ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বেইজিং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়াশিংটনকে সংলাপের পথে ফিরতে হবে।
বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন মাদুরো ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং দ্রুত তাদের মুক্তি দেয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার সরকার উৎখাতে সব ধরনের তৎপরতা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে চীন বলেছে, সংকটের সমাধান হতে হবে 'সংলাপ ও আলোচনার' মাধ্যমে।
এর আগে চীন জানায়, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এমন প্রকাশ্যে এমন শক্তি প্রয়োগে তারা ‘গভীরভাবে বিস্মিত’
।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার (৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মধ্যরাতে সামরিক স্থাপনাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে একই সাথে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহ চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, ইউক্রেনের এখন নতুন প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। এর এক দিন আগে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহসংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন জেলেনস্কি। তার অভিযোগ, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত মস্কোকে আরও সাহসী করে তুলেছে। হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে নিজের অন্যতম কঠোর বক্তব্যে জেলেনস্কি রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টিকে ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া শহরে রুশ হামলার সঙ্গে যুক্ত করেন। ওই হামলায় তিন শিশুসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানকেন্দ্রিক সংঘাত শুরুর পর বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ব্যাপক বেড়েছে। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির উচ্চমূল্য ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, ইউক্রেনের এখন একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়া প্রয়োজন।’ রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা চালিয়ে জেলেনস্কি বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি ডিজেল জ্বালানি নিয়ে আমাদের কৃষক ও খামারিদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে চাইছেন। কারণ, বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহের একটি বড় অংশ আসে রাশিয়া থেকে। এর আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ডিজেলসংক্রান্ত যে চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্প দিয়েছেন, তা মস্কোকে আরও সাহসী করে তুলেছে। এর পরিবর্তে কিয়েভ ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতে, যাতে সাড়ে চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানে অর্থবহ আলোচনা শুরু হয়। শনিবার রুশ সরকার জানিয়েছে, ডিজেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ রাশিয়া জাপোরিঝিয়ার আবাসিক ভবনগুলোর ওপর পাঁচটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করার মাধ্যমে ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য যেন ধন্যবাদ জানাল।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতের ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, চাপের কোনো শিথিলতাকেই রাশিয়া এমন একটি সংকেত হিসেবে দেখে যে তারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারে এবং শহরগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ অব্যাহত রাখতে পারে। এখন ভিন্ন ধরনের সংকেত প্রয়োজন।’ ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝিয়া নিয়মিত রুশ বোমা হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। গত কয়েক মাসে সেখানে হামলার তীব্রতা আরও বেড়েছে। শনিবারের হামলায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের একাংশ ধ্বংস হয়ে যায়। নিহতদের মধ্যে ছয় বছর বয়সী এক শিশুও ছিল। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুটির মরদেহ বের করে একটি সাদা ব্যাগে রাখেন। এ সময় শিশুটির দাদা আনাতোলি চুমনি সেখানে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই মাসের শেষেই তার জন্মদিন ছিল।’ চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনে এটি ছিল তৃতীয় বড় প্রাণঘাতী হামলা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাশিয়ার হামলায় প্রায় ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ক্রামাতোরস্কে বোমা হামলায় অন্তত ৩০ জন এবং কিয়েভ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পূর্বে প্রিলুকি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও ২২ জন প্রাণ হারান। ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তিটি মার্কিন আইনপ্রণেতাদেরও সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির সদস্য ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেকন। তিনি বলেন, কংগ্রেস সম্প্রতি যেসব নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে, তা শিথিল করার পরিবর্তে রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এখনই উপযুক্ত সময়। বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তির ফলে দীর্ঘ মেয়াদে জ্বালানির দাম কম থাকার সম্ভাবনা কম। কারণ, রাশিয়ার শোধনাগারগুলো হামলার শিকার না হলে দেশটি সাধারণত যে পরিমাণ জ্বালানি রপ্তানি করে, চুক্তির আওতায় সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম। এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম শনিবার জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী দিনগুলোতে দুই নেতা সশরীরে বৈঠক করবেন বলেও জানান ওই মুখপাত্র। আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার মায়ামিতে ইউক্রেনীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন আলোচকদের বৈঠকের পরই সর্বশেষ হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। যুদ্ধ অবসানে একটি যৌথ প্রস্তাব তৈরি করাই ছিল ওই বৈঠকের লক্ষ্য। আলোচনা চলাকালেই ট্রাম্প ডিজেলসংক্রান্ত চুক্তির ঘোষণা দেন, যা কিয়েভকে বিস্মিত করেছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। ইন্টারফ্যাক্স ইউক্রেনের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের সহযোগী দিমিত্রো লিটভিন। শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর পুতিন জানান, শান্তি আলোচনা অবিলম্বে পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। এর কারণ হিসেবে তিনি মস্কোর ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কথা উল্লেখ করেন। এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস শনিবার একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মার্কিন আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফর করতে পারেন। হোয়াইট হাউসে বক্তব্যের সময় শান্তি চুক্তি না হওয়ার জন্যও জেলেনস্কিকে দায়ী করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলেছিলাম, তুমি যা খুশি করো। কিন্তু তেল শোধনাগারে আঘাত করো না। আক্রমণের জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু আছে। শোধনাগারে আঘাত করো না। অথচ সে গিয়ে ঠিকই আঘাত করল।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তার এটা এখনই বন্ধ করা উচিত।’ আমার পরামর্শ হলো, তাদের এমন একজন নতুন নেতা খুঁজে নেওয়া উচিত, যিনি চুক্তি করতে সক্ষম। কারণ, তিনি চাইলে অনেক চুক্তিই করতে পারতেন, কিন্তু কোনো এক কারণে তিনি তা কখনোই করেন না।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ও আকস্মিক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর জনবহুল বিমানবন্দরটির সব ধরনের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক দফায় দফায় চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এই বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং দুজন বাংলাদেশি রয়েছেন। এ ছাড়া নিহতদের বাকিদের মধ্যে মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটিতে হামলার পরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশটিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যায় বলে রয়টার্সকে জানান এক প্রত্যক্ষদর্শী। নিরাপত্তা আশঙ্কায় রিয়াদস্থ মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন পশ্চিমা মিশন তাদের দেশের নাগরিকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার কঠোর সতর্কতা জারি করেছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদ দূরত্বে থাকতে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে বলেছে। কুয়েত এয়ারওয়েজসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইটগুলো বাতিল করেছে। ফ্লাইট ট্র্যাকার সূত্র জানাচ্ছে, রিয়াদের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত বিমান হয় অন্য গন্তব্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চিকিৎসকদের দ্রুত হাসপাতালে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি নিজ চোখে গেট ৪০১-এ হামলার দৃশ্য দেখেছেন এবং চোখের সামনে অনেক মানুষকে রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখেছেন। চারদিকে এক ত্রাস ও হাহাকারের সৃষ্টি হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, রিয়াদের পাশাপাশি পূর্ব সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছিও একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরো এসে পড়েছে। এর আগে, গত ৬ ও ৭ অক্টোবর এবং সাম্প্রতিক অন্যান্য হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে সৌদি জোটের সামরিক হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে নতুন করে মারাত্মক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা রোধ করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি আরব জোট গঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ বছর ধরে চলা বিমান ও স্থল হামলায় লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং বিশ্বজুড়ে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়। ২০২২ সালে একটি অস্থায়ী ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে সেই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ভেঙে পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা’ জারির ঘোষণা দিয়ে দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের ট্যাংকারগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের কড়া নজর রয়েছে। সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা
ভারতের নয়া দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নেমে আটক হওয়া প্রায় তিন হাজার বিক্ষোভকারীকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মুক্তি পাওয়া আন্দোলনকারীদের তালিকায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রীও রয়েছেন। তবে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শীর্ষস্থানীয় দুই নেতা অভিজিৎ দীপকে ও ধ্রুব রাঠি এখনও পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে শনিবার রাতে এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে। দাবি আদায়ে এদিন নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়ার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল সিজেপি। তাদের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিজুড়ে ব্যাপক পুলিশি অভিযান চালানো হয়। এনডিটিভি লিখেছে, এসব অভিযানে অন্তত ৩ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী— আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামপন্থি রাজনীতিক পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার। এনডিটিভি লিখেছে, রোববারও দিল্লিতে একই পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। কারণ সিজেপি প্রতিদিনই যন্তর মন্তরে মিছিল করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে সোমবার সোমবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটও। অন্যদিকে পুলিশ বলেছে, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।