বয়সের তুলনায় অনেক পরিণত, মাঝমাঠে সুর বেঁধে দেওয়া, শারীরিক শক্তি ও গতির সঙ্গে অসাধারণ কৌশল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করার সামর্থ্য- এই বিষয়গুলো খুব ভালোভাবেই যায় জুড বেলিংহ্যামের নামের সঙ্গে। সময়ের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন এই তারকা ক্লাব রেয়াল মাদ্রিদ ও জাতীয় দল ইংল্যান্ডের জন্য খুবই অপরিহার্য। হয়ে উঠেছেন বড় ম্যাচের খেলোয়াড়।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম।
জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের সময় ২৩ বছর পূর্ণ হবে বেলিংহ্যামের। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অর্ধশত ম্যাচ খেলার কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন তিনি। সব কিছু ঠিক থাকলে ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার ম্যাচ খেলার হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ হবে বিশ্বকাপের মঞ্চেই।
ফুটবলের আঙিনায় বেলিংহ্যামের অর্জন
পেশাদার ফুটবলে বেলিংহ্যামের অভিষেক হয় ১৬ বছর ৩৮ দিন বয়সে, বার্মিংহাম সিটির হয়ে। তার আগে থেকেই অবশ্য তাকে নিয়ে আলোচনা ছিল অনেক। দারুণ প্রতিভা, অসাধারণ দক্ষতা মিলিয়ে বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত একজন হিসেবে নজর কাড়েন তিনি।
সেই প্রতিভা এখন আরও প্রস্ফুটিত হয়েছে। বার্মিংহামের হয়ে অভিষেকের পর সাত বছরে ফুটবল বিশ্বের বড় নামগুলির একটিতে পরিণত হয়েছেন বেলিংহ্যাম।
বার্মিংহামের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর, মূল দলে এক মৌসুম কাটিয়ে নিজ দেশ ছেড়ে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে যোগ দেন বেলিংহ্যাম। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন জার্মান দলটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আলোড়ন ফেলে দেন বুন্ডেসলিগায়। স্রেফ ১৯ বছর বয়সেই ডর্টমুন্ডের নেতৃত্ব পেয়ে জন্ম দেন নতুন ইতিহাসের।
সব মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১৩২ ম্যাচে ২৪ গোল করেন তিনি। আরও অবদান রাখেন ২৫টিতে।
২০২৩ সালের জুনে ছয় বছরের চুক্তিতে তিনি যোগ দেন রেয়াল মাদ্রিদে। সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়েও দ্রুত মানিয়ে নেন নিজেকে। দলটির জার্সিতে লা লিগায় প্রথমবার খেলতে নেমে করেন নান্দনিক এক গোল। দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করেন দুটি। দুই ম্যাচেই পান সেরার স্বীকৃতি।
বেলিংহ্যামের অনেক গুণের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, যখন দলের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তখনই নিজের সেরাটা তিনি দেন। ক্লাব ও দেশের হয়ে বড় বড় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত তিনি তৈরি করেছেন। স্পেনের দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার ক্লাসিকোতে যোগ করা সময়ে তার জয়সূচক গোল আছে দুটি। ইংল্যান্ডের হয়েও বড় মঞ্চে গোল করেছেন তিনি।
রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে এখন পর্যন্ত একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, স্প্যানিশ সুপার কাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জিতেছেন বেলিংহ্যাম। ইংল্যান্ডের হয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে দুইবার রানার্সআপ পদক পেয়েছেন তিনি।
