কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) সংসদীয় আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তিনি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। মিথ্যা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসনে কাটানোর পর দেশে ফিরে মন্ত্রী হওয়া তার জন্য একটা সময় অসম্ভবই ভাবা হচ্ছিল।
কায়কোবাদ বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। এলাকায় বিপুল জনপ্রিয় এ নেতা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এবার ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন।
ব্যাক্তিগতভাবে তিনি ৬ কন্যা সন্তানের জনক। রাজনৈতিক জীবনে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ পর্যন্ত এসেছেন। তিনি বহু নির্যাতনের শিকার হয়ে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কর্মজীবন শুরু হয় ব্যবসায়ী এবং ঠিকাদার হিসেবে। তিনি ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালের শেষ দিকে তিনি সংসদের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন।
১২ জুন ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে ৩য় বারের মতো সংসদ সদস্য হন। ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগদান করে চতুর্থবারের মতো তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
স্থানীয়রা জানায়, ২০১০ সালে তাকে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়। পর থেকে তিনি বিদেশে নির্বাসনে থেকেই দলের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং দলকে সংগঠিত করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর বিদেশে অবস্থান করে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা তথা মুরাদনগর উপজেলা বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেন। ২০১৬ সালে নির্বাসনে থেকেই কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ লাভ করেন।
তিনি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৩ আসন থেকে ষষ্ঠবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এতে তার ডাবল হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি তাকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় ধর্মমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
এদিকে মন্ত্রিত্ব লাভের পর থেকে তাকে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। একজন জননেতাকে মুল্যায়ন করায় এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, সবকিছু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় হয়। আমার আল্লাহ যা চায় তাই হয়। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। মুরাদনগরের মানুষ আমাকে ৬ষ্ঠ বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। এবার তারেক রহমান আমাকে ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার জীবনে আর কোন প্রত্যাশা নেই।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি এখন লড়াই করব। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করব। জনগণ যেভাবে চায় সেভাবেই এলাকার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ এড়াতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। সাঁথিয়া পৌরসভাধীন ইছামতী নদীর তীরে ডাইকের পাশে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘নদীর ডাইকের পাশে পশুর হাট বসানোর জন্য এখনও কোনও পক্ষকে ইজারা দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে হাটকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় জনস্বার্থে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।’ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঁথিয়া বাজার সংলগ্ন ইছামতী নদীর পাশে ডাইক সংলগ্ন পরিত্যক্ত জায়গায় একটি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেয় পৌর প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি মেলার পর মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রকাশ্য নিলামের আয়োজন করা হয়। ২০ হাজার টাকা জামানত দিয়ে মোট ২৬ জন দরদাতা এ প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। তবে নিলাম চলাকালে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিফ রায়হান কার্যক্রম স্থগিত করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় পুনরায় নিলামের ডাকা হলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিলাম বর্জন করে হলরুম থেকে বেরিয়ে যান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় এদিন বেলা ১১টা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ১৪৪ ধারা ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, ‘পশুর হাট নিয়ে উন্মুক্ত নিলামের আয়োজন করা হলেও প্রশাসনের কিছু মহলের যোগসাজশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ তবে পাল্টা অভিযোগ করে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, ‘পৌর প্রশাসনের আহ্বানে আমরা নিলামে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু জামায়াতের নেতাকর্মীরা আমাদের গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ায় নিলাম বর্জন করতে বাধ্য হই।’ সাঁথিয়া পৌরসভার বোয়াইলমারী হাটের ইজারাদার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ইছামতী নদীর ডাইকের পাশে কোনও অস্থায়ী হাট বসবে না। আগামী সোমবার থেকে বোয়াইলমারী পেঁয়াজ হাটেই পশুর হাট বসানো হবে।’ ইউএনও রিজু তামান্না বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালীন ওই এলাকায় সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, লাঠিসোঁটা বা দেশি অস্ত্র প্রদর্শন, মাইকিং, সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদি পরিস্থিতির উন্নতি হয় সেক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।’ সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৪৪ ধারা বাস্তবায়নে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভবিক আছে।’
পবিত্র ঈদুল আজহা শেষে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ফিরতি যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আজ থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিক্রি করা হবে আগামী ৩১ মে’র ট্রেনযাত্রার টিকিট। রেলওয়ে জানিয়েছে, শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট মিলবে দুপুর ২টা থেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ মে’র ফিরতি যাত্রার টিকিট পাওয়া যাবে ২১ মে, ১ জুনের টিকিট ২২ মে, ২ জুনের টিকিট ২৩ মে, ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে এবং ৪ জুনের ফিরতি যাত্রার টিকিট ২৫ মে বিক্রি করা হবে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে কেনা অগ্রিম টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। তবে একাধিক যাত্রীর জন্য টিকিট কাটতে হলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে। এর আগে গত ১৩ মে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন ২৩ মে যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ মে, ২৫ মে, ২৬ মে ও ২৭ মে’র যাত্রার টিকিট বিক্রি বিক্রি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বৈঠকে ঈদযাত্রা ও ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রির এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণির ফার্স্ট গার্ল রামিসা আক্তার ক্লাসের পরীক্ষায় আবারও প্রথম হয়েছিল। বন্ধুদের সঙ্গে সেই আনন্দ ভাগ করে নিতে স্কুলে তার চকলেট ও মিষ্টি নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। আর পরিকল্পনা ছিল সহপাঠীদের সঙ্গে খেলবে। কিন্তু স্কুলে আর ফেরা হয়নি তার। এর আগেই পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার শিকার হতে হয়েছে তাকে। রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় সবসময় ভালো ফল করতো। শিক্ষক-সহপাঠীদের কাছে পরিচিত ছিল শান্ত ও মেধাবী শিশু হিসেবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বুধবার (২০ মে) স্কুল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ‘পপুলার মডেল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী রামিসা হত্যার বিচার চাই, হত্যাকারীর জনসম্মুখে ফাঁসি চাই’- এমন ব্যানার নিয়ে তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। সেখানে রামিসার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মানববন্ধনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুনে লেখা ছিল ‘খুনি সোহেল রানা ও স্বপ্না বেগমের ফাঁসি চাই’, ‘রামিসা আক্তার, শ্রেণি: দ্বিতীয়, রোল: ০১’, ‘রামিসা হত্যার বিচার চাই’সহ আরও অন্যান্য দাবি। এসময় স্কুল প্রাঙ্গণ ভারি হয়ে ওঠে শোক ও ক্ষোভে। সহপাঠীর নির্মম হত্যাকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। শিক্ষকরা বলেন, একটি মেধাবী ও প্রাণবন্ত শিশুকে এভাবে হারানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘কখনো প্রথম, কখনো দ্বিতীয় হয়েছে সে। তার পুরস্কারগুলো এখনো আমাদের এখানে রয়েছে। খুবই মেধাবী ও ভদ্র একটা মেয়ে ছিল। আমরা এই ঘটনার বিচার চাই।’ রামিসার সহপাঠীদের কণ্ঠে ছিল শোক আর অপূর্ণ অপেক্ষার কথা। এক সহপাঠী বলে, ‘পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ও খুব খুশি ছিল। বলছিল, কালকে মিষ্টি আর চকলেট নিয়ে আসবে। আমরা সবাই মিলে খাবো, খেলবো, অনেক মজা করবো।’ আরেকজন বলে, ‘ও আমার সঙ্গে বসতো, খেলতো। খুব ভালো ছিল। ও আমাদের ক্লাসের মধ্যে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট করতো। বলছিল চকলেট-মিষ্টি নিয়ে আসবে, কিন্তু ও আর আসেনি।’ কাঁদতে কাঁদতে আরেক সহপাঠী বলে, ‘ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল। এখন আমার পাশে নেই। খুব মন খারাপ লাগে।’ রামিসা পল্লবীতে বাবা, মা ও বড় বোনের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। গত ১৯ মে সকালে একই ভবনের আরেকটি ফ্লাটে তাকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন ভবনের ভাড়াটিয়া মো. সোহেল রানা। বুধবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, ঘটনার পর আসামি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। একই ঘটনায় গ্রেফতার সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় তদন্তাধীন।