জাতীয়

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

Unknown জানুয়ারী ০৭, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন নিশ্চিত করতে রাজধানীসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। তবে সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি—এই ছয়টি উপজেলা এই মোতায়েনের আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় বিজিবি মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।


এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনপরবর্তী মিলিয়ে সাত দিনের জন্য সারাদেশে আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, ভোটগ্রহণের চার দিন আগে, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হবে, যা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) এবং কোস্ট গার্ড আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন।
এই নির্বাচনে সারাদেশে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার অংশ নেবেন। ৩০০টি সংসদীয় আসনের প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৮ লক্ষাধিক সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য, ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
নির্বাচনকালীন নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও কোস্ট গার্ডও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠলেন যুবক

  ঢাকার ধামরাইয়ে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বিদ্যুতের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন খুঁটিতে উঠেছেন এক যুবক। পৌনে ৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের ভাটারখোলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের নাম আসাদুজ্জামান (২২)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা দবির উদ্দিনের ছেলে।   ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিষয় নিয়ে আসাদুজ্জামানের সঙ্গে তার স্ত্রীর বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে তিনি বাড়ির পাশের একটি ১০ তলা ভবনের সমপরিমাণ উঁচু বিদ্যুতের টাওয়ারে উঠে পড়েন। যুবককে খুঁটির মাথায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।   সংবাদ পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ বিভাগের সহায়তায় লাইনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। দীর্ঘ পৌনে ৩ ঘণ্টার সতর্ক প্রচেষ্টার পর যুবককে অক্ষত অবস্থায় নিচে নামিয়ে আনা হয়।   ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. আল আমিন খান বলেন, যুবকটি অত্যন্ত আবেগতাড়িত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। উদ্ধার শেষে তাকে পরবর্তী আইনি ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার জন্য থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২৬, ২০২৬

বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আজ

ছবি : সংগৃহীত

নবম পে স্কেল: কারা সুবিধা পাচ্ছেন এখনই, কাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে?

ছবি : সংগৃহীত
মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে: সংসদে সালাহ উদ্দিন

দেশে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা কলেন।   তিনি আরো বলেন, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম থেকে ডিম, রুটি ও কলা বাবদ প্রতি সপ্তাহে ১৭ কোটি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। খাল খনন কর্মসূচিতে প্রতিদিন নতুন নতুন দুর্নীতির খবর আসছে।   জামায়াতের এই এমপি বলেন, দুর্নীতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি দুর্নীতিকে প্রমোট করার জন্য সারোয়ার আলমের মতো একজন সৎ ও ক্লিন ইমেজের ডিসিকে সিলেট থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন, তাকে তিনি একে জীবনের গল্প বললেও আসলে এটি একটি ‘আষাঢ়ের গল্প’। প্রায় পৌনে তিন লক্ষ কোটি টাকার এই ঋণ নির্ভর বাজেট দেখে আমি অবাক হইনি, কারণ যারা নিজেরা ঋণগ্রস্ত ও ঋণখেলাপি, তারা তো ঋণনির্ভর বাজেটই দেবেন।’   তিনি বলেন, বাজেট পেশ করার আগেই ১৪টি নিত্যপণ্যসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল এবং এলপিজি গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা পরিবহন ভাড়ার ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বাজেটে এমএস রড, ইস্পাত, টিন, সাবান ও শ্যাম্পুর কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর বাড়ানো হয়েছে।   তিনি বলেন, এটি কেবল ‘গরিব মারার’ বাজেট নয়, বরং খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য ০.২ শতাংশ অগ্রিম কর আরোপের মাধ্যমে একটি হয়রানির বাজেট।   সালাহ উদ্দিন বলেন, এই কর-ব্যবস্থা আমাদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন তাদের ট্যাক্স আদায়ের ভয়ে মানুষ গ্রাম ছেড়ে জঙ্গলে পালাত। তিনি বলেন, বাজেটে কৃষি ও পল্লি উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৫৩ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। কৃষি খাতে ভর্তুকি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতেও বরাদ্দ কমানো হয়েছে। গ্রামীণ রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪০০ কোটি টাকা।   এমপি সালাহ উদ্দিন বলেন, ইসলামের বিধান হলো ধনীদের থেকে সম্পদ নিয়ে গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া, কিন্তু এই সরকার উল্টো নীতি গ্রহণ করে গরিব ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সম্পদ নিয়ে ধনীদের জন্য বরাদ্দ রাখছে।   মাননীয় স্পিকার, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাদ্দ কমিয়ে এবং এনবিআরের মতিউর ও আনোয়ারের মতো দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দিয়ে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   তিনি বলেন, এনবিআরের দুর্নীতি যদি বন্ধ করা যেত, তাহলে বাংলাদেশে বাজেটের জন্য আলাদা ঋণের দরকার হতো না।   এই বাজেট জুলাইকে ধারণ করেনি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বাজেট গুম হওয়া পরিবারের কান্নার খবর রাখেনি এবং গুম কমিশনের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয়নি।   তিনি বলেন, বাজেট বড় হলেই চলবে না; ঋণ নিয়ে বড় বাজেট না করে সুশাসন ও ইনসাফ ভিত্তিক অর্থনীতির মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।   তিনি নিজের এলাকা কাপাসিয়ার জন্য আধুনিক হিমাগার, মাদক ও কিশোর গ্যাং-বিরোধী বিশেষ অভিযান এবং রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া হয়ে টোক পর্যন্ত হাইওয়ে রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দাবি করেন।