কোচ, সতীর্থ ও পূর্বসূরির চোখে বেলিংহ্যাম
অবিশ্বাস্য একজন খেলোয়াড় সে। তার খেলার ধরন, যে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সে খেলে এবং যেভাবে খেলায় প্রভাব ফেলে, অসাধারণ। এই পজিশনে খেলা ফুটবলারদের জন্য গোল ও অ্যাসিস্ট করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং ঠিক সেটাই করে সে।
- হ্যারি কেইন, ইংল্যান্ড অধিনায়ক
এত অল্প বয়সে সে যতটা পরিণত, তা অবিশ্বাস্য। আমার মনে হয়, দেশের বাইরে খেলাটা এক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করেছে। জুডের ক্ষেত্রে বিষয়টা শুধু তার প্রতিভা নয়, বরং তার ব্যক্তিত্বও (ভূমিকা রেখেছে) এবং তার নিজেকে সামলানোর ধরনটাও গুরুত্বপূর্ণ। সে একজন আদর্শ পেশাদার, জানে তাকে কী করতে হবে।
- ডেভিড বেকহ্যাম, ইংল্যান্ডের গ্রেট ফুটবলার
বেলিংহ্যাম ফুটবলের জন্য এক উপহার। এমন সম্ভাবনাময় ও ইতিবাচক ভাবমূর্তির একজন খেলোয়াড়কে দেখে গোটা ফুটবল দুনিয়া উচ্ছ্বসিত।
- কার্লো আনচেলত্তি, রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ ও বর্তমানে ব্রাজিলের কোচ
পরিসংখ্যানের আলোয় বেলিংহ্যাম
• ইংল্যান্ডের ইতিহাসে তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হয় বেলিংহ্যামের, ১৭ বছর ১৩৬ দিন বয়সে। তার চেয়ে কম বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয়েছে শুধু থিও ওয়ালকট ও ওয়েইন রুনির।
• রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক মৌসুমে (২০২৩-২৪) লা লিগার মৌসুম সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন বেলিংহ্যাম। ওই মৌসুমে তিনি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বর্ষসেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন এবং ২০২৪ সালের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারের ভোটিংয়ে তৃতীয় হন।
বিশ্ব মঞ্চে বেলিংহ্যাম
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে অভিষেক বেলিংহ্যামের। তখন টিনএজার হলেও ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। বৈশ্বিক আসরে নিজের ছাপ ফেলতে বেশি সময় লাগেনি তার। প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ৬-২ গোলের জয়ে তিনিই করেন ইংল্যান্ডের প্রথম গোল।
ওই আসরে ইংল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন বেলিংহ্যাম। শেষ ষোলোয় সেনেগালের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে জর্ডান হেন্ডারসনের গোলে অ্যাসিস্ট করেন তিনি। নাটকীয় কোয়ার্টার-ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় ইংল্যান্ডের।
২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে বেলিংহ্যাম ও ইংল্যান্ডের প্রত্যাশা
কোচ টমাস টুখেলের হাতে যত প্রতিভা আছে, তরুণ ও অভিজ্ঞদের মিশেলে যেমন তার দল, তাতে ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নামবে ইংল্যান্ড।
আর সেখানে বেলিংহ্যাম হতে পারেন ইংল্যান্ডের চালিকাশক্তি, সেটা তিনি মাঝমাঠের নিচে নেমে খেলুন কিংবা আক্রমণভাগে থেকে ‘গোলমেশিন’ নাম্বার নাইন হ্যারি কেইনকে গোলের জোগান দিন।
যে পজিশনেই তাকে খেলানো হোক না কেন, বেলিংহ্যাম বারবার প্রমাণ করেছেন, তিনি বড় ম্যাচের খেলোয়াড়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মেলার পালা- ৬০ বছরের মধ্যে ইংল্যান্ডকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতাতে সাহায্য করতে পারবেন বেলিংহ্যাম?
