ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে আলোচনা যেন শেষই হচ্ছে না। নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে যে তিনি আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে যোগ দিতে পারেন।
সম্প্রতি তাকে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে দেখা যাওয়ার পর থেকেই এই আলোচনা আবার জোরদার হয়েছে।
বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন নেইমার। কোপা সুদামেরিকানার একটি ম্যাচ খেলতে তিনি আর্জেন্টিনায় গিয়েছিলেন। সেই সফরে স্যান লরেঞ্জোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে সময় বের করে তিনি বোকা জুনিয়র্সের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ক্যাসা আমারিয়া ঘুরে দেখেন, যা ক্লাবটির বিখ্যাত মাঠ লা বোম্বোনেরার কাছেই অবস্থিত।
এই সফরে বোকা জুনিয়র্সের পক্ষ থেকে তাকে দুটি বিশেষ জার্সি উপহার দেওয়া হয়—একটিতে তার নিজের নাম এবং অন্যটিতে ক্লাবের কিংবদন্তি ও বর্তমান সভাপতি হুয়ান রোমান রেকেলমের নাম লেখা ছিল।
যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ এটিকে কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে দাবি করেছে, তবে নেইমারের হাতে নীল-হলুদ জার্সি দেখা যাওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে তাকে দলে ভেড়ানোর জল্পনা শুরু হয়েছে। ক্লাবের কর্মকর্তারা অবশ্য এই ট্রান্সফারের গুঞ্জন সরাসরি নাকচ করেছেন। তাদের মতে, সফরের সময় নেইমার ও ক্লাব সভাপতির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।
এদিকে আর্জেন্টিনায় থাকাকালীন নেইমার তার সাবেক সতীর্থদের সঙ্গেও দেখা করেন, যা আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সাবেক পিএসজি তারকা আন্দ্রে হেরেরার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানা গেছে। হেরেরা নাকি তাকে লা বোম্বোনেরার অনন্য পরিবেশ সম্পর্কে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন।
এছাড়া লিয়ান্দ্রো পেরেদেস আগেই মজা করে বলেছিলেন, তিনি নেইমারকে আর্জেন্টিনায় এনে কোপা লিবারেতাদোর্স জয়ের লড়াইয়ে নামাতে চান।
অন্যদিকে বোকা জুনিয়র্স ভবিষ্যতের জন্য বড় তারকাদের নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে বলেও শোনা যাচ্ছে। সেখানে পাউলো দিবালার নামও আলোচনায় রয়েছে। এমন অবস্থায় নেইমারের মতো তারকা যোগ দিলে তা দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নেইমারের বর্তমান ক্লাব সান্তোসের অবস্থাও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তার চুক্তি থাকলেও, ২০২৫ সালে ফিরে আসার সময় করা চুক্তির কিছু আর্থিক বিষয় এখনও বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে। নতুন চ্যালেঞ্জের আগ্রহের কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এখনই কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও আর্জেন্টিনা সফরকে ঘিরে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে তিনি সান্তোস ছাড়লে অন্য দক্ষিণ আমেরিকান লিগের চেয়ে মেজর লিগ সকারে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে থেকে প্রতিপক্ষের প্রশংসা করা এহভে হোনাহ ম্যাচ শেষেও স্তুতিতে ভাসালেন জাপানকে। এশিয়ার দলটির বিপক্ষে বিধ্বস্ত হয়ে তিউনিসিয়া কোচ মনে করিয়ে দিলেন দুই দলের পার্থক্যের কথা। ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে রোববার সকালে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় জাপান। টানা দুই পরাজয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় হোনাহর দলের। সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলে হারের পর সাবরি লামৌচিকে বিদায় করে হোনাহকে কোচের দায়িত্ব দেয় তিউনিসিয়া। গত বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কোচ ছিলেন তিনি। তার কোচিংয়েই আর্জেন্টিনাকে হারানোর চমক দেখিয়েছিল সৌদি। কিন্তু বিশ্বকাপের মাঝে তিউনিসিয়ার দায়িত্ব