জাতীয়

আহত শান্তিরক্ষীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে অনুরোধ

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

 

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুদানের আবেই এলাকায় অবস্থিত জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন এবং আটজন আহত হন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে নৃশংস আখ্যা দিয়ে নিহত শান্তিরক্ষীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছে সরকার ও দেশের জনগণ। তাদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

এ ছাড়া নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে সুদানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষা কন্টিনজেন্টকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানানো হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজি। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   সাক্ষাতে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী।   তিনি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, সি-ফুড, ট্রপিক্যাল ফুড, কৃষিভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সৌদি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।   সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরবের উন্নয়ন ও অর্থনীতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।   বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, ধর্মীয় বন্ধন এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে একটি কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।   প্রধানমন্ত্রী সৌদি বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তিনি বিশেষভাবে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সৌদি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ খাতে সৌদি বিনিয়োগ দুই দেশের জন্যই লাভজনক হবে।   বৈঠকের শেষে ওয়ালিদ এল-খেরেইজি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশা প্রকাশ করেন।   সৌদি প্রতিনিধি দলে ছিলেন—সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুলাইমান বিন আবদুলআজিজ আল-ইয়াহইয়া, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আল-শাম্মারি, মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মুহান্নাদ বিন আহমেদ আল-ইসা, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন আবিয়াহ এবং দেশটির পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।   বাংলাদেশের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ছেলের হত্যার বিচার চান শহীদ রফিকের মা

ছবি: সংগৃহীত

দেবহাটায় গৃহবধূর ঘর থেকে এক ব্যক্তিকে আটক, মামলা দায়ের

ছবি: সংগৃহীত

ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি

ছবি: সংগৃহীত
শেখ হাসিনার ভার্চ্যুয়াল ভাষণ: ভারত সরকারের সম্পৃক্ততা নেই বলে দিল্লির দাবি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে ভারত সরকার কোনোভাবে জড়িত নয় বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যমভিত্তিক আয়োজন; এ ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করা মতামতের দায় ভারত সরকারের নয়।   মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দিল্লিতে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ফরেইন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) আয়োজিত আলোচনায় শেখ হাসিনার সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ভারতের নজরে এসেছে। তবে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।   এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজন। সরকার এতে যুক্ত নয় এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।”   গত বছর ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে ভার্চ্যুয়াল ভাষণ দিতে পারেন—এমন খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে। ঢাকার মতে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সাম্প্রতিক ইতিবাচক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   এ বিষয়ে সোমবার ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।   ব্রিফিংয়ে আরেক প্রশ্নের উত্তরে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে তাকে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণও পাঠানো হয়েছে।   তিনি জানান, ব্রিকসের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিভিন্ন আঞ্চলিক জোটের নেতাদেরও একই ধরনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণপত্র পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।   উল্লেখ্য, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   সূত্র: এএনআই

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটে ৯৮ বোতল ফেনসিডিল মামলায় ৪ জনের ১০ বছর কারাদণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

সমালোচনার মুখে পিছু হটল বিদ্যুৎ বিভাগ

ছবি : সংগৃহীত

এসপি মাসুদের কাছে দোজখ-জাহান্নামের সংজ্ঞা জানতে চাইলেন সন্ত্রাসী রায়হান

ছবি : সংগৃহীত
আজ সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক

সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক হবে।   মঙ্গলবার (৪ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।  সংসদ সচিবালয় জানায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বৈঠক শুরু হবে। বিরোধী দল কমিটিতে যোগ দেয়নি। ফলে ১২ সদস্যের কমিটি নিয়ে প্রথম বৈঠক শুরু হচ্ছে। সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, পরিচিতি এবং পরবর্তী বৈঠকের আলোচনার বিষয় নির্ধারণের মধ্যে হয়তো প্রথম দিনের বৈঠক সীমাবদ্ধ থাকবে। দ্বিতীয় বৈঠক থেকে সংবিধান সংশোধন নিয়ে কার্যকর আলোচনা করা হবে।  ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির ধারাবাহিকতায় সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয় বর্তমান সরকার। সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, বিশেষ করে ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা চলে আসছিল। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়। গত ১৩ জুলাই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন নয়, সংস্কার দাবি করে আসছিল। ১৭ জনের মধ্যে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ শূন্য রেখে গত ১৩ জুলাই ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ। বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে বলেও জানান। জাতীয় সংসদে ওই দিন ১২ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কমিটির সদস্যরা হলেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল হক, চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফারজানা শারমিন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা, শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল এবং বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ অলিউল্লাহ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ০৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

পুলিশের অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৮ কর্মকর্তাকে বদলি

সংগৃহীত ছবি

প্রতি চারজনে এক শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে জাতীয় অর্থনীতির বড় ক্ষতি

ছবি : সংগৃহীত

হাইড্রোলিক হর্ন ও হুটার ব্যবহারে বিআরটিএর কঠোর নিষেধাজ্ঞা

0 Comments