আগামী ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ীরা। ‘এল’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ঘানা ও পানামা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সেই ১৯৯০ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন স্যার রিচার্ড হ্যাডলি। তখনও তিনি ছিলেন টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার। কিংবদন্তির বিদায়ের পর নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের ওই জায়গাটিও থমকে ছিল। ড্যানি মরিসন, ড্যানিয়ল ভেটোরি, ক্রিস কেয়ার্নস, ক্রিস মার্টিন, টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, নিল ওয়্যাগনারের মতো অনেকেই রাঙিয়েছেন টেস্ট ক্রিকেট। কিন্তু কোনো কিউই বোলার পারছিলেন না চূড়ায় পা রাখতে। অবশেষে হ্যাডলির ৩৬ বছর পর পারলেন ম্যাট হেনরি। আইসিসি টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার এখন এই পেসার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভাল টেস্টে ১১ উইকেট নিয়ে এক লাফে ছয় ধাপ এগিয়ে এক নম্বরে উঠে গেছেন তিনি। এককভাবে অবশ্য নয়, যৌথভাবে শীর্ষে তিনি জাসপ্রিত বুমরাহর সঙ্গে। পরিবর্তন আছে টেস্ট ব্যাটসম্যানরদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষেও। সেখানে অবশ্য চেনা এক মুখই ফিরেছেন নতুন করে। আবার এক নম্বরে উঠে এসেছে জো রুট। দুইয়ে নেমে গেছেন তার সতীর্থ হ্যারি ব্রুক। হেনরির টেস্ট ক্যারিয়ার প্রস্ফূটিত হয়েছে একটু দেরিতেই। ২০১৫ সালে অভিষেক হলেও এখনও পর্যন্ত খেলেছেন কেবল ৩৫ টেস্ট। মূলত বোল্ট-সাউদি-ওয়্যাগনারের মতো পেসাররা থাকায় তার সুযোগ ছিল সীমিত। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিতই খেলছেন এবং পারফর্ম করছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম ছয় বছরে ১৪ টেস্ট খেলে তার উইকেট ছিল ৩৭টি। গত চার বছরে ২১ টেস্ট খেলে নিয়েছেন ১১৫ উইকেট। সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরে পৌঁছে গেলেন শীর্ষে। নিউ জিল্যান্ডের সুদীর্ঘ ক্রিকেট ইতিহাসে আর মাত্র দুজন বোলার পেয়েছেন এই সাফল্য। ১৯৪৭ সালে পেরেছিলেন জ্যাক কাউয়ি, ১৯৯৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নানা সময়ে ছিলেন হ্যাডলি। হেনরির রেটিং পয়েন্ট এখন ৮৭০। নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান-বোলার মিলিয়ে এর চেয়ে বেশি রেটিং পয়েন্ট ছিল মাত্র দুজনের। তারা দুজনই দেশটির সর্বকালের সেরা দুই ক্রিকেটার। ১৯৮৫ সালে ৯০৯ রেটিং পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন হ্যাডলি, ২০২১ সালে ৯১৯ ছুঁয়েছিলেন কেন উইলিয়ামসন। সাত থেকে এক নম্বরে ওঠা হেনরিকে জায়গা দিতে এক ধাপ করে নিচে নেমে গেছেন মিচেল স্টার্ক (৩), প্যাট কামিন্স (৪), মার্কো ইয়ানসেন (৫), স্কট বোল্যান্ড (৬) ও নোমান আলি (৭)। বাংলাদেশের সেরা বোলার তাইজুল ইসলাম আগের মতোই আছেন ১২ নম্বরে। হেনরি ১১ উইকেট নেওয়ার টেস্টেই ৪৬ ও ৭৭ রানের ইনিংস খেলে শীর্ষে ফিরেছেন রুট। ওই টেস্টে ২৪ ও ৫৮ রান করে ব্রুক নেমে গেছেন দুইয়ে। গত দেড় বছরে রুট ও ব্রুকের মধ্যেই শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে ছয় দফায়। ওভালে ৩৩ ও ৭৬ রানের ইনিংস খেলে দুই ধাপ এগিয়ে দশে উঠেছেন রাচিন রাভিন্দ্রা। ৪৪ ও ৬৮ রান করে পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৬ নম্বরে এসেছেন ড্যারিল মিচেল, ক্যারিয়ারের টেস্ট সেঞ্চুরিতে আট ধাপ এগিয়ে ৩১তম স্থানে এখন গ্লেন ফিলিপস এবং দলে ফেরার টেস্টে সেঞ্চুরি করে ১৩ ধাপ এগিয়ে ৪০ নম্বরে হেনরি নিকোলস। বাংলাদেশের খেলা না থাকলেও এক ধাপ এগিয়ে ১৪তম স্থানে উঠেছেন মুশফিকুর রহিম, এক ধাপ এগিয়ে একুশে লিটন কুমার দাস। অলরাউন্ডারদের র্যাঙ্কিংয়ে আগের মতোই শীর্ষে রাভিন্দ্রা জাদেজা, দুইয়ে মার্কো ইয়ানসেন, তিনে মেহেদী হাসান মিরাজ।
