চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকেই আংশিকভাবে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হবে আগামী ২০২৬-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বেতন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, আগামী ২১ জানুয়ারি নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ-এর কাছে জমা দেবে বেতন কমিশন।
এরপর প্রতিবেদনটি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের লক্ষ্যে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। ২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, নতুন বেতন কাঠামো আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
বেতন কমিশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর করতে অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।
সুপারিশকৃত কাঠামোয় নিচের দিকের গ্রেডগুলোর বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ ধাপে বর্তমানে বেতন ৭৮ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখার সুপারিশ করেছে কমিশন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার, প্রয়োজন ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতি ও আলোচনার কেন্দ্রে রাখার আহ্বান জানিয়েছে Climate Justice Forum। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ফোরামের আলোচনায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, Loss and Damage, জলবায়ু অর্থায়ন এবং COP31-কে সামনে রেখে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আজ ঢাকার বারিধারায় হোটেল ন্যাসেন্ট গার্ডেনিয়ায় Climate Justice Forum-এর সমন্বয় ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফোরামের সদস্য, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন। আসন্ন COP31 সামনে রেখে বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচারের অগ্রাধিকার, বর্তমান বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনার অগ্রগতি এবং নাগরিক সমাজের করণীয় নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন Climate Justice Forum (National Committee)-এর চেয়ার ড. কাজী মারুফুল ইসলাম। ফোরামের মেম্বার সেক্রেটারি মিস রওফা খানম ফোরামের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী উপস্থাপনা করেন। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ফোরামের বিভিন্ন কার্যক্রম, সম্প্রসারিত সম্পৃক্ততা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে সম্মিলিত উদ্যোগ ও অ্যাডভোকেসি আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা তুলে ধরেন। সভায় AOSED-এর Team Lead – Knowledge Management মো. সালাহ উদ্দিন ‘SB64 Highlights, Key Negotiation Outcomes and Major Areas of Disagreement among Parties Leading towards COP31’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন। এতে জার্মানির বন-এ অনুষ্ঠিত SB64 জলবায়ু আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, বিভিন্ন দেশের মধ্যে এখনও বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং এসব বিষয় COP31-এর আলোচনা ও প্রত্যাশাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে, তা তুলে ধরা হয়। জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কথা আলোচনার কেন্দ্রে আনার আহ্বান জানিয়ে সভায় ‘Reflections, Concerns and Priorities of Civil Society ahead of COP31’ শীর্ষক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুধু নীতি, কৌশল ও কারিগরি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এই আলোচনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব জীবন, তাদের সংকট, প্রয়োজন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার বিষয়গুলো আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু অর্থের প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না। প্রতিশ্রুত অর্থ কোথা থেকে আসছে, কীভাবে পৌঁছাচ্ছে, কারা তা পাচ্ছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার, জাতীয় নীতি এবং মাঠপর্যায়ে মানুষের বাস্তব জীবনের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় আরও বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কণ্ঠ যেন আন্তর্জাতিক আলোচনায় হারিয়ে না যায়, তা নিশ্চিত করতে নাগরিক সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের তথ্য, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, বাস্তব উদাহরণ এবং বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগাতে হবে। কারণ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মাঠের তথ্যই অনেক সময় সমস্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে। নাগরিক সমাজের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের প্রয়োজন: সভায় নাগরিক সমাজের সংগঠন, নেটওয়ার্ক, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার পাশাপাশি অভিজ্ঞতা ও তথ্য ভাগাভাগি করে এবং অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে একসঙ্গে কথা বলে, তাহলে বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবিগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সভায় Loss and Damage বা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি আর সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়, সেটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে যেসব দেশ ও জনগোষ্ঠী ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘরবাড়ি, জীবিকা, সম্পদ ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের প্রয়োজন ও অধিকার আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া প্যারিস চুক্তির Article 9-এর বাস্তবায়নকেও COP31-এর আগে নাগরিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসির বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, অভিযোজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত ও কার্যকর জলবায়ু অর্থায়ন পায়, তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। COP31 সামনে রেখে Climate Justice Forum-এর উদ্যোগ COP31 সামনে রেখে Climate Justice Forum কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো COP31-এর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ফলাফল সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, প্রাঞ্জল ও বোধগম্য ভাষায় তুলে ধরা। এর মাধ্যমে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো তাদের জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা সহজে বুঝতে পারবেন। ফোরামটি COP31-এর জন্য একটি নাগরিক সমাজের অবস্থানপত্র (Civil Society Position Paper) তৈরিতেও অবদান রাখবে। এতে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের আলোচনায় উঠে আসা সমস্যা, প্রয়োজন, অগ্রাধিকার ও সুপারিশগুলো তুলে ধরা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু অ্যাডভোকেসিতে মাঠপর্যায়ের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত করার চেষ্টা থাকবে। এ ছাড়া Climate Justice Forum-এর উদ্যোগে তৈরি Climate Risk Architecture COP31-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় উপস্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি আরও সুসংগঠিত ও প্রমাণভিত্তিকভাবে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। COP31-এর