৩য় সংশোধন)’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে এই সংশোধিত প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা।   মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পূর্বে এই প্রকল্পের আওতায় দেশের আটটি বিভাগের মাত্র আটটি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক বা পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইএফটি-এর মাধ্যমে বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। এই নির্দিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের অন্য সব মাদ্রাসায় বর্তমানে ম্যানুয়াল বা অ্যানালগ পদ্ধতিতে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে। আর এই সনাতন পদ্ধতির কারণেই প্রতি মাসে শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে কয়েকদিন বিলম্ব হচ্ছে। খুব দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রতি টন রডে খরচ বাড়বে ১১-১২ হাজার টাকা, দাবি বিএসএমএর

ছবি : সংগৃহীত

নতুন দিগন্তে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক

ছবি : সংগৃহীত

এমপিদের অফিস পরিচালনায় উপজেলাপ্রতি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ

ছবি : সংগৃহীত
আরও ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) আরও একটি চালান দেশে এসেছে। এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে এমটি নিনেমিয়া নামের একটি জাহাজ সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এটি বাংলাদেশে আসা ক্রুড অয়েলের তৃতীয় চালান। দেড় মাসেরও কম সময়ে তিনটি চালান আমদানি করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।   নতুন এ চালান যুক্ত হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের কাঁচামালের মজুত আরও বৃদ্ধি পাবে।   ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. মোস্তাফিজার রহমান জানান, এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী এমটি নিনেমিয়া বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। জাহাজ থেকে তেল খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য সংকট শুরুর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ একটি ক্রুড অয়েলের চালান দেশে এসেছিল। পরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় আড়াই মাস মধ্যপ্রাচ্য থেকে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকে। কাঁচামালের সংকটে গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রধান ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।   পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পথে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে গত ৬ মে এমটি নিনেমিয়া জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পর সেটিই ছিল প্রথম চালান। ওই চালানের কাঁচামাল ব্যবহার করে পুনরায় উৎপাদন শুরু করে ইস্টার্ন রিফাইনারি।   এরপর ২২ মে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে এমটি ফসিল জাহাজে আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়। সর্বশেষ বুধবার এমটি নিনেমিয়া আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছেছে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারি কাঁচামাল হিসেবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ব্যবহার করে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), পেট্রোল, কেরোসিন, ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ও বিটুমিনসহ ১৩ ধরনের জ্বালানি ও উপজাত পণ্য উৎপাদন করে থাকে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জুমে সেমিনার-কর্মশালার সম্মানীর নতুন হার নির্ধারণ

ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়-কক্সবাজার রুটে মিটারগেজের বদলে ব্রডগেজ রেললাইন

ফাইল ছবি

মিয়ানমারের সদিচ্ছা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব নয় : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0 Comments