নিয়ে দলটিকে কক্ষপথে ফেরাতে পারেননি হোনাহ। আরেকটি বড় পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে আফ্রিকার দলটিকে। ম্যাচের আগে থেকেই জাপানের প্রশংসা করে আসছিলেন হোনাহ। বলেছিলেন, তার চোখে এশিয়ার সেরা দল জাপান। তবে তিউনিসিয়ার পারফরম্যান্স প্রত্যাশার ধারেকাছেও ছিল না, এটা মানতে কষ্ট হচ্ছে তার। এমন পারফরম্যান্স আমরা আশা করিনি… এই দ্বিতীয় ম্যাচের ব্যবধানটা অনেক বড়, তবে আজ রাতে দুই দলের পার্থক্যটা ফুটে উঠেছে। তিউনিসিয়ার এখন আর হারানোর কিছু নেই। তাই চাপমুক্ত থেকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে তারা। তবে এই ম্যাচকেও হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেখেন না হোনাহ। টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেও আমাদের এখনো তৃতীয় ম্যাচ খেলা বাকি আছে। আমরা বিশ্বকাপে খেলছি এবং আমাদের মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তৃতীয় ম্যাচটিতে লড়াই করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা এখন জরুরি। টানা দুই ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানো কখনোই সহজ নয়, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পেশাদারিত্ব বজায় রাখার জন্য আমাদের নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে।
ফুটবলারদের ক্যারিয়ার শেষ হওয়ার পর কোচিং, টেলিভিশন বিশ্লেষক কিংবা ক্লাব প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার গল্প নতুন কিছু নয়। কিন্তু নুসাইর মাজরাউইয়ের পরিকল্পনা যেন একেবারেই ভিন্ন। মরক্কোর এই ডিফেন্ডার মাঠের সবুজ ঘাস ছেড়ে ভবিষ্যতে নিজেকে দেখতে চান ধর্মীয় শিক্ষার জগতে—একজন হাফেজে কোরআন এবং ইমাম হিসেবে। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাজরাউই। বয়স মাত্র ২৮। একজন ডিফেন্ডারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের সেরা সময় বলেই ধরা হয়। অথচ এই সময়েই অবসরের চিন্তা করছেন তিনি। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাজরাউই জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে তার। কারণ, জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে তিনি সময় দিতে চান ধর্মীয় শিক্ষা ও আত্মিক উন্নয়নে। মাজরাউইয়ের ভাষায়, ফুটবল তাকে অনেক কিছু দিয়েছে। খ্যাতি, অর্থ, সাফল্য—সবই পেয়েছেন। কিন্তু জীবনের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছেন, আধ্যাত্মিক চর্চার জন্য আরও বেশি সময় প্রয়োজন। মাজরাউই বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুবই ছোট। আমি কোরআন মুখস্থ করতে চাই। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মসজিদের ইমাম হওয়ারও ইচ্ছা আছে।’ মরক্কোর এই তারকা জানিয়েছেন, তার অন্যতম বড় স্বপ্ন হলো সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করা। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করে একজন ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে চান তিনি। আধুনিক ফুটবলে এমন সিদ্ধান্ত খুব একটা দেখা যায় না। বিশেষ করে ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা একজন ফুটবলার যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে দাঁড়িয়ে অবসরের কথা ভাবেন, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দেয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সাফল্যের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সেই আসরে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল মরক্কো। এরপর ক্লাব ফুটবল ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছেন মাজরাউই। তবে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলছে, সাফল্যের সংজ্ঞা কেবল ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কারও কারও কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে বিশ্বাস, জ্ঞান ও আত্মিক পরিপূর্ণতা। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর সত্যিই যদি অবসর নেন মাজরাউই, তাহলে ফুটবল বিশ্ব হারাবে একজন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারকে। কিন্তু তিনি হয়তো শুরু করবেন জীবনের একেবারে নতুন এক ইনিংস—যেখানে মাঠের গ্যালারির বদলে থাকবে মসজিদের মিম্বর, আর করতালির বদলে থাকবে জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় সেবার পথচলা।
