প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতাসহ অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
চীনের দালিয়ান ও বেইজিংয়ে বড় বড় চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে গ্রিন সিটি নির্মাণসহ একাধিক নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা ও জমি প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক জোনের চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা বন্দরের পাশে প্রায় ১৫০ একর জমিতে চাইনিজ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ার জন্য প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮ মাসের মধ্যে প্রথম কারখানা চালু করার অনুরোধ করেছেন।
ছয় দিনের সফর শেষে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফিরে আসেন। আজ শনিবার সেই সফরের অর্জন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।
সেই অনুষ্ঠানে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, মালয়েশিয়া সফরের মূল লক্ষ্য ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা, হালাল শিল্প এবং নতুন বিনিয়োগের পথ তৈরি করা। অন্যদিকে চীন সফরে গুরুত্ব পেয়েছে বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চল, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরা এবং জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ। এসব দিক বিবেচনায় এই সফর সফল হয়েছে।
দেশে জ্বালানি সংকট সমাধানে মালয়েশিয়া এগিয়ে আসার আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান আশিক মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে বৈঠক করে তেল-গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান করা যায়। পেট্রোনাস এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনায় অংশ নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে।
আশিক মাহমুদ জানান, এ ছাড়া মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সহজ হয়। লজিস্টিকস, টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন খাতের বড় কোম্পানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। তারা বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
হালাল সনদ ও হালাল পণ্যের রপ্তানিবাজর উন্মুক্তকরণে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বিডা চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক হালাল শিল্প নেটওয়ার্কে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশন মালয়েশিয়ার জাকিমের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেশন দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ভিত্তিতে হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক গড়ে তোলা এবং মালয়েশিয়া ও চীনের বাজারসহ বৃহত্তর এশিয়ায় হালাল খাদ্য ও প্রসাধনী রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার মতো চীনও জ্বালানি অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন জ্বালানি ও গ্যাস অবকাঠামো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে এলএনজি আমদানি, ডিজেল সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্যাস অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
দেশে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর- এ তিন মাসে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ১৩৭টি ঘটনায় ৫৪ জন নিহত এবং ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৮৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৭ জন নিহত ও ১ হাজার ২২৭ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, শ্রমিকের মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগৃহীত তথ্য ও অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সোমবার এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ইজাজুল ইসলাম জানান, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৭ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে ১৮৩টি রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির ৯, জামায়াতের ২, আওয়ামী লীগের ৩ এবং অন্যান্য দলের ৩ জন রয়েছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ৬৯টি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত ও ৫৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩১টি ঘটনায় একজন নিহত ও ৩৩৮ জন আহত হন। এ সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১২৬টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ২ হাজার ৫৪১ জনের নাম উলেখ করে এবং প্রায় ৭ হাজার ৯১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৭ জন। নির্যাতনের শিকার ১৩৫ সাংবাদিক : প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ৮৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৩৫ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে ৬৩ জন আহত, ২৭ জন লাঞ্ছিত এবং ১৮ জন হুমকির শিকার হন। এছাড়া ৯ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়। সাইবার সুরক্ষা আইনের চারটি মামলায় ১৮ সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক : এ সময়ে ৭৮৩ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫৪ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ধর্ষণের পর ১২ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ৭৩৩টি শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ১৩৭ জন নারী নিহত হয়েছেন। শ্রমিকের মৃত্যু ৭১, কারাগারে ৩৭ : এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিন মাসে ২৫১টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ৭১ জন নিহত ও ২৬০ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ১৬৪ শ্রমিক মারা গেছেন। এ সময়ে কারাগারে ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে পাঁচজন এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে লক্ষ্যে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, ‘এর মূল অংশ হলো নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়। সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করা, গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে সতর্ক নজর রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে। দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় দ্রুত টহল ও সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য বিজিবি প্রস্তুত থাকবে। তিনি আরো বলেন, দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার দীর্ঘ ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিতে বিজিবি সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
সামাজিক সুরক্ষা ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে কেবল একটি সাময়িক নগদ সহায়তা হিসেবে না দেখে এর মাধ্যমে পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। আজ সোমবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ বিষয়ক অবহিতকরণ’ নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক ধারণার কথা উল্লেখ করে ফারজানা শারমীন বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে সামাজিক সুরক্ষাকে এখন কেবল নগদ অর্থ হস্তান্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর দীর্ঘমেয়াদি ফল বা আউটকামের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আজীবন কোনো পরিবারকে ভাতার ওপর নির্ভরশীল না রেখে তারা যেন নিজেদের জীবন নিজেরাই পরিচালনা করতে পারে, ফ্যামিলি কার্ডের মূল দর্শনও তাই। তিনি বলেন, ‘একজন অসচ্ছল নারীর কাছে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছানো একটি বিরাট আর্থিক ও মানসিক শক্তি। এটি তার ব্যক্তিগত ওষুধ কেনা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। আমাদের লক্ষ্য সমাজকে দারিদ্র্যের স্তর অনুযায়ী ভাগ করে যার যে পরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন তা সুনির্দিষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।’ পাইলটিং পর্যায় থেকে সংগৃহীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, উপকারভোগী নারীরা এই ভাতার টাকা মূলত তিনটি প্রধান খাতে ব্যয় বা ইনভেস্ট করছেন—সন্তানদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা খরচ এবং নিজস্ব চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ। এছাড়া একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী প্রাপ্ত ভাতার টাকা সঞ্চয় করছেন, যা পরবর্তীতে তাদের ক্ষুদ্র বা কুটির শিল্পে বিনিয়োগের মানসিকতা নির্দেশ করে। পরবর্তীতে এলাকা ভিত্তিক ডাটা অ্যানালিসিস ও ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে এই অর্থ কীভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে বদলে দিচ্ছে তা পরিষ্কার হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-সহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে যখন এই বিশাল কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, তারা একে অত্যন্ত যুগান্তকারী ও একটি ‘অ্যামবিশাস প্রজেক্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তথ্য সংগ্রহের স্বচ্ছতা ও জালিয়াতি রোধ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে ৫১টি নির্দিষ্ট প্রশ্নের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দেবেন। কোনো প্রশ্ন কতটা ওয়েটেজ বহন করে তা তথ্য সংগ্রহকারীর জানা থাকবে না, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমেই কাট-পয়েন্ট ঠিক করবে। কোনো অসাধু চক্র ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ধরনের লেনদেন বা প্রলোভন দেখালে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড পেতে কাউকে কোনো কার্যালয়ে যেতে হবে না; ফ্যামিলি কার্ড প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। তথ্য সংগ্রহে কোনো ভুলভ্রান্তি বা অনিয়ম চোখে পড়লে তা সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রে অফলাইন ও অনলাইনে অভিযোগ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তালিকা প্রণয়ন শেষে তা গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।’ সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।