বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জসহ সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ওপর, তাদের ঘরবাড়ির ওপর বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি এস এম ফরহাদ।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় ফরহাদ বলেন, ‘তারেক রহমানসহ তার দলীয় নেতৃবৃন্দ যারা বিজয়ী হয়েছেন, যারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন তারা অন্তত এবার আওয়ামী আচরণকে কপি করবেন না বলে আমরা আশাবাদী। আপনারা ছাত্রলীগের কিংবা আওয়ামী লীগের আচরণকে কপি করে আবারও ফ্যাসিবাদী হতে চাইবেন না।
আমাদের আবারও আবু সাঈদ হয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য করবেন না।’
ডাকসুর জিএসি বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, ইলেকশনের পরে অন্তত আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পাবো। তবে আমরা লক্ষ করেছি, এই নির্বাচনে বিএনপি যতগুলো আসন পেয়েছে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ এর চেয়ে অনেক বেশি আসন পেয়েও এত দ্রুত তারা এতো ভয়ংকর, ফ্যাসিবাদী আচরণ করার সাহস পায়নি। ২৪-পরবর্তী এ নির্বাচনের আজকে এক দিন পার না হতেই বিএনপি যেভাবে তাদের নেতাকর্মীদের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং সেটিকে ইনজয় করছে, সুপ্রিম লিডারের জায়গা থেকে এটিকে অ্যাড্রেস করা হচ্ছে না, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সেগুলো প্রতিরোধের চেষ্টা করছে না এটি একটি ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই, আমাদের শিক্ষার্থীর কোনো পরিবার, আমাদের শিক্ষার্থীরা আহত হলে, দেশের জনগণ আহত হলে আমাদের জায়গা থেকে আমরা আবারও মাঠে নামতে বাধ্য হবো। আমরা এখনো আশাবাদী, যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা আওয়ামী আচরণকে ফিরিয়ে আনবে না। তারা আওয়ামী লীগ হতে চাইবেন না। আমরা আশা করতে চাই, আবার কোনো ফ্যাসিবাদ হতে চাইবেন না।
বিরোধী দলের ওপর মামলা হামলা, আক্রমণের যে রীতি ছিল ২৪-এর সময় যা বন্ধ হয়ে গেছে সেটি আবার ফেরাবেন না।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিবদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আজ শুক্রবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল (জুম) সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। সভায় শিক্ষামন্ত্রী কেন্দ্র সচিবদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করা যাবে না। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপন করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন পর্যবেক্ষণ ব্যাহত না হয়; সেজন্য বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ব্যবস্থা নিতে হবে। নকল প্রতিরোধের বিষয়ে নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমরা পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। এবারও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি; এবারও দেব। আপনারা কোনো ভয় না পেয়ে নির্ভয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে পরীক্ষকদের সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, খাতায় যা লেখা থাকবে, কেবল সঠিক উত্তরের ভিত্তিতেই নম্বর দিতে হবে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে একটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে। আসন্ন পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রী স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। ভার্চুয়াল সভায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা, বৈশ্বিক বাজারে দামের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও দুর্নীতি—সব মিলিয়ে এই খাতটি দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। দেশব্যাপী জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা আরো স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা আনতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামক একটি অ্যাপ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। অ্যাপটি প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের ব্যবহারের জন্য ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশন—তেজগাঁওয়ের ট্রাস্ট ও আসাদগেটের সোনারবাংলা—এ সীমিত আকারে পাইলটিং করা হচ্ছে। সফলভাবে এই পাইলটিং সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বর্তমানে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার কারণে বিলম্ব ও বিশৃঙ্খলা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও সারির চিত্র প্রায়ই দেখা যায়। একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়, যা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে এবং সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ বাড়ায়। এই বাস্তবতায় একটি প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল। ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ সেই প্রয়োজন মেটানোর একটি আধুনিক উদ্যোগ। এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে জ্বালানি বিতরণ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। এটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, ফলে প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্ধারিত জ্বালানি বরাদ্দ সহজেই নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে একজন চালক তার বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি গ্রহণ করতে পারবেন এবং একই সঙ্গে নিজের ব্যবহারের তথ্যও দেখতে পারবেন। এই ব্যবস্থায় ফিলিং স্টেশন মালিকরাও ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন, যা পুরো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের অবস্থা রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এর ফলে কোথায় কত জ্বালানি যাচ্ছে, কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হবে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে বড় ভূমিকা রাখবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অ্যাপ ব্যবহারের জন্য স্মার্টফোন থাকা বাধ্যতামূলক নয়। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে ব্যবহার করতে পারবেন। ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে কেউ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না—এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি এখানে লক্ষ করা যায়। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অনিয়ম ও অপচয় কমবে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে সংকটকালীন সময়ে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে যে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা তা মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। শুধুমাত্র একটি অ্যাপ চালু করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না, যদি না এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এর আওতায় আনা হয়। ফিলিং স্টেশন মালিক, পরিবহন খাতের অংশীজন এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। পাশাপাশি এই ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে শক্তিশালী মনিটরিং ও জবাবদিহিতা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ডাটা নিরাপত্তাও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেহেতু এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান হবে, তাই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। যেকোনো ধরনের তথ্য ফাঁস বা অনুপ্রবেশ এই উদ্যোগের প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সবশেষে বলা যায়, ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে। লেখক : সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
রাজধানী তুরাগের রানাভোলার আব্দুর রহমান হাই স্কুলের পাশের একটি বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ৬টা ২৫ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পাঁচটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত হতাহত হওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।