আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফেরা উপলক্ষে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত দলের নেতাকর্মীদের লন্ডনের বিমানবন্দরে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭–১৮ বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরতে যাচ্ছেন।
দেশে ফেরার সময় বিমানবন্দরে যেন কোনো ধরনের হট্টগোল সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, সেদিন কেউ যেন বিমানবন্দরে না যান। বিমানবন্দরে ভিড় হলে তা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে এবং এতে দেশ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যারা তার এই অনুরোধ মেনে বিমানবন্দরে যাবেন না, তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে বিবেচিত হবেন। আর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারা সেখানে যাবেন, তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করেছেন বলে ধরে নিতে তিনি বাধ্য হবেন।
বিজয় দিবসের আলোচনায় তিনি দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময় যেসব শক্তি ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের অপচেষ্টা এখনো থেমে নেই। তাই সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, জনগণকে স্বপ্ন দেখিয়ে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিএনপি স্বপ্ন দেখাতে নয়, বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্বাস করে।
নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলো সহজ হবে না। তবে ঐক্য বজায় রাখতে পারলে দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা এবং একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তারেক রহমান বলেন, তিনি কোনো কল্পনার জগতে নেই, তিনি আছেন বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার মধ্যে। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া সংকটময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী নির্বাচনেও জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে কারামুক্ত হয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেখানেই অবস্থান করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তাদের পেশাগত অধিকার, কল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’ গঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডিএসসিসির বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই অ্যাসোসিয়েশন গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের কণ্ঠভোটে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন কর কর্মকর্তা আতাহার আলী খান। তাদের নেতৃত্বে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ৭ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় এসোসিয়েশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা, গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, স্থায়ী সদস্য অন্তর্ভুক্তি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এসোসিয়েট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন ডিএসসিসির প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং নগরবাসীর সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবগঠিত এসোসিয়েশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মকর্তাদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, কর্মপরিবেশ উন্নয়নে গঠনমূলক ভূমিকা রাখা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক কার্যক্রম গ্রহণ এবং নাগরিক সেবা আধুনিক ও কার্যকর করতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা। অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের মতামত ও প্রস্তাব আরও সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে, যা ডিএসসিসির প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করতে সহায়ক হবে। এছাড়া, গঠিত কমিটি শিগগিরই সভা আহ্বান করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে এবং গঠনতন্ত্র, সদস্য ফরম ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় রূপরেখা প্রণয়ন করবে। উল্লেখ্য, এই কমিটি আগামী দুই বছরের মধ্যে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে দায়িত্বভার হস্তান্তর করবে।
জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন নুরুজ্জামান বাদল। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে দ্রুত ময়মনসিংহ স্বদেশ হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ময়মনসিংহ নেওয়ার পথে রাত ৩ টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃতের ভাই মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তদুপরি, জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে উল্লেখ করেছে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক দান করুন।
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রম কেবল কিছু নির্দিষ্ট রিপোর্ট বা দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা একটি ইম্প্যাক্টফুল সময় পার করতে চাই, যাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা খাতে একটি টেকসই ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। আমাদের লক্ষ্য হলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি নতুন ধাপে নিয়ে যাওয়া এবং এর মাধ্যমে একটি কার্যকর সোশ্যাল ফোর্স তৈরি করা।’ আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বহুমুখী হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার রূপান্তরের লক্ষ্যে গঠিত পর্যালোচনা কমিটির খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপনা শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট পর্যালোচনা কমিটি ‘একটি সমন্বিত সমগ্র স্কুলিং দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ’ শীর্ষক এই খসড়া প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করেছে। অধ্যাপক সি. আর. আবরার বলেন, অনেক আগে থেকেই ‘শিক্ষার স্বপ্ন’ শীর্ষক একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ ৫-৭ বছর ধরে শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাই বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের অনেকটা ‘ফায়ার ফাইটিং’ অর্থাৎ তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশেও আমরা সংস্কারের কাজ থেকে পিছিয়ে আসিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের আহরিত দৃষ্টিভঙ্গি ও অন্তর্দৃষ্টিকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার ভিতে পরিবর্তন আনা।’ শিক্ষার সাথে সাংস্কৃতিক ও জাতীয় পরিচয়ের সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. আবরার বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের বিনিময়ে কোনো বিশেষ ধারাকে চাপিয়ে দেওয়ার মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, সরকারের মেয়াদ শেষে তিনি পুনরায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রমের পক্ষে সক্রিয় থাকবেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, কমিটির আহ্বায়কের ভাষণ দেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী। খসড়া প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. অনন্ত নীলিম। প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী। বক্তারা শিক্ষার মান উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের বৈষম্যহীন অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক ও সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।