আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সামান্য কমেছে। আগের সেশনে ছয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন বৃদ্ধি ও মুনাফা গ্রহণের চাপ স্বর্ণের ওপর প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে সপ্তাহজুড়ে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্যকে সামনে রেখে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,২১৮.৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ০.৬ শতাংশ কমে ৪,২৫০.৭০ ডলারে নেমেছে। এ সময়ে ১০-বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ফলন দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চের কাছাকাছি অবস্থান করায় সুদহীন স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকের মতে, স্বর্ণের বর্তমান দুর্বল পারফরম্যান্স সত্ত্বেও মৌলিক দিক অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রত্যাশিত মার্কিন সুদের হার কমানো ভবিষ্যতে স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বাজার এখন সতর্ক, কারণ ফেড চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শিথিল মন্তব্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম। শুক্রবার প্রকাশিতব্য মূল পিসিই মূল্যসূচক যা ফেডের গুরুত্বপূর্ণ ইনফ্লেশন সূচক সহনীয় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সপ্তাহে নজরে থাকবে বুধবারের নভেম্বর এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং শুক্রবারের বিলম্বিত সেপ্টেম্বর পিসিই তথ্য। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডিসেম্বরেই সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা ৮৮ শতাংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম ১.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৫৭.২৪ ডলারে। প্ল্যাটিনাম ০.৯ শতাংশ কমে ১,৬৪৩.১০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ১,৪১৯.৫০ ডলারে নেমেছে।
দেশের বাজারেও সোমবার (১ ডিসেম্বর) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) এখন ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের একটি ছোট শহরে গোলাগুলির ঘটনায় তিনজন নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারী পলাতক রয়েছে। খবর বিবিসির। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে লেক কারজেলিগো শহরের একটি আবাসিক এলাকায় জরুরি সেবাদানকারী দলকে ডাকা হয়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে এক পুরুষ ও এক নারীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরেকটি গোলাগুলির ঘটনায় এক নারী নিহত হন এবং এক পুরুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে এবং তাকে ধরতে অভিযান চলছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অপরাধস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাটিকে সম্ভাব্য পারিবারিক সহিংসতা থেকে সংঘটিত হামলা বলে সন্দেহ করছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। তবে নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সহকারী কমিশনার অ্যান্ড্রু হল্যান্ড হামলাকারী ও নিহতদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। তার ভাষায়, ছোট একটি শহরে এমন প্রাণঘাতী ঘটনা সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। অ্যান্ড্রু হল্যান্ড আরও বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে মানুষকে গুলি করার মতো ঘটনা জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জরুরি সেবাদানকারী সদস্যরা ঘটনাস্থলে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল বিনিয়োগ নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘হিউমেইন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সৌদি সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। বুধবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সৌদি ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের সঙ্গে হিউমেইন-এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ২৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা হবে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব তাদের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে সরিয়ে আনতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বড় বাজি ধরেছে। প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সার্বভৌম তহবিলের সহায়তায় এই প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের মে মাসে যাত্রা শুরু করে। হিউমেইন-এর প্রধান নির্বাহী তারেক আমিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বমানের এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তোলা। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটিং চাহিদা দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে, আর আমাদের এই প্রযুক্তির ওপর তারা অনায়াসেই নির্ভর করতে পারবে।” সৌদি আরব এবং তাদের প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত, উভয় দেশই বর্তমানে ডেটা সেন্টার এবং এআই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জেনারেটিভ মডেলে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হিউমেইন এবং সৌদি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড একটি ‘ডেটা সেন্টার ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ তৈরির পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করে হিউমেইন-এর এআই কৌশলকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। গত নভেম্বরে হিউমেইন মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়া’র সঙ্গে একটি অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা সৌদি আরবের কাছে উন্নতমানের মাইক্রোচিপস বিক্রির পথ সুগম করে দেন।
নাসায় ২৭ বছরের কর্মজীবন শেষে গত ২৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস। উইলিয়ামস তিনটি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) মিশন সম্পন্ন করেছেন এবং তার ক্যারিয়ারে বহু মানব মহাকাশযান রেকর্ড তৈরি করেছেন। উইলিয়ামস মহাকাশে মোট ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন—এটি নাসার নভোচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময়। তিনি একক মহাকাশ মিশনে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কাটানো আমেরিকানদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে আছেন, যেখানে নাসার নভোচারী বাচ উইলমোরের সঙ্গে ২৮৬ দিন সময় একই। তিনি মোট নয়টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট, যা নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং সবমিলিয়ে চতুর্থ স্থানে। এ ছাড়া তিনি মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম ব্যক্তি। নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের পরিচালক ভ্যানেসা উইচ বলেন, ‘সুনির ক্যারিয়ার জুড়ে তিনি একজন পথপ্রদর্শক নেতা ছিলেন। মহাকাশ স্টেশনে তার অবদান, বোয়িং স্টারলাইনার মিশনে প্রাথমিক পরীক্ষা—সবই ভবিষ্যতের অনুসন্ধানকারীদের অনুপ্রেরণা হবে। ১৯৯৮ সালে নাসায় যোগ দেওয়া সুনি উইলিয়ামস তার দীর্ঘ কর্মজীবনে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)-এ তিনটি অভিযান সম্পন্ন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি মহাকাশে কাটিয়েছেন ৬০৮ দিন, যা নাসার ইতিহাসে মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে স্পেস শাটল ডিসকভারি থেকে প্রথমবার মহাকাশে যাত্রা শুরু করেন সুনি। তিনি এক্সপিডিশন ১৪/১৫-এ ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই অভিযানে চারটি স্পেসওয়াক করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। ২০১২ সালে দ্বিতীয়বার মহাকাশে গিয়ে ১২৭ দিনের অভিযানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন সুনি। ২০২৪ সালে তার তৃতীয় ও শেষ মহাকাশযাত্রা হয় বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে। সহযাত্রী ছিলেন মার্কিন নভোচারী বাচ উইলমোর। মাত্র ১০ দিনের পরিকল্পিত অভিযানে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ১০ মাস মহাকাশে আটকে থাকতে হয় তাদের। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চে, মোট ২৮৬ দিন পর পৃথিবীতে ফেরেন। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান সুনি উইলিয়ামসের অবদানকে স্মরণ করে বলেন, ‘মানববাহী মহাকাশ অভিযানে সুনি একজন পথিকৃৎ। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানের পথও তিনি প্রশস্ত করেছেন। তার কাজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে ও সীমা অতিক্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে।’ পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সুনি ফ্লোরিডার মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে যোগ দেন। হেলিকপ্টার ও ফিক্সড-উইং বিমানে ৪০টিরও বেশি উড়োজাহাজে ৪ হাজার ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। কর্মজীবনে তিনি মোট ৯টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন, যার মোট সময় ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট। এটি যেকোনো নারী নভোচারীর মধ্যে সর্বোচ্চ। মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম মানুষও ছিলেন সুনি। অবসরের বিষয়ে সুনি বলেন, ‘যারা আমাকে চেনেন, তাঁরা জানেন মহাকাশ আমার কতটা প্রিয়। মহাকাশচারী হতে পারা এবং তিনবার মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। নাসায় ২৭ বছরে সহকর্মীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছি, তা আমি আজীবন মনে রাখব।’ নাসার আসন্ন আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘যেতে তো চাই, কিন্তু আমার স্বামী আমাকে মেরে ফেলবেন!।’ তিনি আরো বলেন, ‘এবার ঘরে ফেরার সময়। মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে পরবর্তী প্রজন্মই এবার তাদের জায়গা করে নিক।’ সূত্র : নাসা