চলমান বিশ্বকাপে ছোট ছোট দলগুলো চমক দেখিয়ে যাচ্ছে। এতে জমজমাট করে তুলেছে এই বৈশ্বিক আসরটিকে। কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের বিষয়। মহাতারকা ও তারকা ফরোয়ার্ডরা শুরু থেকেই দুর্দান্ত গতিতে গোল করে চলেছেন। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচে পাঁচ গোল যোগ করে তিনি এখন ছয়টি বিশ্বকাপে মোট ১৮ গোলের মালিক। তারই পেছনে আছেন আরেক ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। যাদের দুজনেরই গোলসংখ্যা চার। এ ছাড়া ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ও হ্যারি কেইন ২ গোল করে রয়েছেন প্রতিযোগিতায়। ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এক আসরে ১৩ গোল রেকর্ড গড়েছিলেন। সেটিও এবার হুমকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার সর্বশেষ খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে দুই অঙ্কের গোল করেছিলেন। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন তিনি। এরপর থেকে মাত্র তিনটি আসর বাদে প্রতিটি বিশ্বকাপেই সর্বোচ্চ গোলদাতা ছয় বা তার কম গোল করেছেন। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপের সবচেয়ে উজ্জ্বল মহাতারকা আর্জেন্টাইন অধিানয়ক মেসিই। আলজেরিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয়ে দুই গোলই এসেছে তার পা থেকে। ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার এ পর্যন্ত করা পাঁচ গোলের সবকটিই এসেছে মেসির পা থেকে। উদ্বোধনী ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, ‘অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ডের প্রতিভা ব্যাখ্যা করা কঠিন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো তাকে দেখে বিস্মিত হই, যদিও প্রতিদিনই তাকে দেখি। গত ২০ বছর ধরে সে-ই সেরা। প্রতিটি ম্যাচেই সে আবারও তা প্রমাণ করে।’ টুর্নামেন্টে অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনার বিচারে মেসির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন এমবাপ্পে। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে আট গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি। বর্তমানে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে মেসির সর্বোচ্চ গোলের থেকে ২ গোলে পিছিয়ে আছেন। ইরাকের বিরুদ্ধে দলের ৩-০ ব্যবধানে জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বলেন, ‘মেসিকে তাড়া করা তার মূল চিন্তা নয়।’ তিনি বলেন, ‘লিও সবসময় গোল করে এবং করতেই থাকবে। তাই সে কী করছে সেদিকে আমি তাকাচ্ছি না, আমি শুধু আমার দলকে সাহায্য করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’ এমবাপ্পের সমান চার গোল নিয়ে আছেন ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড। নরওয়ের হয়ে টানা ১২টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে গোল করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী এই শক্তিশালী স্ট্রাইকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোলের অসাধারণ মাইলফলকে পৌঁছেও নিজের প্রতিভাকে খুব সাধারণভাবেই দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুর মতো এটাও বলতে হয় আমি গোল করতে পারি এবং কিছুটা ভাগ্যবানও। আমি আসলে জানি না আমি কী করছি। ব্যাপারটা এমনই।’ জার্মানির ডেনিজ উনডাভ ও কানাডার জোনাথ ডেভিড তিনটি করে গোল করেছেন। আর দুই গোল করে এরপরই তালিকায় আছেন কেইন ও রোনালদো। মঙ্গলবার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির কাছ থেকে কিছু সময়ের জন্য আলো কেড়ে নেন রোনালদো। তিনি বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদোর গোলসংখ্যা এখন ১৪৫। অন্যদিকে ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জেতা হ্যারি কেইন তৃতীয় ম্যাচে স্কোর করতে না পারায় দুই গোলেই আটকে আছেন। মঙ্গলবার ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র ম্যাচে তিনি একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন।