আগে সরকারি প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে আরও কার্যকর সংলাপ ও মতবিনিময় করার ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব আলোচনায় নাগরিক সমাজের উদ্বেগ, অগ্রাধিকার, মাঠপর্যায়ের তথ্য, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রস্তাবিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জীবন ও জীবিকার বাস্তবতা যেন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করতে ফোরাম কাজ করবে। AOSED এর নির্বাহী পরিচালক: শামীম আরফীন অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, কপ ৩১ এ Climate Justice Forum কোন ইস্যু নিয়ে এগুবে তার প্রতিফলন Position Paper এ থাকতে হবে। সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন ও প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয়, সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি যেন মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও মাঠপর্যায়ের প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা হয়, সে বিষয়ে তারা অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। Climate Justice Forum সম্পর্কে: Climate Justice Forum বাংলাদেশের জলবায়ু ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করা নাগরিক সমাজের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতির আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের কণ্ঠ ও অধিকারকে আরও শক্তিশালীভাবে তুলে ধরাই ফোরামের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ফোরামটি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষজ্ঞ, নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে আরও ন্যায়সংগত, অংশগ্রহণমূলক ও মানবিক জলবায়ু নীতি ও কার্যক্রমের পক্ষে সম্মিলিতভাবে কাজ করে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই করতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করে বিএনপি। সচিবালয়ে বিএনপির এই বৈঠকের সমালোচনা করেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের বৈঠকের ইতিহাস জানা নেই। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অবঃ) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সচিবালয় হলো একটা নির্বাহী জায়গা, এখানে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠক হবে! শীর্ষ ফোরামের বৈঠক হবে এটা অতীতের রেকর্ড আমাদের জানা নাই। এই কাজটি উনারা করছেন! তাহলে ওনারা গণতন্ত্রকে কিভাবে দেখেন? আমার দলের মতো হলে গণতন্ত্র, নাহলে স্বৈরতন্ত্র।” সংসদে মেজোরটি না থাকার পরেও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষা ও গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানান তিনি। আযাদ বলেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চায়। ১৯৯১ সালে যদিও একটা সম্ভাবনা ছিল বিএনপির আসন কম থাকাতে। এখানে তো সেই সম্ভাবনাও নাই, বিএনপিতে আগেই নিজেদের মেজোরিটি সুনিশ্চিত কলাকৌশল করে নিয়েছে। সেই কারণে তাদের সেফ সাইড আছে। এখানে জিতবো কি হারবো এটা নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোনও নির্বাচন হোক এটা আমরা চায় না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।” ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী অলি আহমদ সম্পর্কে জামায়াত নেতা বলেন, “তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের উর্ধ্বে। দেশের জন্য অনেক অবদান রেখে আসছেন দীর্ঘ সময় ধরে। এক সময়েই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। আবার আলাদা দল করেছেন। এখন আবার আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে উনি রাজনীতি করে যাচ্ছেন। জাতি এটাকে অবশ্যই ইতিবাচক দেখছে এবং আমাদের ১১ দলের সিদ্ধান্তকে প্রশংসা করছে।” তবে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গণতন্ত্র চর্চার পেছনে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, বাধা তৈরি করেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে এমপিরা ভোট দিতে পারবে না।” বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য গোপন ব্যালটে ভোটের বিধান চালু করতে পারতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সবাই মিলে যখন একমত (জুলাই সনদ) হয়েছি একটা অধ্যাদেশ জারি করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে থেকে চর্চা শুরু করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা করলেন না।” জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধিত হতো এবং এমপিরা স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারতেন বলেও তিনি জানান। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হওয়ার কথা জানিয়ে আযাদ বলেন, “গণভোটে এটা পাস হবার পরেও ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একগুঁয়েমি এবং দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশ স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে না পারার কারণে, গণতন্ত্রকে আবার সেই জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গড়িমসির কারণে এই সংস্কারটা করছেন না। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছেন না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি সাহেব বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন, কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য যোগ্য প্রার্থী।” সাতক্ষীরা-৪ আসনে জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অবিকলভাবে বহাল আছে ততক্ষণ সেই অনুযায়ী সংসদ সদস্যদেরকে ভোট দিতে হবে।” নির্বাচনে কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের বিষয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “তিনি বিএনপির ছিলেন, পরে ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ভবনে তিনি এখনও আছেন। ফলে ইসিকে বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, এই অভিযোগ সত্য।” এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, নাজিবুর রহমান মোমেন, কামাল হোসেন, আবদুল বাতেন, জয়নাল আবেদিন, রাশেদুল ইসলাম, মারদিয়া মমতাজ, নাজমুন নাহার, এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাহমুদা মিতু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব জালাল উদ্দিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ওমর ফারুক, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মুফতি ফখরুল ইসলাম, এবি পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, নেজামে ইসলামী পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতাহারী।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের লাইসেন্সিং ও নিবন্ধনের জন্য একটি সমন্বিত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ এবং বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা, সড়ক নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা এ বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। সভায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হলে একদিকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে, অন্যদিকে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ধারা ও তফসিল এরই মধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। এর আগে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে। পরে ১৭ ডিসেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।