সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধ করতে আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীনভাবে আমদানি করা ফোন আর ব্যবহার করা যাবে না।
এনইআইআর চালুর ঘোষণার পর অনিবন্ধিত ডিভাইসের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে বিভিন্ন দোকানে। ক্রেতাদের অভিযোগ উচ্চ শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাদের দাবি, ২০ হাজার টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট-শুল্ক যুক্ত হয়ে দাম দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকারও বেশি, যা ছাত্র-যুবকদের বাজেটের বাইরে।
নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এই লক্ষ্যেই এনইআইআর চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এদিকে এনইআইআর সংস্কারের দাবিতে রোববার মোবাইল ব্যবসায়ীরা টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ভবন ঘেরাও করলে, সংস্থাটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে সম্মত হয়। এরপর ব্যবসায়ীরা সোমবার পর্যন্ত তাদের অবরোধ স্থগিত ঘোষণা করেন। রাত পৌনে ৯টার দিকে কমিশনের চেয়ারম্যানের আশ্বাসের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানান মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের নেতারা।
জানা যায়, এনইআইআর-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে শিগগিরই একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
রোববার সকাল থেকে শত শত ব্যবসায়ী এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল আমদানি উন্মুক্ত করার দাবিতে কমিশন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তাদের অভিযোগ নতুন নিয়ম চালু হলে লাখো ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, আর একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে। এতে মোবাইলের দামও বাড়বে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় ব্যবহৃত হয় অবৈধ স্মার্টফোন। তাই অপরাধচক্র নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। তাদের দাবি, চোরাচালানচক্রের স্বার্থে সরকারের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
সরকারের আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে যেসব ফোন সক্রিয় থাকবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। এরপর বিদেশ থেকে কেউ ফোন আনলে অনলাইনে নিবন্ধন করার সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন থাকবে, তেমনি দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে আবারও ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। যারা কেন্দ্র দখলের চিন্তা করছেন, তারা যেন বাসা থেকে মা–বাবার দোয়া নিয়ে বের হন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ভুয়া এবং চিফ ইলেকশন কমিশনার জানিয়েছে এটি বেআইনি। যারা এই কার্ড নিয়ে আসবে, তাদের আটক করা হবে। তিনি বলেন, এটি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং দেশের শাসন পুনরায় ভারতকে বিক্রি করার চেষ্টা কোনোভাবেই মানা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের মানুষ, বিশেষ করে ৪ কোটি যুবক, এটি হতে দেবে না। জনসভায় ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিন এবং সাবধান হোন। তিনি বলেন, যারা শয়তানি করবে তাদের নিজে মারবেন না, বরং পুলিশে সোপর্দ করুন। ভোট প্রদানে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন—কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহিদ, উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া এবং খেলাফত মজলিশের উপজেলা সভাপতি মাওলানা শাহজালাল। নেতারা এক সঙ্গে ভোটকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভোটকেন্দ্র দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দেন।
বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। ২০৩০ সালে একই বছরে দুইবার রোজা পালন করতে পারবেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং ইসলামী স্কলারদের মতে, ইসলামিক লুনার ক্যালেন্ডার ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কারণে বিরল এই ঘটনা ঘটবে। ইসলামী বর্ষপঞ্জি চাঁদের গতির ওপর নির্ভরশীল। লুনার ক্যালেন্ডারে এক বছরে ৩৫৪ দিন। আর গ্রেগরিয়ান (সৌর) ক্যালেন্ডার ৩৬৫ দিন। দুই ক্যালেন্ডারের মধ্যে প্রায় ১১ দিনের ব্যবধান থাকার কারণে প্রতি ৩০ বছর পর গ্রেগরিয়ান এক বছরে দুইবার রমজান পড়ে। জানা গেছে, এই পরিবর্তনের ফলে ২০৩০ সালের ৫ জানুয়ারী রমজান শুরু হবে। একই বছরের ২৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় রমজান শুরু হবে। ইংরেজি এই বছরে সর্বমোট ৩৬ দিন রোজা রাখতে পারবেন। শেষবার এটি ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। ২০৩০ সালের পর এটি আবার ২০৬৩ সালে ঘটবে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দেশের আটটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে রদবদল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক স্বার্থ ও দাপ্তরিক প্রয়োজন বিবেচনায় এসব ইউএনওকে এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের দ্রুত বর্তমান কর্মস্থল থেকে দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময় ইউএনও পর্যায়ে রদবদলকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দাবি, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ এবং নির্বাচন পরিচালনায় দক্ষতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো বিশেষ চাপ বা রাজনৈতিক বিবেচনায় এ বদলি হয়নি বলেও তারা জানিয়েছেন। ইউএনওরা উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকি, নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সমন্বয় এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে নির্বাচন পূর্ব সময়ে এই পদে পরিবর্তনকে প্রশাসনিকভাবে সংবেদনশীল হিসেবেই দেখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যেসব উপজেলায় ইউএনও পরিবর্তন করা হয়েছে, সেখানে নির্বাচনি প্রস্তুতি ব্যাহত না হয়—সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পূর্ববর্তী কাজের রেকর্ড বিবেচনায় রেখেই এসব বদলি করা হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের। উল্লেখ্য, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পর্যায়ক্রমে রদবদল চলছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ও প্রস্তুত রাখতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে