একীভূতকরণ প্রক্রিয়াধীন শরিয়াভিত্তিক পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন নামে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ পরিচয়ে গ্রাহকদের টাকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে দেশজুড়ে পাঁচ ব্যাংকের সব সাইনবোর্ড পরিবর্তন করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, একীভূত ব্যাংকের প্রাথমিক কার্যক্রম দ্রুত এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
অমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে আমানত বিমা তহবিলের আওতায় প্রতি আমানতকারী সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি হিসাব থেকেই আপাতত এই টাকা উত্তোলন করা যাবে। এই সুবিধা শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আমানতকারীরা পাবেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন এই ব্যাংকটি সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করবে।
এ জন্য মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবনে নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। একীভূত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা এর মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি আসবে আমানতকারীদের শেয়ার থেকে। অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্বতন্ত্র পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
একই জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক হিসাব বা পরিচয়পত্র ছাড়া হিসাব পরিচালনার ঘটনা পাওয়া যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে পরিচয়পত্রযুক্ত একটি হিসাব থেকেই দুই লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র জানান, সব শাখায় একসঙ্গে টাকা বিতরণ শুরু হবে না; ধাপে ধাপে ভিন্ন ভিন্ন শাখা থেকে টাকা প্রদান করা হবে, যাতে গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। তিনি আরও বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ছে নাকি কমছে, তা জানা যাবে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি)। এদিন এক মাসের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করা হবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, সৌদি আরামকো ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশনা সোমবার বিকেল ৩টায় ঘোষণা করা হবে। সোমবার এলপিজির পাশাপাশি ঘোষণা করা হবে অটোগ্যাসের দামও। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই দিন সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
দেশের সম্ভাবনাময় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও রপ্তানিমুখী করার লক্ষ্যে আগামীকাল রাজধানীতে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো ২০২৬। আয়োজকরা জানান, এই এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প সক্ষমতা প্রদর্শন, আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক্সপো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিইআইওএ) সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংক-সমর্থিত এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসি৪জে) প্রকল্পের সহায়তায় আগামী ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে এই এক্সপো অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক্সপোটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রাংশ ও উদ্ভাবনী পণ্য প্রদর্শিত হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ইসি৪জে প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহিম খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, এফবিসিসিআই, বিভিন্ন ব্যবসায়ী চেম্বার ও সংগঠনের প্রতিনিধি, দেশি-বিদেশি ক্রেতা, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খাতটির গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুর রাজ্জাক বলেন, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প, কৃষি, বস্ত্র, নির্মাণ, বিদ্যুৎ, অটোমোবাইল এবং গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সরবরাহ করে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র ও মাঝারি লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে ৩ লাখেরও বেশি দক্ষ শ্রমিক কর্মরত। এই খাত জাতীয় জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখছে। তিনি জানান, দেশের প্রায় ৮.২ বিলিয়ন ডলারের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রায় অর্ধেকই দেশীয়ভাবে পূরণ করা হচ্ছে। যেখানে ৩ হাজার ৮০০-এর বেশি ধরনের যন্ত্রপাতি, খুচরা যন্ত্রাংশ, টুলস, ডাইস, মোল্ডস ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং উপকরণ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে এখনও যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের বড় সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি হলেও প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ এখনও ১ শতাংশের নিচে। বর্তমানে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত থেকে রপ্তানি আয় প্রায় ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার। যথাযথ নীতি সহায়তা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রপ্তানি আয় ১২.৫৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই এক্সপো কেবল প্রদর্শনী নয়, এটি একটি কার্যকর সোর্সিং ও নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে। যা নির্মাতা, ক্রেতা, সরবরাহকারী, বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের সরাসরি সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর, ব্যবসায়িক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ হবে। এক্সপোতে নির্মাণ ও প্যাকেজিং যন্ত্রপাতি, কৃষিযন্ত্র, বৈদ্যুতিক পণ্য, পাট ও বস্ত্র যন্ত্রাংশ, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ডাইস ও মোল্ডসসহ হাজারো শিল্পপণ্য প্রদর্শিত হবে। এতে ৫০টির বেশি স্টলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবন ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। এক্সপোর পাশাপাশি দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। একটি সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে এবং অন্যটিতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়নে গবেষণা ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিইআইওএ সভাপতি খাতটির টেকসই উন্নয়নে বেশ কয়েকটি নীতিগত প্রস্তাবও তুলে ধরেন। তিনি রপ্তানি উপযোগী হতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এবং শিল্পাঞ্চলে বিশেষায়িত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং জোন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, পণ্য বৈচিত্র্য ও প্রযুক্তি স্থানান্তর ছাড়া উচ্চমূল্যের রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন সম্ভব নয়। এ জন্য নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সরকারি সহায়তা জরুরি। তিনি কাঁচামালের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো এবং সহজ আমদানি সুবিধা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন, ভারত এবং ভিয়েতনামের থেকে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত নকশা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত যন্ত্রাংশ ও ডাই ডিজাইন সুরক্ষার জন্য সহজ, কার্যকর ও সময়োপযোগী পেটেন্ট ও ডিজাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি নারী ও তরুণ কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া, রপ্তানিমুখী ও রপ্তানিযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নগদ প্রণোদনা এবং সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের অগ্রাধিকার সুবিধার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কাঁচামাল আমদানির শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং আশা করছেন সরকার শিগগিরই সমাধান দেবে। তিনি শুল্ক কাঠামোর বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, যেখানে প্রস্তুত পণ্যের আমদানি শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ, সেখানে একই পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত। এই বৈষম্য দূর করে দেশীয় উৎপাদন সহায়তার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এই এক্সপোর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প শক্তিশালী হবে, নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের দৃশ্যমানতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বিইআইওএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ, সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় পরিচালকরা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইসি৪জে প্রকল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) দেশে কার্যরত সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এনালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) এই তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৫ জানুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উক্ত দুই দিন দেশের সব তপশিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয়ভাবে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব তপশিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। এছাড়া, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধ ও বৃহস্পতিবার) ব্যাংক বন্ধ থাকার পর, পরের দুই দিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্র ও শনিবার)ও ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ফলে টানা চার দিন দেশের সব তপশিলি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।