মারিয়া রহমান জুন ২৬, ২০২৬
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করলেন ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর: প্রিপেইড মিটার আপডেটের নির্দেশ

ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা

ছবি : সংগৃহীত
বেইজিংয়ে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ১৩ সমঝোতা স্মারক সই

“মিডিয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে দুই দেশের কোলাবোরেশন বাড়ানো যায়, থিংক ট্যাংক ফোরাম নিয়ে আমরা কীভাবে সামনের দিকে আগাতে পারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল এবং নিউজ পেপারের ভেতরে চারটা এমওইউ হয়েছে।”   বিনিয়োগ সহযোগিতাসহ ১৩টি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ ও চীন।   স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের উপস্থিতিতে এসব স্মারক সই হয়। এর আগে দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   সমঝোতা স্মারকে সই করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক বিষয় অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।   সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, “১৩টি মোমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যাডিংয়ের মধ্যে রয়েছে—ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন কীভাবে আমরা গ্রিন ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে প্রমোট করতে পারি, জয়েন্ট অ্যাকশন প্লানের বিষয়ে কথা হয়েছে।   “বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে যেন চীনে আমরা রপ্তানি পারি এবং বিভিন্ন ডেভেলপমেন্টাল কো-অপারেশন নিয়ে কথা হয়েছে। কনসেশনাল লোন অর্থাৎ বাংলাদেশে যে ঋণটা চীন থেকে যাচ্ছে, সেখানে কীভাবে আমরা ইন্টারেস্ট রেট কমাতে পারি, গ্রেস পিরিয়ড বাড়াতে পারি—সেটি নিয়ে কথা হয়েছে।”   তিনি বলেন, “আমাদের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ যার অধীনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং সামগ্রিক এলাইনমেন্ট রিলেটেড ম্যানপাওয়ার ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট রিলেটেড যে কাজগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে এমইউ হয়েছে।   “একই সাথে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্টের একটা ডিফারেন্ট কো-অপারেশন প্লান সাইন করা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের রপ্তানি বিষয়ে একটা এমইউ হয়েছে।”   মাহ্দী আমিন বলেন, “একই সাথে চীনের ভাষা ম্যান্ডারিন বাংলাদেশে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি…আমাদের স্কুল কারিকুলামের সেটি এবং টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল এডুকেশনে কো-আপরেশনে দুটো পৃথক এমইউ হয়েছে।   “মিডিয়ার ক্ষেত্রে কীভাবে দুই দেশের কোলাবোরেশন বাড়ানো যায়, থিংক ট্যাংক ফোরাম নিয়ে আমরা কীভাবে সামনের দিকে আগাতে পারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টিভি চ্যানেল এবং নিউজ পেপারের ভেতরে চারটা এমওইউ হয়েছে।”   বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিনিয়োগ বোর্ড বিডার সাথে এর পাশাপাশিভাবে পৃথকভাবে আমাদের চিটাগাংয়ের আনোয়ারাতে এবং মোংলাতে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, সেখানে ইকোনমিক জোন দিয়ে আমরা কীভাবে বাংলাদেশের নতুন চীনা ফ্যাক্টরি, চীনা প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটি…এবং তার মাধ্যমে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করতে পারি, সেগুলো নিয়ে পৃথক এমইউ হয়েছে।”   এর আগে সকালে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’-এ চীনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে সমঝোতা স্বারক সই হয়।   বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ সমঝোতায় সই করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির (আন্তর্জাতিক সম্পর্ক) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং এই সমঝোতায় সই করেন।   সমঝোতার আওতায় দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে গণমাধ্যম, থিংক ট্যাংক, জনগনের মধ্যে যোগাযোগ এবং জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির এ নেতা।   দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘তিয়াওইউথাই’ থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব পিপলে পৌঁছান। সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।   ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে গত ২১ জুন মালয়েশিয়া যান। ওই সফরের আনুষ্ঠানিকতা সেরে সোমবার তিনি পৌঁছান চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর তালিয়ানে।   সেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বুধবার বিকালে তারেক রহমানের বেইজিংয়ে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শুরু হয়।   শুক্রবার গ্রেট হল অব পিপলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয় সময় বিকাল ৫টায় বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।

মারিয়া রহমান জুন ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন নিয়মে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন যেভাবে করবেন

ছবি : সংগৃহীত

ফ্যামিলি কার্ড আসছে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে

ছবি : সংগৃহীত

২৮ জুন থেকে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন

0 Comments