বিশ্বকাপের মঞ্চে হুলিয়ান আলভারেজের দেওয়া এক মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে যে ঝড় তুলেছে, তা এখন আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে যাচ্ছে। অনুমতি ছাড়া আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টার অভিযোগে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার বিরুদ্ধে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বার্সেলোনা ও আলভারেজ—উভয়ের ওপরই নেমে আসতে পারে কঠোর শাস্তি। ফিফার প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস অ্যান্ড ট্রান্সফারের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্লাব যদি চুক্তিবদ্ধ কোনো খেলোয়াড়কে তার বর্তমান ক্লাবের অনুমতি ছাড়া চুক্তি ভাঙতে প্ররোচিত বা প্রলোভিত করে, তবে শাস্তির বিধান একেবারেই স্পষ্ট। নিয়ম ভঙ্গ প্রমাণিত হলে নতুন ক্লাবটির ওপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারে পরপর দুটি পূর্ণাঙ্গ ট্রান্সফার উইন্ডোতে (দলবদল মৌসুম) নতুন কোনো খেলোয়াড় নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে। ফিফার নিয়মে 'সুরক্ষিত মেয়াদ' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ২৩ থেকে ২৮ বছর বয়সী কোনো ফুটবলার চুক্তি স্বাক্ষর করলে পরবর্তী ৩টি পূর্ণ মৌসুম বা ৩ বছর পর্যন্ত এই সুরক্ষিত মেয়াদের আওতায় থাকেন। ২৬ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ ২০২৪ সালের গ্রীষ্মে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আতলেতিকো মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ফলে তিনি বর্তমানে এই সুরক্ষিত মেয়াদের ভেতরেই আছেন। এক্ষেত্রে ফিফার আরও একটি মারপ্যাঁচে পড়তে পারে বার্সেলোনা। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি চুক্তি বাতিলের ৪৫ দিনের মধ্যে নতুন কোনো ক্লাবে যোগ দেন, তবে ধরে নেওয়া হয় নতুন ক্লাবটিই তাঁকে চুক্তি ভাঙতে প্ররোচিত করেছে। এই দায় থেকে বাঁচতে হলে বার্সেলোনাকে ফিফার 'ফুটবল ট্রাইব্যুনাল'-এ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে। আতলেতিকোর সঙ্গে চুক্তি থাকা অবস্থায় আলভারেজ যদি একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে চান, তবে তাঁর নিজের ক্যারিয়ারও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, এমনটা করলে যেকোনো অফিশিয়াল ম্যাচ খেলা থেকে চার মাসের জন্য নিষিদ্ধ হবেন তিনি, যা গুরুতর পরিস্থিতিতে ছয় মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে। চলমান কোনো প্রতিযোগিতামূলক মৌসুমের মাঝে কোনো খেলোয়াড় একতরফাভাবে চুক্তি বাতিল করতে পারেন না। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে খেলোয়াড় ও তার নতুন ক্লাবকে যৌথভাবে আতলেতিকো মাদ্রিদকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে খেলোয়াড়ের বর্তমান বাজারমূল্য, সম্ভাব্য ট্রান্সফার ভ্যালুর ক্ষতি এবং তার বিকল্প খেলোয়াড় দলে ভেড়ানোর খরচের ওপর ভিত্তি করে। বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর আলভারেজের বলেন, 'সবার জন্যই এখন সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো একটা ট্রান্সফার। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই'—মন্তব্যটি যে কেবল আলোচনার খোরাক ছিল না, বরং এর পেছনে গভীর আইনি জটিলতা লুকিয়ে ছিল, তা এখন ফিফার এই কঠোর নিয়মগুলোতেই স্পষ্ট।