বৈভাব সুরিয়াভানশির বিস্ময়-যাত্রা চলছেই, এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ফিফটি করলেন ১১ বলে। জায়গা বানিয়ে খেলার চেষ্টায় ঠিকমতো পারলেন না বৈভাব সুরিয়াভানশি। ধরা পড়লেন তিনি মিড অফ ফিল্ডারের হাতে। চোখেমুখে আর অভিব্যক্তিতে হতাশা ফুটে উঠল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক নিরোশান ডিকওয়েলা ছুটে এস পিঠ চাপড়ে সান্ত্বনা দিলেন। উল্লাসে মেতে ওঠা বোলারের পাশ দিয়ে সুরিয়াভানশি ড্রেসিং রুমের পথে হাঁটা দিলেন বিরস বদনে। ৬ রানের জন্য হলো না সেঞ্চুরি। আক্ষেপ ওই সেঞ্চুরি না হওয়াতেই। নইলে ততক্ষণে সুরিয়াভানশি যা করেছেন, তাতে লঙ্কান বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক হয়ে যাওয়ার কথা। ১১ বলে ফিফটি করে ভেঙে দিয়েছেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটির ২১ বছর পুরোনো রেকর্ড। আউট হয়ে ফেরার সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ২৯ বলে ৯৪! শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় ‘এ’ দলের টুর্নামেন্টের ফাইনালে রোববার ইনিংসটি উপহার দেন সুরিয়াভানশি। ফাইনালের আগ পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেননি সুরিয়াভানশি। আফগানিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে এক ম্যাচে ২২ বলে ৪৪ ও আরেক ম্যাচে ২৮ বলে ৩৮ করেছিলেন। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই ছিলেন ব্যর্থ। আইপিএলে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা খানিকটা মিইয়ে এসেছিল ‘এ’ দলের এই টুর্নামেন্টের পারফরম্যান্সে। এই আসরে বেশি আলোচনায় ছিলেন তিনি বরং বিতর্কে জড়িয়ে। লঙ্কানদের সঙ্গে আগের ম্যাচেই সুপার ওভারের রোমাঞ্চে হেরে যাওয়ার পর মাঠে কথার লড়াইয়ের জের ধরে এক পর্যায়ে বিশেন হালাম্বাগের দিকে তেড়ে যান তিনি। এই ঘটনায় তার শাস্তিও হয়, যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ব্যাটিং পারফরম্যান্স আর বিতর্কের ঘটনায় সব মিলিয়ে একটু নেতিবাচক আবহও ছড়িয়েছিল তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো। কিন্তু ফাইনালে ব্যাটের তাণ্ডবেই সব আড়াল করে দিলেন তিনি। ডাম্বুলায় এ দিন প্রথম ওভারে দুটি বল খেলে দুটিতেই চার মেরে যাত্রা শুরু হয় সুরিয়াভানশির। তৃতীয় ওভারে মোহামেদ শিরাজকে গুঁড়িয়ে তিন ছক্কা ও দুই চারে রান নেন ২৬। তিন ওভারেই পঞ্চাশ পেরিয়ে যায় ভারত ‘এ’ দল। পরের ওভারে একটি চারের পর টানা দুটি ছক্কায় পূর্ণ করেন ফিফটির রেকর্ড। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে দ্রুততম ফিফটি এতদিন ছিল ১২ বলে। ২০০৫ সালে শ্রীলঙ্কার কৌশাল্য উইরারাত্নে গড়েছিলেন রেকর্ডটি। ফিফটির পরের বলেই চার মারেন আরেকটি। চার-ছক্কার ঝড় তার চলতেই থাকে। নবম ওভারে লঙ্কান দলপতি সাহান আরাচ্চিগের বলে নান্দনিক এক ছক্কা মারেন এক্সট্রা কাভার দিয়ে। কিন্তু ওই ওভারেই থামতে হয় তাকে। শ্রীলঙ্কার হয়ে পাঁচটি ওয়াডে খেলা অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার দলকে বড় স্বস্তি এনে দেন সুরিয়াভানশিকে বিদায় করে। ৯৪ রান করে তিনি যখন ফিরছেন, ৮.৫ ওভারে ভারতের রান তখন ১৩২! এই য়ে গত এক মাসে চার দফায় অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করলেন তিনি। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের শেষ চার ম্যাচের তিনটিতে তিনি করেন ৩৮ বলে ৯৩, ২৯ বলে ৯৭ ও ৪৭ বলে ৯৬। সামনেই তাকে জাতীয় দলের হয়ে দেখা যাবে ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ড সফরে।