বিশ্ব

আসামে ভারতের সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি দূরবর্তী এলাকায় শনিবার (১৩ জুন) একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

 

বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়ায় নির্মিত অ্যান্তোনভ এএন-৩২ বিমানটি আসাম রাজ্যের জোড়হাট শহরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।

 

বিবৃতিতে হতাহত সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এবং দুর্ঘটনার সময় বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন তাও উল্লেখ করা হয়নি।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি দুর্ঘটনাস্থলের যে ছবি প্রকাশ করেছে, তাতে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং বিমানটি কয়েকটি টুকরো হয়ে গেছে বলে মনে হয়েছে।

 

দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান এএন-৩২ বিশেষভাবে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল এবং চরম আবহাওয়ায় ভালোভাবে পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়েছে।

 

ভারতীয় বিমানবাহিনী দেশের সবচেয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম ও বেসামরিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার কাজে এ ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান ব্যবহার করে।

 

এই মডেলের বিমান সবশেষ ২০১৯ সালে চীনের সীমান্তের কাছে অরুণাচল প্রদেশ রাজ্যে বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ভারতের সেনাপ্রধান হচ্ছেন ধীরাজ শেঠ

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বর্তমান উপ-প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ জুন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই দিনে অবসরে যাবেন দেশটির বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।   শনিবার (১৩ জুন) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   বিজ্ঞপ্তিতেতে বলা হয়, ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। প্রায় চার দশকের সামরিক কর্মজীবনে তিনি অপারেশনাল, কৌশলগত, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১৩, ২০২৬
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

জীবন দিয়ে সন্তানের লোভের মূল্য চুকালেন বৃদ্ধ পিতা

ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি। ছবি: সংগৃহীত

‘বিশ্ব শিগগিরই ইরানের বিজয়ের প্রতিধ্বনি শুনবে’

ছবি : সংগৃহীত
ভারতের ক্যানসার ওষুধের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ল

ভারতে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ এবং কয়েকটি ভ্যাকসিনের সর্বোচ্চ নির্ধারিত দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ)। খবর দ্য ট্রিবিউনের।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ওষুধ উৎপাদন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। একই সঙ্গে বাজারে এসব ওষুধের সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কার্বোপ্লাটিন ও সিসপ্লাটিন ইনজেকশনের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।   এছাড়া টিটেনাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন এবং সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া তৈরি কয়েকটি শিশুদের ভ্যাকসিনের দামও সংশোধন করা হয়েছে।   এনপিপিএ জানায়, এসব ওষুধের কাঁচামালের দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও বাজারে সরবরাহ বজায় রাখতে মূল্য সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়ে।   স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টরা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে এসব ওষুধের ঘাটতি তৈরি হলে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হতে পারে এবং বিকল্প হিসেবে আরও ব্যয়বহুল ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম ছয় মাস পর পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভিসা প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে যে সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইউরেনিয়াম জব্দের পরিকল্পনা আটকে দেন ট্রাম্প

ইরানসহ চার দেশের নাগরিকদের আফ্রিকায় পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর দুবাই

দুবাই আবারও বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। টানা ষষ্ঠবারের মতো এই অবস্থান ধরে রেখেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শহরটি। জাপানের মোরি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল পাওয়ার সিটি ইনডেক্স (জিপিসিআই) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের পরিচ্ছন্নতা সূচকে দুবাই ১০০ শতাংশ সন্তুষ্টির স্কোর পেয়েছে। জীবনমান, পরিবেশ, অর্থনীতি, গবেষণা, সংস্কৃতি ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বের বড় শহরগুলোর মূল্যায়ন করা হয় এই সূচকে।   দুবাই কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরকে পরিষ্কার রাখতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং সাধারণ মানুষ একসঙ্গে কাজ করছে। পরিচ্ছন্নতা এখন দুবাইয়ের নগর সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে।   দুবাই মিউনিসিপ্যালিটি জানিয়েছে, শহরজুড়ে ২৪ ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। এ কাজে ৭৮৫টি যানবাহন ও বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ২৩ হাজার ৩০০টির বেশি বর্জ্য সংগ্রহের ইউনিট রয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কর্মী ও তদারকি কর্মকর্তা এ কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন।   শহরের প্রধান সড়ক, আবাসিক এলাকা, বাজার, সৈকত, শিল্পাঞ্চল এবং জলপথ নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   দুবাইয়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো বর্জ্য উৎপাদন কমানো, পুনর্ব্যবহার বাড়ানো এবং ল্যান্ডফিলে বর্জ্য পাঠানো বন্ধ করা। এ জন্য বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   দুবাই মিউনিসিপ্যালিটির মহাপরিচালক মারওয়ান আহমেদ বিন ঘালিতা বলেন, এ অর্জন সরকারের পরিকল্পনা, নাগরিকদের সচেতনতা এবং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   টানা ছয় বছর বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের স্বীকৃতি পাওয়ায় দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মারিয়া রহমান জুন ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে সাইবার হামলায় শীর্ষে উত্তর কোরিয়া

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৬১

ছবি : সংগৃহীত

গ্রাহক পর্যায়ে পেট্রোলের দাম ৪ রুপি, ডিজেলের দাম ২ রুপি কমালো পাকিস্তান

0 Comments